ফুরফুরা শরীফের পীর মেলা

ফুরফুরা শরীফের পীর মেলা বা সংক্ষেপে দাদাপীর সাহেবের মেলা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় অবস্থিত ইসলামি ধর্মস্থান ফুরফুরা শরীফে প্রতিবছর ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত ইসলামি ধর্মগুরু পীর আবু বকর সিদ্দিকী বা দাদাপীরের উরস উৎসবের মেলা। [১]

দাদাপীরসম্পাদনা

বিংশ শতাব্দীর প্রথমভাগে ফুরফুরা শরীফের হজরত পীর আবু বকর সিদ্দিকী বা দাদাপীর সাহেব ছিলেন একজন সুপ্রসিদ্ধ ইসলামি পণ্ডিত ও ধর্মগুরু। ইনি ছিলেন তৎকালীন বাহান্ন জেলার এক গুরু পীর। তিনি ধনী-দরিদ্র, হিন্দু-মুসলিম, জাতিধর্ম নির্বিশেষে তৎকালীন বাংলাঅসমের বহু মানুষকে নিজের মুরিদ বা শিষ্য করেছিলেন। বিংশ শতাব্দীর বাংলার জীবিত পীরদের মধ্যে তিনিই সর্বাধিক খ্যাতিমান ছিলেন বলে শোনা যায়। তাঁর দীর্ঘল আভিজাত্যপূর্ণ চেহারা ও অসাধারণ ধর্মীয় পাণ্ডিত্য সমকালীন জ্ঞানীগুণী থেকে সাধারণ মানুষদের তীব্র আকর্ষণ করত। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ই মার্চ শুক্রবারে প্রায় ১০০ বছর বয়সে দাদাপীর সাহেব ইন্তেকাল বা দেহরক্ষা করেন। তাঁর মৃত্যুর দিনটিকে কেন্দ্র করে তাঁর সমাধি-দরগাহে প্রতিবছর বাৎসরিক উৎসব ও মেলা বসে। [১]

ফুরফুরা শরীফের মাহফিলসম্পাদনা

ফুরফুরা শরীফের দাদাপীর সাহেবের মাহফিল প্রতিবছর বাংলা বর্ষপঞ্জীর ফাল্গুন মাসের ২১, ২২ ও ২৩ তারিখ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চলে মুরিদান গনের শিক্ষা। খেলাফত প্রাপ্ত আলেমগণ এসময় মুরিদদের দাদাপীরের সিলসিলা মতে ইসলামি জ্ঞানে দীক্ষা দেন। মসজিদ প্রাঙ্গণে সন্ধ্যায় একসাথে নামাজে বসেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। উৎসবের দিনে পীরের মূল মাজার ও মেলার দেড়-মাইল দূর থেকে মানুষজনের ভিড় শুরু হয়। বিভিন্ন ধরনের দোকান, খাদ্যসামগ্রী, মাথার নক্সাদার টুপি, তসবী, চা-পান-মিষ্টির বাজার বসে। [১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ব্রহ্ম, তৃপ্তি (১৯৮৮)। বাংলার লৌকিক ধর্মসংগীত। কলকাতা। পৃষ্ঠা ৩৬২। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা