বদলগাছী উপজেলা

নওগাঁ জেলার একটি উপজেলা

বদলগাছী উপজেলা বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা যা ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এটি রাজশাহী বিভাগের অধীন নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে ছোট এবং নওগাঁ জেলার উত্তরে অবস্থিত। বদলগাছী উপজেলার উত্তরে ধামইরহাট উপজেলা এবং জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা, দক্ষিণে নওগাঁ সদর উপজেলা, পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলাপত্নীতলা উপজেলা, এবং পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা। বদলগাছীর উপর দিয়ে ছোট যমুনা নামে একটি নদী প্রবাহিত হয়েছে।

বদলগাছী
উপজেলা
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার
বদলগাছী বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
বদলগাছী
বদলগাছী
বাংলাদেশে বদলগাছী উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৭′৩৬.০০০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০০০″ পূর্ব / ২৪.৯৬০০০০০০° উত্তর ৮৮.৯৩০০০০০০° পূর্ব / 24.96000000; 88.93000000স্থানাঙ্ক: ২৪°৫৭′৩৬.০০০″ উত্তর ৮৮°৫৫′৪৮.০০০″ পূর্ব / ২৪.৯৬০০০০০০° উত্তর ৮৮.৯৩০০০০০০° পূর্ব / 24.96000000; 88.93000000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগরাজশাহী বিভাগ
জেলানওগাঁ জেলা
আয়তন
 • মোট২১৩.৯৭ বর্গকিমি (৮২.৬১ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)[১]
 • মোট২,০১,৩৪২
 • জনঘনত্ব৯৪০/বর্গকিমি (২,৪০০/বর্গমাইল)
 [২]
সাক্ষরতার হারপুরুষ ৫১.৬%, মহিলা ৪৮.৬%
 • মোট৫০.০১%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড৬৫৭০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৫০ ৬৪ ০৬
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
নওগাঁ জেলার মানচিত্র

এ উপজেলার অবস্থান নওগাঁ জেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার উত্তরে। উপজেলার অবস্থান ২৪°৩৫′ উত্তর ৮৮°৩২′ পূর্ব / ২৪.৫৮° উত্তর ৮৮.৫৪° পূর্ব / 24.58; 88.54 এবং আয়তন: ২১৩.৯৮ বর্গ কিলোমিটার।এটি একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। কুটির শিল্প এবং মৎস্য, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চেল অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি আমলে এখানে ইংরেজরা গাঁজা চাষ করত। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,০১,৩৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৯.৯৪% এবং মহিলা ৫০.৫০%। উপজেলার গড় সাক্ষরতার হার শতকরা ৪৯ ভাগ।

বাংলাদেশসহ নওগাঁ জেলার আন্তর্জাতিক পরিচিতি বহনকারী সোমপুর বা পাহাড়পুর বিহার এ উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো বিহারটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়। পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপাল দেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করেন। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই স্থাপনা আবিষ্কার করেন। খননকালে ৬৩টি প্রস্তরমূর্তি ও বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ১৭৭টি কক্ষ পাওয়া যায়।

ব্রিটিশ শাসনামলে ১৭৯৩ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে বদলগাছী প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে বদলগাছী থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদলগাছীর সংসদীয় আসন নওগাঁ-৩। বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি জাতীয় সংসদে ৪৮ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

পটভূমিসম্পাদনা

মান্দা, নওগাঁ ও পাঁচপুর-এই তিন থানা নিয়ে ১৮৭৭ সালে নওগাঁ মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৫ সালে নওগাঁ বান্দাইখাড়া থানাধীন নদী বন্দর ছিল। মহকুমা সদর নির্বাচিত হবার পূর্বেই থানা বান্দাইখাড়া থেকে নওগাঁয় স্থানান্তরিত হয়। পূর্বে বান্দাইখাড়া ও মান্দা থানা রাজশাহী সদর মহকুমার অধীনে ছিল। [৩]নওগাঁ মহকুমা গঠনের আগে থেকে থানা সদর বান্দাইখাড়াতে একটি মুন্সেফ চৌকি প্রতিষ্ঠিত ছিল। মুন্সেফগণ তখন ফৌজদারি মামলারও বিচার করতেন।[৪] ১৯৩২ সালে প্রকাশিত একটি পুস্তিকা থেকে জানা যায়, নওগাঁর প্রাচীন আদিবাসী তরফদারগন ৪০০ বছর আগে আজমীর (মতান্তরে বাগদাদ) থেকে আসেন। মুর্শিদাবাদের নাবাব সরকার ‘তরফদার’ খেতাব দেন। নওগাঁয় ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কুমারখালি কুঠির তত্তবধানে একটি কারখানা ছিল। ১৮৩৪ সালে নওগাঁ দুবলহাটি থানার অধীন। সুলতানপুর, দুপচাঁচিয়া ও নওগাঁ দুবলহাটি জমিদারের অন্তর্গত ছিল।[৫]

১৭৯৩ সালে ঘোড়াঘাট অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।[৬] ১৮২১ সালে বদলগাছী থানা বগুড়া জেলার অন্তর্গত হয়।[৭] ১৮৯৬-৯৭ সালে বগুড়া জেলা থেকে বদলগাছী থানাকে রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করা হয়। ১৯৮৩ সালের ৭ নভেম্বর প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে বদলগাছী থানা বদলগাছী উপজেলা হিসেবে রূপান্তরিত হয়। [৮]১৯৮৪ সালের পহেলা মার্চ নওগাঁ জেলার উদ্বোধন হয় এবং বদলগাছীকে নওগাঁ জেলায় অন্তর্ভূক্ত হয়।[৯]

বদলগাছী নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, মুদ্রা ব্যবস্থা প্রচলনের পূর্বে, দ্রব্য বিনিময় ব্যবস্থার আমলে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী বদলগাছী নামক স্থানে বিনিময় করত। দ্রব্য বদলা-বদলীর স্থান হিসেবে কালক্রমে এর নাম হয়েছে বদলগাছী।[১০]

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২২ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনী নওগাঁ দখল করে। সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীকে প্রতিহত ও পরাভূত করার লক্ষ্যে আতোয়ার রাহমান তালুকদারকে(এমএনএ) বদলগাছী থানার দায়িত্ব দেওয়া হয়। [১১]মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৫ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জালাল হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে বদলগাছী থানার কোলা ভান্ডারপুর নামক স্থানে মুক্তি বাহিনী ও পাক বাহিনীর মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধে অসংখ্য পাকসেনা এবং দুইজন মুক্তিযোদ্ধা মারা যান। [১২] এছাড়া কোলা, ভান্ডারপুর, মিঠাপুর, বালুভরা নামক এলাকায় পাকসেনারা অনেক ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং বহুলোককে হত্যা করে। এছাড়াও সোমপুর বিহারের পাহাড়পুর গ্রামের সন্নিকটে হানাদার বাহিনী গণহত্যা সংঘটিত করে।[১৩] ১৯৭১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বদলগাছীকে মুক্তাঞ্চল ঘোষণা করা হয়।

ভূগোলসম্পাদনা

বদলগাছী উপজেলার ভৌগোলিক অবস্থান ২৪°৩৫′ উত্তর ৮৮°৩২′ পূর্ব / ২৪.৫৮° উত্তর ৮৮.৫৪° পূর্ব / 24.58; 88.54। এর উত্তরে ধামইরহাট উপজেলা এবং জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলা, দক্ষিণে নওগাঁ সদর উপজেলা, পশ্চিমে মহাদেবপুর উপজেলাপত্নীতলা উপজেলা, ও পূর্বে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলা[১৪]

এর মোট আয়তন ২১৩.৯৮ বর্গ কিমি। এ উপজেলার প্রধান নদী ছোট যমুনা। ছোট যমুনা নদী বদলগাছী উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। নদীর পূর্ব দিকে উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন যথা আধাইপুর, কোলা, পাহাড়পুর, বিলাসবাড়ি, মথুরাপুর, মিঠাপুর এবং পশ্চিম পারে বদলগাছী ও বালুভরা নামে দুটি ইউনিয়ন অবস্থিত। বদলগাছী নওগাঁ জেলা শহর হতে ১৭ কিঃ মিঃ উত্তরে এবং পাকা সড়ক দ্বারা সংযুক্ত।

বদলগাছীর বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের তাজপুর গ্রামে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে একটি চুনাপাথরের খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। [১৫] বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর ভূপৃষ্ঠের ২ হাজার ২১৪ ফুট গভীরে চুনাপাথরের পুরু স্তর আবিষ্কৃত করে।[১৬] মাটির ৬১ ফুট খনন করে চুনাপাথর পাওয়া গেছে।[১৭][১৮]

ভূ-প্রকৃতিসম্পাদনা

ছোট যমুনা তীরবর্তী পলি অঞ্চল হিসাবে বদলগাছী গঠিত। বদলগাছীর ভূমি প্রকৃতি সমতল ও উচু। এই এলাকার মাটি দোআঁশ এবং নদীর পলিবিশিষ্ট হওয়ায় জমি খুবই উর্বর। একফসলী,দুইফসলী, ত্রিফসলী জমি রয়েছে। এর গড় বৃষ্টিপাত ৭৭সেঃমিঃ। [১৯] শীত ও গ্রীষ্মে তাপমাত্রায় যথেষ্ট হ্রাসবৃদ্ধি ঘটে, সাধারণভাবে বলেতে গেলে আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। উপজেলায় বহুসংখ্যক খাড়ি ও বিল রয়েছে। বর্ষাকালে এইসব ভড়ে উঠে।

প্রশাসনসম্পাদনা

বদলগাছী উপজেলা মোট ৮টি ইউনিয়ন, ২৩৭টি গ্রাম ও ২৪৬টি মৌজায় বিভিক্ত। ইউনিয়নগুলো হলো, বদলগাছী, মথুরাপুর, পাহাড়পুর, মিঠাপুর, কোলা, বিলাশবাড়ী, আধাইপুর, বালুভরা[২০] ব্রিটিশ শাসনামলে ১৭৯৩ সালে অবিভক্ত দিনাজপুর জেলার থানা বা পুলিশ স্টেশন স্থাপন করা হয়। ১৮২১ সালে বদলগাছী থানা বগুড়া জেলাতে ও এরপরে ১৮৯৬-৯৭ সালে বগুড়া জেলা রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমার সাথে যুক্ত করা হয়। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৮৩ সালে বদলগাছীকে উপজেলা করা হয়। সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অধীনে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনিই উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান। এছাড়া, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একজন উপজেলা চেয়ারম্যান জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে মো: শামসুল আলম খান বদলগাছী উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বদলগাছী উপজেলায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি থানা বা পুলিশ স্টেশন রয়েছে। এছাড়া একটি করে আনসার ও ভিডিপি এবং ফায়ার সার্ভিসের কার্যালয় রয়েছে।

বদলগাছীর ৭টি ইউনিয়নের মধ্যে বদলগাছী ইউনিয়নকে উপজেলা সদর হিসেবে বিবেচনা করা হয়।বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বদলগাছীর সংসদীয় আসন নওগাঁ-০৩। বদলগাছী উপজেলা ও মহাদেবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনটি জাতীয় সংসদে ৪৮ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত। বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর অনুষ্ঠিত, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ যিনি জাতীয় সংসদের ১ম ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২১] ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি মোহাম্মদ সুজাউদ্দৌলা নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ষষ্ঠ, জুন ১৯৯৬ তারিখে সপ্তম, ২০০১ অষ্টম সালের নির্বাচনে টানা ৪ বার বিএনপির আখতার হামিদ সিদ্দিকী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ১০ম ডেপুটি স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। [২২] ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আকরাম হোসাইন চৌধুরী এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০১৪ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ও ২০১৮ সালের সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেলিম উদ্দীন তরফদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

জনসংখ্যা উপাত্তসম্পাদনা

বদলগাছীর ধর্ম বিশ্বাস (২০১১)

  মুসলিম (৮৬.৯৯%)
  হিন্দু (৯.৮৬%)

২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,০১,৩৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,০০,৫৬৬ জন এবং মহিলা ১,০০,৭৭৬ জন। [২৩][২৪]মোট জনসংখ্যার মুসলিম ১,৭৫,১৫০ জন, হিন্দু ১৯,৮৫৪ জন, খৃষ্টান ২৯০ জন এবং উপজাতি ১০,৭৯৯ জন। উপজেলায় মোট ভোটার ১,৪২,৯৭০ জন। উপজেলায় মোট ৫৪,০০১ টি পরিবার রয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ০.৮৪%। সাক্ষরতার হার ৫০.০১%।[২৩]

অর্থনীতিসম্পাদনা

বদলগাছী মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এ অঞ্চলের ৬৪.৭৫% জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। [১৪] প্রধান কৃষি ফসলের মধ্যে রয়েছে ধান, ডাল পাট, গম, আখ, আদা, পেঁয়াজ, আলু, শাকসবজি। পূর্বে এ অঞ্চলে রসুন, তিল, তিসি ও মাষকলাই আবাদ করা হত। এছাড়াও এখানে কলা, কাঁঠাল, আম, লিচু, পেঁপে এবং জাম বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়। ২০০১ সালের ভূমিজরিপ অনুসারে উপজেলার ৫৩.৬৯% পরিবার কৃষিজমির মালিক। উপজেলায় মোট ১৬৪৫৪ হেক্টর আবাদি জমি রয়েছে। [২৫]

কৃষি নির্ভর অর্থনীতির বাইরে মৎস্য, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির খামার, কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, দারুশিল্প, বাঁশের কাজ, নকশি পাখা, নকশি কাঁথা লৌহশিল্প ও ইটভাটাসহ প্রভৃতি এ উপজেলার অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। আটাকল, বরফকল, বিস্কুট কারখানা রয়েছে। ধান, গম, সরিষা, আলু, বাঁশ ও মাটির তৈরি শিল্প রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকে। [১৪]

ব্রিটিশ শাসনামলে এ অঞ্চেল অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। চাল ব্যাবসা, রেশম কেনাবেচার[২৬]জন্য বিখ্যাত ছিল। যশোর থেকে গাঁজা বীজ এনে নওগাঁ চাষ করে সূচনা করে। যেসব এলাকায় গাঁজা চাষ হতো সেইগুলো গাঁজা মহাল নামে পরিচিত ছিল। উৎপন্ন গাঁজা বাংলা, বিহার, আসাম, উত্তর প্রদেশ, সুদূর বিলাতেও রপ্তানি হতো। [২৭]

সাহিত্য ও সংস্কৃতিসম্পাদনা

বদলগাছী উপজেলা বরেন্দ্র অঞ্চল, তিস্তা পলল ও নিম্ন অঞ্চল বেমিন প্রকৃতি অঞ্চলের অর্ন্তগত সমতল ভূমি দ্বারা গঠিত। উপজেলায় ইসলাম ধর্মালম্বীর সংখ্যা বেশি কিছু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও উপজাতী(মাহেলী) বাস করে। আদিকাল থেকেই এ অঞ্চলে সাহিত্য ও সংস্কৃতি বৈচিত্র লক্ষ্য করা যায়। বদলগাছী উপজেলার প্রধান ভাষা বাংলা। কবি তালিম হোসেনের জন্ম বদলগাছীতে। সঙ্গীতানুরাগী তালিম হোসেন ‘নজরুল একাডেমি’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ দিশারী ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হল শাহীননূহের জাহাজ। তিনি তৎকালীন মাহে নও পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমী সাহিত্য পুরস্কার,পাকিস্তান সরকারের সিতারা- ই-ইমতিয়াজ' খেতাব ও স্বর্ণপদক, একুশে পদক পান। [২৮] আলমগির জলীল সাহিত্যিক 'রাজশাহীর মেয়েলী গীত' তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। আব্দুস সামাদ চৌধুরীর কওমিয়াৎ উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম।[২৯] বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে উপজেলার বাসিন্দারে বিভিন্ন লোকগীতি পরিবেশন করতে দেখা যেত যদিও বর্তমানে তা খুব একটা দেখা যায় না। এসব লোকগীতির মধ্যে, বিয়ের গান, কীর্তন, যাত্রাপালা, কিচ্ছা, গম্ভীরা, গজল, ভাদুই, পাঁচালি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। [২৯] সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বদলগাছীতে ৩টি গ্রন্থাগার, ১টি সিনেমা হল, ৫৬টি ক্লাবসহ ৩১টি খেলার মাঠ রয়েছে।[১৪]

শিক্ষাসম্পাদনা

২০১১ সালের হিসেব অনুযায়ী বদলগাছীর গড় সাক্ষরতার হার শতকরা ৪৯.৫ ভাগ (পুরুষ ৫২.৬%, মহিলা ৪৬.৫%)। উপজেলায় ৫টি কলেজ,২টি কারিগরি কলেজ,৩৩টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৪টি কমিউনিটি বিদ্যালয়[১৪], ১৩৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ০১ টি নন রেজিঃপ্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১৭টি কিন্ডার গার্টেন, ৩টি এনজিও পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২০টি ইবতেদায়ে ও স্বতন্ত্র মাদ্রাসা রয়েছে।[৩০] উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বদলগাছী সরকারি কলেজ (১৯৭২), বদলগাছী কারিগরি ও বাণিজ্যিক কলেজ (১৯৯৯), বালুভরা আরবি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৪), বদলগাছী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৪২), গয়ড়া তেঁতুলিয়া ফাজিল মাদ্রাসা (১৯৬৭) প্রভৃতি।[১৪]

বদলগাছী উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের অন্য সব শহরের মতই। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রধানত পাঁচটি ধাপ রয়েছে: প্রাথমিক (১ থেকে ৫), নিম্ন মাধ্যমিক (৬ থেকে ৮), মাধ্যমিক (৯ থেকে ১০), উচ্চ মাধ্যমিক (১১ থেকে ১২) এবং উচ্চ শিক্ষা। প্রাথমিক শিক্ষা সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয় এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়, ৩ বছর মেয়াদী নিম্ন মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), ২ বছর মেয়াদী মাধ্যমিক শিক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি), ২ বছর মেয়াদী উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ হয়।

মূলত বাংলা ভাষায় পাঠদান করা হয় তবে ইংরেজি ব্যাপকভাবে পাঠদান ও ব্যবহৃত হয়। অনেক মুসলমান পরিবার তাদের সন্তানদের বিশেষায়িত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেমন মাদ্রাসাতে প্রেরণ করেন। মাদ্রাসাগুলোতেও প্রায় একই ধরনের ধাপ উত্তীর্ণ হতে হয়। উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোন শিক্ষার্থী সাধারণত উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারে।

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বদলগাছী উপজেলার এমন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বের মধ্যে রয়েছেন নজরুল একাডেমি প্রতিষ্ঠাতা কবি তালিম হোসেন, ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক অধ্যক্ষ সাহিত্যিক আলমগীর জলিল, বগুড়া আজিজুল হক কলেজ সাবেক অধ্যক্ষ কবি আতাউর রহমান

স্বাস্থ্যসম্পাদনা

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য হার তুলনামূলক কম হলেও এটি মূলত দারিদ্র্যতার সাথে সম্পর্কিত হওয়ায়, এর উন্নতির সাথে সাথে বর্তমানে স্বাস্থ্য সেবাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বদলগাছী অঞ্চলে অপুষ্টি, পরিবেশগত স্যানিটেশন সমস্যা, ডায়াবেটিস, সংক্রামক রোগ প্রভৃতি বেশি দেখা যায়। উপজেলায় ১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৩টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৩টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র (আরডি), ৬টি ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র (এফডব্লিউসি), ১টি ক্লিনিক, ১১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।[১৪]

উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে ৯৫.৩৫% নলকূপ, ০.৩২% ট্যাপ, ০.০৩% পুকুর এবং ৪.৩% অন্যান্য উৎস থেকে পানীয় জল সংগ্রহ করে থাকে।[১৪] বদলগাছীর উপজেলার ১২.৫৪% পরিবার স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবহার করে থাকে যার মধ্যে গ্রামে ১১.৬৭% এবং শহরে ৩৭.৯৪%। পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। এছাড়া ২৩.৭১% (গ্রামে ২৩.৮২% এবং শহরে ২০.৫৫%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ৬৩.৭৫% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।[১৪]

ধর্মসম্পাদনা

বদলগাছীর ৮৬.৯৯% মানুষ ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এছাড়া ৯.৮৬% হিন্দু এবং ৫.৫০% অন্যান্য ধর্মালম্বী মানুষ বসবাস করে। [১০]এ উপজেলায় ২৩৫টি মসজিদ, ৯৩টি মন্দির, ২টি গির্জা, ১টি তীর্থস্থান রয়েছে।[১৪] উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নে হলুদ বিহার নামে প্রাচীন বৌদ্ধ বসতি অবস্থিত। স্থানটি ১৯৭৬ সালে সংরক্ষিত করা হয় এবং বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রথমে ১৯৮৪ সালে এবং পরে ১৯৯৩ সালে এটি খনন করে। [৩১] বদলগাছী থানার অধীনস্থ পাহাড়পুর গ্রামে প্রাচীন পাহাড়পুর বা সোমপুর বৌদ্ধ বিহার অবস্থিত। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম কর্তৃক ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্থাপনাটি আবিষ্কার হয়। ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করে। [৩২]

যোগাযোগ ব্যবস্থাসম্পাদনা

বাংলাদেশের আঞ্চলিক মহাসড়ক আর৫৪৯(বদলগাছী- পাহাড়পুর- জয়পুরহাট (খঞ্জনপুর) সড়ক) বদলগাছী শহরকে পাহাড়পুর হয়ে জয়পুরহাট জেলার খঞ্জনপুর সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। আর৫৪৭ সড়কটি (নওগাঁ-বদলগাছী-সাপাহার-পোরশা-রোহনপুর) বদলগাছীকে নওগাঁ সদর, সাপাহার, পোরশা উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের জেলা সড়ক জেড৫৪৫২ সড়কটি (জয়পুরহাট-আক্কেলপুর-বদলগাছী) বদলগাছীকে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে।

বদলগাছী থেকে ঢাকাগামী অধিকাংশ বাস মহাখালী বাস টার্মিনালে এসে থামে। এছাড়া বগুড়া জেলা এবং বিভাগীয় শহর রাজশাহীর সাথে সড়ক পথে যোগাযোগে যাতায়াতের ব্যবস্থা আছে।

উল্লেখযোগ্য স্থানসম্পাদনা

 
বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার
পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারসম্পাদনা

পাহাড়পুর একটি প্রাচীন নিদর্শনের স্থান।উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নে অবস্থিত। এটার আরেক নাম সোমপুর বিহার।পাল বংশের দ্বিতীয় রাজা ধর্মপাল অষ্টম শতকে বা নবম শতকে পিতৃভূমি বরেন্দ্রতে এই বিহার স্থাপন করেন। খননকালে প্রাপ্ত একটি মাটির সিল থেকে জানা যায় এটি সোমপুর বিহার।সমতল ভূমিতে প্রায় ৮০ ফুট উঁচু ঢিবি হওয়ায় স্থানীয় লোকজন এটিকে পাহাড়পুর নামকরণ করে। খননের পরে সারিবদ্ধভাবে চারেদিকে প্রাচীন বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বসবাসের মোট ১৭৭টি কক্ষ পাওয়া গেছে।খননকালে প্রধান মন্দিরের দেওয়ালে ৩৬টি পাথরের মূর্তি, মন্দিরের ভেতরের গায়ে ২ হাজার পোড়ামাটির চিত্রফলক চিত্রফলক পাওয়া গেছে। ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।[৩৩] [৩৪]প্রায় ২৭ একর জমি নিয়ে এটি স্থাপিত। এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের ধর্মচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞান, মীমাংসা ও ধর্মশাস্ত্র চর্চার জন্য একটি উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল। উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এবং উপমহাদেশের বাহিরের বিভিন্ন দেশ থেকে বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।[৩৫][৩৬]

হলুদ বিহারসম্পাদনা

বদলগাছী উপজেলার বিলাসবাড়ি ইউনিয়নের দ্বীপগঞ্জ নামক গ্রামে বিহারটি অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি দ্বীপগঞ্জ নামেও পরিচিত। হলুদ বিহারটি স্তূপকৃত মাটির ঢিবি আকৃতির। ঢিবিটি প্রায় ১০০ ফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এবং সমতল ভূমি থেকে ২৫ ফুট উঁচু। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা দেয়।[৩৭] প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ ১৯৮৪ সালে একবার এবং ১৯৯৩ সালে আবার বিহারটি খনন করে। খননের ফলে এইখানে একটি মন্দির কমপ্লেক্স পাওয়া যায়।[৩৮] মন্দিরের উত্তর ও দক্ষিণের দিকে দুটি অভিক্ষেপের ধ্বংসাবশেষ অংশ পাওয়া যায়। এছাড়াও পোড়া মাটির ফলক, অলংকৃত ইট, পাথরের ভগ্ন বৌদ্ধমূর্তি, ধাতবমূর্তি, পাথরের ভাস্কর্য, বিভিন্ন মূর্তির খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়। [৩৯] ঐতিহাসিকগনের মতে, এটিকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার সময়কালের বৌদ্ধ বিহার (হাজার বছরের পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়) মনে করা হয়।[৩৫] তবে সংরক্ষণের অভাবে প্রাচীন নিদর্শনটি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। স্থাপনার অনেককিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। [৪০] [৪১]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন (জুন ২০১৪)। "এক নজরে বদলগাছী"। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। ১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১৪ 
  2. Census Results at a Glance। "BADALGACHHI UPAZILA" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  3. নওগাঁ মহকুমা। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা - নওগাঁ জেলা। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃষ্ঠা ২৬। আইএসবিএন 983-07-5332-0 |আইএসবিএন= এর মান পরীক্ষা করুন: checksum (সাহায্য) 
  4. নওগাঁ মহকুমার গঠন ও বিস্তার। "নওগাঁ জেলার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  5. প্রাচীন ইতিহাস। বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা - নওগাঁ জেলাবাংলা একাডেমী। পৃষ্ঠা ২৩ ও ২৪। 
  6. ধনঞ্জয় রায়, দিনাজপুর জেলার ইতিহাস, কে পি বাগচী অ্যান্ড কোম্পানি কলকাতা, প্রথম প্রকাশ ২০০৬, পৃষ্ঠা ২১১
  7. "বগুড়া জেলা"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  8. "বাংলাপিডিয়া"। ১২ মার্চ ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ মার্চ ২০১৪ 
  9. নওগাঁ জেলার জন্ম বেদনা। "নওগাঁ জেলার ইতিহাস"। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  10. "এক নজরে বদলগাছী"বদলগাছী তথ্যবাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  11. নওগাঁয় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও মুক্তিযোদ্ধা। বাংলা একাডেমি বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা : নওগাঁ। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। পৃষ্ঠা ৭১। 
  12. "মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  13. "বদলগাছীর মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  14. "বদলগাছী উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  15. "চুনাপাথর খনি"দৈনিক জনকন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২০ 
  16. "চুনাপাথর খনির সন্ধান নওগাঁর বদলগাছীতে"দৈনিক যুগান্তর। ২২ এপ্রিল ২০১৬। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  17. "চুনাপাথরের বৃহত্তম খনির সন্ধান"ভোরের কাগজ। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  18. "নওগাঁয় দেশের সবচেয়ে বড় চুনাপাথর খনি | বাংলাদেশ প্রতিদিন"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  19. "ভৌগলিক পরিচিতি"জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  20. "বদলগাছী উপজেলার ইউনিয়নসমূহ"badalgachi.naogaon.gov.bd (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  21. "জাতীয় সংসদের প্রথম ডেপুটি স্পিকার মোহাম্মদ বায়তুল্লাহ"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  22. "সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ মারা গেছেন | কালের কণ্ঠ"Kalerkantho। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  23. Census Results at a Glance। "BADALGACHHI UPAZILA" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  24. "বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো"। ২০ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩ মার্চ ২০১৪ 
  25. "এক নজরে"উপজেলা কৃষি অফিস,বদলগাছী। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৭ 
  26. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা - নওগাঁ জেলাবাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ২৫। 
  27. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা - নওগাঁ জেলাবাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ৩৫ ও ৩৬। 
  28. "কবি তালিম হোসেন | daily nayadiganta"দৈনিক নায়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ১৭ মে ২০২০ 
  29. বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতি গ্রন্থমালা - নওগাঁ জেলাবাংলা একাডেমি। পৃষ্ঠা ৫৯,৬১, ৬৩। 
  30. "উপজেলা শিক্ষা অফিস, বদলগাছী, নওগাঁ"deo.badalgachi.naogaon.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৮ 
  31. "হলুদ বিহার"বাংলাপিডিয়া। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৮ 
  32. "পাহাড়পুর"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৫-১৮ 
  33. "আমাদের বিশ্ব ঐতিহ্য"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  34. "পাহাড়পুর বিহারের গল্প"banglanews24.com। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  35. "ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন প্রাচীন বাংলায়"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ১৮ মে ২০২০ 
  36. "পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে একদিন"এনটিভি। ২০১৮-০২-০৮। সংগ্রহের তারিখ ১৯ মে ২০২০ 
  37. "নওগাঁর ঐতিহাসিক হলুদ বিহার | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৬ 
  38. "হলুদ বিহার - বাংলাপিডিয়া"bn.banglapedia.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৬ 
  39. "বাংলাদেশে পুরাতত্ত্ব সমৃদ্ধ জেলা নওগাঁ"। দৈনিক সংগ্রাম। ১৫ ডিসেম্বর ২০১২। ৫ মার্চ ২০১৬ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ জুলাই ২০১৪ 
  40. akr4m। "বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন নওগাঁর হলুদ বিহার"dbcnews.tv। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৬ 
  41. "হলুদ বিহার এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে | বাংলাদেশ প্রতিদিন"Bangladesh Pratidin। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৬-০৬ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা