প্রধান মেনু খুলুন

বগুড়ার দই

বগুড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি

বগুড়ার দই বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত বগুড়া জেলার বিখ্যাত মিষ্টি। দধি বা দই হল এক ধরনের দুগ্ধজাত খাদ্য যা দুধের ব্যাক্টেরিয়া গাঁজন হতে প্রস্তুত করা হয়। সারা বাংলাদেশে দই পাওয়া গেলেও স্বাদে ও গুনে অতুলনীয় হওয়ায় বগুড়ার দই দেশ ও দেশের বাইরে খুব জনপ্রিয়। এর খ্যাতি মূলত ব্রিটিশ আমল থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে পরে।[১] ষাটের দশকের প্রথম ভাগে বৃটেনের রানী এলিজাবেথ থেকে শুরু করে মার্কিন মুল্লুকেও গিয়েছে বগুড়ার দই। পাকিস্তানের তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বৃটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাদের সহানুভূতি পেতে পাঠিয়েছিলেন এই দই।[২]

বগুড়ার দই
বগুড়ার দই.jpg
প্রসিদ্ধ বগুড়ার দই
উৎপত্তিস্থলবগুড়া জেলা , বাংলাদেশ
অঞ্চল বা রাজ্যদক্ষিণ এশিয়া
প্রধান উপকরণদুধ, চিনি
রন্ধনপ্রণালী: বগুড়ার দই  মিডিয়া: বগুড়ার দই

পটভূমিসম্পাদনা

বগুড়ার দইয়ের ইতিহাস শুরু হয় বগুড়ারই শেরপুর উপজেলা থেকে। স্থানীয়দের মতে সনাতন ঘোষ সম্প্রদায় দই তৈরী করে বগুড়াকে দেশের সর্বত্র পরিচিত করে তুলেছিল। তবে সেই ঘোষদের হাতে এখন আর দইয়ের বাজার নেই। এটি চলে গেছে মুসলিম সম্প্রদায়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের অধীনেে।

জানা যায় বগুড়ার শেরপুরে প্রথম দই তৈরী হয় প্রায় আড়াইশ বছর আগে। তৎকালীন বগুড়ার শেরপুরের ঘোষ পরিবারের ঘেটু ঘোষ প্রথম দই তৈরী আরম্ভ করেন। টক দই তৈরী থেকে বংশ পরম্পরায় তা চিনিপাতা বা মিষ্টি দইয়ে রূপান্তরিত হয়। আর কালের বিবর্তনে স্বাদের বৈপরিত্যের কারণে দইয়ের বহুমুখী ব্যবহার শুরু হয়। টক দই দিয়ে মেজবানের রান্না ও ঘোল তৈরী হয়। অতিথি আপ্যায়নে চলে মিষ্টি দই।[৩]

প্রস্তুত প্রণালিসম্পাদনা

বগুড়ার দইয়ের ইতিহাস প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো হলেও স্বর্ণযুগ ছিল স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময়ে। সেসময় এর প্রস্তুত প্রণালী ছিল অতি গোপনীয়। জানা যায় ঘোষেরা যখন দই তৈরী করত তখন এর গোপনীয়তা বজায় রাখতো। ফলে বাইরের কেউ দই তৈরী করতে পারত না। পরবর্তিতে সেটিকে আর তারা ধরে রাখতে পারেনি। এখন শেরপুরেই অনেক ব্যবসায়ী দই তৈরী করে। এদের মধ্যে ঘোষ পরিবারের লোকদের সংখ্যা অনেক কম।

দই তৈরিতে প্রয়োজন হয় হয় গরুর দুধ, চিনি, সামান্য পরিমাণ পুরোনো দই ও মাটির একটি হাঁড়ি বা সরা। কড়াই বা পাতিলে দুধ জ্বাল দেয়ার মাধ্যমে দই তৈরি করা হয়ে থাকে।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "বগুড়ার প্রসিদ্ধ দই ও মিষ্টান্ন"বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন। সংগ্রহের তারিখ ২০১৬-০৪-১৮ 
  2. "বগুড়ার দই নামের সাথেই এখনো যার খ্যাতি"The Daily Sangram। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-১০ 
  3. "বগুড়ার দইয়ের ঐতিহ্য আড়াই শ বছরের - ফিচার"News Bangladesh। ২০১৮-০৬-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-০৩ 
  4. "বগুড়ার দই"প্রথম আলো। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-১০-১০