পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলাদেশী অভিনেতা
(পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে পুনর্নির্দেশিত)

পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় একজন বাংলাদেশী অভিনেতা। পাশাপাশি তিনি একজন নাট্যকার, আবৃত্তিকার ও সংগঠক।[১] ১৯৮০-র দশকের শুরুতে সকাল সন্ধ্যা নামক টিভি সিরিয়ালে 'শাহেদ' চরিত্রে অভিনয় করে তিনি জনপ্রিয়তা পান। তিনি বিটিভির মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়
জাতীয়তাবাংলাদেশী
পেশাঅভিনেতা, নাট্যকার, পরিচালক, আবৃত্তিকার
কর্মজীবন১৯৮০-বর্তমান
উল্লেখযোগ্য কর্ম
সকাল সন্ধ্যা
আগামী
একাত্তরের যীশু
দাম্পত্য সঙ্গীজয়শ্রী কর জয়া

শৈশব ও কৈশোর

১৯৫০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় গোপালগঞ্জের এসএম মডেল স্কুলে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন তিনি। [২]

কর্মজীবন

আশির দশকের শুরুতে সকাল সন্ধ্যা নামক টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে তিনি বিপুল জনপ্রিয়তা পান। তার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরু মোরশেদুল ইসলাম পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আগামী দিয়ে। এরপর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একাত্তরের যীশু চলচ্চিত্রে পাদ্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। এছাড়া ২০১১ সালের আরও দুটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র আমার বন্ধু রাশেদগেরিলায় অভিনয় করেন। মুহম্মদ জাফর ইকবাল রচিত একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে আমার বন্ধু রাশেদ নির্মাণ করেছেন মোরশেদুল ইসলাম এবং গেরিলা নির্মাণ করেছেন নাসির উদ্দীন ইউসুফ[৩]

বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি বিটিভির মহাপরিচালক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপত্র পান।[৪] ২০১২ সালের ১৯ এপ্রিল তিনি বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন।[৫] ২০১৫ সালে বিএফডিসির মালামাল ক্রয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তিনিসহ চার জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন[৬] মামলার এজাহারে বলা হয়, বিদেশ থেকে চলচ্চিত্র সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দাম উল্লেখ করে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের চার্জশীট থেকে তার নাম প্রত্যাহার করা হয়।[৭] ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালীন তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড তুলে দিয়ে গ্রেডিং সিস্টেম চালুর পরিকল্পনা করেন।[৮]

চলচ্চিত্র তালিকা

বছর চলচ্চিত্রের শিরোনাম চরিত্র পরিচালক টীকা
১৯৮৪ আগামী মোরশেদুল ইসলাম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
১৯৯৩ সে শামীম আখতার ও তারেক মাসুদ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র
একাত্তরের যীশু পাদ্রী নাসির উদ্দীন ইউসুফ
১৯৯৫ মহামিলন জাহিদ মল্লিক দিলীপ সোম
২০০০ উত্তরের খেপ শাহজাহান চৌধুরী
কিত্তনখোলা ইদু কন্ট্রাক্টর আবু সাইয়ীদ
২০০১ মেঘলা আকাশ বাকের শাকিব নারগিস আক্তার
২০০৩ আধিয়ার জমিদার কলিমুল্লাহ সাইদুল আনাম টুটুল
২০০৮ আমার আছে জল নিষাদ ও দিলশাদের বাবা হুমায়ূন আহমেদ
২০১১ আমার বন্ধু রাশেদ ইবুর বাবা মোরশেদুল ইসলাম
গেরিলা আনোয়ার হুসাইন নাসির উদ্দীন ইউসুফ
২০১৩ মৃত্তিকা মায়া সাইদুর রহমান গাজী রাকায়েত
২০১৪ আমি শুধু চেয়েছি তোমায় অনন্য মামুনঅশোক পতি
বুনো হাঁস অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরী

পুরস্কার

  • সেলিম আল দীন লোকনাট্য পদক (২০২১)[৯]

সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা

১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১০] পিয়ং ইয়ং ও উত্তর কোরিয়ায় বিশ্বছাত্র-যুব সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন তিনি।[১১] সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য তিনি। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনে সারা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন তৃণমূলে নাট্য আন্দোলন সংগঠনে। পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১৯৮৫ সালে 'বাংলাদেশ যুব ঐক্য' গড়ে ওঠে। ২০১৮ সালে পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠে 'সম্প্রীতি বাংলাদেশ' নামক একটি সংগঠন।

বাংলাদেশ থেকে প্রথম প্রতিনিধি হিসেবে কায়রোতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দেন পীযূষ বন্দোপাধ্যায়। বার্লিনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক লোক উৎসব, হলদিয়া ও কলকাতায় আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব, জার্মানের ফ্রাংকফুর্টের বইমেলায় অংশ নিয়েছেন তিনি।

সাংবাদিকতা ও সাহিত্য

পেশাদারী সাংবাদিকতা করেছেন দীর্ঘদিন। ১৯৯০-৯৪ সালে সম্পাদনা করেছেন দৈনিক লাল সবুজ পত্রিকায়। ১৯৮৬ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিয়মিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কলাম লিখছেন। মৌলিক সাহিত্য রচনা করেছেন। প্রকাশিত ও সম্পাদিত বইয়ের সংখ্যা ২০টির অধিক।

তথ্যসূত্র

  1. "প্রমার অনুষ্ঠানে পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় । চট্টগ্রামের মানুষের আবৃত্তি চর্চা সত্যি প্রশংসনীয়"দৈনিক আজাদী। ১৮ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. জনকণ্ঠ, দৈনিক। "আজ পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন"দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-১৯ 
  3. "সেলুলয়েডের ফিতায় মুক্তিযুদ্ধ"জাগো নিউজ। ২৫ মার্চ ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  4. "বিটিভি'র মহাপরিচালক হচ্ছেন পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়"বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১২। ৫ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  5. "এফডিসির এমডি পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়"যায়যায়দিন। ১৯ এপ্রিল ২০১২। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  6. প্রতিবেদক, সমকাল (২০১৫-০৭-০৭)। "দুর্নীতির অভিযোগে পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা"SAMAKAL। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০১-২৫ 
  7. "ACC charge sheet in FDC case spares Pijush Bandyopadhyay"New Age | The Most Popular Outspoken English Daily in Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-১৯ 
  8. "সেন্সর বোর্ড বলে কিছু থাকছে না আর : পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়"বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। জানুয়ারি ১২, ২০১৩। সংগ্রহের তারিখ ২৮ জানুয়ারি ২০১৭ 
  9. "মানবিক বিশ্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা"। দৈনিক সমকাল। 
  10. মুখার্জী, অনয়। "জানা-অজানা পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়"bdnews24। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-১৯ 
  11. জনকণ্ঠ, দৈনিক। "আজ পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন"দৈনিক জনকণ্ঠ || Daily Janakantha (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২২-০৯-১৯ 

আরও দেখুন

বহিঃসংযোগ