বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট

বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট ১৯৩৬ সালে রাজশাহী কলেজ এর একটি সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫২ সালে ইনস্টিটিউটটি বন্ধ হয়ে যায়।[১]

বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট
বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট.jpg
বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট ভবন যা পরবর্তিতে বি. কে. হোষ্টেল হিসেবে ব্যবহৃত হয়
সক্রিয়১৯৩৬ (1936)–১৯৫২ (1952)
প্রতিষ্ঠাতাবসন্ত কুমার রায়
মূল প্রতিষ্ঠান
রাজশাহী কলেজ
অবস্থান
রাজশাহী
,
৬০০০
,
বাংলাদেশ
শিক্ষাঙ্গনশহুরে
ভাষাবাংলা

ইতিহাসসম্পাদনা

১১ই আগস্ট ১৯২০ সালে দিঘাপতিয়ার রাজা প্রমথনাথের দ্বিতীয় পুত্র কুমার বসন্ত কুমার রায় একটি উইলের মাধ্যমে রাজশাহীতে একটি কৃষি ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্দেশ্যে ২,৫০,০০০ টাকা দান করেন। বসন্ত কুমার রায় ট্রাস্ট এর তত্বাবধায়কগন এই লক্ষ্যে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আরো এক লক্ষ টাকা দান করেন। সরকার বসন্তকুমারের এই অনুদান গ্রহণ করলেও বিভিন্ন কারণে ১৯৩৬-এর পূর্বে ইনস্টিটিউট স্থাপন সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ ১৬ বছরের ব্যবধানে উক্ত দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রায় ৪ লক্ষ টাকায় উন্নীত হয়।[২]

১২ই মে, ১৯৬৩ সালে একটি সরকারী নোটিফিকেশনের মাধ্যমে (সংযুক্ত) রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষের প্রশাসনের অধীনে বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট নামে রাজশাহীতে একটি কৃষি ইনস্টিটিউট স্থাপিত হয়।

কার্যক্রমসম্পাদনা

রাজশাহী কলেজের রাণী হেমন্তকুমারী হোস্টেল সংলগ্ন নাটোর রোডে অবস্থিত উক্ত হোস্টেলের রান্নাঘর ও ডাইনিং হল ভবনের সংস্কার সাধন করে শুরু হয় বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট এর কার্যক্রম। সরকারী কৃষি ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে ব্যবহারিক ক্লাস নেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

১৯৩৬ সালে ভর্তি হয়েছিলো ১৬ জন ছাত্র। তার মধ্যে পাশ করেছিলো ৭জন। এই ৭ জনই পাস করে চাকরি পেয়েছিলো।[৩]

সমাপ্তিসম্পাদনা

১৯৪৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ভাল চলছিলো। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই এর ক্রমাবনতি ঘটতে থাকে এবং ১৯৪৮ থেকে-১৯৫২ পর্যন্ত এর কোন কাযর্যক্রম ছিলো না। যে দানপত্র এর মাধ্যমে বসন্তকুমার এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউট এর জন্য অর্থ প্রদান করা হয়, দেশ বিভাগের পর উক্ত মূল দানপত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া যাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছিলো তাদের মধ্যে অনেকেই দেশ ত্যাগ করে চলে যায়। কেও কেও মারাও যায়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে।

১৯৫২ সালের জুন মাসে প্রতিষ্ঠানটি পুনঃ চালু রাখার জন্য সরকারের কাছে আবেদন পেশ করা হলেও তার অনুমোদন পাওয়া যায় নি। ১৯৫২ সালের শেষের দিকে সরকারী এক নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।[১]

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ঐতিহ্যে রাজশাহী কলেজ। রাজশাহী: প্রফেসর ড.কে.এম জালালউদ্দীন আকবর। সেপ্টেম্বর ২০০১। পৃষ্ঠা ৩৩। 
  2. পুঠিয়া রাজবংশ। ঢাকা, বাংলাদেশ: বিমলাচরণ মৈত্রেয়। ২০১০। পৃষ্ঠা ২৩। 
  3. Hundred Years of the University of Calcutta। কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। সেপ্টেম্বর ১৯৫৭।