বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র

পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন সমবায় লিমিটেডের বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হল ১,০৫০ মেগাওয়াট (৫X২১০ মেগাওয়াট) উৎপাদনক্ষমতা-সম্পন্ন একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া এখানে একটি ৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা-সম্পন্ন কেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বক্রেশ্বর
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র
দেশভারত
অবস্থানচিনপাই ও ভুরকুনা গ্রাম পঞ্চায়েত, বীরভূম জেলা, পশ্চিমবঙ্গ
স্থানাঙ্ক২৩°৫০′০০″ উত্তর ৮৭°২৭′০০″ পূর্ব / ২৩.৮৩৩৩৩° উত্তর ৮৭.৪৫০০০° পূর্ব / 23.83333; 87.45000স্থানাঙ্ক: ২৩°৫০′০০″ উত্তর ৮৭°২৭′০০″ পূর্ব / ২৩.৮৩৩৩৩° উত্তর ৮৭.৪৫০০০° পূর্ব / 23.83333; 87.45000
অবস্থা
কমিশনের তারিখ১৯৯৯
মালিকপশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ উন্নয়ন সমবায় লিমিটেড
বিদ্যুৎ উত্পাদন
কর্মক্ষম একক৫ x ২১০ মেগাওয়াট
নামফলক ধারণক্ষমতা১,০৫০ মেগাওয়াট

অবস্থানসম্পাদনা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় অবস্থিত চিনপাই ও ভুরকুনা গ্রাম পঞ্চায়েতে বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি অবস্থিত। এটির স্থানাঙ্ক হল ২৩°৫০′ উত্তর ৮৭°২৭′ পূর্ব / ২৩.৮৩° উত্তর ৮৭.৪৫° পূর্ব / 23.83; 87.45[১] বক্রেশ্বর নদের তীরে পানাগড়-মোরগ্রাম সড়কের ধারে বক্রেশ্বর মন্দির ও উষ্ণ প্রস্রবনের কিছু দূরে এটি অবস্থিত। অন্ডাল-সাঁইথিয়া ব্রাঞ্চ লাইনের চিনপাই রেল স্টেশনটি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিকটতম রেল স্টেশন এবং বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র টাউনশিপ এর কাছেই অবস্থিত।

উৎপাদন ক্ষমতাসম্পাদনা

প্রতিক্ষেত্রে ২১০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা সম্পন্ন তিনটি ইউনিট স্থাপিত হয় ১৯৯৯ ও ২০০১ সালে।[২][৩] এই তিনটি ইউনিটের জন্য জাপান ব্যাঙ্ক অফ ইন্টারন্যাশানাল কোঅপরেশন ৮০.৮ মিলিয়ন ইয়েন বা ২,৫২৫ কোটি টাকা ঋণ দেয়।[১] ৩৭ মাসের রেকর্ড সময় প্রথম ইউনিটটি সমাপ্ত হয় ও ১৯৯৯ সালের ১৭ জুলাই চালু হয়। উল্লেখ্য, ২০০-২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সাধারণ সময় মাপকাঠি ৪৮ মাস।[১]

বক্রেশ্বর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্টেজ ২-এর অন্তর্গত নির্মীয়মান দুটি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদন ক্ষমতা ২১০ মেগাওয়াট এবং নির্মাণের আনুমানিক ব্যয় ধার্য হয়েছে ২,০০০ কোটি টাকা।[৪]

নীল নির্জনসম্পাদনা

বক্রেশ্বর নদীতে বাঁধ দিয়ে একটি জলাধার গড়ে তোলা হয়েছে। এই জলাধারটির নাম নীল নির্জন। এই জলাধার থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় জল সরবরাহ করা হয়। এছাড়া এটি পর্যটকদের কাছেও বিশেষ আকর্ষণীয় স্থান। বক্রেশ্বরের উষ্ণ প্রস্রবণ ও অজস্র মন্দিরকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে।[৫]

রাজনৈতিক বিতর্কসম্পাদনা

বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রাথমিকভাবে এই কেন্দ্রটি কেন্দ্রীয় ও রাজ্যসরকারের যৌথ সহযোগিতায় স্থাপনার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থসাহায্য রাজ্যসরকারের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও এসে পৌঁছায়নি। ১৯৭৭ সালে যখন বামফ্রন্ট সরকার স্থাপিত হয় তখন বক্রেশ্বর ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতার শিকার। এই কারণে মার্কসবাদী নেতারা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই প্রকল্পের কাজে এগিয়ে না আসার জন্য বিমাতৃসুলভ মনোভাবের অভিযোগ তোলেন। বেশ কয়েকবছর এই প্রকল্পের কাজ আটকে রাখা হয়, কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন এই প্রকল্পের জন্য অর্থসাহায্যে প্রতিশ্রুত হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েকবছর সোভিয়েত অর্থের জন্য অপেক্ষা করেও যখন তা এসে পৌঁছায় না, তখন অন্য উপায়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।[৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sarajit Pramanick, Birbhumer Ahankar:Bakreshwar Tapbidyut Kendra, Paschim Banga, Birbhum special issue, pp. 189–192, (in Bengali), February 2006, Information and Culture Department, Government of West Bengal
  2. "West Bengal Power Development Corporation Limited"। ২০০৯-০৪-১০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৪-১০ 
  3. Bhattacharya, AK। "Bakreshwar, Haldia and Singur"। Business Standard, 24 September 2008। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৪-১০ 
  4. "Bakreshwar unit-V may be put off"। ২০১০-০১-৩০ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৯-০৪-১০ 
  5. Sarkar, Joydeep, Paryatan Boichitre Birbhum Jela, Paschim Banga, p. 200