বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস

ইতিহাসের বিভিন্ন দিক

প্রাচীনকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলা ভাষার সাহিত্য চর্চা পরিবর্তিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বাংলা সাহিত্যে যে বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়, অথবা আধুনিক বাংলা সাহিত্য বলতে সাহিত্যের যে অংশগুলো বোঝানো হয়ে থাকে সেগুলোর সাথে কয়েক যুগ আগের সাহিত্য চর্চার বিষয়ের পার্থক্য রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকে বাংলা সাহিত্যের বিবর্তনের এই ধারা প্রভাবিত হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের কিছু সাহিত্যিকদের মাধ্যমে।

বাংলা সাহিত্য
Charyapada.jpg
Bankim Chandra Chattopadhyay.jpg Rabindranath Tagore in 1909.jpg Nazrul.jpg

Begum Rokeya.jpg Mir mosharraf hossain.jpg Sarat Chandra Chattopadhyay.jpg
Upendrokishor-ray.gif Jibanananda Das (1899–1954).jpg Swarnakumari Devi.jpg

Sunil Gangopadhyay 4190.JPG Humayun Ahmed 13Nov2010.jpg
বাংলা সাহিত্য
(বিষয়শ্রেণী তালিকা)
বাংলা ভাষা
সাহিত্যের ইতিহাস
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
বাঙালি সাহিত্যিকদের তালিকা
কালানুক্রমিক তালিকা - বর্ণানুক্রমিক তালিকা
বাঙালি সাহিত্যিক
লেখক - ঔপন্যাসিক - কবি
সাহিত্যধারা
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয়
চর্যাপদ - মঙ্গলকাব্য - বৈষ্ণব পদাবলিসাহিত্য - নাথসাহিত্য - অনুবাদ সাহিত্য -ইসলামি সাহিত্য - শাক্তপদাবলি - বাউল গান
আধুনিক সাহিত্য
উপন্যাস - কবিতা - নাটক - ছোটোগল্প - প্রবন্ধ - শিশুসাহিত্য - কল্পবিজ্ঞান
প্রতিষ্ঠান ও পুরস্কার
ভাষা শিক্ষায়ন
সাহিত্য পুরস্কার
সম্পর্কিত প্রবেশদ্বার
সাহিত্য প্রবেশদ্বার
বঙ্গ প্রবেশদ্বার

প্রাচীন যুগসম্পাদনা

চর্যাপদ বাংলা লিখিত সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন।[১][২] ধারণা করা হয় এটি খ্রিস্টীয় দশম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে রচিত হয়েছিল। চর্যার প্রধান কবিগণ হলেন লুইপাদ, কাহ্নপাদ, ভুসুকুপাদ, শবরপাদ প্রমুখ। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা থেকে চর্যার একটি খণ্ডিত পুঁথি উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে আচার্য সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চর্যাপদের সঙ্গে বাংলা ভাষার অনস্বীকার্য যোগসূত্র বৈজ্ঞানিক যুক্তিসহ প্রতিষ্ঠিত করেন।

মধ্য যুগসম্পাদনা

১২০৪ সালে গৌড়ে তুর্কি আক্রমণের সময় থেকে ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ পর্যন্ত সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ বলা হয়। তবে ১২০১ থেকে ১৩৫০ সাল পর্যন্ত সময়কে বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগ বলা হয়।[৩] সম্ভবত এ যুগে মুসলমান ও তুর্কি আক্রমণের কারণে কবি সাহিত্যিকগণ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে থাকতেন। মনে করা হয় এ কারণে উল্লেখযোগ্য কোন সাহিত্য রচনা করতে পারেননি তাঁরা।[৪] এই সময়ের সাহিত্য মূলত ধর্মীয় বিষয় নির্ভর ছিল। প্রথমদিকের সমস্ত রচনাই ছিল পদ্যমূলক - গদ্যমূলক রচনা চালু হয় অনেক পরে। তুলোট কাগজে লেখা পুঁথির মাধ্যমে সাহিত্যচর্চা চলত।

অনেক ভাষাবিদ অন্ধকার যুগকে স্বীকার করেন না। এসময় ডাক ও খনার বচন এবং রমী পণ্ডিতের বর্ণনামূলক কবিতা সুপর্ণা। [৫]

বৈষ্ণব সাহিত্যসম্পাদনা

বৈষ্ণব সাহিত্য: বৈঞ্চব মতকে কেন্দ্র করে রচিত বৈষ্ণব সাহিত্য। পঞ্চদশ শতকে শ্রী চৈতন্য দেবের ভাব বিপ্লবকে কেন্দ্র করে গোটা বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব সাহিত্যের জন্ম হয়। বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক শ্রী চৈতন্য দেব কোন পুস্তক লিখে যাননি অথচ তাঁকে ঘিরেই জন্ম হয় এই সাহিত্যের। বৈষ্ণব পদাবলী সাহিত্যর সূচনা ঘটে চর্তুদশ শতকে বিদ্যাপতিচন্ডীদাস-এর সময়ে তবে ষোড়শ শতকে এই সাহিত্যের বিকাশ হয়। বৈষ্ণব পদাবলির প্রধান অবলম্বন রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা।

শ্রীকৃষ্ণকীর্তনসম্পাদনা

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কবিতাগুলোর একটি হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয় ১৯০৯ সালে। বিষ্ণুপুর শহরের নিকটবর্তী কাকিল্যা গ্রামের জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ এটি আবিষ্কার করেন। বড়ুচণ্ডীদাস নামের মধ্যযুগের এক কবি এটি রচনা করেন। চর্যাপদে বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেয়, আবার শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে বাংলা ভাষা একটি নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় শ্রীকৃষ্ণকীর্তন সম্পর্কে বলেছেন যে, "শ্রীকৃষ্ণকীর্তনে যে বাংলা ব্যাকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই বর্তমানের নতুন বাংলা সম্পর্কে ধারণা দেয়।"

বিদ্যাপতি পদাবলিসম্পাদনা

মৈথিলী ভাষায় লেখা বিদ্যাপতি পদাবলি বাংলা কবিতায় বিশেষ প্রভাব রেখেছিল। বিদ্যাপতি পঞ্চদশ শতকের মৈথিল কবি। বঙ্গদেশে তাঁর প্রচলিত পদাবলির ভাষা ব্রজবুলি। অনেক বাঙালি কবি এই ভাষায় কবিতা রচনা করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ভানুসিংহের পদাবলীতে' এই ভাষার ব্যবহার দেখা যায় |

চণ্ডীদাসের পদাবলিসম্পাদনা

রাধা এবং কৃষ্ণের প্রেমের কাহিনীগুলো চণ্ডীদাসের লেখা পদাবলিতে বর্ণনা করা হয়েছে। "বাদু", "দেভিজা", "দিনা" ইত্যাদি বিভিন্ন নামে এবং কখনো কখনো নাম ছাড়া এই পদাবলিগুলো পাওয়া গেছে।

সংস্কৃত ভাষা থেকে অনুবাদসম্পাদনা

মঙ্গলকাব্যসম্পাদনা

একটি সম্পূর্ণ মঙ্গলকাব্যের ৫ টি অংশ থাকে। মঙ্গলকাব্য রচনা করা হয়েছিল মূলত মনসা এবং চান্দি এর পূজার স্রুতি বর্ণনা করার জন্য। মঙ্গলকাব্য বাংলা সাহিত্যের দুটি শাখায় বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছে। সেগুলো হল:

মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি কানাহরি দত্ত।

চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের প্রধান চরিত্র কালকেতু।

১৭৬০ সালে ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর সাথে সাথে মধ্যযুগের সমাপ্তি হয়।

যুগসন্ধিক্ষণসম্পাদনা

যুগসন্ধিক্ষণ মানে দুই যুগের মিলন। ১৭৬১-১৮৬০ সাল পর্যন্ত সময়কালকে যুগসন্ধিক্ষণ বলে। এই সময়ে মধ্যযুগআধুনিক যুগের সংমিশ্রণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এ সময়ের সাহিত্যিক কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত। তাকে স্ববিরোধী কবিও বলা হয়। প্রথম দিকে ইংরেজদেরর বিরুদ্ধে লিখলেও শেষ দিকে ইংরেজদের প্রশংসা করেছেন।

আধুনিক যুগসম্পাদনা

১৮০১ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান সময়কালকে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ বলা হয়। এই যুগকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:-

  • উন্মেষ পর্ব (১৮০১-১৮৬০)
  • বিকাশ পর্ব (১৮৬১-বর্তমান)

বাংলা সাহিত্যের গল্প, উপন্যাস, নাটকপ্রবন্ধ ইত্যাদি আধুনিক যুগের সৃষ্টি। পদ্য ও ছড়া বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম রূপবন্ধ। তবে আধুনিক কবিতার প্রবর্তন হয়েছে বিংশ শতকের গোড়ার দিকে। এই উনিশ শতকেরই বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (১৮৩৮-১৮৯৪) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক ঔপন্যাসিক যিনি বাংলা সাহিত্যের খাতকে বিকশিত করেছিলেন খুব শক্তিশালীভাবে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলা সাহিত্যের সমগ্র ইতিহাস, ক্ষেত্র গুপ্ত, গ্রন্থনিলয়, কলকাতা, ২০০১, পৃ. ৪৪
  2. Sen, Sukumar. (১৯৯২)। History of Bengali literature। New Delhi: Sahitya Akademi। আইএসবিএন 81-7201-107-5ওসিএলসি 43356500 
  3. Whyte, Mariam. (১৯৯৯)। Bangladesh (রেফারেন্স সংস্করণ)। New York: Marshall Cavendish। আইএসবিএন 0-7614-0869-Xওসিএলসি 39131096 
  4. Tellings and texts : music, literature and performance in North India। Orsini, Francesca., Schofield, Katherine Butler.। [Cambridge, UK]: Open Book Publishers। ২০১৫। আইএসবিএন 1-78374-104-Xওসিএলসি 923571546 
  5. ইসলাম, সিরাজুল (২০০৩)। Banglapedia : national encyclopedia of Bangladesh। Dhaka: Asiatic Society of Bangladesh। আইএসবিএন 984-32-0576-6ওসিএলসি 52727562 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

বাংলা সাহিত্য, বাংলাপিডিয়া