বাংলাদেশে ইন্টারনেট

বিশ্বের অন্যান্য উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের মত বাংলাদেশে ইন্টারনেট এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষ্ময়করহারে বৃদ্ধি ঘটেছে। ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তিতে জনগণের প্রবেশাধিকার এবং ব্যবহার বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে যার ফলশ্রুতিতে অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ২০২০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) বৃদ্ধি পেয়েছে।[১] বর্তমানে বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি এবং মোট জনসংখ্যার ৬২% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। এপ্রিল ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে ৯৩.৭০২ মিলিয়ন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে বাংলাদেশ ৪ জি নেটওয়ার্ক পরিষেবা প্রদান শুরু করে। [২]

২০২০ সালের মে পর্যন্ত ইন্টারনেট মূলত ২ টি সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ দ্বারা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়। যার ব্যান্ডউইটথ সরবরাহ সক্ষমতা যথাক্রমে ৩০০ জিবিপিএস ও ১৮০০ জিবিপিএস।

বিবর্তনসম্পাদনা

৯০'দশকের শেষের দিকে স্থানীয় কিছু পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম (বিবিএস) পদ্ধতিতে ডায়াল-আপ এর সাহায্যে ই-মেইল ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করলেও ৫০০'শ এর অধিক ব্যবহারকারী এই সুবিধা পেত না। অন্যদিকে ব্যবহারকারী কিলোবাইট হিসেবে চার্জ প্রদান সত্ত্বেও তাদের প্রেরিত ই-মেইল স্থানান্তর করা হত আন্তর্জাতিক বিবিএস পরিষেবা প্রদানকারীর সংস্থার ডায়াল-আপ ব্যবহারের মাধ্যমে।

১৯৯৫ সালে অফলাইন ই-মেইল-এর মাধ্যমে প্রথম এদেশে সীমিত আকারে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে দেশে প্রথম ইন্টারনেটের জন্য ভিস্যাট স্থাপন করা হয় এবং আই.এস.এন নামক একটি আইএসপি-র মাধ্যমে অনলাইন ইন্টারনেট সংযোগের বিস্তৃতি ঘটতে শুরু করে। শুরুতে এই আইএসপি গুলো ছিল শুধু বিটিটিবি-ই সরকারি মালিকানাধীন।[৩]

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের উদারনৈনিক নীতি এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কল্যাণে ২০০৫ সাল নাগাদ ১৫০ এর অধিক আইএসপি-র নিবন্ধন দেয়া হয়েছে এবং বর্তমানে সরকারের টেলিযোগাযোগ আইনের আওতায় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন(বিটিআরসি) এই আইএসপি সমুহ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করছে।[৪]

ব্যবহারসম্পাদনা

২০০০ সালে বাংলাদেশের মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ১,৮৬,০০০ যা ২০০৯ সালে বেড়ে হয় ৬,১৭,৩০০, যা বাংলাদেশের জনসংখ্যার মাত্র ০.৪%।

ইন্টারনেট টপ লেভেল ডোমেইনসম্পাদনা

বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাল প্রদত্ত রাষ্ট্রীয় সংকেত বা টপ-লেভেল ডোমেইন হল .bd এবং '.বাংলা'।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Internet Subscribers in Bangladesh"। Dhaka: বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)। ১ মার্চ ২০২০। ৮ মে ২০২০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৫ মে ২০২০ 
  2. http://www.btrc.gov.bd/content/internet-subscribers-bangladesh-april-2019
  3. মাসুদ হাসান চৌধুরি এবং মাহবুব মোর্শেদ (জানুয়ারি ২০০৩)। "কম্পিউটার"। সিরাজুল ইসলামকম্পিউটারঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশআইএসবিএন 984-32-0576-6। সংগ্রহের তারিখ ডিসেম্বর ১০ , ২০১৪  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. "A short history of the Bangladesh ISP Industry" ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৯ মার্চ ২০০৮ তারিখে, Internet Service Providers Association Bangladesh, accessed ডিসেম্বর ১১ , ২০১৪