বিলাসপুরী ভাষা
বিলাসপুরী (Takri: 𑚠𑚮𑚥𑚭𑚨𑚞𑚱𑚤𑚯), বা কহলুরী ভাষা (Takri:𑚊𑚩𑚥𑚱𑚤𑚯) পশ্চিমা পাহাড়ী ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত একটি ভাষা, যা মূলত উত্তর ভারতের হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের বিলাসপুর জেলা ও পাঞ্জাব রাজ্যের রূপনগর ও হোশিয়ারপুর জেলায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ভাষা৷[১] ইউনেস্কো এই ভাষাটিকে ভারতের বিপন্ন ভাষাগুলির তালিকাভুক্ত করেছে৷[৩] পূর্বতন পাঞ্জাবের পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত বিলাসপুর রাজ্যে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী বিলাসপুরীভাষী।
বিলাসপুরী | |
---|---|
কহলুরী | |
𑚠𑚮𑚥𑚭𑚨𑚞𑚱𑚤𑚯, बिलासपूरी, 𑚊𑚩𑚥𑚱𑚤𑚯, कहलूरी | |
![]() টাকরী লিপিতে লেখা উপরে বিলাসপূরী ও কহলূরী | |
দেশোদ্ভব | ভারত |
অঞ্চল | বিলাসপুর জেলা |
মাতৃভাষী | ২,৯৫,৮০৫ (২০১১)[১] বহু সংখ্যক বিলাসপুরীভাষী নিজেদের পাঞ্জাবীভাষী বলে উল্লেখ করেছেন৷ |
টাকরী, দেবনাগরী লিপি | |
ভাষা কোডসমূহ | |
আইএসও ৬৩৯-৩ | kfs |
গ্লোটোলগ | bila1253 [২] |
বিলাসপুরী ভাষাকে পশ্চিমা পাহাড়ি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত করা হলেও ভারতের জনগণনায় এটিকে পাঞ্জাবি ভাষার উপভাষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।[৪]
উপভাষা
সম্পাদনাবিলাসপুরী ভাষার পাঁচটি উপভাষা হল:
- উত্তর-পূর্বা বিলাসপুরী (কুমারহাটির উত্তর-পূর্বের অঞ্চলে): মণ্ডিয়ালীর সাথে এর মিল রয়েছে৷
- উত্তরা বিলাসপুরী (কুমারহাটির উত্তর দিকে): মণ্ডিয়ালীর সাথে এর মিল রয়েছে৷
- পশ্চিমা বিলাসপুরী: এই অপভাষিয় সর্বাধিক পাঞ্জাবি কহলুরী শব্দভাণ্ডার রয়েছে৷
- কেন্দ্রীয় বিলাসপুরী: ঐতিহাসিক বিলাসপুর শহরকে কেন্দ্র করে যে অঞ্চল, পাঞ্জাবি ভাষার সাাথে এর মিল রয়েছে৷
- দাবিন বা দাউন: বিলাসপুর শহরের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বের অঞ্চল৷
এই ভাষার উপভাষাগুলি এতটা পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত যে বাইরের যে কেউ এটিকে একটিই উপভাষা বলে মনে করবে৷[৫]
লিপি
সম্পাদনাবিলাসপুরী ভাষার জন্য ব্যবহৃত মূল লিপি হলো টাকরী লিপির একটি বিশেষ স্থানীয় প্রকার, যা কহলুরী লিপি নামে পরিচিত৷ তবে ভারতের স্বাধীনতা লাভের পর দেবনাগরী লিপি এই লিপিটিকে প্রতিস্থাপিত করে৷
জনসংখ্যা
সম্পাদনা২০১১ খ্রিস্টাব্দের জনগণনা অনুযায়ী ভারতে সিরমৌরী ভাষাভাষীর সংখ্যা ২,৯৫,৮০৫ জন,[৬] যেখানে ২০০১ খ্রিস্টাব্দে এই জনসংখ্যা ছিলো ১,৭৯,৫১১ জন৷[৭] পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুর জেলার পার্বত্য অঞ্চলের ভাষাও পাহাড়ি ভাষা।[৮]
- ভারত - ২,৯৫,৮০৫
- হিমাচল প্রদেশ - ২,৯৫,৭৬২ (৪.৩১%)
- বিলাসপুর জেলা - ২,৯১,৭১৫ (৭৬.৩৭%)
- ঘুমরবীন ব্লক - ৮৩,৭০৯ (৯৩.৫১%)
- ভরারী ব্লক - ৩৬,৬৬৪ (৮০.২০%)
- ঝাণ্ডুতা ব্লক - ৮৪,৪৪১ (৯২.২২%)
- নয়নাদেবী ব্লক - ১৫,৪০১ (৩২.৯৯%)
- বিলাসপুর সদর ব্লক - ৪৯,৭২০ (৬৫.৬৭%)
- নামহোল ব্লক - ২১,৭৮০ (৬৬.৪৭%)
- বিলাসপুর জেলা - ২,৯১,৭১৫ (৭৬.৩৭%)
বর্তমান অবস্থা
সম্পাদনাবিলাসপুরী ভাষাটি সাধারণভাবে পাহাড়ি অথবা হিমাচলি ভাষা নামে পরিচিত। এই ভাষাটি কোন সরকারি পদমর্যাদা নেই এবং এটি বর্তমানে পাঞ্জাবী ভাষার একটি উপভাষা হিসেবে পরিগণিত হয়। ইউনেস্কোর তথ্য অনুসারে এই ভাষাটি বিপন্ন ভাষার তালিকাভুক্ত, অর্থ অধিকাংশ বিলাসপুরী ভাষাভাষী শিশুরা নিজের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষালাভে অক্ষম।[৯]
ভারতের সংবিধানের অষ্টম তফসিলে পাহাড়ী হিমাচলি ভাষাগুলির অন্তর্ভুক্তির জন্য ২০১০ খ্রিস্টাব্দে সিংহভাগ সম্মতিতে বিষয়টি রাজ্য বিধানসভায় উপস্থাপিত হয়৷[১০] ছোটো ছোট সংস্থাগুলির দাবীকে বাদ দিতে সরকারীভাবে বিশেষ ঐই ভাষাগুলি সংরক্ষণ ও মান্যতা দানের কোনো বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি৷[১১] রাজনৈতিক প্রভাবে ভাষাগুলির অধিকাংশের সাথেই হিন্দি ভাষাগোষ্ঠীর কোনরূপ পারস্পরিক সম্পর্ক না থাকলেও পাহাড়ি এই ভাষাগুলি হিন্দি ভাষার অন্তর্গত একেকটি উপভাষা হয়ে রয়েছে৷[১২] আবার বিলাসপুরীর মতো কিছু ভাষা হয়ে রয়েছে বৃহত্তর পাঞ্জাবির উপভাষা৷
তথ্যসূত্র
সম্পাদনা- ↑ ক খ টেমপ্লেট:E20
- ↑ হ্যামারস্ট্রোম, হারাল্ড; ফোরকেল, রবার্ট; হাস্পেলম্যাথ, মার্টিন, সম্পাদকগণ (২০১৭)। "Bilaspuri"। গ্লোটোলগ ৩.০ (ইংরেজি ভাষায়)। জেনা, জার্মানি: মানব ইতিহাস বিজ্ঞানের জন্য ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট।
- ↑ "UNESCO Atlas of the World's Languages in danger"। Unesco.org। সংগ্রহের তারিখ ২৫ আগস্ট ২০১২।
- ↑ nternational Journal of Dravidian Linguistics, Volumes 21-22. University of Kerela [১]
- ↑ PLSI The Languages of Himachal Pradesh, Volume Eleven, Part Two। Orient Blackswan। পৃষ্ঠা 130।
- ↑ https://censusindia.gov.in/2011Census/C-16_25062018_NEW.pdf
- ↑ [২]
- ↑ Masica, Colin P. (১৯৯১)। The Indo-Aryan languages। Cambridge language surveys। Cambridge University Press। পৃষ্ঠা 439। আইএসবিএন 978-0-521-23420-7।
- ↑ "Endangered Language"।
- ↑ "Pahari Inclusion"। Zee News।
- ↑ "Pahari Inclusion"। The Statesman। ১৭ নভেম্বর ২০২১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ২০২০।
- ↑ "Indian Language Census" (পিডিএফ)।