প্রধান মেনু খুলুন

প্রেমেন্দ্র মিত্র

বাঙালি কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক

প্রেমেন্দ্র মিত্র ( জন্ম: ১৯০৪ - মৃত্যু: ৩ মে, ১৯৮৮) একজন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী বাঙালি কবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্রগুলি হল ঘনাদা, পরাশর বর্মা, মেজকর্তা এবং মামাবাবু

প্রেমেন্দ্র মিত্র
প্রেমেন্দ্র মিত্র.jpg
জন্ম১৯০৪
মৃত্যু১৯৮৮
বাসস্থানকলকাতা
জাতীয়তাব্রিটিশ ভারতীয় (১৯০৪-১৯৪৭)
ভারতীয় (১৯৪৭-১৯৮৮)
জাতিসত্তাবাঙালি
যে জন্য পরিচিতকবি, ছোটগল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং চিত্রপরিচালক

পরিচ্ছেদসমূহ

জন্ম ও পরিবারসম্পাদনা

প্রেমেন্দ্র মিত্র ১৯০৪ সালে কাশীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম তাপস মিত্র। তিনি রেলে চাকরি করতেন।

সাহিত্যকর্মসম্পাদনা

১৯২৩ খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে গোবিন্দ ঘোষাল লেনের একটি মেসে থাকার সময় ঘরের জানলার ফাঁকে একটি পোস্টকার্ড আবিষ্কার করেন। চিঠিটা পড়তে পড়তে তাঁর মনে দুটো গল্প আসে। সেই রাতেই গল্পদুটো লিখে পরদিন পাঠিয়ে দেন জনপ্রিয় পত্রিকা প্রবাসীতে। ১৯২৪ সালের মার্চে প্রবাসীতে 'শুধু কেরানী' আর এপ্রিল মাসে 'গোপনচারিণী' প্রকাশিত হয়, যদিও সেখানে তাঁর নাম উল্লেখ করা ছিল না। সেই বছরেই কল্লোল পত্রিকায় 'সংক্রান্তি' নামে একটি গল্প বেরোয়। এরপর তাঁর মিছিল এবং পাঁক(১৯২৬) নামে দুটি উপন্যাস বেরোয়। পরের বছর বিজলী পত্রিকায় গদ্যছন্দে লেখেন 'আজ এই রাস্তার গান গাইব' কবিতাটি।

প্রেমেন্দ্র মিত্রের প্রথম কবিতার বই ‌'প্রথমা' প্রকাশিত হয় ১৯৩২ সালে। বৈপ্লবিক চেতনাসিক্ত মানবিকতা তাঁর কবিতার প্রধান বৈশিষ্ট্য।[১] প্রথম জীবনে তাঁর ছোটোগল্পের তিনটি বই বেরোয় - 'পঞ্চশর', 'বেনামী বন্দর' আর 'পুতুল ও প্রতিমা'। মানুষের সম্পর্কের ভাঙ্গা গড়া, মনের জটিলতা, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের ব্যাথা বেদনার কথা প্রকাশে প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন স্বকীয়তায় অনন্য।[২]

ঘনাদা ও পরাশরসম্পাদনা

প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট জনপ্রিয়তম চরিত্র ঘনাদা, গল্পবাগীশ সর্বজ্ঞানী মেসবাড়ির ঘনশ্যাম দাস আজো সব বয়েসের পাঠকদের কাছে প্রিয়। তাঁর এই অমর চরিত্র ৭২ নং বনমালী নস্কর লেনের মেসবাড়ির বাসিন্দা ঘনাদা প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৪৫ সালে[৩]। এছাড়াও তিনি অনেকগুলি ছোট গোয়েন্দা গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন যার মুখ্য চরিত্র পরাশর বর্মা, যে পেশায় গোয়েন্দা হলেও নেশায় কবি। তার সৃষ্ট চরিত্র মামাবাবুকে তিনি বহু এডভেঞ্চার উপন্যাস ও ছোটগল্পে এনেছেন যেগুলি কিশোরদের ভেতর জনপ্রিয় ছিল।[৪]

কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যসম্পাদনা

প্রেমেন্দ্র মিত্র প্রথম বাঙালি সাহিত্যিক যিনি নিয়মিত কল্পবিজ্ঞান বা বিজ্ঞান-ভিত্তিক গল্প-উপন্যাস রচনায় মনোনিবেশ করেন। তার বিজ্ঞান সাহিত্য রচনার শুরু ১৯৩০ সালে। রামধনু পত্রিকায় ক্ষিতীন্দ্রনারায়ন ভট্টাচার্য তাকে ছোটদের জন্যে লিখতে অনুরোধ করলে 'পিঁপড়ে পুরান' কাহিনীটি লেখেন। এটিই তার প্রথম কল্পবিজ্ঞান রচনা[২]। 'কুহকের দেশে' গল্পে তাঁর কল্পবিজ্ঞান ও এডভেঞ্চার কাহিনীর নায়ক মামাবাবুর আত্মপ্রকাশ। ১৯৪৮ সালে 'ড্র্যাগনের নিঃশ্বাস' বের হলে মামাবাবু পাঠক মহলে জনপ্রিয় হন। তাঁর রচিত কয়েকটি বিখ্যাত কল্পবিজ্ঞান গল্প ও উপন্যাসের নাম নিচে দেওয়া হল:

  • ছোটোগল্প: "কালাপানির অতলে", "দুঃস্বপ্নের দ্বীপ", "যুদ্ধ কেন থামল", "মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী", "হিমালয়ের চূড়ায়", "আকাশের আতঙ্ক", "অবিশ্বাস্য", "লাইট হাউসে", "পৃথিবীর শত্রু", "মহাকাশের অতিথি", "শমনের রং সাদা"।
  • বড়ো গল্প ও উপন্যাস: পিঁপড়ে পুরাণ, পাতালে পাঁচ বছর, ময়দানবের দ্বীপ, শুক্রে যারা গিয়েছিল, মনুদ্বাদশ, সূর্য যেখানে নীল

এছাড়া আকাশবাণীর উদ্যোগে লিখিত "সবুজ মানুষ" নামে একটি চার অধ্যায়ের বারোয়ারি কল্পবিজ্ঞান কাহিনির প্রথম অধ্যায় রচনা করেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। অবশিষ্ট তিনটি অধ্যায় লিখেছিলেন অদ্রীশ বর্ধন, দিলীপ রায়চৌধুরী ও সত্যজিৎ রায়

চলচ্চিত্র জগৎসম্পাদনা

পথ বেঁধে দিল, রাজলক্ষ্মী (হিন্দি), নতুন খবর, চুপি চুপি আসে, কালোছায়া, কুয়াশা, হানাবাড়ী, তাঁর পরিচালিত ছবি। এছাড়াও তিনি বহু সিনেমার কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার ও উপদেষ্টা ছিলেন।

গ্রন্থ তালিকাসম্পাদনা

কবিতাসম্পাদনা

  • প্রথমা
  • সম্রাট
  • ফেরারী ফৌজ
  • সাগর থেকে ফেরা
  • হরিণ চিতা চিল
  • কখনো মেঘ
  • অমি কবি কামারের
  • ফ্যান

উপন্যাসসম্পাদনা

  • পাঁক
  • মিছিল
  • উপনয়ন
  • আগামীকাল
  • প্রতিশোধ
  • কুয়াশা
  • পথ ভুলে
  • যখন বাতাসে নেশা
  • হৃদয় দিয়ে গড়া
  • জড়ানো মালা
  • পথের দিশা[৫]
  • পা বাড়ালেই রাস্তা
  • হানাবড়ি
  • মনুদ্বাদশ
  • সূর্য কাঁদলে সোনা
  • বিসর্পিল

ছোট গল্পসমগ্রসম্পাদনা

  • পঞ্চসর
  • বেনামী বন্দর
  • পুতুল ও প্রতিমা
  • মৃত্তিকা
  • অফুরন্ত
  • ধুলি ধুসর
  • মহানগর
  • জলপায়রা
  • শ্রেষ্ঠ গল্প
  • নানা রঙে বোনা
  • “পুন্নাম”
  • “তেলেনাপোতা আবিষ্কার”
  • নির্বাচিত[৫]

মৃত্যুসম্পাদনা

কলকাতায় পাকস্থলীর ক্যান্সারের কারণে অসুস্থ হয়ে ৩ মে, ১৯৮৮ মারা যান। ভগ্নস্বাস্থ্যেও সৃষ্টিশীল ছিলেন ১৯৮৭ পর্যন্ত।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "banglapedia Bangla Literature"। ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০১৩ 
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র (২০১০)। কল্পবিজ্ঞান সমগ্র। কলকাতা: দেজ পাবলিশিং। আইএসবিএন 978-81-295-1066-2 
  3. ghanada-samagra v.1 introduction by surajit dAsgupta p.5
  4. প্রেমেন্দ্র মিত্র (২০১০)। মামাবাবু সমগ্র। কলকাতা: দেজ পাবলিশিং। পৃষ্ঠা ৭, ৮। 
  5. সেলিনা হোসেন ও নুরুল ইসলাম সম্পাদিত; বাংলা একাডেমী চরিতাভিধান; ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭; পৃষ্ঠা- ২৩৩।

বহি:সংযোগসম্পাদনা