আরবি হরফে বাংলা লিখন

(পাকবাংলা ভাষা থেকে পুনর্নির্দেশিত)

আরবি বর্ণে বাংলা লিখন বা হুরুফুল কুরআন[১] হচ্ছে বাংলা বর্ণমালায় আরবি ভাষার প্রতিবর্নী লেখা। নবাবি আমলে বাংলায় এই পদ্ধতিতে লিখন প্রচলিত ছিল, যাকে পরবর্তীতে ভাষাবিদগণ দোভাষী নামে নামকরণ করেন। পাকিস্তান গঠনের পর পূর্ব বাংলায় এই লিখন পদ্ধতিটি আবার রাজনৈতিকভাবে আলোচনায় আসে,[২] তখন এই ভাষাকে পাকিস্তানি বাংলা[৩] বা পাক-বাংলা ভাষা[১][৪] হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিলো।

ইতিহাসসম্পাদনা

নবাবী বাংলায়সম্পাদনা

বাংলার নবাবী যুগে, মুসলিম পুথি লেখকদের মধ্যে লেখার পদ্ধতি প্রচলিত ছিল, প্রায় সমস্ত মুসলিম বাঙালি পুথি লেখকরা কিছু হিন্দু লেখক সহ লেখালেখির পদ্ধতি অনুসরণ করেছিলেন।[৫] এবং 72টি পুথি তৎকালীন শৈলী অনুসরণ করে লেখা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে আছে আলাওলের পদ্মাবতী,[৬], শাহ মুহাম্মদ সগীর এর ইউসুফ-জুলেখা[৭], মুহাম্মাদ আলী কর্তৃক হাইরাত আল-ফিকহ[৮], মুহাম্মদ ফাসিহ[৯] ইত্যাদি। এর মধ্যে কিছু নমুনা বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর গ্যালারি-৩৩ (পান্ডুলিপি ও নথিপত্র) এও সংরক্ষিত আছে যার মধ্যে আছে শেখ মুত্তালিবের কেফায়াতুল মুসাল্লিন সহ[১০] (১৫৫৯) এবং মুহাম্মদ খানের "মাকতুল হুসাইন" (১৬৪৫)।।[১১] শেখ মুত্তালিব তাঁর কেফায়াত আল-মুসাল্লিন গ্রন্থের মুখবন্ধে এই বক্তব্যটি দিয়েছেন: আমি এই সত্য সম্পর্কে অবগত যে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বাংলায় লিখতে গিয়ে আমি সীমাহীন পাপ করছি।[১২][১৩]

১৯৪৭-এর পর নব্য পাকিস্তান শাসনামলেসম্পাদনা

পাকিস্তান গঠনের পর থেকেই নব্য পাকিস্তানে বাংলা ভাষায় আরবি হরফ প্রবর্তনের পক্ষে একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংহতির যুক্তি ছিল।[১৪] বলা হচ্ছিল, উর্দু ছাড়া পশতু, সিন্ধি, পাঞ্জাবি ভাষায় আরবি হরফ যেহেতু ব্যবহৃত হচ্ছে—এখন বাংলায় এই হরফের প্রবর্তন করলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও সাংস্কৃতিক সংহতি দৃঢ় হবে। এছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা ভাষায় সংস্কৃত শব্দের ব্যবহার কমিয়ে তার পরিবর্তে আরবি ফারসি উর্দু ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়।[১৫] এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিব বা শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান[১৬] এ বিষয়ে তিনি পূর্ব বাংলার শিক্ষাবিদদের সহযোগিতা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৪৮ সালে করাচিতে নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে শিক্ষা সচিবের এ প্রস্তাব করেন। ১৯৪৯ সালের পেশোয়ারে কেন্দ্রীয় শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায়ও আরবিকে পাকিস্তানের ভাষা সমূহের একমাত্র হরফ করার জোর সুপারিশ করা হয়। ফজলুর রহমান ১৯৪৯ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে পাকিস্তান শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের দ্বিতীয় অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় বলেন, একই জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠার পথে যেসব অসুবিধা আছে তার মধ্যে নানারকম হরফের সমস্যাটি অন্যতম। এ প্রসঙ্গে তিনি আরবি বর্ণমালার উপযোগিতার কথা বর্ণনা করেন। এ ভাষাকে অনেক একাডেমিক ব্যক্তিত্ব পাকবাংলা ভাষা ও সেসময়ের মুসলিম বাংলা সাহিত্যকে পাকবাংলা সাহিত্য নামে উল্লেখ করেছেন। যখন ফজলুর রহমান ভাষার ইসলামিকরণের স্বার্থে বাংলাকে আরবি লিপিতে লেখার প্রস্তাব করেছিলেন, মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ জটিলতা বৃদ্ধির আশঙ্কা করে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবং বাংলাকে অপরিবর্তিত অবস্থায় পূর্ব বাংলা রাষ্ট্রভাষা তথা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।[১৭] মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বিশ্বাস করতেন যে, বাঙালিরা ইংরেজি শেখার সাথে সাথে উর্দু শিখতে পারে, তিনি এও বিশ্বাস করতেন যে: "যেদিন আরবি পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে, সেদিন পাকিস্তান রাষ্ট্রের সৃষ্টি ন্যায়সঙ্গত হবে।"[১৮][১৯][২০] ১৯৪৮ সালের মার্চের ভাষা আন্দোলন স্তিমিত হয়ে এলেও পাকিস্তান সরকারের আরবি হরফ প্রচলনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে। ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সভায় আরবি হরফ প্রচলনের চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন মুস্তাফা নূরউল ইসলাম। এ সভায় বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংসদ গঠন করা হয়। মো. নুরুল ইসলাম সভাপতি এবং ইলা দাশগুপ্তা ও আশরাফ সিদ্দিকী যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচত হন। এছাড়া নজরুল ইসলাম, মমতাজ বেগম, রিজিয়া খাতুন, খলিলুর রহমানসহ অন্যদের নিয়ে বর্ণমালা সাব-কমিটি গঠিত হয়। এদিকে, ১৯৪৯ সালের ১২ মার্চ বাজেট অধিবেশনের ২য় দিনে ছাত্র ফেডারেশনের একটি বিক্ষোভ মিছিল পরিষদ ভবনের সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং আফজল হোসেন, মৃণালকান্তি বাড়রী, বাহাউদ্দীন চৌধুরী, ইকবাল আনসারী খান, আবদুস সালাম ও এ কে এম মনিরুজ্জামান চৌধুরীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদের জামিন না দিয়ে বন্দি রাখা হয়। ১৯৪৯ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের ভাষা কমিটির পক্ষ থেকে নঈমুদ্দিন আহমদ সংবাদপত্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত লোকের হার শতকরা ১২ থেকে ১৫ জন। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানের শিক্ষিত লোকের হার শতকরা পাঁচ জনের কম; আরবি বর্ণমালার দোহাই দিয়ে এই ১৫ জন শিক্ষিতকে কলমের এক খোঁচায় অশিক্ষিতে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। এর ফলে গোটা পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থাই বানচাল হয়ে যাবে।"[২১] ১৯৫০ এর শতকে পূর্ব বাংলা সরকারের পক্ষ থেকে ভাষা সমস্যার ব্যাপারে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে মাওলানা আকরাম খানের নেতৃত্বে পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি গঠন করা হয় এবং এ বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হয়। প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা ১৯৫০ সালে পূর্ব বাংলার বিভিন্ন জেলায় আরবি হরফে বাংলা শিক্ষার ২০টি কেন্দ্র স্থাপন করে।[২২] ১৯৫০ সালের ৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন তৈরি করে। তবে এটি ১৯৫৮ সালের আগে প্রকাশ করা হয়নি। এখানে ভাষা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি কার্যকর ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়। যেখানে তারা বাংলাকে আরবি হরফে মাধ্যমে লেখার সুপারিশ করেছিলেন।[২৩] পূর্ব বাংলার ভাষা সংস্কার কমিটির সদস্য মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এই নীতির নিন্দায় ছাত্রদের সাথে যোগ দেন।[১৪] ১৯৫০ সালে গণপরিষদে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব উপস্থাপিত হলে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রতিবাদ করে বাংলা ভাষাকে পাক-পরিষদের অন্যান্য ভাষার সহিত সমানাধিকার দানের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।[২৪]

পাকিস্তান সরকার ১৯৫১ সালের ২৭শে মার্চ সিএপি-তে আরবি হরফে বাংলা লেখার প্রস্তাব পুনঃপ্রবর্তন করে বাংলার জন্য আরবি লিপির প্রতিস্থাপনের জন্য চাপ দেয়। পূর্ব বাংলার আরও অল্প কয়েকজন বিধায়কের মধ্যে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাংলাকে পরিবর্তন করার পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন যে, বাংলা লেখার জন্য বিদেশী লিপি প্রবর্তন করে পূর্ব বাংলার মানুষকে নিকৃষ্ট শ্রেণীর নিরক্ষর নাগরিকে পরিণত করা হচ্ছে। তিনি বাংলা বর্ণমালার জন্য আরবি লিপি প্রতিস্থাপনের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেন। যখন বাংলা লেখার জন্য আরবি লিপি গ্রহণের একই প্রস্তাবটি ১৯৫০ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের গণপরিষদে (CAP) আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হয়, তখন তিনি জোর দিয়ে বাংলার পক্ষে কথা বলেন। বিশেষ করে, তিনি বাংলা বর্ণমালার পরিবর্তে আরবি লিপি প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানান এবং অবিলম্বে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সিএপি ফ্লোরে জোর দিয়ে বলেন: "আমি কেবল হিন্দুদেরই নয়, মুসলমানদেরও প্রতিনিধিত্ব করি। আমি আপনাকে বলতে পারি যে পূর্ব বাংলায় যে ভাষা (অর্থাৎ আরবি) চালু করতে চাওয়া হয়েছে তা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে না। সেই নীতি হবে বদলাতে হবে। আমি জানি না সরকার এই সত্যটি সম্পর্কে অবগত কিনা যে জনগণের বিশাল অংশের মধ্যে এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সম্মেলনে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উঠেছে।"[২৫]

১৯৫৩ সালের ৩০ এপ্রিল দত্ত সংসদ অধিবেশনের অর্থবিলের আলোচনাকালে এর সমালোচনা করে বলেন, "তারপর স্যার, আরেকটি বিষয় আছে যা আমি উল্লেখ করব। আমি সংক্ষেপে বলতে চাই কারণ মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ‘জান্নাত’ সিনেমা দিয়ে আমাদের বিনোদন দিয়েছেন এবং আমাকে বেশি সমালোচনা না করতে বলেছেন! আমি অবশ্যই তার ইচ্ছাকে সম্মান করব, তবে আরেকটি বিষয় যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হল আরবি লিপির মাধ্যমে বাংলা শেখানো। মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রী, যিনি কিছুকাল আগে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, তিনি এই হাউসকে বলেছিলেন যে এটি পূর্ববঙ্গে খুব জনপ্রিয় কিন্তু তা নয়। যদি আমরা বিষয়টি অনুসন্ধান করি তবে দেখা যাবে যে এটি সত্যিই অত্যন্ত অজনপ্রিয় এবং পূর্ব বাংলার কেউই চায় না যে বাংলা লিপি বিলুপ্ত করা হোক এবং বাংলা শিক্ষা আরবি লিপিতে করা হোক, কিন্তু স্যার, সরকার এই বিষয়টিকে অনুসরণ করতে চায় এবং স্যার, এটি সরকারের অগণতান্ত্রিক চেতনাকে প্রদর্শন করে।"।[২৬]

জিয়ার শাসনামলেসম্পাদনা

শেখ মুজিবকে হত্যার পর জিয়াউর রহমানের শাসনামলে, তার কিছু আধিপত্যবাদী পদক্ষেপ গ্রহণের দিকে প্রতিবেশী বাংলার সাথে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থেকে মুক্ত একটি 'জাতীয় ব্যক্তিত্বের' আহ্বান জানানোর উদ্বেগের দ্বারা পরিচালিত করা হয়েছিল। বাংলাদেশের ভাষা, ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য, বিশেষ করে ভাষার ক্ষেত্রে, বাংলা ভাষাকে ফারসি ও আরবি শব্দভান্ডারের শব্দ দিয়ে দো-ভাষা (দ্বি-ভাষা) পুনরুজ্জীবিত করার ব্যবস্থা বা কৃত্রিম ব্যবস্থা তৈরি করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যাকে দেশভাগ-পরবর্তী সময়ের "পাক-বাংলা" ভাষা হিসেবে আবুল মনসুর আহমেদ বর্ণনা করেছেন।[২৭] এইভাবে, 'জয় বাংলা'-- ভাষাতাত্ত্বিকভাবে পূর্ব বাংলার উৎপত্তিগত স্লোগানটি আরও ফার্সিকৃত রুপান্তর "বাংলাদেশ জিন্দাবাদ" দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল।[২৮]

নমুনাসম্পাদনা

বাংলা লিপিতে বাংলা ভাষাসম্পাদনা

ধারা ১: সমস্ত মানুষ স্বাধীনভাবে সমান মর্যাদা এবং অধিকার নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তাঁদের বিবেক এবং বুদ্ধি আছে; সুতরাং সকলেরই একে অপরের প্রতি ভ্রাতৃত্বসুলভ মনোভাব নিয়ে আচরণ করা উচিত।

শাহমুখী লিপিতে বাংলা ভাষাসম্পাদনা

دھارا ۱: سمست مانش سبادھین بھابے سمان مریادا ایبں ادھِکار نِیے جنْم گْرہݨ کرے۔ تاںدیر بِبیک ایبں بُدّھِ آچھے؛ سُتراں سکلیرئ ایکے اپریر پْرتِ بھْراتِْرتب سُلبھ منوبھاب نیے آچرݨ کرا اُچِت۔

বাংলার রোমানীকরণসম্পাদনা

Dhara êk: Sômôstô manush sbadhinbhabe sôman môrzada ebông ôdhikar niye jônmôgrôhôn kôre. Tãder bibek ebông buddhi achhe; sutôrang sôkôleri êke ôpôrer prôti bhratritbôsulôbh mônobhab niye achôrôn kôra uchit.

আরবি, উর্দু ও ফারসি শব্দের আধিক্যযুক্ত বাংলা ভাষাসম্পাদনা

জুজ ১: তামাম ইনসান/মর্দ আজাদভাবে বরাবর ওকার/কারামাত/ইহতিরাম/তাউজু/ইনতিবাহ আর হক লয়ে পয়দা হয়। তাদের দমীর ও আকল আছে; তো সবারই একে অপরের মোতাবেক বেরাদরি/ইখওয়ানি আখলাকের সাথে রোয়া/সুলুক করা চাই।

রোমানীকরণসম্পাদনা

Juj 1: Tāmām insān/mard ājādbhābē borabor ōkār/kārāmot/ihatirām/tā'uju/ inatibāh ār hoq loyē poydā hoy. Tādēr damīr ō akol achē; tō sobār'i ēkē oporēr mōtābēk bērādori/ikhwāni ākhlākēr sāthe rōya/suluk korā chā'i.

শাহমুখী লিপিতেসম্পাদনা

جُج 1: تمام انسان/مرد اجادبھابے بورابور آکر/کراموٹ/یہاتیرام/تعجو/ انتیبہ ارحق لوئے پویدا ہوتا ہے۔ تاي سوباري ایکے اورےر مطابق بیرادری/ اخوانی اخلاقےر ساتھے رونا/سلوک کرا چای۔

মধুসূদন দত্তের বঙ্গভাষা কবিতাসম্পাদনা

বাংলায়সম্পাদনা

হে বঙ্গ, ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন;— তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি, পর‐ধন‐লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।

শাহমুখী লিপিতেসম্পাদনা

ہیں بنگو بھنڈارے تنو بی بید ھو رتن

تاشے ، ( ابودھ آمی ) ابو مپلا کری پرودهن لوبھے متو، کرینو بهرمن پرودیشے ، بھگھا برتی کو کھنے آنچری

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Hossain, Mokerrom (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১০)। From Protest to Freedom: A Book for the New Generation: the Birth of Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। Mokerrom। পৃষ্ঠা 140। আইএসবিএন 978-0-615-48695-6। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ 
  2. জাফললোট, ক্রিস্টোফ (২০০৪)। A History of Pakistan and Its Origins (ইংরেজি ভাষায়)। অ্যান্থেম প্রেস। পৃষ্ঠা ৪৬। আইএসবিএন 978-1-84331-149-2। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  3. "উর্দুর পক্ষে লেখা বাঙালিদের তাত্ত্বিক বক্তব্য"সংগ্রামের নোটবুক (ইংরেজি ভাষায়)। মাহে নও (আজাদী সংখ্যা), ১৪ই আগস্ট, ১৯৪৯। ১০ অক্টোবর ২০২০। সংগ্রহের তারিখ ২৪ এপ্রিল ২০২২ 
  4. রহিম, মোঃ আব্দুর (২ ফেব্রুয়ারি ২০২০)। "রাজনৈতিক ও জাতিগত বিভাজনের ভাষা উর্দু"দৈনিক সমকাল। সংগ্রহের তারিখ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২ 
  5. Journal of the Asiatic Society (ইংরেজি ভাষায়)। Asiatic Society। ১৯৬১। It is noticed that a good number of manuscripts of Bengali texts are written in the Arabic script . Among the scribes there are a number of Hindus . We have records here showing that Muislim authors writing on Islamic topics were patronized by Hindu landlords . The dates of copying given in the manuscripts refer to different eras and are indicated in the traditional Hindu fashion with word numerals... 
  6. Haq, Muhammad Enamul (১৯৫৭)। Muslim Bengali Literature (ইংরেজি ভাষায়)। Pakistan Publications। পৃষ্ঠা 40। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২২Though we have no evidence of any Bengali book in Arabic script until 1852 , it is a well - known fact that the manuscript of Alaol's Padmavati which is in the Arabic script is about one hundred and fifty years old . 
  7. "1948 | আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্র"সংগ্রামের নোটবুক। Songramer notebook। ২৪ মার্চ ২০১৯। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০২২ 
  8. Roy, Asim (১৪ জুলাই ২০১৪)। The Islamic Syncretistic Tradition in Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 83। আইএসবিএন 978-1-4008-5670-1। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২২ 
  9. Khan, Akbar Ali (১৯৯৬)। Discovery of Bangladesh: Explorations Into Dynamics of a Hidden Nation (ইংরেজি ভাষায়)। University Press Limited। পৃষ্ঠা 18। আইএসবিএন 978-984-05-1371-0। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২২Finally, a few writers like Muhammad Fasih (17th century) wrote Bengali in the Arabic script hoping that this would be more acceptable to Allah (Hoq, 1957, p.215) 
  10. Ekāḍemī (Bangladesh), Bāṃlā (১৯৯৫)। Bāṃlā Ekāḍemī pun̐thi paricaẏa। Bāṃlā Ekāḍemī। পৃষ্ঠা 199। আইএসবিএন 978-984-07-3173-2। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২২ 
  11. Eaton, Richard Maxwell; Eaton, Professor Richard M. (১৯৯৩)। The Rise of Islam and the Bengal Frontier, 1204-1760 (ইংরেজি ভাষায়)। University of California Press। পৃষ্ঠা 294। আইএসবিএন 978-0-520-08077-5The Dhaka Museum has a manuscript work composed in 1645 entitled Maqtul Husain-a tract treating the death of Husain at Karbala written in Bengali but using the Arabic, and not the Bengali, script." Al though subsequent writers made similar such literary attempts, it is sig nificant that the effort never took hold, with the result that Bengali Mus lims remain today the world's largest body of Muslims who, despite Islamization, have retained both their language and their script." 
  12. Roy, Asim (১৪ জুলাই ২০১৪)। The Islamic Syncretistic Tradition in Bengal (ইংরেজি ভাষায়)। Princeton University Press। পৃষ্ঠা 68। আইএসবিএন 978-1-4008-5670-1। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২২ 
  13. Kopf, David (১৯৭৭)। Reflections on the Bengal Renaissance (ইংরেজি ভাষায়)। Institute of Bangladesh Studies, Rajshahi University। পৃষ্ঠা 53। সংগ্রহের তারিখ ৪ মে ২০২২ 
  14. Jaffrelot, Christophe (২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৪)। A History of Pakistan and Its Origins (ইংরেজি ভাষায়)। Anthem Press। পৃষ্ঠা 46। আইএসবিএন 978-1-84331-149-2। সংগ্রহের তারিখ ৩ মে ২০২২Not content with refusing Bengali the status of a national language, central gov ernment decided, in the name of Pakistan's national unity, to substitute the Arabic-Persian alphabet for the alphaber in which Bengalis had always written their language. Bengali had always been written in an alphabet derived from Brahman writings in the reign of Ashoka in the third century BC, similar to the Devanagari script used for Sanskrit and Hindi. The Pakistan government spent large suns of money establishing centres where adult literacy in Bengali could be taught with the aid of the Arabic alphabet. Inducements in the form of prizes were also given to authors who published their works in Bengali, but in Arabic script. This brutal change of alphabet seemed unacceptable both to students and to intellectuals in the province, since it cut them off from their rich Bengali literature, whose first mani festations went back to the eleventh century. Professor Shahidullah, a member of the Committee for the Reform of the Language of East Bengal, joined the students in condemning this policy. The recommendations of this government committee were not made public until several years later, in the time of Ayub Khan's regime. He pro posed the substitution of the Bengali vocabulary, richly embellished with Sanskrit embe both by borrowing and by derivation, by an Arabic Persian lexicon which would be shared with Urdu. Bengali grammar was also to be freed from references based on Sanskrit, and the presentation of the language was to be simplified. Finally, the committee hoped for the general acceptance of Urdu as the second language in edu cational establishments at both primary and secondary level. 
  15. Cauhdrī, Zāhid (১৯৮৯)। Pākistān kaise banā?: Mashriqī Pākistān kī taḥrīk-i ʻalāḥidagī kā āg̲h̲āz (উর্দু ভাষায়)। Idārah-yi Mut̤ālaʻah-yi Tārīkh। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০২২قرار داد میں حکومت پاکستان سے مطالبہ کیا گیا تھا کہ وہ فوری طور پر ایک کمیٹی مقرر کرے جو بنگلہ سے سنسکرت کے الفاظ نکال کر اسے پاکستان کی معیاری زبان بنا کر اس کا نام ” پاک بنگلہ رکھے » ۳ اس قرار داد کا مطلب یہ تھا کہ مشرقی پاکستان میں 
  16. আলম, এস. এম শামসুল (২০১৬)। Governmentality and Counter-Hegemony in Bangladesh (ইংরেজি ভাষায়)। স্প্রিংগার। আইএসবিএন 978-1-137-52603-8। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  17. উমর, বদরউদ্দীন (১৯৭০)। "অষ্টম পরিচ্ছেদের চতুর্থ অনুচ্ছেদ"। পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। আনন্দধারা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ১৮৫ – ১৮৭। ডক্টর শহীদুল্লাহ মূল সভাপতি হিসাবে তাঁর ভাষণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন (১৯৪৮ ৩১শে ডিসেম্বরদুপুর ২ঃ৩০-এ কার্জন হলে পূর্ব পাকিস্তান সাহিত্য সম্মেলনের প্রথম বৈঠক)। জাতীয় সাহিত্য সম্পর্কে তিনি বলেন: স্বাধীন পূর্ব বাংলার স্বাধীন নাগরিকরূপে আজ আমাদের প্রয়োজন হয়েছে সর্ব শাখায় সুসমৃদ্ধ এক সাহিত্য। এই সাহিত্যে আমরা আজাদ পাক নাগরিক গঠনের উপযুক্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ের অনুশীলন চাই। এই সাহিত্য হবে আমাদের মাতৃভাষা বাংলায়। পৃথিবীর কোনো জাতি জাতীয় সাহিত্য ছেড়ে বিদেশী ভাষায় সাহিত্য রচনা করে যশস্বী হতে পারেনি। ইসলামের ইতিহাসের একেবারে গোড়ার দিকেই পারত আরব কর্তৃক বিজিত হয়েছিল, পারস্য আরবের ধর্ম নিয়েছিল, আরবী সাহিত্যেরও চর্চা করেছিল। কিন্তু তার নিজের সাহিত্য ছাড়েনি। ১৪ হরফ সমস্যা সম্পার্ক তিনি বলেন: কিছুদিন থেকে বানান ও অক্ষর সমস্যা দেশে দেখা দিয়েছে। সংস্কারমুক্ত ভাবে এগুলির আলোচনা করা উচিত এবং তার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পরামর্শ সমিতি গঠন করা আবশ্যক। ধারা পালী, প্রাকৃত ও ধ্বনি তত্ত্বের সংবাদ রাখেন, তারা স্বীকার করতে বাধ্য যে বাংলা বানান অনেকটা অবৈজ্ঞানিক সুতরাং তার সংস্কার দরকার। স্বাধীন পূর্ব বাংলায় কেউ আরবী হরফে, কেউ বা রোমান অক্ষরে বাংলা লিখতে উপদেশ দিচ্ছেন। কিন্তু বাংলার শতকরা ৮৫ জন যে নিরক্ষর, তাদের মধ্যে অক্ষরজ্ঞান বিস্তারের জন্য কি চেষ্টা হচ্ছে? যদি পূর্ব বাংলার বাইরে বাংলাদেশ না থাকতো আর যদি গোটা বাংলা দেশে মুসলমান ভিন্ন অন্য সম্প্রদায় থাকত, তবে এই অক্ষরের প্রশ্নটা এত সঙ্গীন হত না। আমাদের বাংলা ভাষী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে। কাজেই বাংলা অক্ষর ছাড়তে পারা যায় না। পাকিস্তান রাষ্ট্র ও মুসলিম জগতের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার প্রয়োজনীয়তা আমরা স্বীকার করি। তার উপায় আরবী হরক নয়। তার উপায় আরবী ভাষা। আরবী হরফে বাংলা লিখলে বাংলার বিরাট সাহিত্য ভাণ্ডার থেকে আমাদিগকে বঞ্চিত হতে হবে। অধিকন্তু আরবীতে এতগুলি নতুন অক্ষর ও স্বরচিহ্ন যোগ করতে হবে যে বাংলার বাইরে তা যে কেউ অনায়াসে পড়তে পারবে তা বোধ হয় না। ফলে যেমন উর্দু ভাষা না জানলে কেউ উর্দু পড়তে পারবে না, তেমনি হবে বাংলা। শিক্ষা এবং অনুশীলনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন: আমরা পূর্ব বাঙলার সরকারকে ধন্যবাদ দেই যে তাঁরা বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণ করে বাংল৷ ভাষার দাবীকে আংশিকরূপে স্বীকার করেছেন। কিন্তু সরকারের ও জনসাধারণের এক বিপুল কর্তব্য সম্মুখে রয়েছে। পূর্ব বাঙলা জনসংখ্যায় গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, আরব, পারস্থ, তুর্কি প্রভৃতি দেশের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এই সোনার বাংলাকে কেবল জনে নয়, ধনে ধান্যে, জ্ঞানে গুণে, শিল্প বিজ্ঞানে পৃথিবীর যে কোনো সভ্য দেশের সমকক্ষ করতে হবে। তাই কেবল কাব্য ও উপন্যাসের ক্ষেত্রে বাংলাকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। দর্শন, ইতিহাস, ভূগোল, গণিত, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা, ভূতব, জীবতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, প্রত্নতত্ত্ব প্রভৃতি জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল বিভাগে বাংলাকে উচ্চ আসন দিতে হবে। তার জন্য শিক্ষার মাধ্যমে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় আগাগোড়া বাংলা করতে হবে। ১৬ এর পর আবার উর্দু শিক্ষার উপরও জোর দিতে গিয়ে তিনি বলেন: আজাদ পাকিস্তানে আমাদের অবিলম্বে শিক্ষা তালিকার সংস্কার করতে হবে। এই নূতন তালিকায় রাষ্ট্রভাষা উর্দুকে স্থান দিতে হবে। যারা এতদিন রাষ্ট্রভাষা রূপে ইংরেজির চর্চা করেছে, তাদের উচু শিখতে কি আপত্তি থাকতে পারে। ১৭ মূল সভাপতির ভাষণে ভক্টর শহীছত্তাহর উপরোক্ত বক্তব্যসমূহ ছাড়াও তাঁর বক্তব্যের যে অংশটি সর্বাপেক্ষা গুরুতর বিতর্কের সৃষ্টি করে তা হলোঃ আমরা হিন্দু বা মুসলমান যেমন সত্য, তার চেয়ে বেশ সত্য আমরা বাঙালী। এটি কোনো আদর্শের কথা নয়, এটি একটি বাস্তব কথা। প্রকৃতি নিজের হাতে আমাদের চেহারায় ও ভাষায় বাঙালীত্বের এমন ছাপ মেরে দিয়েছেন যে, মলা-তিলক-টিকিতে কিংবা টুপি-লুঙি-দাড়িতে ঢাকবার জোটি নেই। ১৮ 
  18. Hashmi, Taj। Fifty Years of Bangladesh, 1971–2021: Crises of Culture, Development, Governance, and Identity (ইংরেজি ভাষায়)। Springer Nature। পৃষ্ঠা 61, 75। আইএসবিএন 978-3-030-97158-8While Fazlur Rahman (1905-1966), a Central Minister from East Bengal, proposed that Bengali be written in Arabic script for the sake of Islamization of the language, Dr Muhammad Shahidullah (1884-1969), renowned Bengali scholar and a linguist, believed that Bengalis could learn Urdu as they learnt English, but he also believed that: "The day Arabic becomes the state language of Pakistan, the creation of the state of Pakistan becomes justified." 84. (Badruddin Umar, Purbo Banglar Bhasha Andolon o Tatkalin Rajniti (Language Movement & Contemporary Politics in East Bengal), Vol 1, Maula Brothers, Dhaka 1970, pp. 180, 256-9, 272.) 
  19. উমর, বদরউদ্দীন (১৯৭০)। "অষ্টম পরিচ্ছেদের চতুর্থ অনুচ্ছেদ"। পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। আনন্দধারা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ২৮২ – ২৮৪। ৪। আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাবঃ বাংলা ভাষায় আরবী হরফ প্রচলনের ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে দেশের বিভিন্ন স্তরের কিছু ব্যক্তি নিজেদের অভিমত ব্যক্ত করেন। এঁদের মধ্যে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ভূমিকাই সব থেকে উল্লেখযোগ্য এবং ভাষা সম্পর্কে তাঁর অন্যান্ত বক্তব্যের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। তিনি উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণ করার এবং বাংলা ভাষায় আরবী হর। প্রবর্তনের ঘোর বিরোধিতা সত্ত্বেও ধর্মীয় কারণে আরবীর প্রতি একটা বিশেষ দুর্বলতা এর পূর্বেও ব্যক্ত করেছেন। কয়েক বছর পূর্বে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'সেদিন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম সার্থক হইবে, যেদিন আরবী সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা রূপে গৃহীত হইবে। পূর্ব পাকিস্তান আরবী সংঘ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যকারী সমিতি ডক্টর শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বের মাসে পাকিস্তান গণ পরিষদে পেশ করার জন্য একটি খসড়া স্মারকলিপি অনুমোদন করেন। তাতে আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশ এবং শহরের বিভিন্ন কেন্দ্র ও মফঃস্বলে 'দরসে কোরানে'র ব্যবস্থা করার জন্যে সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়। এর পর ১৮ই জানুয়ারি, ১৯৫০, রাজশাহী কলেজের কিছু সংখ্যক ছাত্র আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে কলেজ কমনরুমে একটি সভা আহ্বান করেন। সেখানে প্রাদেশিকতা দূর করার উপায় হিসাবে আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করা হয়। আরবী ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্যে আইন মোতাবেক আন্দোলন চালানো হবে বলে সেই সভায় একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ৩ স্টেট ব্যাঙ্কের গভর্নর জাহিদ হোসেনও আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন এবং তাঁর এই প্রস্তাব সিন্ধু আইন পরিষদের সদস্ত এবং সিন্ধু আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর সৈয়দ আকবর শাহ কর্তৃক সমর্থিত হয়। এই প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন যে আরবী ভাষা প্রবর্তন করলে মুসলিম জাহানের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং তার ফল স্বরূপ রাজনৈতিক দিক দিচ্ছে এ দেশ লাভবান হবে। এর পর ১৯৫১ সালের ১ই ফেব্রুয়ারি করাচীতে বিশ্ব মুসলিম সম্মেলনের প্রকাশ্য অধিবেশনে ইসমাইলী সম্প্রদায়ের নেতা আগা খান বলেন যে আরবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষ। করা হলে আরব জাহান, উত্তর আফ্রিকা এবং ইন্দো নেশিয়ার মুসলমানদের মধ্যে সাধারণ যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি খেয়ালের বশে কোনো কিছু বলিতেছি না। আমি যাহা বলিতেছি তাহা জনসাধারণের এক বিরাট অংশের নিকট অপ্রিয়। কিন্তু তবুও দুনিয়ার মুসলমানদের সম্মুখে আমার মতামত প্রকাশ না করিলে আমার কর্তব্য অসমাপ্ত থাকিবে এবং এছলামের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হইবে। আরবীকে রাষ্ট্রভাষা করার এই সব প্রস্তাব অবশ্য পাকিস্তানের কোনো অংশেই তেমন কোনো সমর্থন লাভ করে নাই। তবে এই দাবী ইসলামী সংস্কৃতির বিকাশের প্রশ্নের সাথে জড়িত থাকায় তা পরোক্ষভাবে রাষ্ট্রভাষা উর্দু এবং বাংলা ভাষায় আরবী হর। প্রবর্তনের দাবীকে কতকগুলি মহলে জোরদার করে। বিভিন্ন মহলে মারবীকে রাষ্ট্রভাষা করার যে প্রস্তাব উত্থাপিত হয় তার বিরোধিতা করে পাকিস্তান বৌদ্ধ লীগের সেক্রেটারী রবীন্দ্রনাথ বর্মী ১০ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৫১, এক বিবৃতি দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আরবীর ক্ষান্ত না হয়ে তিনি উর্দুর সমর্থনে ওকালতিও করেন: ৩০২/৪০৫ পাকিস্তান মোছলেম লীগ কাউন্সিল সম্প্রতি এক প্রস্তাবে মারবীকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণ করিবার জন্য সোপারেণ করিয়াছেন। পাকিস্তানের স্রষ্টা মরহুম কায়েদে আজম এই ঢাকা শহরে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করিয়াছিলেন যে, উর্দুই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হইবে। কারণ ইংরেজী ভাষার পর উপ-মহাদেশের অধিকাংশ লোকে উর্দু ভাষা সহজে বুঝিতে পারে। কিন্তু পাকিস্তানের কোথাও আরবী ভাষায় কথাবার্তা বলা হয় না। পাকিস্তানের সংবাদপত্র এবং সামরিক পত্রাদিও উর্দুতে প্রকাশিত হয়। আমাদের মনে হয় আরবীর পরিবর্তে উর্দুই রাষ্ট্রভাষা হওয়া উচিত। সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধির পক্ষে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ওকালতি নিতান্তই অস্বাভাবিক। একদিকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা লাভের ভয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে দাবী করার অক্ষমতা এবং অম্লদিকে আরবীর মতো একটি সম্পূর্ণ বিদেশী ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণ করার বিপদ এ দুইয়ের ফলেই খুব সম্ভবতঃ রবীন্দ্রনাথ বর্মীর উচু সমর্থন। কিন্তু কারণ যাই যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজন প্রতিনিধির পক্ষে এ জাতীয় বক্তব্য ৩০৩ / ৪০৫ সুবিধাবাদ ও মেরুদণ্ডহীনতার পরিচায়ক সে বিষয়ে সন্দেহের বিন্দুমাত্র কারণ নেই। - 
  20. উমর, বদরউদ্দীন (১৯৭০)। "প্রথম পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ"। পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি। আনন্দধারা প্রকাশন। পৃষ্ঠা ৩ – ৫। ২॥ ডক্টর শহীদুল্লাহর অভিমতঃ ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডক্টর জিয়াউদ্দীন আহমদ হিন্দীকে ভারতের রাষ্ট্রভাষা করার সুপারিশের অনুকরণে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সপক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেন। এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানগতভাবে কোনো প্রতিবাদ কেউ করেনি। মুসলিম লীগ মহলেও এ নিয়ে কোনো বিতর্কের সূচনা হয়নি। কিন্তু জিয়াউদ্দীন আহমদের এই সুপারিশের অসারতা সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ ও শিক্ষিত সমাজকে অবহিত করার উদ্দেশ্যে ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা সমস্যা' শীর্ষক একটি প্রবন্ধ দৈনিক আজাদ পত্রিকায় প্রকাশ করেন। ১ (১২ শ্রাবণ ১৩৫৪ বঙ্গাব্দ, ২৯ জুলাই ১৯৪৭) এ প্রবন্ধে তিনি বলেন: কংগ্রেসের নির্দিষ্ট হিন্দীর অনুকরণে উর্দু পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গণ্য হইলে তাহা শুধু পশ্চাদগমনই হইবে।---ইংরেজী ভাষার বিরুদ্ধে একমাত্র যুক্তি এই যে ইহা পাকিস্তান ডোমিনিয়নের কোনো প্রদেশের অধিবাসীরই মাতৃভাষা নয়। উর্দুর বিপক্ষেও একই যুক্তি প্রযোজ্য। পাকিস্তান ডোমিনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের অধিবাসীদের মাতৃভাষা বিভিন্ন যেমন— পুষ্তু, বেলুচী, পাঞ্জাবী, সিন্ধী, এবং বাংলা কিন্তু উর্দু পাকিস্তানের কোনো অঞ্চলেই মাতৃভাষারূপে চালু নয়।---যদি বিদেশী ভাষা বলিয়া ইংরেজী ভাষা পরিত্যক্ত হয়, তবে বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণ না করার পক্ষে কোনো যুক্তি নাই। যদি বাঙলা ভাষার অতিরিক্ত কোনো দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা গ্রহণ করতে হয়, তবে উর্দু ভাষার দাবী বিবেচনা করা কর্তব্য। এখানে একটি জিনিস বিশেষভাবে লক্ষণীয়। উর্দুর দাবী বিবেচনার ক্ষেত্রে ডক্টর শহীদুল্লাহ ধর্মের প্রসঙ্গ একেবারেই উত্থাপন করেননি। এক শ্রেণীর লোকে উর্দু'র সপক্ষে অভিমত প্রকাশ করেন শুধু এই যুক্তিতে যে উদুর সাথে ইসলামের যোগাযোগ বাংলা ভাষার থেকে ঘনিষ্ঠ। শহীদুল্লাহ সাহেব এ ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করার প্রয়োজন বোধ করেননি। তার মতে আরবী ভাষাই বিশ্বের মুসলমানদের জাতীয় ভাষা।ও সেই হিসাবে তিনি মনে করেন যে আরবী ভাষাকেও অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে সমীয় ভাষা হিসাবে উচুর কোনো স্থান নেই। ডক্টর শহীদুল্লাহ তার প্রবন্ধটির শেষে বলেন: বাংলা দেশের কোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার পরিবর্তে উর্দু বাহিন্দী ভাষা গ্রহণ করা হইলে ইহা রাজনৈতিক পরাধীনতারই নামান্তর হইবে। ডাঃ জিয়াউদ্দীন আহমদ পাকিস্তানের প্রদেশসমূহের বিষালয়ে শিক্ষার বাহনরূপে প্রাদেশিক ভাষার পরিবর্তে উর্দু ভাষার সপক্ষে যে অভিমত প্রকাশ করিয়াছেন আমি একজন শিক্ষাবিদরূপে উহার তাঁর প্রতিবাদ জানাইতেছি। ইহা কেবলমাত্র বৈজ্ঞানিক শিক্ষা ও নীতি বিরোধীই নয়, প্রাদেশিক স্বায়ত্বশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকারের নীতি বিগহিতও বটে। এই প্রবন্ধটির পর গুরুর শহীদুল্লাহ ১৭ই পৌষ, ১৩৫৪ (২ জানুয়ারী ১৯৪৮) তকবীর পত্রিকায় 'পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষার ভাষা সমতা' নামে আর একটি লেখা প্রকাশ করেন।৬ এই লেখাটিতে তিনি বাংলা, আরবী, উর্দু এবং ইংরেজী ভাষা সম্পর্কে পূর্ব পাকিস্তানীদের নীতি কি হওয়া উচিত সে বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলা সম্পর্কে তিনি বলেন: হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে প্রত্যেক বাংলার জল্প প্রাথমিক শিক্ষনীয় ভাষা অবশ্যই বাঙলা হইবে। ইহা জ্যামিতির স্বীকৃত বিষয়ের মাত্র স্বতঃসিদ্ধ। উন্মাদ বাড়াঁত বেছতা ইভার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করিতে পারে না। এই বাংলাই হইবে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক রাষ্ট্রভাষা। আরবী সম্পর্কে তার অভিমত : মাতৃভাষার পরেই স্থান ধর্মভাষার অন্ততঃ মুসলমানের দৃষ্টিতে। এই জন আমি আমার প্রাণের সমস্ত জোর দিয়া বলিব, বাংলার রায় আমরা আরবী চাই।--সেদিন পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম সার্থক হইবে, যে দিন আকরী সমগ্র পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা রূপে গৃহীত হইবে। কিন্তু বর্তমানে আরবী পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি বৈকল্পিক ভাষা ভিন্ন একমাত্র রাষ্ট্রভাষা রূপে গ্রহণের যথেষ্ট অন্তরায় আছে। উর্দু শিক্ষ। সম্পর্কে ডক্টর শহীদুল্লাহ বলেন : পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রদেশের জনগণের মধ্যে যোগ স্থাপনের জন্য, বাহারা উচ্চ রাজকর্মচারী কিংবা রাজনীতিক হইবেন, তাঁহাদের জন্ম একটি আন্তঃপ্রাদেশিক (inter-provincial) ভাষা শিক্ষা করা প্রয়োজন। এই ভাষা উচ্চ শিক্ষিতদের জন্য ইংরেজীই আছে। ইহা অনস্বীকার্য বাস্তৰ ব্যাপার (fict)। কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে ইহা চলে না। উর্দু ব আবশুকতা আছে। এইজন্য রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তান রাষ্ট্রের উচ্চ রাজকর্মচারী ও রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষী প্রত্যেক নাগরিকেরই উর্দু শিক্ষা করা কর্তব্য ইংরেজীকে পাকিস্তানের অন্যতম ভাষারূপে চালু রাখার সপক্ষে তিনি নিম্নোক্ত অভিমত প্রকাশ করেন। আমরা পাকিস্তান রাষ্ট্রকে একটি আধুনিক প্রগতিীল রাষ্ট্ররূপে দেখিতে চাই। তজ্জন্ন ইংরেজী, ফরাসী, জার্মান, ইতালীয়ান, বা রুশ ভাষাগুলিৰ মধ্যে যে কোনো একটি ভাষা আমাদের উচ্চ শিক্ষার পঠিতব্য ভাষারূপে গ্রহণ করিতে হইবে। এই সকলের মধ্যে অবশ্য আমরা ইংরেজীকেই বাছিয়া লইব। ইহার কারণ দুইটি (১) ইংরেজী আমাদের উচ্চ শিক্ষিতদের নিকট স্থপরিচিত; (২) ইংরেজী পৃথিবীর মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক প্রচলিত আন্তর্জাতিক ভাষা। আমি এই ইংরেজীকেই বর্তমানে পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্যতম রাষ্ট্রভাষারূপে বজায় রাখিতে প্রস্তাব করি। ১০ ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর উপরোক্ত ভাষা বিষয়ক মন্তব্য এবং সুপারিশ গুলির মধ্যে অনেক জটিলতা এবং পরস্পরবিরোধিতা থাকলেও এগুলির গুরুত্ব অনস্বীকার্য। এ জটিলতা এবং পরস্পরবিরোধী চিন্তা তাঁর মধ্যেই শুধু ছিলো না। সমসাময়িক রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং জনসাধারণের চিন্তার মধ্যেও এ জটিলতা এবং পরস্পরবিরোধিতা যথেষ্ট পরিমাণে বিমান ছিলো। 
  21. "আরবি হরফ চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতিকে পঙ্গু করে দেওয়া"দৈনিক ইত্তেফাক। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  22. "বাংলা হরফের ওপর শয়তানি আছর"banglanews24.com। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  23. "আরবি হরফে বাংলা লেখার সুপারিশ ভাষা কমিটির"ভোরের কাগজ। ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৫। ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  24. "ভাষা আন্দোলনের সেকাল একাল"jagonews24.com। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১। সংগ্রহের তারিখ ৮ মার্চ ২০২১ 
  25. Manik, M. Waheeduzzaman (২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪)। "Shaheed dhirendranath dutta"The Daily Star (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২২The Central Government sponsored proposal for Arabization of the Bengali script was resisted by the patriotic forces of East Bengal including Dhirendranath Dutta. The ruling coterie of Pakistan did push for substituting Arabic script for Bengali once again by re-introducing the same proposal in the CAP on March 27, 1951. Among a few other legislators from East Bengal, Dhirendranath Dutta scathingly criticized the nefarious design of transforming the people of East Bengal into an inferior class of illiterate citizens by introducing an alien script for writing Bengali. He vehemently opposed the most demeaning proposal of substituting Arabic script for Bengali alphabets. As the ardent defender of Bengali language and culture, he forcefully spoke in favor of Bengali when the same absurd proposal for the adoption of Arabic script for writing Bengali was formally discussed at the Constituent Assembly of Pakistan (CAP) in April 1950. Specifically, he demanded the outright rejection of the decision of introducing Arabic script in lieu of Bengali alphabets. He also urged the Government for immediately adopting Bengali as one of the State languages of Pakistan. He also underscored that he was ventilating the voices of all “Bangalees” when he articulates the rightful place of Bengali in the state affairs of the new nation of Pakistan. Dhirendranath Dutta dauntlessly emphasized on the CAP floor: "I represent not only Hindus but also the Mussalmans. I can tell you that the ordinary people will not understand the language (i.e. Arabic) that is sought to be introduced in Eastern Bengal. That policy shall have to be changed. I do not know whether the Government is aware of this fact that amongst the large sections of the people and especially among younger generation there is a demand made in a certain conference that the Bengali language should be made one of the State languages of Pakistan." 
  26. Legislature, Pakistan Constituent Assembly (1947-1954) (১৯৫৩)। The Constituent Assembly (Legislature) of Pakistan Debate: Official Report (ইংরেজি ভাষায়)। Manager of Publications। পৃষ্ঠা 939। সংগ্রহের তারিখ ১ মে ২০২২Then Sir, there is another matter to which I shall refer to. I want to be brief because the Honourable Minister for Information and Broadcasting has entertained us with a cinema at the "Paradise" and has asked me not to criticise much! I must respect his wish, but an other matter that has been referred to is the teaching of Bengali through the Arabic script. The Honourable Minister for Commerce, who was sometime before the Minister for Education, told this House that this is very popular in East Bengal but it is not. If we make an inquiry into the matter it will be found that really it is extremely unpopular and that no one in East Bengal wants that Bengali script should be done away with and Bengali teaching should be made in the Arabic script, but, Sir, the Government wish to pursue this matter and that shows Sir, the undemocratic spirit of the Government. 
  27. NA, NA (২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬)। The Post-Colonial States of South Asia: Democracy, Development and Identity (ইংরেজি ভাষায়)। Springer। পৃষ্ঠা 165। আইএসবিএন 978-1-137-11508-9। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২২ 
  28. Sharma, S. L.; Oommen, T. K. (২০০০)। Nation and National Identity in South Asia (ইংরেজি ভাষায়)। Orient Blackswan। পৃষ্ঠা 194। আইএসবিএন 978-81-250-1924-4। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০২২