প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র

ভারতীয় রাজনীতিবিদ

ড. প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র (১ সেপ্টেম্বর ১৯১৯ – ১ জানুয়ারি ২০০৮) ছিলেন ভারতীয় বাঙালি  শিক্ষাবিদ, লেখক এবং একজন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি মোরারজী দেসাই মন্ত্রীসভায় ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ সময়ের শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের ক্যাবিনেট মন্ত্রী ছিলেন [২] [৩] [৪]

প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র
চিত্র:PratapChandraChunderImg.jpg
প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র
জন্ম(১৯১৯-০৯-০১)১ সেপ্টেম্বর ১৯১৯
মৃত্যু১ জানুয়ারি ২০০৮(2008-01-01) (বয়স ৮৮)
পেশাআইনজীবী, রাজনীতিবিদ
দাম্পত্য সঙ্গীলীনা চন্দ্র [১]
সন্তান
পিতা-মাতানির্মলচন্দ্র চন্দ্র (পিতা)

জন্ম ও শিক্ষাজীবনসম্পাদনা

প্রতাপচন্দ্র চন্দ্রের জন্ম ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দের ১ সেপ্টেম্বর বৃটিশ ভারতের অধুনা পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। পিতা নির্মলচন্দ্র চন্দ্র ছিলেন একজন আইনজীবি, জাতীয়তাবাদী রাজনীতিক, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের বিশিষ্ট সদস্য এবং বাংলায় চিত্তরঞ্জন দাশের সৃষ্ট ‘পঞ্চপ্রধান'বা 'বিগ-ফাইভ'-এর অন্যতম। প্রতাপচন্দ্র অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ বি.এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হন। প্রেসিডেন্সি কলেজে তার সহপাঠীরা ছিলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়, রাজনীতিবিদ সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়,প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ অমলেশ ত্রিপাঠী প্রমুখেরা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আর্টসে ডক্টরেট (ডি ফিল) লাভ করেন। [২] [৩]

কর্মজীবনসম্পাদনা

ছোটবেলা থেকেই প্রতাপচন্দ্র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য হন এবং ১৯৬২ - ৬৯ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার সদস্য হন।১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি পশ্চিমবঙ্গের অর্থ এবং আইনমন্ত্রী হন। ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ভারতের শিক্ষা ও সমাজ কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন।

ড. প্রতাপচন্দ্র কলকাতা উচ্চ আদালতের এটর্নি এবং ভারতের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের উকিল ছিলেন। ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দ হতে ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের  এবং আইন বিভাগের সদস্য ছিলেন।।

ড. প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র ওয়েস্ট বেঙ্গল হেরিটেজ কমিশনের প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি ছিলেন। ভারতের প্রাচীনতম ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্টের পরিচালন বোর্ডের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও তিনি রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদযালয়ের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ১৯৮৯-৯০, ১৯৯৩-৯৪ এবং ১৯৯৮-৯৯ খ্রিস্টাব্দে  প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী সমিতির সভাপতি হয়েছিলেন।

২০০৮ খ্রিস্টাব্দের ১ জানুয়ারি প্রতাপচন্দ্র হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮৮ বৎসর বয়সে পরলোক গমন করেন। [৫][১]

প্রকাশিত রচনাবলীসম্পাদনা

প্রতাপচন্দ্র চন্দ্র বহু ঐতিহাসিক উপন্যাস ও নাটক রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল- [৩]

  • বুভুক্ষা
  • স্মৃতির অলিন্দে
  • জব চার্ণকের বিবি
  • লেবেডেফের রঙ্গিনী
  • আজব দেশ
  • স্বপ্নভঙ্গ
  • পরীমহল
  • সাহিত্যের সেরা গল্প
  • গ্লিম্পসেস অফ ইন্ডিয়ান কালচার :অ্যানসেন্ট অ্যান্ড মডার্ণ
  • কৌটিল্য অন লাভ অ্যান্ড মরালস

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Former union minister P.C.Chunder dead"। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৪-০৭ 
  2. KolkataJanuary 1, Indo-Asian News Service; January 1, 2008UPDATED। "Former union minister P.C. Chunder dead"India Today (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০১-১০ 
  3. "Members Bioprofile"loksabhaph.nic.in। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০১-১০ 
  4. "Ex-Union minister PC Chunder is no more - Indian Express"archive.indianexpress.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০১-১০ 
  5. India. Parliament. House of the People (ফেব্রুয়ারি ২০০৮)। Parliamentary Debates: Official Report। Lok Sabha Secretariat.। 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা