পীর একদিল শাহের দরগাহ

পীর একদিল শাহের দরগাহের তোরণ

পীর একদিল শাহের দরগাহ হল পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসতের কাজীপাড়ায় অবস্থিত পীর হজরত একদিল শাহের পবিত্র মাজার শরীফ। সৌধসদৃশ ও প্রাচীরবেষ্টিত কাজীপাড়ার এই দরগাহে প্রতি বছর পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত থেকে পরের আটদিন একদিল শাহের স্মরণে উৎসব পালিত হয়। তাছাড়া, প্রতি শুক্রবার হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষ প্রার্থনা জানাতে ভিড় করেন।[১]

পীর হজরত একদিল শাহসম্পাদনা

চতুর্দশ শতকের গোড়ার দিকে পীর গোরাচাঁদের (সৈয়দ আব্বাস আলী) সঙ্গে যে একুশজন পীর-আউলিয়া সৌদি আরব থেকে দক্ষিণ বাংলায় ইসলাম ধর্মপ্রচারে আসেন, হজরত একদিল শাহ ছিলেন তাদের অন্যতম। চব্বিশ পরগণার আনোয়ারপুর পরগণা ছিল তার ধর্মপ্রচারের স্থান। এখানকার বারাসতের কাজীপাড়ায় ছুটি খাঁর বাড়িতে তিনি থাকতেন। তার সরল ধর্মমত ভারতীয় ভাবানুকূল ছিল, এজন্য তিনি বেশ প্রতিপত্তিশালী হয়েছিলেন। কোনও এক পৌষ সংক্রান্তির আগের রাতে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। স্থানীয় লোককাব্যে পীর একদিল শাহের রূপ বর্ণিত হয়েছে এইভাবে:

উপনীত হইল পীর রাজ-দরবারে
আকাশের চন্দ্র নামিল ভূমেতে...
কাল মেঘের আড় বিজলীর ছটা
কাঁচা সোনা জ্বলে যেন সানিরের বেটা
দু আঁখে কাজল অতি দেখিতে উত্তম
চলন খঞ্জন পাখি পাইবে শরম
হাতে পদ্ম পায় পদ্ম কপালে রতন জ্বলে
পীরকে দেখিয়া প্রজা ধন্য ধন্য করে।।[১]

দরগাহের বার্ষিক উৎসবসম্পাদনা

পীর একদিল শাহের সমাধি দরগাহে পৌষ সংক্রান্তির আগের রাত থেকে তার মৃত্যুর দিন স্মরণ করে প্রতি বছর আটদিন ব্যাপী বিশেষ উৎসব ও মেলা হয়।মেলায় কাওয়ালি তরাণা, মানিকপীরের গান, নানারকম বাজনা, পুতুলনাচ ও ফকির-দরবেশের ধুম লাগে। কথিত আছে, রাজা রামমোহন রায়ের প্রপৌত্র এখানে খুব সকালে এসে শিরনি দিতেন৷ পরবর্তীতে, পীরোত্তর ভূমিদানের ফলে রামমোহনের সেরেস্তার তরফ থেকে শিরনি দেওয়ার ব্যবস্থা হয়। এই দরগাহে সকলের আগে হিন্দুদের শিরনি দেওয়ার রীতি আছে। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের ভক্তরা ফুলপাতা দেন খাদিমদারের হাতে এবং পীরের প্রসাদ ও শান্তিবারি লাভ করেন। ভক্তদের মধ্যে 'পীরের লুট' দেওয়ার রীতিও আছে।[১]

অন্যান্য নজরগাহ বা স্মৃতিসৌধসম্পাদনা

পীর একদিল শাহের নামে বারাসত শহরের মধ্যস্থলে একটি; বারাসত-বসিরহাট রোডের ধারে ঘোলা-কাজীপাড়ায় একটি এবং বালিপুর, রঘুবীরপুর, কাটারহাট, জাফরপুর, পাটুলিধলা, গোপালপুর, আবদেলপুর, গোবরা প্রভৃতি স্থানে একটি করে নজরগাহ আছে।[১]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. ঘোষ, বিনয়, "পশ্চিমবঙ্গের সংস্কৃতি", তৃতীয় খন্ড, প্রথম সংস্করণ, প্রকাশ ভবন, পৃষ্ঠা: ১৬৪-১৬৮