ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (ইংরেজি: Falkland Islands,/ˈfɔːlklənd/; স্পেনীয়: Islas Malvinas) হলো দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের প্যাটাগনিয়ান শেলফে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ। এই দ্বীপপুঞ্জের প্রধান দ্বীপসমূহ দক্ষিন আমেরিকার দক্ষিন প্যাটাগনিয়ান তীর হতে ৩০০ মাইল (৪৮০ কি.মি.) পূর্বে এবং এন্টার্কটিক উপদ্বীপের উত্তর প্রান্তের কেইপ ডুবোজেট হতে ৭৫২ মাইল (১,২১০ কি.মি.) দূরে প্রায় ৫২ ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশে অবস্থিত। পূর্ব ফকল্যান্ড, দক্ষিণ ফকল্যান্ড ও ৭৭৬ টি ছোট দ্বীপ নিয়ে, দ্বীপপুঞ্জটির মোট আয়তন ৮,৭০০ বর্গ মাইল (১২,১৭৩ বর্গ কি.মি.) । ফকল্যান্ড একটি স্বশাসিত অঞ্চল হলেও ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাজ্য এর প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রন করে। ফকল্যান্ডের রাজধানী ও সবচেয়ে জনবহুল শহর হলো স্ট্যানলি, যেটি পূর্ব ফকল্যান্ডে অবস্থিত।
নীতিবাক্য: আকাঙ্ক্ষা হোক ন্যায়নিষ্ঠ | |
জাতীয় সঙ্গীত: গড সেইভ দ্য কিং | |
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান | |
রাজধানী | স্ট্যানলি |
---|---|
স্বীকৃত জাতীয় ভাষা | ইংরেজি |
জাতীয়তাসূচক বিশেষণ | ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী, ফকল্যান্ডার |
সরকার | বিধানসভা |
• রাজা | তৃতীয় চার্লস |
• গভর্নর | এলিসন ব্লেইক |
• প্রধান নির্বাহী | অ্যান্ডি কিলিং |
ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চল | |
আয়তন | |
• মোট | ১২,১৭৩ কিমি২ (৪,৭০০ মা২) |
জিডিপি (পিপিপি) | ২০১৩ আনুমানিক |
• মোট | $২২৮.৫ বিলিয়ন |
• মাথাপিছু | $৯৬,৯৬২ |
ফকল্যান্ডের আবিষ্কার ও পরবর্তীতে এতে ইউরোপিয়ানদের উপনিবেশ স্থাপন নিয়ে নানা সমালোচনা আছে। বিভিন্ন সময়ে দ্বীপগুলোতে ফরাসি, ইংরেজ, স্প্যানিশ ও আর্জেন্টাইন বসতি ছিল। ব্রিটেন ১৮৩৩ সালে পুনরায় শাসন প্রতিষ্ঠা করলেও আর্জেন্টিনা এখনও দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের বলে দাবি করে। ১৯৮২ সালের এপ্রিল মাসে আর্জেন্টাইন সামরিক বাহিনী দ্বীপপুঞ্জটিতে আক্রমণ করে। ইতিহাসে এই আক্রমণ ফকল্যান্ড যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত। ব্রিটিশ প্রশাসন এই আক্রমণের দুই মাস পর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনঃ প্রতিষ্ঠা করে। ২০১৩ সালের একটি গণভোটে সকল ফকল্যান্ড অধিবাসী ব্রিটিশ বৈদেশিক অঞ্চলে থাকার পক্ষে ভোট দেয়। এই অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের চলমান বিবাদের একটি অংশ।
দ্বীপপুঞ্জটির অধিকাংশ জনগোষ্ঠী (২০২১ সালে ৩,৬৬২ জন) মূলত ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ফকল্যান্ড দ্বীপবাসী। এছাড়াও আছে ফরাসি, জিব্রাল্টারিয়ান ও স্ক্যান্ডিন্যাভিয়ান জাতিগোষ্ঠীর অধিবাসী। যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আটলান্টিক দ্বীপ সেন্ট হেলেনা ও চিলি থেকে আগত অভিবাসী দ্বীপটির জনসংখ্যা হ্রাসের হার বন্ধ করে দিয়েছে। দ্বীপপুঞ্জের প্রধান ভাষা (ও রাষ্ট্র ভাষা) ইংরেজি। ব্রিটিশ জাতীয়তা (ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ) আইন ১৯৮৩ অনুযায়ী ফকল্যান্ড অধিবাসীরা ব্রিটিশ নাগরিক।
দ্বীপপুঞ্জটি উপএন্টার্কটিক মহাসাগরীয় ও উত্তরমেরু অঞ্চলের সীমানায় অবস্থিত। দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দুটি দ্বীপেই ২,৩০০ ফুট উঁচু পর্বতশ্রেণী আছে। দ্বীপ দুটিতে বিপুল পরিমাণ পাখি বসবাস করে কিন্তু অধিকাংশ পাখি নবাগত প্রাণীর শিকারে পরিনত হওয়ায় প্রধান দ্বীপগুলোতে আর বংশ বৃদ্ধি করে না। এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক শিল্প হলো মাছ ধরা, পর্যটন ও উচ্চ মানের উল উৎপাদনের উদ্দেশ্যে ভেড়া পালন। আর্জেন্টিনার সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধের কারণে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত তেল অনুসন্ধান বিতর্কিত হয়ে আছে।
শব্দতত্ত্বসম্পাদনা
ফলল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নামটি ফকল্যান্ড সাউন্ড থেকে উদ্ভুত, যেটি ফকল্যান্ডের বৃহৎ দুটি দ্বীপের মাঝ দিয়ে যাওয়া প্রণালীর নাম।[১] ১৬৯০ সালে ইংরেজ ক্যাপ্টেন জন স্ট্রং দ্বীপপুঞ্জটিতে একটি অভিযান পরিচালনা করার সময় উক্ত প্রণালীর "ফকল্যান্ড" নামকরণ করেন। তিনি ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনীর কোষাধ্যক্ষ এন্টনি ক্যারি, ৫ম ভিসকাউন্ট ফকল্যান্ডের সম্মানে এই নামটি বেছে নেন, যিনি এই অভিযানে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।[২] ভিসকাউন্টের এই উপাধি স্কটল্যান্ডের ফকল্যান্ড শহর হতে উদ্ভুত। শহরটির নাম আনুমানিক গাইলিক শব্দ হতে উদ্ভুত হতে পারে, যেটি দ্বারা "ঘের" বোঝানো হয়,[৩] আবার শব্দটি এঙ্লো-স্যাক্সন শব্দ "ফোকল্যান্ড" (ফোক-রাইট দ্বারা অধিকৃত এলাকা) থেকেও উদ্ভুত হতে পারে।[৪]
ইতিহাসসম্পাদনা
বিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ ব্রিটিশ উপনিবেশের পতন হলেও বর্তমানে যে কয়েকটি ব্রিটিশ উপনিবেশ টি কে রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো ফকল্যান্ড দ্বীপ। দীপ্তির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৮২ সালে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যখনই কোন দ্বন্দ্ব বা ঝগড়া হয় দুই পক্ষের মধ্যে তখন দুই পক্ষের কাছেই আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা থাকে, কারণ সেই দ্বন্দ্ব টাকে ন্যায্যতা দান করার জন্য। আর্জেন্টিনা ও গ্রেট ব্রিটেনের মাঝে এই যুদ্ধটি হয়েছিল ফকল্যান্ডের মালিকানা কাদের কাছে থাকবে সেই দ্বন্দ্বে।
ফকল্যান্ড যুদ্ধের কারণ: ফকল্যান্ড যুদ্ধ ছিল দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণের উপর আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে সংঘটিত ও ঘোষিত যুদ্ধ। ১৯৮২ সালের ২ এপ্রিল থেকে ১৪ই জুন পর্যন্ত এ যুদ্ধ চলে। ফকল্যান্ড দ্বীপগুলো আর্জেন্টিনার পূর্ব উপকূল থেকে 480 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৫৯২ সালে ব্রিটিশ নাবিকেরা সম্ভবত প্রথম আবিষ্কার করে। কিন্তু আর্জেন্টিনার উপকূলের কাছে অবস্থিত হওয়ায় উনিশ শতকের শুরু থেকেই এই দিনগুলোকে নিজেদের বলে দাবি করে। আর্জেন্টিনা ওরা এগুলোকে মাল ভিনাস দ্বীপপুঞ্জ নামে ডাকে।
তথ্যসূত্রসম্পাদনা
- ↑ Jones, Roger (২০০৯)। What's who? : a dictionary of things named after people and the people they are named after। Leicester: Matador। আইএসবিএন 978-1-84876-047-9। ওসিএলসি 330661341।
- ↑ Dotan, Yossi (2007- <2010>)। Watercraft on world coins। Brighton: Alpha Press। আইএসবিএন 1-898595-49-6। ওসিএলসি 76901769। এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন:
|তারিখ=
(সাহায্য) - ↑ The Heralds' memoir 1486-1490 : court ceremony, royal progress, and rebellion। Emma Cavell। Donington: Richard III and Yorkist History Trust in association with Shaun Tyas। ২০০৯। পৃষ্ঠা ১৫৮। আইএসবিএন 978-1-900289-93-1। ওসিএলসি 526359568।
- ↑ Paine, Lincoln P. (২০০০)। Ships of discovery and exploration। Boston: Houghton Mifflin Co। আইএসবিএন 0-395-98415-7। ওসিএলসি 44128252।
- L.L. Ivanov et al. The Future of the Falkland Islands and Its People. Sofia: Manfred Wörner Foundation, 2003. 96 pp. আইএসবিএন ৯৫৪-৯১৫০৩-১-৩
- Carlos Escudé y Andrés Cisneros, dir. Historia general de las relaciones exteriores de la República Argentina. Obra desarrollada y publicada bajo los auspicios del Consejo Argentino para las Relaciones Internacionales (CARI). Buenos Aires: GEL/Nuevohacer, 2000. (in Spanish) আইএসবিএন ৯৫০-৬৯৪-৫৪৬-২
- D.W. Greig, Sovereignty and the Falkland Islands Crisis. Austrialian Year Book of International Law. Vol. 8 (1983). pp. 20–70. আইএসএসএন 0084-7658