ফতোয়ায়ে আলমগীরী

ইসলামি আইন সংকলন

ফতোয়ায়ে আলমগীরী এছাড়াও আল-ফাতাওয়া আল-আলমগিরিয়া (আরবি: الفتاوى العالمكيرية‎‎) বা আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়া (আরবি: الفتاوى الهندية‎‎) নামেও পরিচিত একটি ইসলামী আইন সংকলন, যা ৫৪ বছর ধরে অধিকাংশ ভারতীয় উপমহাদেশের রাষ্ট্রশিল্প, সাধারণ নৈতিকতা, সামরিক কৌশল, অর্থনৈতিক নীতি, ন্যায় বিচার এবং শাস্তির উপর আইন সংকলন ছিল। মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের নির্দেশে এই সংকলন প্রণীত হয়।[১] "ভারতে তৈরি মুসলিম আইনের সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন" হিসাবে ঘোষণা করা হয়,[২][৩] সংকলনটি ব্যাপকভাবে ইসলামিক আইনশাস্ত্রের (ফিকহ) ক্ষেত্রে সবচেয়ে সুসংগঠিত কাজগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। সুন্নি হানাফি মাজহাবের ভিত্তিতে শরিয়া আইন এতে সংকলিত হয়েছে।[৪] অনেক আলেম এই গ্রন্থ প্রণয়নে অবদান রেখেছেন।[৫] এতে কুরআন, ‘সহীহ আল-বুখারী’, ‘সহীহ মুসলিম’, ‘সুনান আবু দাউদ’ ও ‘জামি' আত-তিরমিযী’ থেকে সব লেখা হয়েছিল।

ফতোয়া আলমগিরি
Manuscript copy of al-Fatawa al-'Alamgiriyyah.jpg
ফতোয়া আলমগিরির পাণ্ডুলিপি
লেখকআওরঙ্গজেব এবং বিভিন্ন বিশিষ্ট ইসলামী পণ্ডিত
অনুবাদককাফিলুর রহমান নিশাত উসমানী (উর্দু)
ভাষাআরবি এবং ফার্সি
ধরনইসলামী আইন (হানাফি)
প্রকাশনার তারিখ
১৭ শতক
মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব ফতোয়ায়ে আলমগীরী সঙ্কলনের নির্দেশ দেন।

ফতোয়ায়ে আলমগীরী প্রণয়নের উদ্দেশ্যে আওরঙ্গজেব ফিকহের ৫০০ আলেমকে নিয়োগ দেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন দক্ষিণ এশিয়া, ১০০ জন ইরাক এবং ১০০ জন হেজাজ থেকে আগত। দিল্লিলাহোরে সংকলন কর্মে শেখ নিজাম বুরহানপুরি দলের নেতৃত্ব দিয়েছন। তাদের কয়েক বছরব্যপী পরিশ্রমের মাধ্যমে ফতোয়ায়ে আলমগীরী প্রণীত হয়। এই গ্রন্থে বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতির সাপেক্ষে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, দাস, যুদ্ধ, সম্পদ, আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক, বিনিময়, কর, অর্থনীতি ও অন্যান্য আইন এবং আইনি নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

এই কিতাব খানি ফতোয়ায়ে আলমগিরি বলে প্রখ্যাত। কিন্তু আসল নাম হলো ফতোয়ায়ে-হিন্দিয়াহ। কথিত আছে যে, ১০০ হানাফি আলেম কিতাবটির সম্পাদনায় অংশগ্রহণ করেন। সম্পাদক-মন্ডলীর সভাপতি ছিলেন শায়খ নিজামুদ্দিন। তার জন্ম তারিখ পাওয়া যায় না। তার মৃত্যু ১১০৩ হিজরীতে বলে জানা যায়। ফতোয়ায়ে-আলমগিরি লেখা হয় ১১০৩ হিজরীতে অর্থাৎ ইমাম আবু হানিফার মৃত্যুর (১১০৩-১৫০)= ৯৫৩ বছর পর। এই কিতাবে ইমাম আবু হানিফার কথা গুলো প্রাপ্তির কোনো সুত্র নেই। কিতাব-খানির নামের নিচে বড়-বড় অক্ষরে লেখা আছে কিতাব-খানি ইমাম আবু-হানিফার মাজহাব। অর্থাৎ কিতাব-খানি অন্য কিছু নয়, কেবল ইমাম আবু-হানিফার মতামত। কিতাব-খানির পাশে আরো দু-খানি কিতাব আছে। এক-খানির নাম ফতোয়ায়ে-কাজী-খান। লেখকের নাম হাসান বিন-মনসুর। ৫৯২ হিজরীতে মারা যান। জন্ম তারিখ পাওয়া যায়নি।[৬]

এটি প্রণয়নের পর ফতোয়ায়ে আলমগীরী হানাফি মাযহাবের একটি রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে গণ্য ও ব্যবহৃত হতে থাকে।[৭]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Malik, Jamal (২০০৮)। Islam in South Asia : a short history। Leiden: Brill। পৃষ্ঠা ১৯৪–১৯৭। আইএসবিএন 978-90-474-4181-6ওসিএলসি 593236422 
  2. Rapson,, E. J. (Edward James); Wolseley, Burn, Richard, Dodwell, Henry Wheeler, Mortimer, Haig (সম্পাদকগণ)। The Cambridge history of India.। পৃষ্ঠা ৫১৭। ওসিএলসি 875984 
  3. Ahmad, Syed Sami (১৯৯৭)। The End of Muslim Rule in India (ইংরেজি ভাষায়)। । Justice Kayani Memorial Law Society। পৃষ্ঠা ১৯২–১৯৮। আইএসবিএন 978-969-8282-24-0 
  4. "Biography of the Moghul ruler Aurangzeb; was he Salafi in his 'aqeedah?"Islam Question & Answer (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৬ 
  5. The Administration of Justice in Medieval India, MB Ahmad, The Aligarh University (1941)
  6. মুফতি মাউলানা আব্দুর রউফ। হানাফি ফিকহের ইতিহাস ও পরিচয় [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  7. David Arnold and Peter Robb, Institutions and Ideologies: A SOAS South Asia Reader, Psychology Press, pp. 171-176

আরও পড়ুনসম্পাদনা

  • গুগল বইয়ে The Muhammadan Law, English translation of numerous sections of Fatawa i Alamgiri (Translator: SC Sircar, Tagore Professor of Law, Calcutta, 1873)
  • Sheikh Nizam, al-Fatawa al-Hindiyya, 6 vols, Beirut: Dar Ihya' al-Turath al-'Arabi, 3rd Edition, (1980)