বাংলাদেশ পুলিশ

আইন প্রয়োগকারী সংস্থা

বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের একমাত্র আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা।[৩] সংস্থাটি বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান অধিকর্তাকে বলা হয় মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)।

বাংলাদেশ পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশ লোগো
বাংলাদেশ পুলিশ লোগো
বাংলাদেশ পুলিশ পতাকা
বাংলাদেশ পুলিশ পতাকা
প্রচলিত নামপুলিশ
নীতিবাক্যশান্তি শৃঙ্খলা নিরাপত্তা প্রগতি
সংস্থা পরিদর্শন
কর্মচারী২,১২,৭২৪[১]
অঞ্চল কাঠামো
জাতীয় সংস্থাবাংলাদেশ
পরিচালনার অঞ্চল বাংলাদেশ
আয়তন১৪৮,৪৬০ কিমি (৬০,০০০ বর্গ মাইল)
জনসংখ্যা১৬২,২২১,০০০[২]
পরিচালনা পর্ষদস্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
গঠন উপকরণ
সাধারণ প্রকৃতি
পরিচালনামূলক কাঠামো
প্রধান কার্যালয়৬ ফনিক্স রোড, ফুলবাড়িয়া, ঢাকা - ১০০০
সংস্থার কার্যনির্বাহক
সুবিধা-সুযোগ
কর্মকেন্দ্র৬৫১
উল্লেখযোগ্যতা
পদক
  • বাংলাদেশ পুলিশ পদক - অসমসাহ‌সিকতা, বাংলাদেশ পুলিশ পদক - সেবা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক- সা‌হসিকতা, রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক - সেবা
ওয়েবসাইট
www.police.gov.bd
বাংলাদেশ পুলিশের কয়েকজন।
বাংলাদেশ পুলিশ।

বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাস সম্পাদনা

প্রাচীন যুগ সম্পাদনা

পুলিশের একটি দীর্ঘ এবং অনেক পুরোনো ইতিহাস আছে। ইতিহাসের একটা গবেষণা দেখায় যে পুলিশ ছিল পুরাতন সভ্যতা হিসাবে। রোম শহরে পুলিশ দেশ সম্পর্কে অগাস্টাস সময়ে ওঠে মুষ্টি শতাব্দীর খ্রিস্টপূর্বাব্দের একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠান, পুলিশি ইতিহাস বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বেশ পুরানো।[৪]

মানুসংগীতা, চিত্রলিপিতে সম্রাট অশোক, এবং প্রখ্যাত ভ্রমণকারীরা আমাদের ইতিহাস রচনার মূল উৎস। এই সূত্র থেকেই এই দ্বার এবং বাংলাদেশ পুলিশের খণ্ডিত ইতিহাস রচিত হয়। অর্থশাস্ত্র এর মধ্যে কৌতিল্য দ্বারা, নয়টি গুপ্তচর ধরন উল্লেখ করা হয়। এই সময় পুলিশি বুদ্ধিমত্তা সংগ্রহ করার জন্য বিরোধী কার্যক্রম এবং সরকারী প্রতিবন্ধক সমাজের মধ্যে আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ ছিল। গুপ্ত চর দায়িত্ব এমন যে তারা সেনাবাহিনী, বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তার কার্যকলাপের উপর নজরদারি বাড়ানো হয়। এই জন্য লোভ এবং উসকানি সব অর্থ ব্যবহার করা হয়। অনুসন্ধান কৌশল এবং তদন্ত কর্তৃপক্ষ সম্পর্কে তথ্য অর্থশাস্ত্র মধ্যে খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। শাস্তি প্রক্রিয়ার অভিযুক্ত এই বইয়ে পাওয়া যায়। তাই এটি ছিল অধিকৃত যে স্বশাসিত স্থানীয় নিয়মের অধীন সেখানে গ্রামীণ ও শহুরে এলাকায় পুলিশ এক ধরনের হতে পারে।[৫]

মধ্যযুগীয় সময়কাল সম্পাদনা

মধ্যযুগীয় সময়ে পুলিশি কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। সুলতানদের সময়ে একটি সরকারী পুলিশি স্থর বিন্যাস লক্ষ্য করা যায়। শহর অঞ্চলে কোতোয়াল পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্বে ছিলেন। মোঘল আমলের পুলিশি ব্যবস্থা সংক্রান্ত তথ্য আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যেতে পারে। মধ্যযুগের পুলিশি ব্যবস্থা শেরশাহ শুরী দ্বারা প্রবর্তিত, মহান সম্রাট আকবরের সময়কালে এই ব্যবস্থা আরও সংগঠিত হয়। সম্রাট তার ফৌজদারী প্রশাসনিক কাঠামো (সম্রাটের প্রধান প্রতিনিধি) মীর আদাল এবং কাজী (বিচার বিভাগ প্রধান) এবং কোতোয়াল (প্রধান বড় শহরে পুলিশ কর্মকর্তা) এই তিন ভাগে ভাগ করেন। এই ব্যবস্থা শহরের আইন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে খুব কার্যকর হিসাবে পরিগণিত হয়। কোতোয়ালী পুলিশ ব্যবস্থা ঢাকা শহরের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে। অনেক জেলা সদর পুলিশ স্টেশনকে এখনও বলা হয় কোতোয়ালী থানা। মুঘল আমল কোতোয়াল একটি প্রতিষ্ঠান হিসাবে আবির্ভূত হয়।

একজন ফৌজদার সরকারের প্রশাসনিক ইউনিট (জেলা) প্রধান পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। কিছু ফৌজদারের অধীনে কামান এবং অশ্বারোহী সৈন্য বাহিনীও ছিল। থানাদার পদাদিকারীরা ছোট জায়গার মধ্যে পরগনা বিভাজক হিসাবে নিযুক্ত হতেন। মোঘল আমল পর্যন্ত যদিও একটি সুশৃঙ্খল পেশাদারী পুলিশি বাহিনী যা ব্রিটিশ পুলিশ সিস্টেমে প্রবর্তিত হয়নি। তবুও সাধারণভাবে, এটি প্রতিষ্ঠিত ছিল যে মুসলিম শাসকদের রাজত্বের সময়ে এখানে আইন শৃঙ্খলা এবং অপরাধ প্রতিরোধমূলক প্রশাসন অত্যন্ত কার্যকর ছিল।[৫]

ব্রিটিশ সময়কাল সম্পাদনা

শিল্প বিপ্লবের কারণে ইংল্যান্ডের সামাজিক ব্যবস্থায় অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে স্যার রবার্ট পিল একটি নিয়মতান্ত্রিক পুলিশ বাহিনীর অভাব অনুভব করেন। ১৮২৯ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পার্লামেন্টে পুলিশ গঠনের বিল আনেন। এর প্রেক্ষিতে গঠিত হয় লন্ডন মেট্রো পুলিশ। অপরাধ দমনে বা প্রতিরোধে এর সাফল্য শুধু ইউরোপ নয় সাড়া ফেলে আমেরিকাতেও। ১৮৩৩ সালে লন্ডন মেট্রো পুলিশের অনুকরণে গঠিত হয় নিয়ইয়র্ক সিটিতে নগর পুলিশ কর্তৃপক্ষ গঠিত হয়।[৪]

১৮৫৮ সালে ভারত শাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নিকট হতে ব্রিটিশ সরকার গ্রহণ করে। পুলিশ অ্যাক্ট ১৮২৯ এর অধীনে গঠিত লন্ডন পুলিশের সাফল্য ভারতে স্বতন্ত্র পুলিশ ফোর্স গঠনে ব্রিটিশ সরকারকে অনুপ্রাণীত করে। ১৮৬১ সালে the commission of the Police Act (Act V of 1861) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে পাশ হয়। এই আইনের অধীনে ভারতের প্রতিটি প্রদেশে একটি করে পুলিশ বাহিনী গঠিত হয়। প্রদেশ পুলিশ প্রধান হিসাবে একজন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ এবং জেলা পুলিশ প্রধান হিসাবে সুপারিটেনটেন্ড অব পুলিশ পদ সৃষ্টি করা হয়। ব্রিটিশদের তৈরীকৃত এই ব্যবস্থা এখনও বাংলাদেশ পুলিশে প্রবর্তিত আছে।[৪]

পাকিস্তান সময়কাল সম্পাদনা

১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর বাংলাদেশের পুলিশের নাম প্রথমে ইষ্ট বেঙ্গল পুলিশ রাখা হয়। পরবর্তীতে এটি পরিবর্তিত হয়ে ইষ্ট পাকিস্তান পুলিশ নাম ধারণ করে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব পর্যন্ত এই নামে পুলিশের কার্যক্রম অব্যহত থাকে।[৫]

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল সময় হল ১৯৭১ সাল। মহান মুক্তিযুদ্ধে একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল, বেশ কয়েকজন এসপি সহ প্রায় সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্য বাঙ্গালীর মুক্তির সংগ্রামে জীবনদান করেন। ১৯৭১ সালের মার্চ মাস হতেই প্রদেশের পুলিশ বাহিনীর উপর কর্তৃত্ব হারিয়েছিল পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার। পুলিশের বীর সদস্যরা প্রকাশ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তারা ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকার রাজারবাগের পুলিশ লাইন্সে ২য় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বাতিল .৩০৩ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা। এই সশস্ত্র প্রতিরোধটিই বাঙ্গালীদের কাছে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর বার্তা পৌছে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশের এই সদস্যরা ৯ মাস ব্যাপী দেশজুড়ে গেরিলা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ১২৬২ জন শহীদ পুলিশ সদস্যের তালিকা স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্রে উল্লেখ পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত ঝিনাইদহের তৎকালীন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার মাহবুবউদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ মুজিব নগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহাসিক গার্ড অব অনার প্রদান করেন।[৬]

বাংলাদেশ সময়কাল সম্পাদনা

মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশ পুলিশ নামে সংগঠিত হয়। বাংলাদেশ পুলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুলিশ বাহিনীর মতো আইন শৃঙ্খলা রক্ষা, জনগনের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনে প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ পুলিশের ট্রাডিশনাল চরিত্রে বিরাট পরিবর্তন এনে দিয়েছে। শুধু আইনের শাসন আর অপরাধ প্রতিরোধ ও দমনই নয় দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গত এক দশকে জঙ্গীবাদ দমন এবং নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। পুলিশের সদস্যরা তাদের উদ্ভাবনী কৌশল আর পেশাদরিত্ব দ্বারা সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার পরিচয় দিচ্ছে। ঘুষ দুর্নীতির কারণে একসময়ে অভিযুক্ত এই বাহিনী তার পেশাদরিত্ব আর জনগনের প্রতি দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে জনগণের গর্বের বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।[৪]

বাংলাদেশ পুলিশ সংগঠন সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান হলেন মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পুলিশ সংগঠন বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।

ইউনিট সম্পাদনা

পুলিশ হেডকোয়াটার্স সম্পাদনা

পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে বাংলাদেশ পুলিশ নিয়ন্ত্রিত হয়। এই অফিস ঢাকার গুলিস্তানে।

রেঞ্জ ও জেলা পুলিশ সম্পাদনা

  • রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য মেট্রোপলিটান শহর গুলো ছাড়া সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে পৃথক পৃথক রেঞ্জে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটি রেঞ্জের নেতৃত্বে আছেন একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিআইজি)। তিনি তার অধীনস্থ জেলা পুলিশের নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা। বর্তমানে আটটি প্রশাসনিক বিভাগে আটটি রেঞ্জ এবং রেলওয়ে ও হাইওয়ে পুলিশ নামে দু'টি স্বতন্ত্র রেঞ্জ আছে।
  • জেলা পুলিশের অধিকর্তা হলেন সুপারিটেনডেন্ড অব পুলিশ (এসপি)।
  • প্রতিটি জেলায় সুপারিটেনডেন্ড অব পুলিশকে সহযোগিতার জন্য এক বা একাধিক অতিরিক্ত সুপারিটেনডেন্ড অব পুলিশ পদায়ন করা হয়।
  • প্রত্যেকটি পুলিশ ডিষ্ট্রিক্ট এক বা একাধিক সার্কেলে বিভক্ত থাকে। সার্কেলের প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে একজন সহকারী সুপারিটেনডেন্ড অব পুলিশ দায়িত্ব পালন করেন।
  • প্রত্যেকটি পুলিশ সার্কেল কয়েকটি থানার সমন্বয়ে গঠিত। একজন পুলিশ পরিদর্শক থানার অফিসার ইনচার্জ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তার অধীনে কয়েকজন সাব-ইন্সপেক্টর পুলিশের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। বাংলাদেশী আইনে একমাত্র সাব-ইন্সপেক্টর পদধারী অফিসার কারও বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দাখিল করতে পারেন।
  • প্রত্যেকটি রেঞ্জের অধীনে নিজস্ব রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স(আরআরএফ) এবং জেলা পুলিশের অধীনে নিজস্ব স্পেশাল আর্মড ফোর্স(এসএএফ) জরুরী অবস্থা, বেআইনি সমাবেশ বা দাঙ্গা মোকাবেলার জন্য নিযুক্ত থাকেন। এরা পুলিশ সুপার অথবা ততোর্ধ কর্মকর্তার নির্দেশে মোতায়েন হয়। সশস্ত্র কনস্টবলদের এই বাহিনী সাধারণ পুলিশি কর্মকাণ্ড পরচালনায় ব্যবহৃত হয় না। তাদের ভিআইপিদের নিরাপত্তা রক্ষা সংক্রান্ত কর্তব্য, মেলা, উৎসব, খেলাধুলা, নির্বাচন, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মোতায়েন করা হয়। ছাত্র বা শ্রমিক অসন্তোষ, সংগঠিত অপরাধ, এবং সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, কী গার্ড পোস্ট বজায় রাখা এবং বিরোধী সন্ত্রাসী অভিযানেও এদের ব্যবহার করা হয়।

আট বিভাগের আট পুলিশ রেঞ্জের নাম-

  • ঢাকা রেঞ্জ
  • ময়মনসিংহ রেঞ্জ
  • চট্টগ্রাম রেঞ্জ
  • সিলেট রেঞ্জ
  • রাজশাহী রেঞ্জ
  • রংপুর রেঞ্জ
  • খুলনা রেঞ্জ
  • বরিশাল রেঞ্জ

মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্পাদনা

মেট্রোপলিটন আইনের অধীনে পুলিশ কমিশনারেট সিষ্টেম অনুসারে ময়মনসিংহ বাদে অন্য সাতটি বিভাগীয় এবং ও গাজীপুর শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠন করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে প্রথম ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ গঠিত হয়। পরবর্তীতে অন্য ছয়টি বিভাগীয় শহরে আরো ছয়টি এবং গাজীপুরে পৃথক মেট্রোপলিটন পুলিশ ফোর্স গঠিত হয়। মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান হলেন পুলিশ কমিশনার।

মেট্রোপলিটান পুলিশের তালিকা

বিশেষ শাখা (এসবি) সম্পাদনা

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজ করে পুলিশের বিশেষ শাখা।[৭]

ইমিগ্রেশন পুলিশ সম্পাদনা

বিদেশ হতে বাংলাদেশে আগত এবং বিদেশের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশী ও বিদেশী যাত্রীদের ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরিসেবা প্রদান করে। ইমিগ্রেশন সেবা বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা দ্বারা প্রদান করা হয়। [৮]

অপরাধ অনুসন্ধান বিভাগ (সিআইডি) সম্পাদনা

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সন্ত্রাসবাদ, খুন ও পরিকল্পিত অপরাধ মোকাবেলা, তদন্তের কাজ করে থাকে। অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রয়োজনে সিআইডি তাদের ফরেনসিক সমর্থন দেয়। সিআইডির সদর দপ্তর ঢাকার মালিবাগে। সিআইডি ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল এবং ফরেনসিক ট্রেনিং স্কুল নামে দুটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি এলিট ইউনিট হচ্ছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন(এপিবিএন)। একটি মহিলা ব্যাটেলিয়ন সহ সর্বমোট এগারোটি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে আছে। একজ়ন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক এর প্রধান।

বিভিন্ন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অবস্থান নিম্নে দেয়া হল:

  • ১ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — উত্তরা, ঢাকা।
  • ২য় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ।
  • ৩য় আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — খুলনা।
  • ৪র্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — বগুড়া।
  • ৫ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — উত্তরা, ঢাকা।
  • ৬ষ্ঠ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি।
  • ৭ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — লালাবাজার, সিলেট।
  • ৮ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন সিলেট, (বর্তমানে ঢাকা বিমানবন্দর অবস্থান)।
  • ৯ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন চট্টগ্রাম।
  • ১০ম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন — বরিশাল।
  • ১১শ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (মহিলা) — উত্তরা, ঢাকা।

বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ (AAP) সম্পাদনা

এপিবিএনের একটি বিশেষায়িত ইউনিট বিমানবন্দর সশস্ত্র পুলিশ (AAP) হিসাবে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য বিমানবন্দর এলাকার মধ্যে নিয়োজিত আছে। বর্তমানে অষ্টম এপিবিএন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকার নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত আছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ (এএপি) ঢাকা, বাংলাদেশের বৃহত্তম ও ব্যস্ততম বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইন প্রয়োগের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ ইউনিট। এএপি বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (APBn) একটি ব্যাটেলিয়ন । সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (APBn) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রেফতার, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অধ্যাদেশের ধারা ৬ অনুযায়ী সরকার কর্তৃক উপর অন্বিত অস্ত্র ও বিস্ফোরক, এবং অন্য কোন দায়িত্ব পুনরুদ্ধার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়।এয়ারপোর্টের সামগ্রিক নিরাপত্তা দায়িত্ব নিতে সশস্ত্র পুলিশ ব্যাটেলিয়ন স্থাপন। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ আরো কার্যকরভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে তাদের অধিক্ষেত্র মধ্যে তার দায়িত্ব সম্পাদন করার জন্য ১জুন ২০১১ থেকে মোতায়েন রয়েছে। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ সু-সম্পর্ক ও সহযোগিতা বজায় রাখে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট, বিমান পরিবহন সংস্থা এবং অন্যান্য অপারেটরদের অনুরূপ সংস্থা সহ বিমানবন্দর অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে। (১০০ মহিলা সদস্য সহ) মোট জন বাংলাদেশের বৃহত্তম বিমানবন্দর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে কর্তব্যরত আছে। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ এয়ারপোর্ট সুরক্ষিত করার জন্য দলের চারটি ধরন আছে: ইউনিফর্ম পরিহিত গার্ড এবং চেক টিম গোয়েন্দা টিম ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন টিম। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ স্বাধীনভাবে এয়ারপোর্ট সুরক্ষিত রাখতে দায়িত্ব সম্পাদন করে। বেসামরিক বিমান পরিবহন,পর্যটন ও বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ অনুযায়ী বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ সাধারণত নিম্নলিখিত দায়িত্ব পালন করে থাকে:

বিমানবন্দরে বিধ্বংসী আইন, কোনো ধরনের প্রতিরোধ অবাঞ্ছিত ও অননুমোদিত ব্যক্তি অবৈধ অনধিকার প্রবেশ প্রতিরোধ করার জন্য,/স্টপ হরণ বা যাত্রী লটবহর চুরি, এয়ারপোর্ট সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, যাত্রী বাঁধন হয়রানি প্রতিরোধ। পার্কিং এলাকা, পরিবাহক বেল্ট, বিমান থাকিবার স্থান, পিচ এলাকা সহ এয়ারপোর্ট ভিতরে বিভিন্ন এলাকায় ভিডিও প্রযুক্তির প্রয়োগের মাধ্যমে তথ্য ও সম্ভাব্য অপরাধীদের সনাক্তকরণ, তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং এয়ারপোর্ট ভিতরে সাধারণ পরীক্ষণ এবং সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যাত্রী ভ্রমণ নথি, লটবহর বা শরীরের তল্লাশী ইত্যাদি। লটবহর চুরি/হরণ, চোরাচালান, বেওয়ারিশ লটবহর, যাত্রী হয়রানি সংক্রান্ত কোনো ঘটনার তদন্ত পরে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। বিধ্বংসী আইন বা অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে নিরাপত্তা ও সমন্বয় সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ জঙ্গি আক্রমণ রোধ করা।

বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন (SPBn) সম্পাদনা

২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভ্রমণরত বিদেশী রাষ্ট্রীয় অতিথিদের নিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা ব্যাটালিয়ন নামে পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা হয়। এপিবিএনের প্রধান অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শকের নিয়ন্ত্রণে একজন উপ মহা পরিদর্শক এই বাহিনী পরিচালনা করে থাকেন। প্রাথমিক ভাবে দুটি প্রটেকশন ব্যাটালিয়ন দিয়ে এই বাহিনী যাত্রা শুরু করেছে।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ান (র‍্যাব) সম্পাদনা

র‍্যাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাস দমনের উদ্দেশ্যে গঠিত চৌকস বাহিনী। পুলিশ সদর দপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ গঠিত হয় এবং একই বছরের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) তাদের কার্যক্রম শুরু করে। [৯] বাংলাদেশ পুলিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, আনসার ও সিভিল প্রশাসনের সদস্যদের নিয়ে র‍্যাব গঠিত হয়। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশের নিয়ন্ত্রণে মহাপরিচালক র‍্যাব এই বাহিনী পরিচালনা করেন। র‍্যাবের অন্যতম সাফল্য হল জঙ্গি দমন বিশেষত জামায়াতুল মুজাহিদিন(জেএমবি) রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠার আগেই র‍্যাব তাদের সমস্ত নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়।

রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি) সম্পাদনা

রেলওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ রেলওয়ের সীমানায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসাবে কাজ করে। তারা রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের শৃঙ্খলা রক্ষা, ট্রেন ভ্রমণরত যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব পালন করে। রেল দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তারা এর বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। রেলওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান হলেন একজন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (রেলওয়ে পুলিশ) পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা। রেলওয়ে পুলিশ রেঞ্জের অধীনে ছয়টি রেল জেলা আছে, এগুলি হলো সৈয়দপুর, পাকশী, লালমনিরহাট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট। একজন রেলওয়ে পুলিশ একটি সুপারিনটেনডেন্ট(SRP) রেল জেলা পুলিশের সকলপ্রকার প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ সম্পাদনা

শ্রম আইন,২০০৬;বাস্তবায়নে এবং শিল্প এলাকায় অশান্তি প্রতিরোধ কল্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ পূর্বক সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ মোকাবেলার উদ্দেশ্যে ২০১০ সালের ৩১ শে অক্টোবর শিল্প পুলিশ যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এই ইউনিটের সদস্য সংখ্যা ২৯৯০ জন।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের আটটি কার্য অঞ্চল-

  • ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-১, আশুলিয়া, ঢাকা।
  • ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-২, গাজীপুর।
  • ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-৩, চট্টগ্রাম।
  • ইন্ডাস্টিয়াল পুলিশ-৪,নারায়ণগঞ্জ।
  • ইন্ডস্ট্রিয়াল পুলিশ-৫, ময়মনসিংহ।
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৬, খুলনা।
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৭, কুমিল্লা।[১০]
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৮, সিলেট।[১১]

হাইওয়ে পুলিশ সম্পাদনা

মহাসড়ক নিরাপদ রাখা এবং যানজটমুক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার হাইওয়ে পুলিশ গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে। ২০০৫ সালে হাইওয়ে পুলিশ তার যাত্রা শুরু করে। [১২] হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের প্রধান কর্মকর্তা হলেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (হাইওয়ে পুলিশ)। হাইওয়ে পুলিশ রেঞ্জের অধীনে দুটি হাইওয়ে পুলিশ উইং আছে। ইস্টার্ন উইং এর সদরদপ্তর কুমিল্লায় এবং ওয়েষ্টার্ন উইং এর সদরদপ্তর বগুড়ায় অবস্থিত। প্রতিটি উইং এর নেতৃত্বে আছেন একজন সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (হাইওয়ে)। অপর্যাপ্ত জনবল আর যানবাহন সংকটের কারণে দেশব্যাপী বিস্তৃত মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশের উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়।

পুলিশ ইন্টার্নাল ওভারসাইট (PIO) সম্পাদনা

সারাদেশে কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নজরদারী করতে ও তাদের উপর গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পুলিশের অভ্যন্তরীণ ওভারসাইট নামে একটি বিশেষায়িত বিভাগ কাজ করে। ২০০৭ সালে এই বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সদর দপ্তরের একজন সহকারী মহা পুলিশ পরিদর্শক এই বিভাগের প্রধান এবং তিনি সরাসরি মহা পুলিশ পরিদর্শকের নিকট রিপোর্ট দাখিল করেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পুলিশ ইউনিট পিআইও এর সরাসরি নজরদারির আওতাধীন। পিআইওর এজেন্টরা পুলিশ হেডকোয়ার্টারের পিআইওর ইউনিট এর সরাসরি তত্বাবধানে সারাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী, সারদা, রাজশাহী।

দেশের একমাত্র পুলিশ একাডেমী রাজশাহী জেলার চারঘাট উপজেলা সদর দপ্তর থেকে এক মাইল দূরে পদ্মার পাড়ে এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশে সরদহতে অবস্থিত। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে মেজর এইচ. চ্যমেই নামে একজন সামরিক অফিসার এই একাডেমীর প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি একাডেমীর স্থান অনুসন্ধানের জন্য পদ্মা নদী দিয়ে স্টিমারে যাবার সময় চারঘাটে স্টিমার থামান। এখানকার পারিপার্শ্বিক মনোরম পরিবেশে বিশেষ করে বিশাল আম বাগান, সু-উচ্চ বড় বড় কড়ই গাছ ও প্রমত্তা পদ্মার বিশালতা দেখে তিনি মুগ্ধ হন। এরপর ফিরে গিয়েই তিনি এখানে পুলিশ একাডেমীর স্থান নির্ধারণের জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রস্তাব পেশ করেন। ব্রিটিশ সরকার তার সুপারিশ গ্রহণ করেন এবং ১৯১২ সালের জুলাই মাসে সারদাতে পুলিশ একাডেমী উদ্ধোধন করা হয়। বর্তমানে এই পুলিশ একাডেমী দেশের পুলিশ প্রশাসনকে গতিশীল ও সচল রাখার জন্য সমসাময়িক ধ্যান ধারনায় বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। এর আয়তন ১৪২.৬৬ একর। বর্তমানে আরও ১০০একর জমি অধিকরণ এর কাজ চলছে।

পুলিশ স্টাফ কলেজ ২০০০ সালে ঢাকায় বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়।

পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার ১) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার খুলনা

২) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, টাঙ্গাইল

৩) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, রংপুর

৪) পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, নোয়াখালী ।

৫) পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল, বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটি

গোয়েন্দা প্রশিক্ষন স্কুল ১৯৬২ সালে ঢাকায় গোয়েন্দা প্রশিক্ষন স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সম্পাদনা

  • বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি, সারদা, রাজশাহী
  • পুলিশ স্টাফ কলেজ
  • পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, টাঙ্গাইল
  • পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, রংপুর
  • পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনা
  • পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, নোয়াখালী
  • ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার,কক্সবাজার
  • ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল (ডিটিএস), রাজারবাগ, ঢাকা
  • ফরেনসিক ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, মালিবাগ, ঢাকা
  • স্পেশাল ব্রাঞ্চ ট্রেনিং স্কুল, মালিবাগ, ঢাকা
  • পুলিশ পীসকিপারস ট্রেনিং স্কুল, রাজারবাগ, ঢাকা
  • পুলিশ স্পেশাল ট্রেনিং স্কুল, বেতবুনিয়া, রাঙ্গামাটি
  • ট্রাফিক এন্ড ড্রাইভিং স্কুল, মিল ব্যারাক, ঢাকা
  • মটর ড্রাইভার টেনিং স্কুল, জামালপুর
  • টেলিকমিউনিকেশনস ট্রেনিং সেন্টার, রাজারবাগ, ঢাকা
  • ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশ ট্রেনিং একাডেমি, রাজারবাগ, ঢাকা
  • র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল, গাজীপুর, ঢাকা
  • আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন ট্রেনিং স্কুল
  • ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, আশুলিয়া, ঢাকা।

এগুলো ছাড়াও প্রতি জেলায় ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার আছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ সম্পাদনা

২০০৯ সালে বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাবেলা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণরত স্থানীয় ও বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা বিধানে গঠিত হয় পর্যটন পুলিশ।[১৩] এরপর পর্যটন শিল্পে গতি আনার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের নভেম্বরে গঠিত হয়-বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ।[১৪] পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিটের সব তৎপরতাই পর্যটকদের কেন্দ্র করে। পর্যটকদের সহায়তায় ৫টি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে আসছে ট্যুরিস্ট পুলিশ। এগুলো হচ্ছে- পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভ্রমণ অনুকুল পরিবেশ নিশ্চিত করা, পর্যটকদের আইনগত সহায়তা প্রদান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সর্বোচ্চ পেশাদারীত্ব বজায় রাখা।

দেশের ৬৪টি জেলায় ছোট-বড় টুরিস্ট স্পট রয়েছে ১,৬৭৫টি। আকর্ষণীয় স্পট প্রায় অর্ধশতাধিক। এসব স্পটে পর্যটকের নিরাপত্তায় কাজ করছেন প্রায় এক হাজার ৩০০ টুরিস্ট পুলিশ। বর্তমানে ৩২টি জেলায় ১০৪টি টুরিস্ট স্পটে ৭৩টি অফিসের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে সংস্থাটি। সে সব স্পটে ২৪ ঘণ্টায় পেট্রোলিং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা দিচ্ছেন তারা।

নৌপুলিশ সম্পাদনা

নৌপুলিশ বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর একটি অন্যতম শাখা। সাধারণত সামুদ্রিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সীমান্তবর্তী সামুদ্রিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় পুলিশের এই শাখার সদস্যবৃন্দ দায়িত্বপালন করে থাকেন। এছাড়া নৌপরিবহন সমূহে নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তার প্রদানও পুলিশের এই শাখা করে থাকে।

পুলিশ কাঠামো সম্পাদনা

রেঞ্জ পুলিশ

  • রেঞ্জ
  • জেলা
    • গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)
  • সার্কেল
    • থানা
      • পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র
      • পুলিশ ফাড়ি
      • পুলিশ ক্যাম্প

মেট্রোপলিটন পুলিশ

  • বিভাগ
    • ক্রাইম
    • ট্রাফিক
    • গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)
      • জোন
        • থানা
          • পুলিশ ফাড়ি
          • পুলিশ ক্যাম্প
          • বিট

গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)

প্রত্যেক মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা শাখা আছে। গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) একটি অত্যন্ত দক্ষ, বাস্তবধর্মী ও প্রযুক্তি নির্ভর বিশেষায়িত শাখা।

ট্রাফিক পুলিশ

ট্রাফিক পুলিশ ছোট শহরগুলিতে জেলা পুলিশের অধীনে এবং বড় শহরগুলিতে মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীনে কাজ করে। ট্রাফিক পুলিশ ট্রাফিক আইনকানুন মেনে চলতে যানবাহনগুলোর চালকদের বাধ্য করে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

নিয়োগ সম্পাদনা

পুলিশের ৩ স্তরে ৪ ক্যাটাগরীতে সদস্য নিয়োগ করা হয়।
  • সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)
  • সার্জেন্ট/ উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)
  • পুলিশ কনষ্টেবল

সদস্য সংখ্যা সম্পাদনা

সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে পুলিশে কনস্টেবল থেকে আইজিপি পর্যন্ত ২লাখ ১২ হাজার ৭২৪ জন সদস্য রয়েছে ।[১] বাংলাদেশের জনসংখ্যার বিপরীতে পুলিশ সদস্যের অনুপাত ১:৮০০।[১৫]

পুলিশ স্তর সম্পাদনা

উচ্চতর কর্মকর্তাগণ সম্পাদনা

জাতীয় পুলিশ পদস্তর বিন্যাস

  • মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি)
  • অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক (অতিঃআইজিপি)
  • উপ মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি)
  • অতিঃ ডিআইজি
  • পুলিশ সুপার (এসপি)
  • অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিঃএসপি)
  • সিনিয়ন সহকারী পুলিশ সুপার (সিনিয়র এএসপি)
  • সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)

মেট্রোপলিটন পুলিশ পদস্তর বিন্যাস

  • পুলিশ কমিশনার
  • অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার
  • যুগ্ম পুলিশ কমিশনার
  • উপ পুলিশ কমিশনার
  • অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার
  • সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার
  • সহকারী পুলিশ কমিশনার

ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল পুলিশ/র‍্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন পদের স্তর বিন্যাস

  • মহাপরিচালক
  • অতিরিক্ত মহা পরিচালক
  • পরিচালক
  • উপ পরিচালক
  • সিনিয়র সহকারী পরিচালক
  • সহকারী পরিচালক
উচ্চতর অফিসারদের পদ মর্যাদার স্তর বিন্যাস
আইজিপি ৮২০০০/- (সিনিয়র সচিব)পদমর্যাদা অতিঃ আইজিপি৭৮০০০/৬৬০০০/-গ্রেড১ (সচিব)পদমর্যাদা ৪জন ডিআইজি ৫৬৫০০/- অতিঃ ডিআইজি ৫০০০০/- এসপি ৪৩০০০/- অতিঃ এসপি ৩৫৫০০/ সিনিয়র এএসপি ২৯০০০/- এএসপি ২৩১০০/-
২২ ৬৩ ১০৪ ১২০০ ৯৪১

অধস্তন অফিসার সম্পাদনা

মহাপরিদর্শক সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান হলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক। এটি বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র তিন তারকা পদ। বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান মহাপরিদর্শক হচ্ছেন চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন

কমিউনিটি পুলিশি বাংলাদেশ সম্পাদনা

কৌশলগত অংশীদারিত্ব সম্পাদনা

কমিউনিটি পুলিশিং হচ্ছে অপরাধ সমস্যা সমাধানে পুলিশ ও জনগণের যৌথ অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠার একটি নতুন পুলিশিং দর্শন । আমাদের দেশে পুলিশিং কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের জন্য কমিউনিটি পুলিশিং ধারণা গ্রহণ করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন অংশীদারিত্ব সম্পাদনা

কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা কমিউনিটির সদস্যগণ, সমাজের বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং পুলিশের অংশীদারীত্বের ভিত্তিতে অপরাধ প্রতিরোধ ও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয় কমিউনিটি পুলিশিং মূলত একটি প্রতিরোধমূলক পুলিশি ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় অপরাধের কারণগুলো অনুসন্ধান করে সেগুলো দূর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। অপরাধের কারণগুলো দূর করা যেহেতু পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয় তাই এই কাজে অন্যান্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। কমিউনিটি পুলিশিং এর যাবতীয় কর্মকাণ্ড অপরাধ প্রতিরোধ তথা অপরাধ যাতে ঘটতে না পারে সেই লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পুলিশ জনগণকে নিজেরাই যাতে নিজ নিজ এলাকার অপরাধগুলো প্রতিরোধ করতে পারে তার জন্য জনগণকে আইনি পরামর্শ দেওয়া, অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করা, অপরাধকর্ম সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য বা পরামর্শ দেওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করে।

কাঠামো সম্পাদনা

কমিউনিটি পুলিশিং এর অঞ্চল ভিত্তিক সাংগঠনিক কমিটির দুটো কাঠামো থাকে: (১) উপদেষ্টা পরিষদ এবং (২) নির্বাহী কমিটি বা কার্যকরী পরিষদ।

উপদেষ্টা পরিষদ

উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৮-১০ জন হয়। তবে যদি কার্যকরী কমিটি মনে করে এলাকার বিশেষ কোন ব্যক্তি কমিউনিটি পুলিশিং সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে সেক্ষেত্রে এর সংখ্যা বৃদ্ধি করার সুযোগ আছে।

নির্বাহী কমিটি/কার্যকরী পরিষদ

নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ এর মধ্যে হয়ে থাকে। তবে এলাকার উদ্যোগী, আগ্রহী এবং খ্যাতি সম্পন্ন কোন বিশেষ ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করতে সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি করে সর্বোচ্চ ২৫ জন করা যায়।

পুলিশ পদক সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) সম্পাদনা

  • বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম) - সাহসিকতা
  • বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল - সার্ভিস (বিপিএম)

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) সম্পাদনা

  • রাষ্ট্রপতি পুলিশ মেডেল (পিপিএম) -সাহসিকতা
  • রাষ্ট্রপতি পুলিশ মেডেল - সার্ভিস (পিপিএম)

যানবাহন সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন রকম যানবাহন ব্যবহার হয়ে থাকে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল এবং ডাবল কেবিন পিকআপ ও সিঙ্গেল কেবিন ভ্যান বেশি ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া পেট্রোল কার, ট্রাক, বাসও তাদের বহরে আছে। এগুলো ছাড়া হেলিকপ্টার, কমান্ড ভেহিকেলস, ক্রাইম সীন ভেহিকেলস, এপিসি, রায়ট কার, জল কামান, এভিডেন্স কালেকশন ভ্যান ও পুলিশ বহরে যুক্ত। হাইওয়ে পুলিশ নিশান পেট্রোল, নিশান সানি, হুন্দাই সোনাটা এবং আরো অনেক রকম যান ব্যবহার করে থাকে। এছাড়া রাষ্ট্রের প্রয়োজনে পুলিশ জনসাধারনের গাড়ি রিকুইজিশন করে জন নিরাপত্তা বিধানে ব্যবহার করে থাকে।

অস্ত্র সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ যে সব অস্ত্র ব্যবহার করে থাকেঃ

  • ৭.৬২ অ‌টো‌মে‌টিক পিস্তল
  • গ্লোগ ১৭ পিস্তল
  • তাওরাস পিস্তল
  • .৩২ ‌ওয়েবলী রিভলবার
  • নাইন এম এম পিস্তল
  • এম-৪ রাই‌ফেল
  • এম-১৬ রাই‌ফেল
  • স্নাইপার গান
  • সাব মে‌সিন কারবাইন
  • এসএলআর
  • এল এম জি
  • এম এম জি
  • .৩৮ স্মিত এন্ড ওয়েলসন
  • শটগান (১২ বোর)- ০৬ ধর‌নের
  • ৭.৬২ এমএম চায়নিজ রাইফেল
  • ৭.৬২ x ৫১ জি৩ রাইফেল
  • একে ৪৭
  • টিয়ার শেল গ্যাস গান
  • ৭.৬২ সাব মেশিনগান
  • গ্যাস গ্রেনেড
  • সাউন্ড গ্রে‌নেড
  • পিপার স্প্রে
  • ট্রেসার গান

নিরস্ত্র পুলিশ লাঠি ব্যবহার করে।

নারী পুলিশ সম্পাদনা

বাংলাদেশের নারীগণ শিক্ষায় ও কর্মস্থলে পুরুষদের সাথে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। পুলিশ বাহিনীতে নারী পুলিশের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। নারী ও শিশুদের সহায়তায়,তথ্য সংগ্রহে, নারী অপরাধীদের গ্রেফতার, তল্লাশি সহ বিভিন্ন পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনায় নারী পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনীর ১৫ শতাংশ নারী। অনেক নারী পুলিশ যোগ্যতাবলে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন স্তরে কর্তব্যরত রয়েছে।

বিশেষ অস্ত্র ও কার্যপদ্ধতি (সোয়াট) সম্পাদনা

Special Weapons And Tactics (বিশেষ অস্ত্র ও কার্যপদ্ধতি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের একটি অভিজাত শাখা। ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ তারিখে এটি গঠন করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ইউনিটের গোয়েন্দা শাখার অধীনে সোয়াট কাজ করে। সোয়াট ইউনিটের সদস্যরা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেন। এদের দেশে এবং বিদেশে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জরুরী প্রয়োজন এবং সংকট ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবাদী আক্রমণ, জিম্মি উদ্ধার ইত্যাদি অপরাধ মোকাবিলায় সোয়াট সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।

বিডি পুলিশ হেল্পলাইন সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ২০১৬ সালের অক্টোবরে চালু করা হয় ‘বিডি পুলিশ হেল্পলাইন’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপলিকেশন। এর মাধ্যমে কোনো অভিযোগ করা হলে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে শুরু করে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স পর্যন্ত পৌঁছে যায়। (999 টোল ফী নাম্বার । নারী ও শিশু নির্যাতন নাম্বার 109 ।)[১৬][১৭]

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যাবলীতে অবদান সম্পাদনা

১৯৮৯ সালে নামিবিয়ায় বাংলাদেশ পুলিশ বাংলাদেশের প্রথম জাতিসংঘের শান্তি মিশনের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে কাজ করে। এরপর থেকে যথাক্রমে বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা আইভরি কোষ্ট, সুদান, দারফুর, লাইবেরিয়া, কসাবো, পূর্ব তিমুর, ডি আর কঙ্গো, অ্যাঙ্গোলা, হাইতিসহ অন্যান্য মিশনে কাজ করে। ২০০৫ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন আইভরি কোষ্টে প্রথম সন্নিবেশিত পুলিশ ইউনিট (এফপিইউ) কাজ শুরু করে। শান্তিরক্ষী মিশনে সর্বোচ্চ সংখ্যক পুলিশ সদস্যের উপস্থিতি বাংলাদেশের। বর্তমানে পৃথিবীর ছয়টি দেশে চলমান সাতটি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে দুইটি নারী পুলিশ সদস্যের সমন্বিত এফপিইউ সহ (যার একটি কঙ্গোতে অন্যটি হাইতি তে) সর্বমোট ২০৫০ জন কর্মরত আছেন।[১৮]

অতীতে সমাপ্ত এবং বর্তমানে চলমান UNPOL এবং FPU শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের অংশগ্রহণঃ[১৯]

ক্রমিক নং মিশনের নাম দেশ সময়কাল
UNTAG নামিবিয়া ১৯৮৯-১৯৯০
UNTAC কম্বোডিয়া ১৯৯২-১৯৯৪
UNPROFOR যুগশ্লাভিয়া ১৯৯২-১৯৯৬
UNUMOZ মোজাম্বিক ১৯৯৩-১৯৯৪
UNAMIR রোয়ান্ডা ১৯৯৩-১৯৯৫
UNMIH হাইতি ১৯৯৪-১৯৯৫
UNAVEM – III অ্যাঙ্গোলা ১৯৯৫-১৯৯৯
UNTAES পূর্ব স্লোবেনিয়া ১৯৯৬-১৯৯৮
UNMIBH বসনিয়া ১৯৯৬-২০০২
১০ UNMISET/UNMIT পূর্ব তিমুর ১৯৯৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১১ UNMIK কসাভো ১৯৯৯-২০০৯
১২ UNAMSIL সিয়েরা লিয়ন ২০০০
১৩ UNMIL লাইবেরিয়া ২০০৩ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১৪ UNOCI আইভরি কোষ্ট ২০০৪ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১৫ UNMIS সুদান ২০০৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১৬ MONUC ডিআর কঙ্গো ২০০৫ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১৭ UNAMID দারফুর ২০০৭ থেকে বর্তমান পর্যন্ত
১৮ UNAMA আফগানিস্তান ২০০৮-২০১০

দুর্নীতি ও বিতর্ক সম্পাদনা

বাংলাদেশ পুলিশ সর্বস্তরে রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য সমালোচিত হয়েছে এবং প্রধান সিদ্ধান্তগুলো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নেওয়া হয় এমন অভিযোগ রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে ব্যাপক দুর্নীতি, হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনের ঘটনা প্রচলিত রয়েছে।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের হাতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একজন কর্মকর্তা নির্যাতনের শিকার হন।[২০] একই মাসে ডিএমপির একজন সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।[২১][২২] বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।[২৩] বাংলাদেশের পুলিশকে সরকার বিরোধী দলকে দমন করতে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।[২৪] গণমাধ্যমে পুলিশের জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।[২৫] বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৩০ জন পুলিশ কর্মকর্তা পদোন্নতির জন্য একটি যৌথ ঘুষ তহবিল গঠন করেছিলেন।[২৬] বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের ওপর হামলার পর সেক্যুলার ব্লগারদের আত্ম-নিন্দা করতে বলার কারণে বাংলাদেশ পুলিশ সমালোচনার মুখে পড়ে।[২৭] অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী তার স্বামীর উপর হামলার সময় বাংলাদেশ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছিলেন।[২৮] ব্রিটিশ সরকার বাংলাদেশ পুলিশ, যাদেরকে ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন করতে ব্যবহার করা হতে পারে, সহায়তা করার জন্য সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।[২৯]

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ (সাবেক পুলিশ সুপার, ডিএমপি,তেজগাঁও ) বেশ কিছু বিতর্কের সম্মুখীন হয়েছেন।[৩০] ৩ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে, তিনি আম্বার গ্রুপের চেয়ারপারসন শওকত আজিজ রাসেলের স্ত্রী ও নাবালক ছেলেকে গুলশান থেকে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে অপহরণ করে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যান। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর তাকে নারায়ণগঞ্জে তার পদ থেকে অপসারণ করা হয়।[৩১] তার বদলি হওয়ার চার দিন পরও তিনি এই পদে কাজ চালিয়ে যান।[৩২] বাংলাদেশী সংবাদপত্র দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড তাকে "পুলিশের দায়মুক্তির ঘটনা" হিসেবে বর্ণনা করেছিল।[৩৩] তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের রাজনীতিবিদ, বিরোধীদলীয় হুইপ এবং সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুককে লাঞ্ছিত করার জন্য ৬ জুলাই ২০১১ তারিখে প্রথম সংবাদে আসেন। জয়নুলের ওপর হামলার জন্য তাকে পুরস্কৃত করা হয় এবং পদোন্নতি দেওয়া হয়।[৩১][৩৪] নভেম্বর ২০১৯ সালে, তার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে তাকে এবং অন্যান্য পুলিশ অফিসারদের একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ফুটবল ম্যাচে একজন রেফারিকে আক্রমণ করতে দেখা যায়।[৩৪]

আরও দেখুন সম্পাদনা

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "বর্তমানে পুলিশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১৮৮৭২৪ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী"একুশে টেলিভিশন। ৩০ এপ্রিল ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ১৪ জুন ২০২০ 
  2. Department of Economic and Social Affairs Population Division (২০০৯)। "World Population Prospects, Table A.1" (পিডিএফ)। 2008 revision। United Nations। ১৮ মার্চ ২০০৯ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৩-১২ 
  3. "The Code of Criminal Procedure, 1898"bdlaws.minlaw.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-০৪ 
  4. "Police administration, interrogation of offenders"। সংগ্রহের তারিখ ২০১০/০২/০২  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  5. "History of Bangladesh Police"। ১৩ আগস্ট ২০০৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০/০২/০২  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  6. "Guard of honour at Mujibnagar"। ২০১০-০২-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-০৪ 
  7. "Bangladesh Intelligence and Security"। Lcweb2.loc.gov। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৯-০৭ 
  8. "About Us"। ২০১০-০৫-০১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০২ 
  9. "History of the Bangladesh Police"। ২০০৯-০৮-১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৯-২৯ 
  10. https://www.facebook.com/rtvonline। "কুমিল্লায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের যাত্রা শুরু"RTV Online (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-১১-০৩ 
  11. দিগন্ত, Daily Nayadiganta-নয়া। "সিলেট অঞ্চলে যাত্রা শুরু করল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-৮"Daily Nayadiganta (নয়া দিগন্ত) : Most Popular Bangla Newspaper। সংগ্রহের তারিখ ২০২৩-১১-০৩ 
  12. "Highway Police of Bangladesh"। ২০১০-০৬-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০২ 
  13. "Bangladesh creates tourist police"। ২০১১-০৭-২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০২ 
  14. ট্যুরিস্ট পুলিশের কার্যক্রম চালু হচ্ছে আরও পাঁচ জেলায়
  15. http://www.jugantor.com/last-page/2014/09/05/143417
  16. Kantho, Kaler। "বিডি পুলিশ হেল্পলাইন - কালের কণ্ঠ" 
  17. "চালু হলো 'বিডি পুলিশ হেল্পলাইন'" 
  18. "Present deployment in UN Mission"। ২০১১-০৭-০৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০২-০২ 
  19. "List of Mission Completed UNPOL and FPU Peacekeepers"। ২০১৩-০৭-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৪-০৪ 
  20. "Police brutality continues"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  21. "Police officer 'tried to blackmail Bangladesh Bank official' threatening Yaba taint"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  22. "BB official assault: SI Masud did not behave like police, says Home Minister"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  23. "Policemen's involvement in crimes rising"Dhaka Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  24. "Police going overboard on government indulgence, says BNP"bdnews24.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  25. Huq Zahid, Shamsul। "Are police unaccountable?"The Financial Express। Dhaka। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  26. "10 cops disciplined"The Daily Star। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  27. "Petition calls for Bangladeshi police chief to resign after he warned secularists not to insult religion"National Secular Society। ১৮ আগস্ট ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  28. "Wife of murdered US blogger Avijit Roy says Bangladesh police 'did not act' during attack"The Sydney Morning Herald। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  29. Holehouse, Matthew। "Did British aid help Bangladeshi police lock up dissidents?"The Daily Telegraph। London। ২০২২-০১-১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০১-১৮ 
  30. "Decision on SP Harun after IGP returns home: Police Headquarters"The Business Standard (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১১-০৪। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৬ 
  31. "SP Harun appointed DMP Tejgaon division chief"Dhaka Tribune। ২০২০-০৬-০৯। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৬ 
  32. "SP Harun still in N'ganj 4 days after withdrawal"The Daily Observer। ২০২০-০৭-২৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৬ 
  33. "SP Harun: A case of impunity for police excess"The Business Standard (Opinion) (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-১১-০৫। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৬ 
  34. "SP Harun finally returns to DMP"New Age (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৭-২৬ 

বহিঃসংযোগ সম্পাদনা