প্রগতিশীল ব্যবহারিক তত্ত্ব

প্রগতিশীল উপযোগ/ব্যবহারিক তত্ত্ব হল মহান দার্শনিক প্রভাতরঞ্জন সরকার কর্ত্তৃক প্রদত্ত এক অভিনব সামাজিক-অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দর্শন।[১][২][৩] এর ইংরেজি নাম Progressive Utilization Theory-কে সংক্ষিপ্ত করে তত্ত্বটি "প্রাউট" নামেও পরিচিত। শ্রীপ্রভাতরঞ্জন ১৯৫৯ খ্রীস্টাব্দে এই তত্ত্বের উপর প্রথম আলোকপাত করেন এবং তৎপরবর্তীকালে "কণিকায় প্রাউট" গ্রন্থের মোট ২১টি খন্ডে বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে সমগ্র বিশ্বকে রক্ষা করবার পথ বাতলে দিয়েছেন এই উর্বর তত্ত্বে।[১][২][৩] এতে রয়েছে "ধনতন্ত্রবাদ" (Capitalism), "সাম্যবাদ" (Communism) এবং "মিশ্র-অর্থনীতি" (Mixed economy)-র সীমাবদ্ধতা থেকে পরিত্রাণের যথার্থ পথ।[১][৩]

ধনতান্ত্রিক বা পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থায় আর্থিক ক্ষেত্রে Laissez-Faire (অবাধ স্বাধীনতা)নীতি অনুসৃত হবার ফলে কতিপয় মানুষ বুদ্ধির তথা পেশীর জোরে অপরকে শোষণ করছে। অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ধনতন্ত্রের ব্যর্থতা দেখিয়ে শুরু হয়েছিল আরেক নূতন দর্শনের – এর নাম কমিউনিজম। কিন্তু কমিউনিষ্ট সমাজে সমষ্টির উন্নয়ন দারুণভাবে ব্যাহত হল।তাই বর্তমানে কমিউনিজমও গ্রহণযোগ্য নয়। ধনতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের মিশ্রণে তৈরী হয়েছিল মিশ্র-অর্থনীতি বা গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র। এরফলে ব্যষ্টিগত (ব্যক্তিগত) উদ্যোগের জয়জয়কার হল। এমতাবস্থায় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার তাঁর অভিনব সমাজদর্শন প্রাউট নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। গ্যারান্টি দিয়েছেন ব্যষ্টির ন্যূনতম প্রয়োজন পূর্তির অর্থাৎ অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার গ্যারান্টি। গ্যারান্টি দিয়েছেন বাক্ স্বাধীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের। অপূর্ব সমন্বয় করেছেন ব্যষ্টি স্বাধীনতা আর সমষ্টি উন্নয়নের।[১][৪][৫] শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার লিখেছেন, " রাষ্ট্রের চেয়ে মানুষ বড়। মানুষকে বিকশিত করে তোলার জন্যে সভ্যতার সমস্ত উপকরণ, রাষ্ট্রের বিচিত্র রূপ, মতবাদের যত বৈচিত্র্য, শাস্ত্রের যত অনুশাসন, যত বিধিনিষেধ, মানুষ যদি আত্মপ্রকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে রইল – তবে কিসের জন্যে রাষ্ট্রের ইমারৎ? কিসের জন্যে বিধিব্যবস্থা? কিসের জন্যে সভ্যতার এত সাজসরঞ্জাম?"[৬]

তত্ত্বসম্পাদনা

পাঁচটি মূল নীতিসম্পাদনা

প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব নিম্নোক্ত পাঁচটি মূল নীতি বা সিদ্ধান্তের উপর প্রতিষ্ঠিত –

  1. .কোন ব্যষ্টিই সামবায়িক সংস্থার সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোন প্রকার পার্থিব সম্পদ সঞ্চয় করতে পারবে না।
  2. .বিশ্বের যাবতীয় জাগতিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদের সর্বাধিক উপযোগ গ্রহণ করতে হবে ও যুক্তিসংগত বণ্টন করতে হবে।
  3. .মানব সমাজের মধ্যে ব্যষ্টিগত ও সমষ্টিগত যত প্রকারের আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদ আছে সবকিছুরই সর্বাধিক উপযোগ গ্রহণ করতে হবে
  4. .জাগতিক, মানসিক, আধিভৌতিক, আধিদৈবিক ও আধ্যাত্মিক উপযোগসমূহের মধ্যে সুনির্দিষ্ট বিবেচনা ও সামঞ্জস্য থাকা অবশ্য প্রয়োজন।
  5. .দেশ,কাল ও পাত্রের পরিবর্তন অনুযায়ী সমগ্র উপযোগ নীতির পরিবর্তন হতে পারে আর এই উপযোগ হবে প্রগতিশীল স্বভাবের।[১][৩]

প্রাউট বিশ্বের সমস্ত সমস্যার সমাধান নিয়ে যুক্তিসংগত পথনির্দেশনা দেয়। প্রকৃতপক্ষে, প্রাউট চায় অর্থনৈতিক গণতন্ত্র।ভাষা,শিক্ষানীতি,শিল্পনীতি, কৃষিচিন্তা,সদ্বিপ্র নেতৃত্ব, ব্লক ভিত্তিক পরিকল্পনা, সুসন্তুলিত বা বিকেন্দ্রীত অর্থনীতি, বিশ্বৈকতাবাদ ইত্যাদি সমস্ত বিষয়ে নূতনভাবে বিজ্ঞানসম্মত চিত্রপট তৈরী করে দিয়েছে, যা ব্যষ্টি ও সমাজের অগ্রগতিকে সুনিশ্চিত করে এক মানব সমাজ ঘটনের দাবি রাখে।[১][৩][৭]

বর্তমানে Proutist Universal বিভাগের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে প্রাউট নিয়ে গবেষণা চলছে।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "PROUT Global - Progressive Utilization Theory | Prout Universal" (ইংরেজি ভাষায়)। ২০২০-০৩-১০। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১০ 
  2. "Home of PROUT"www.prout.org। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১০ 
  3. "প্রাউট-বিষয়ে অআকখ – নূহ আইনুল ইসলাম (আলিফ) (প্রতিবেদন) - Bangarashtra"www.bangarashtra.net। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 
  4. "A Brief Introduction to PROUT"Women Proutists of North America (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 
  5. prbhkr (২০১১-০৫-২৬)। "Prout, What It Stands For: The alternative to capitalism and communism" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 
  6. "সামাজিক মূল্য ও মানবিক মৌল নীতি | নোতুন পৃথিবী"www.notunprithivi.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 
  7. "সমাজ বিপ্লবের রণকৌশল | নোতুন পৃথিবী"notunprithivi.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৪-১৯ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা