নারী সুরক্ষা ইউনিট

মহিলা সুরক্ষা ইউনিট বা মহিলা প্রতিরক্ষা ইউনিট (কুর্দি: Yekîneyên Parastina Jin[১], YPJ, উচ্চারণ Yuh-Pah-Juh; আরবি: وحدات حماية المرأة‎, প্রতিবর্ণী. Waḥdāt Ḥimāyat al-Marʼa‎) সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে জড়িত একটি মহিলা মিলিশিয়া। ওয়াইপিজে হল রোজাভার সশস্ত্র বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স অংশ এবং পুরুষ নেতৃত্বাধীন ওয়াইপিজে-এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।[২] ওয়াইপিজে প্রধানত কুর্দিদের নিয়ে গঠিত হলেও এতে উত্তর সিরিয়ার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নারীরাও রয়েছে।[৩]

ইতিহাসসম্পাদনা

 
২০১৪ সালে ওয়াইপিজে যোদ্ধা
 
ওয়াইপিজে যোদ্ধা একটি প্রযুক্তিগত যানের পিছনে বসে আছে
 
রাক্কা যুদ্ধের সময় ওয়াইপিজে এর স্নাইপার
 
ওয়াইপিজে যোদ্ধারা বেসামরিক নাগরিকের পোশাক পরে আছে

মিশ্র-লিঙ্গ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে ওয়াইএক্সজি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ২০১১ সালের শুরু থেকে সিরিয়ান কুর্দি প্রতিরোধ যুদ্ধে মহিলারা জড়িত ছিল, পরে ২০১২ সালে ওয়াইপিজে নামকরণ করা হয়েছিল। একটি কঠোরভাবে মহিলাদের সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার প্রথম ব্যাটালিয়ন ছিল জিন্দিরেসে এবং পরে কোবানে ও জাজিরা ক্যান্টনের দিকে তার কার্যক্রম সম্প্রসারিত করে। সমস্ত মহিলা যোদ্ধা যারা আগে ওয়াইপিজে মিশ্র ইউনিটের অংশ ছিলেন এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইপিজে -র সদস্যা হন। প্রাথমিকভাবে, রোজাভার তিনটি ক্যান্টনের প্রতিটিতে কেবল একটি ওয়াইপিজে ব্যাটালিয়ন ছিল, কিন্তু সংগঠনটি বিস্তৃত করে প্রতিটি পাড়ায় ব্যাটালিয়নগুলি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

২০১৪ সাল থেকে ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের মধ্যে ওয়াইপিজে ৭,০০০ জন থেকে ২০,০০০ জন সদস্যার গণনা করেছে। ২০১৭ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত, দলটির ২৪,০০০ জন সদস্যা রয়েছে বলে জানা গেছে।[৪] আইএসআইএল'কে পরাজিত করার পর সংখ্যাটি হ্রাস পেয়েছে এবং তার জেনারেল কমান্ডার নিউরোজ আহমেদ দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী তাদের বর্তমানে ৫ হাজার জন সদস্যা রয়েছেন।[৫]

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে, ওয়াইপিজে ও ওয়াইপিজি উত্তর সিরিয়ায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ইসলামিক স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড দ্য লেভান্ট (আইএসআইএল) ও ২০১৪ সালের মার্চ মাসের কোবানার অবরোধ[৬], বিভিন্ন কুর্দি মিডিয়া সংস্থা রিপোর্ট করে যে "ওয়াইপিজে সৈন্যরা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে"।[৭] কোবানের অবরোধে, পশ্চিমা শক্তির সমর্থন পাওয়ার আগে, ওয়াইপিজে কেবল "কালোবাজারে কেনা ভিনটেজ রাশিয়ান কালাশনিকভ, হস্তনির্মিত গ্রেনেড এবং ট্যাঙ্কগুলি ব্যবহার করে আইএসআইএল-এর আক্রমণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।"[৩] ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের আগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে ওয়াইপিজে-ওয়াইপিজি যোদ্ধাদের সাথে বিমান হামলা সমন্বয় শুরু করেনি।[৩]

রসদ সরবরাহসম্পাদনা

ওয়াইপিজে রসদ সরবরাহ ও খাবারের জন্য স্থানীয় সম্প্রদায়ের উপর নির্ভর করে। [৮] ওয়াইপিজে (ওয়াইপিজি সহ) কোবানা অবরোধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকি কুর্দিস্তানের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার থেকে ২৪ টন ছোট অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং ১০ টন চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছিল। [৯]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "#YPJ Female Fighters Shaking #ISIL... – The Lions Of Rojava"facebook.com। সংগ্রহের তারিখ ৪ ডিসেম্বর ২০১৫ 
  2. de Jong, Alex (২০১৬)। "A Commune in Rojava?"New Politics15 (4)। 
  3. Tax, Meredith (২০১৬)। A Road Unforeseen: Women Fight the Islamic State। Bellevue Literary Press। আইএসবিএন 978-1-942658-10-8 
  4. Argentieri, Benedetta (২০১৭-০৮-১৮)। "Meet the female soldiers in Syria and Iraq fighting for gender equality as much as freedom"The Telegraph 
  5. Flock, Elizabeth (২০২১-০৭-১৯)। "'Now I've a purpose': why more Kurdish women are choosing to fight"The Guardian (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-২১ 
  6. Tank, Pinar (২০১৭)। "Kurdish Women in Rojava: From Resistance to Reconstruction"Die Welt des Islams57 (3–4): 406। আইএসএসএন 0043-2539জেস্টোর 26568532ডিওআই:10.1163/15700607-05734p07  
  7. "YPJ: The Kurdish feminists fighting Islamic State"The Week UK। ৭ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৪ [যাচাই প্রয়োজন]
  8. "YPJ: The Kurdish feminists fighting Islamic State"The Week UK। ৭ অক্টোবর ২০১৪। সংগ্রহের তারিখ ২১ অক্টোবর ২০১৪ 
  9. Istanbul, Constanze Letsch in। "US drops weapons and ammunition to help Kurdish fighters in Kobani"the Guardian। সংগ্রহের তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫