নাসির আল-দীন আল-তুসি

মুহাম্মাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন আল-হাসান আল-তুসি (ফার্সি: محمد بن محمد بن حسن طوسی‎‎‎ ১৮ ফেব্রুয়ারি ১২০১ – ২৬ জুন ১২৭৪), যিনি নাসির আল-দীন আল-তুসি হিসেবে পরিচিত, হলেন পারস্যের একজন দার্শনিক এবং বিজ্ঞানী। তিনি মুসলিম বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের মধ্যে অন্যতম একজন।

নাসির আল-দীন আল-তুসি
Nasir al-Din Tusi.jpg
তার ৭০০তম মৃত্যুবার্ষিকির জন্য ইরানের ডাকটিকিট
জন্ম১৮ ফেব্রুয়ারি ১২০১
মৃত্যু২৬ জুন ১২৭৪(1274-06-26) (বয়স ৭৩)
জাতিভুক্তপারস্য
যুগইসলামি স্বর্ণযুগ

জীবনীসম্পাদনা

নাসির আল দীন তুসী জন্মগ্রহণ করেন ইরানের তুস নামক এলাকাতে ১২০১ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি শিয়া পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশবেই তার বাবাকে হারান। হামাদান এবং তুস নামক নগরীতে তিনি কুরআন, হাদিস, যুক্তিবিদ্যা, দর্শন এবং গণিত পড়েন।[১] তিনি কিশোরকালেই নিশাপুরে দর্শন এবং গণিত পড়া শুরু করেন। [২]

কর্মসম্পাদনা

নাসির উদ্দিন তুসি প্রায় ৫৬টি [৩]বই লিখেন। এরমধ্যে শুধু জ্যামিতি, গোলাকার ত্রিকোণমিতি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে মোট ষোলটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি ত্রিকোণমিতিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান হতে পৃথক করে সমতল এবং গোলাকৃৎ ত্রিকোণমিতি সম্পর্কে বর্ণনা করেন। গণিতশাস্ত্র প্রণীত তার গ্রন্থগুলোর মধ্যে মুতাওয়াসিতাত বাইনাল হান্দাসা ওয়াল হাইয়া (The Middle Books between Geometry and Astronomy), জামিউল হিসাব বিত তাখতে ওয়াত্বোরাব (Summary of the Whole of Computation with Table and Earth), কাওয়ায়েদুল হান্দাসা, তাহিরুল উসুল অন্যতম।

নাসির উদ্দিন তুসি তার সমস্ত প্রবন্ধ বা পুস্তিকা লিখেছিলেন আরবি ভাষায়। জ্ঞানের পরিধি ও গভীরতার দিক থেকে এই মহান মনীষীর জ্ঞানকে ইরানের মনীষী ইবনে সিনার সঙ্গে তুলনা করা হয়। এ দুজনের মধ্যে ইবনে সিনা চিকিৎসা শাস্ত্রে বেশি পারদর্শী ছিলেন। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন তুসির দক্ষতা বেশি মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছিল গণিতে। গণিতের নানা বিষয়ে বেশ কয়েকটি মূল্যবান বই লিখেছিলেন নাসির উদ্দিন তুসি। জার্মান প্রাচ্যবিদ কার্ল ব্রোকেলম্যান মনে করেন নাসির উদ্দিন তুসি বড় ধরনের অবদান রেখেছেন গণিত ও জ্যোতির্বিদ্যায়। কার্ল ব্রোকেলম্যান তার বইয়ে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, নাসির উদ্দিন তুসি বিজ্ঞান সম্পর্কিত অনেক বই অনুবাদ করেছিলেন এবং তিনিই প্রথমবারের মত ত্রিকোনমিতিকে একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। জ্যোতির্বিদ্যার ওপরও কয়েকটি মূল্যবান রচনা রেখে গেছেন ইরানের এই মনীষী। গণিত বিষয়ে নাসির উদ্দিন তুসির বইগুলো মুসলিম পণ্ডিত বা আলেমদের শিক্ষা-কারিকুলামে স্থান পেয়েছিল। নাসির উদ্দিন তুসির কোনো কোনো মূল্যবান বই অনুদিত হয়েছিল কয়েকটি বিদেশী ভাষায়। ফলে ইউরোপীয় বিজ্ঞানীরা উপকৃত হয়েছিলেন এইসব বই থেকে ।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Dabashi, Hamid, "Khwajah Nasir al-Din Tusi:The philosopher/vizier and the intelectual climate of his times". Routledge History of World Philosophy. Vol 1. History of Islamic Philosophy. Seyyed Hossein Nasr and Oliver Leaman (eds.) London:Routledge. 1996. p. 529.
  2. সিদ্দিকি, বখতিয়ার হুসাইন। "নাসির আল-দীন তুসী". আ হিস্ট্রি অব ইসলামিক ফিলোসোফি। ১ম খন্ড। এম. এম. শরিফ। ১৯৬৩। পৃ. ৫৬৫
  3. "নাসির উদ্দিন তুসি-এর জীবনী – Way To Jannah" (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-১০-২৪ 

টেমপ্লেট:People of Khorasan