"নিম" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

১০,৪১২ বাইট যোগ হয়েছে ,  ৮ বছর পূর্বে
সম্পাদনা সারাংশ নেই
(r2.7.3) (বট পরিবর্তন করছে: ar:أزدرخت هندي)
{{Italic title}}
{{taxobox
| name = Neem
| image = Neem (Azadirachta indica) in Hyderabad W IMG_6976.jpg
| image_width =250px
| image_caption = ''Azadirachta indica'', flowers & leaves
| regnum = [[Plantae]]
| divisio = [[Flowering plant|Magnoliophyta]]
| ordo = [[Sapindales]]
| familia = [[Meliaceae]]
| genus = ''[[Azadirachta]]''
| species = '''''A. indica'''''
| binomial = ''Azadirachta indica''
| binomial_authority =
| synonyms = ''Antelaea azadirachta'' (L.) Adelb.
}}
'''নিম'''
একটি ঔষধি গাছ, বৈজ্ঞানিক নাম(''AZADIRACHTA INDICA'')। এর ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ। আকৃতিতে ৪০-৫০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। এর কান্ড ২০-৩০ ইঞ্চি ব্যাস হতে পারে। ডালের চারদিকে ১০-১২ ইঞ্চি যৌগিক পত্র জন্মে। পাতা কাস্তের মত বাকানো থাকে এবং পাতায় ১০-১৭ টি করে কিনারা খাঁজকাটা পত্রক থাকে। পাতা ২.৫-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। নিম গাছে এক ধরনের ফল হয়। আঙুরের মতো দেখতে এ ফলের একটিই বিচি থাকে। জুন-জুলাইতে ফল পাকে, ফল তেতো স্বাদের।বাংলাদেশের সবত্রই জন্মে তবে উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। প্রাপ্ত বয়স্ক হতে সময় লাগে ১০ বছর। নিম গাছ সাধারণত উষ্ণ আবহাওয়া প্রধান অঞ্চলে ভাল হয়। মাটির পিওএই ৬.২-৮.৫ এবং বৃষ্টিপাত ১৮-৪৬ ইঞ্চি ও ১২০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রা নিম গাছের জন্য উপযোগী। নিমের পাতা থেকে আজকাল প্রসাধনীও তৈরি হচ্ছে। কৃমিনাশক হিসেবে নিমের রস খুবই কার্যকর।নিমের কাঠ খুবই শক্ত। এ কাঠে কখনো ঘুণ ধরে না। পোকা বাসা বাঁধে না। উইপোকা খেতে পারে না। এ কারণে নিম কাঠের আসবাবপত্রও তৈরি করা হচ্ছে আজকাল। এছাড়া প্রাচীনকাল থেকেই বাদ্যযন্ত্র বানানোর জন্য কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর উত্পাদন ও প্রসারকে উত্সাহ এবং অন্যায়ভাবে নিম গাছ ধ্বংস করাকে নিরুত্সাহিত করছে। নিমের এই গুনাগুনের কথা বিবেচনা করেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‌‘একুশ শতকের বৃক্ষ’ বলে ঘোষনা করেছে।<ref name="amardesh">''[http://www.amardeshonline.com/pages/details/2009/11/05/6065 একুশ শতকের উপকারী গাছ]'', নারগিস আক্তার। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ।</ref>
একটি ঔষধি গাছ, বৈজ্ঞানিক নাম(''AZADIRACHTA INDICA'')। এর ডাল, পাতা, রস, সবই কাজে লাগে। দাতের বিভিন্ন সমস্যায় নিমের মাজন বা পেস্ট প্রচুর ব্যবহার হয়।
নিম ৩০-৫০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট চিরহরিৎ গাছ। এর কান্ড ২০-৩০ ইঞ্চি ব্যাস হতে পারে। ডালের চারদিকে ১০-১২ ইঞ্চি যৌগিক পত্র জন্মে। পাতা কাস্তের মত বাকানো থাকে এবং পাতায় ১০-১৭ টি করে কিনারা খাঁজকাটা পত্রক থাকে। পাতা ২.৫-৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। বাংলাদেশের সবত্রই জন্মে তবে উত্তরাঞ্চলে বেশি দেখা যায়। এর আদি নিবাস মিয়ানমার। জুন-জুলাইতে ফল পাকে, ফল তেতো স্বাদের। পোকার আক্রমণ ঠেকাতে নিমের ব্যবহার হয়। নিমের কাঠ কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহার হয়।
 
===উত্পত্তি===
[[চিত্র:Neem tree.JPG|thumb|-নিম গাছ]]
নিমের উত্পত্তি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ভারত এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়া এবং পশ্চিম আফ্রিকাতে।<ref name="bdstudentstalk.com">''[http://bdstudentstalk.com/pharmacy-department/t433/msg817/?PHPSESSID=79aab66a789a679ba98c9eb28a00cb60#msg817 গ্রামের ডাক্তার নিম]'', BD Students Talk। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ৫ মে ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।</ref>
----
 
===ব্যবহার্য অংশ===
বৈজ্ঞানিক নাম: Azadirachta indica A. juss.
[[File: Neemtree.jpg|thumb|নিম গাছ]]
পরিবার: Meliacea
পাতা, ফল, ছাল বা বাকল, নিমের তেল,বীজ। এক কথায় নিমের সমস্ত অংশ ব্যবহার করা যায়।
ইংরেজি নাম: Neem
 
===রোপনের সময়===
জুনের ৩০ তারিখ থেকে বীজ বপন শুরু হয়। বর্ষকালের শেষ পর্যন্ত বীজ বপন করা যায়। বীজ নার্সরী বেডে, পলিব্যাগে অথবা সরাসরি জমিতে লাগানো যেতে পারে।
 
===উত্তোলণের সময়===
----
নার্সারীতে চারা জন্মানোর ৭-১০ সেমি উচু হলে তা লাগানো উপযুক্ত। সাধারণত বৃষ্টির সময়ে অথবা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম দিতে চারা উত্তোলন করা ভালো।
 
===আবাদী/অনাবাদী/বনজ===
ঔষধিগুন
[[File:Neem (Azadirachta indica) in Hyderabad W IMG 6977.jpg|thumb|নিম গাছে ফুল]]
# নিম একটি স্বীকৃত ঔষধিগাছ। বসন্ত রোপে, চুলকানি, চর্মরোগ, দাঁতের সমস্যা প্রভৃতির জন্য নিম ব্যবহার হয়। নিমের তেল, বালাইনাশক ফসলের পোকাদমনে ব্যবহার হয়।
নিম সাধারণত সকল জমিতে হয়। বসতবাড়ি, মাঠের জমি, জঙ্গলে জন্মে।
 
===চাষাবাদের ধরণ===
নিম সব ধরনের মাটিতে জন্মে থাকে। ঘন কাদা মাটি এবং শুষ্ক ভুষা মাটিতে ও জন্মে। তবে কালো দোয়াশ মাটি নিম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। উচচা মাত্রায় সোডিয়াম কার্বনেটম সোডিয়াম বাই কার্বনেট,ক্ষার ও লবানক্ততায় নিম ভাল জন্মে। নীম নার্সরী বেড, কন্টেইনার নার্সারী মাধ্যমে চারা উতপান করা যায়।
 
===উদ্ভিদের ধরণ===
[[File:Unripe Neem fruits.jpg|thumb|নিম গাছে ফল]]
নিম একটি বহু বর্ষজীবি ও চির হরিত বৃক্ষ।
 
===ঔষধি গুণাগন===
বিশ্বব্যাপী নিম গাছ, গাছের পাতা, শিকড়, নিম ফল ও বাকল ওষুধের কাঁচামাল হিসেবে পরিচিত। বর্তমান বিশ্বে নিমের কদর তা কিন্তু এর অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যহারের জন্য। নিম ছত্রাকনাশক হিসেবে, ব্যাকটেরিয়া রোধক হিসেবে ভাইরাসরোধক হিসেবে, কীট-পতঙ্গ বিনাশে চ্যাগাস রোধ নিয়ন্ত্রণে, ম্যালেরিয়া নিরাময়ে,দন্ত চিকিতসায় ব্যাথামুক্তি ও জ্বর কমাতে, জন্ম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
 
===ব্যবহার===
[[চিত্রImage:Neem tree.JPG|thumb|-নিম গাছ]]
*'''কফজনিত বুকের ব্যথা''': অনেক সময় বুকে কফ জমে বুক ব্যথা করে। এ জন্য ৩০ ফোটা নিম পাতার রশ সামান্য গরম পানিতে মিশিয়ে দিতে ৩/৪ বার খেলে বুকের ব্যথা কমবে। গর্ভবতী,শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এ ঔষধটি নিষেধ।
*'''কৃমি''': পেটে কৃমি হলে শিশুরা রোগা হয়ে যায়। পেটে বড় হয়। চেহারা ফ্যকাশে হয়ে যায়। এ জন্য ৫০ মিলিগ্রাম পরিমাণ নিম গাছের মূলের ছালের গুড়া দিন ৩ বার সামান্য পানি গরমসহ খেতে হবে।
*'''উকুন নাশ''': নিমের পাতা বেটে হালকা করে মাথায় লাগান। ঘন্টা খানেক ধরে মাথা ধুয়ে ফেলুন। ২/৩ দিন এভাবে লাগালে উকুন মরে যাবে।
*'''অজীর্ণ''': অনেকদিন ধরে পেটে অসুখ। পাতলা পায়খানা হলে ৩০ ফোটা নিম পাতার রস, সিকি কাপ পানির সঙ্গে মিশিয়ে সকাল- বিকাল খাওয়ালে উপকার পাওয়া যাবে।
*'''খোস পাচড়া''': নিম পাতা সিদ্ধ করে পানি দিয়ে গোসল করলে খোসপাচড়া চলে যায়। পাতা বা ফুল বেটে গায়ে কয়েকদিন লাগালে চুলকানি ভালো হয়।
*'''পোকা-মাকড়ের কামড়''': পোকা মাকড় কামল দিলে বা হুল ফোটালে নিমের মূলের ছাল বা পাতা বেটে ক্ষত স্থানে লাগালে ব্যথা উপশম হবে।
*'''দাতের রোগ''': নিমের পাতা ও ছালের গুড়া কিংবা নিমের চাল দিয়ে নিয়মিত দাত মাজলে দাত হবে মজবুত, রক্ষা পাবে রোগ।
*'''জন্ম নিয়ন্ত্রণে নিম''': নিম তেলা একটি শক্তিশালী শ্রক্রানুনাশক হিসেবে কাজ করে। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, নিম তেল মহিলাদের জন্য নতুন ধরনের কার্যকরী গর্ভনিরোধক হতে পারে। এটি ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই শুক্রানু মেরে ফেলতে সক্ষম।
 
===নিম চাষে আয়===
 
একটি প্রাপ্ত বয়স্ক গাছে ৫০-৬০ কেজি ফল পাওয়া যায় যার বাজার মুল্য প্রায়৫ হাজার টাকা। এছাড়াও একটি পুর্ণবয়স্ক গাছ এককালিণ ১৫-২০ হাজার টাকায় বিক্রয় করা য়ায়। মাত্র দুটি প্রাপ্তবয়স্ক নিম গাছ থেকে বছরে গড়ে ২০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এছাড়াও এক একরে বাণিজ্যিক নিম বাষে ১৫-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব।<ref name="wikieducator">''[http://wikieducator.org/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AE নিম।]'', ফয়েজ, শাহজাহান আলী বিপাশ। ঢাকা থেকে প্রকাশের তারিখ: ১৭জানুয়ারী ২০১০ খ্রিস্টাব্দ।</ref>
 
 
==তথ্যসূত্র==
{{reflist}}
 
----
 
[[বিষয়শ্রেণী:উদ্ভিদ]]