পল স্ট্র্যাং

জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটার

পল অ্যান্ড্রু স্ট্র্যাং (ইংরেজি: Paul Strang; জন্ম: ২৮ জুলাই, ১৯৭০) বুলাওয়েতে জন্মগ্রহণকারী সাবেক জিম্বাবুয়ীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৯৪ থেকে ২০০১ সময়কালে জিম্বাবুয়ের পক্ষে ২৪ টেস্ট ও ৯৫টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ ঘটে তার।

পল স্ট্র্যাং
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামপল অ্যান্ড্রু স্ট্র্যাং
জন্ম (1970-07-28) ২৮ জুলাই ১৯৭০ (বয়স ৫১)
বুলাওয়ে, রোডেশিয়া
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি লেগ ব্রেক
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্করোনাল্ড স্ট্র্যাং (পিতা), ব্রায়ান স্ট্র্যাং (ভাই)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২৩)
২৬ অক্টোবর ১৯৯৪ বনাম শ্রীলঙ্কা
শেষ টেস্ট১৪ সেপ্টেম্বর ২০০১ বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা
ওডিআই অভিষেক
(ক্যাপ ৩৮)
২ ডিসেম্বর ১৯৯৪ বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ ওডিআই২৬ নভেম্বর ২০০১ বনাম বাংলাদেশ
ঘরোয়া দলের তথ্য
বছরদল
১৯৯৩/৯৪–১৯৯৫/৯৬ম্যাশোনাল্যান্ড কান্ট্রি
১৯৯৪/৯৫–২০০০/০১ম্যাশোনাল্যান্ড
১৯৯৭কেন্ট
১৯৯৮নটিংহ্যামশায়ার
১৯৯৯/২০০০সিএফএক্স একাডেমি
২০০১/০২–২০০৩/০৪মনিকাল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট ওডিআই এফসি এলএ
ম্যাচ সংখ্যা ২৪ ৯৫ ১০৭ ১৮০
রানের সংখ্যা ৮৩৯ ১,০৯০ ৩,৬১৩ ১,৯৪১
ব্যাটিং গড় ২৭.০৬ ২২.২৪ ৩০.১০ ১৯.৬০
১০০/৫০ ১/২ ০/০ ৩/১৭ ০/১
সর্বোচ্চ রান ১০৬* ৪৭ ১৫৪ ৫২*
বল করেছে ৫,৭২০ ৪,৩৫১ ২১,৭৪৭ ৮,০১৫
উইকেট ৭০ ৯৬ ৩২৪ ১৯৩
বোলিং গড় ৩৬.০২ ৩৩.০৫ ৩০.৬৫ ২৯.৭৫
ইনিংসে ৫ উইকেট ১৭
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৮/১০৯ ৫/২১ ৮/১০৯ ৬/৩২
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ১৫/– ৩০/– ৯৬/– ৬৪/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৭

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাশোনাল্যান্ড, ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট, নটিংহ্যামশায়ার, সিএফএক্স একাডেমি ও মনিকাল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন পল স্ট্র্যাং

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

তার সহোদর ভাই ব্রায়ান স্ট্র্যাং জিম্বাবুয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ভাইয়ের সাথে একযোগে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। তাদের বাবা রোনাল্ড স্ট্র্যাং প্রথম-শ্রেণীর আম্পায়ার ছিলেন ও ১৯৯৪ সালে একটি ওডিআইয়ে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালনসহ ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে জিম্বাবুয়ের দুইটি টেস্ট খেলায় টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। কেপ টাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়ন করেছেন পল স্ট্র্যাং।

খেলোয়াড়ী জীবনসম্পাদনা

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে জিম্বাবুয়ে দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ২৬ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে অভিষেক ঘটে। এরপর ১৯৯৫ সালে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে যোগ দেন।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে পাকিস্তান সফরে যায় জিম্বাবুয়ে দল। শেখুপুরায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দূর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন তিনি। আট নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে তার এ সেঞ্চুরিটি খেলোয়াড়ী জীবনের একমাত্র ঘটনা ছিল। নবম উইকেট জুটিতে ভাইয়ের সাথে জুটি গড়ে ৮৭ রান তুলেন। একই খেলায় তিনি পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, ওয়াসিম আকরামের অপরাজিত ২৫৭ রানের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয় ও তার সাফল্য ঢাকা পড়ে যায়।[১]

২০০০-০১ মৌসুমে সফরকারী নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে নিজস্ব সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান ৮/১০৯। তাস্বত্ত্বেও জিম্বাবুয়ে দল ৭ উইকেটে পরাজয়বরণ করে।[২] অদ্যাবধি এ পরিসংখ্যানটি জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের ইতিহাসে সেরা হিসেবে বিবেচিত। তবে, টেস্টে সেরা বোলিং পরিসংখ্যানটি নিজের করে নিয়েছেন অ্যাডাম হাকল। এরপর আরও তিন টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের একমাত্র টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট দশ উইকেট পান। পাশাপাশি টেস্ট খেলায় পরাজয়বরণকারী দলের একমাত্র বোলার তিনি।[৩]

ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে দুই মৌসুম অতিবাহিত করেন। বহিরাগত খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৭ সালে কেন্ট ও ১৯৯৮ সালে নটিংহ্যামশায়ারে খেলেন।

ক্রিকেট বিশ্বকাপসম্পাদনা

২ ডিসেম্বর, ১৯৯৪ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষিক্ত হন পল স্ট্র্যাং। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় উইকেটশিকারীতে পরিণত হন। ১৬ গড়ে ১২ উইকেট লাভ করেন। তন্মধ্যে কেনিয়ার বিপক্ষে জয়ী খেলায় ৫/২১ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান তিনি। তবে বাদ-বাকী চার খেলায় পরাজিত হয়ে গ্রুপ পর্বেই দলটি বিদায় নেয়।

ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৯৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেন তিনি। ঐ প্রতিযোগিতায় কেনিয়া, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে সুপার সিক্স পর্বে অবতীর্ণ হয় তার দল।

অবসরসম্পাদনা

২০০০ সালে ডান হাতের মাংসপেশীতে টান পড়ার পর থেকে ক্রমাগত আঘাতের কারণে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি ঘোষণা করতে বাধ্য হন পল স্ট্র্যাং।

ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর নেয়ার পর কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন তিনি। ২০০৮ সালে অকল্যান্ড এইসের পক্ষে হাই পারফরম্যান্স কোচ হিসেবে যোগ দেন।[৪] এর কিছুদিন পর পূর্ণাঙ্গ কোচ হিসেবে কাজ করতে থাকেন।[৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Pakistan v Zimbabwe, 1996/97, 1st Test
  2. Zimbabwe vs New Zealand, 2000/01, 1st Test
  3. Bowling records
  4. "Strang joins Auckland as high performance coach"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ১৫ এপ্রিল ২০০৮ 
  5. "Paul Strang fills in as Auckland coach"। Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৮ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা