নারায়ণসূক্ত

(নারায়ণ সূক্ত থেকে পুনর্নির্দেশিত)

নারায়ণসূক্ত (সংস্কৃত: नारायणसूक्तम्) হল যজুর্বেদের অন্তর্ভুক্ত একটি সূক্ত। এটি কৃষ্ণ যজুর্বেদের অন্তর্গত তৈত্তিরীয় আরণ্যকের ১০ প্রপাঠকের, দশম অনুবাকে রয়েছে। কোনো কোনো টীকাকারের মতে, এটি পুরুষসূক্তের আধ্যাত্মিক পরিশিষ্ট।[১][২]

হিন্দুধর্মে নারায়ণ হলেন সর্বোচ্চ উপাস্য দেবতা। এই সূক্তে তাকে পরমাত্মা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, নারায়ণ হলেন সহস্র সহস্র মস্তক, চক্ষু, হস্তপদ বিশিষ্ট বিধাতা এবং তার আরাধনা করার সময় এই সূক্তটি পঠিত হয়। পরম সত্য বা পরমাত্মা ও পরমেশ্বর হিসেবে নারায়ণ একই সাথে সৃষ্টিকর্তা বা ব্রহ্মা, পালনকর্তা বা বিষ্ণু এবং প্রলয়কর্তা বা শিব হিসেবে বিবেচিত হন এবং সকল দেবতাই তার বিভূতি।[৩]

মূল সূক্ত

সম্পাদনা
নারায়ণসূক্ত

"এই সমগ্র জগৎ-চরাচরে দৃশ্য ও শ্রাব্য যাহা কিছু রহিয়াছে,
অন্তরে ও বাহিরে—সকলই ব্যাপিয়া আছেন সেই পরমেশ্বর (নারায়ণ)।"[৪]

সংস্কৃত সূক্ত

সম্পাদনা

ॐ सहस्रशीर्षं देवं विश्वाक्षं विश्वशम्भुवम्।
विश्वै नारायणं देवं अक्षरं परमं पदम्॥
विश्वतः परमान्नित्यं विश्वं नारायणं हरिम्।
विश्वं एव इदं पुरुषः तद्विश्वं उपजीवति॥
पतिं विश्वस्य आत्मा ईश्वरं शाश्वतं शिवमच्युतम्।
नारायणं महाज्ञेयं विश्वात्मानं परायणम्॥
नारायण परो ज्योतिरात्मा नारायणः परः।
नारायण परं ब्रह्म तत्त्वं नारायणः परः।
नारायण परो ध्याता ध्यानं नारायणः परः॥
यच्च किञ्चित् जगत् सर्वं दृश्यते श्रूयतेऽपि वा।

अन्तर्बहिश्च तत्सर्वं व्याप्य नारायणः स्थितः॥
अनन्तं अव्ययं कविं समुद्रेन्तं विश्वशम्भुवम्।
पद्म कोश प्रतीकाशं हृदयं च अपि अधोमुखम्॥
अधो निष्ठ्या वितस्त्यान्ते नाभ्याम् उपरि तिष्ठति।
ज्वालामालाकुलं भाती विश्वस्यायतनं महत्॥
सन्ततं शिलाभिस्तु लम्बत्या कोशसन्निभम्।
तस्यान्ते सुषिरं सूक्ष्मं तस्मिन् सर्वं प्रतिष्ठितम्॥
तस्य मध्ये महानग्निः विश्वार्चिः विश्वतो मुखः।
सोऽग्रविभजन्तिष्ठन् आहारं अजरः कविः॥
तिर्यगूर्ध्वमधश्शायी रश्मयः तस्य सन्तता।
सन्तापयति स्वं देहमापादतलमास्तकः।
तस्य मध्ये वह्निशिखा अणीयोर्ध्वा व्यवस्थिताः॥
नीलतोयद-मध्यस्थ-द्विद्युल्लेखेव भास्वरा।
नीवारशूकवत्तन्वी पीता भास्वत्यणूपमा॥
तस्याः शिखाया मध्ये परमात्मा व्यवस्थितः।
स ब्रह्म स शिवः स हरिः स इन्द्रः सोऽक्षरः परमः स्वराट्॥
ऋतं सत्यं परं ब्रह्म पुरुषं कृष्ण पिङ्गलम्।
ऊर्ध्वरेतं विरूपाक्षं विश्वरूपाय वै नमो नमः॥

— नारायणसूक्तम्, प्रपाठकः - १० अनुवाकः - १३ (१०.१३.१ १०.१३.२)[৫]

বাংলা উচ্চারণ

সম্পাদনা

ওঁ সহস্রশীর্ষং দেবং বিশ্বাক্ষং বিশ্বশম্ভুবং।
বিশ্বং নারায়ণং দেবমক্ষরং পরমং পদম্।
বিশ্বতঃ পরমান্নিত্যং বিশ্বং নারায়ণং হরিম্।
বিশ্বমেবেদং পুরুষস্তদ্বিশ্বমুপজীবতি।
পতিং বিশ্বস্যাত্মেশ্বরং শাশ্বতং শিবমচ্যুতম্।
নারায়ণং মহাজ্ঞেয়ং বিশ্বাত্মানং পরায়ণম্।
নারায়ণপরো জ্যোতিরাত্মা নারায়ণঃ পরঃ।
নারায়ণ পরং ব্রহ্ম তত্ত্বং নারায়ণঃ পরঃ।
নারায়ণপরো ধ্যাতা ধ্যানং নারায়ণঃ পরঃ।
যচ্চ কিঞ্চিজ্জগৎসর্বং দৃশ্যতে শ্রূয়তেঽপি বা॥

অন্তর্বহিশ্চ তৎসর্বং ব্যাপ্য নারায়ণঃ স্থিতঃ।
অনন্তমব্যযং কবিং সমুদ্রেঽন্তং বিশ্বশম্ভুবম্।
পদ্মকোশ প্রতীকাশং হৃদয়ং চাপ্যধোমুখম্।
অধো নিষ্ট্যা বিতস্যান্তে নাভ্যামুপরি তিষ্ঠতি।
জ্বালমালাকুলং ভাতি বিশ্বস্যায়তনং মহৎ।
সন্ততꣳ শিলাভিস্তুলম্বত্যাকোশসন্নিভম্।
তস্যান্তে সুষিরং সূক্ষ্মং তস্মিন্ সর্বং প্রতিষ্ঠিতম্।
তস্য মধ্যে মহানগগ্নির্বিশ্বার্চির্বিশ্বতোমুখঃ।
সোঽগ্রভুগ্বিভজন্তিষ্ঠন্নাহারমজরঃ কবিঃ।
তির্যগূর্ধ্বমধশ্শায়ী রশ্ময়স্তস্য সন্ততা।
সন্তাপয়তি স্বং দেহমাপাদতলমস্তকঃ।
তস্য মধ্যে বহ্নিশিখা অণীয়োর্ধ্বা ব্যবস্থিতঃ।
নীলতোয়দমধ্যস্থাদ্বিদ্যুল্লেখেব ভাস্বরা।
নীবারশূকবত্তন্বী পীতা ভাস্বত্যণূপমা।
তস্যাঃ শিখায়া মধ্যে পরমাত্মা ব্যবস্থিতঃ।
স ব্রহ্ম স শিবঃ স হরিঃ সেন্দ্রঃ সোঽক্ষরঃ পরমঃ স্বরাট্॥

ঋতং সত্যং পরং ব্রহ্ম পুরুষং কৃষ্ণপিঙ্গলম্।
ঊর্ধ্বরেতং বিরূপাক্ষং বিশ্বরূপায় বৈ নমো নমঃ॥

— নারায়ণসূক্তম্ তৈত্তিরীয়ারণ্যকম্, প্রপাঠক, ১০ অনুবাক, ১৩ (১০.১৩.১ ১০.১৩.২)[৫]

নারায়ণসূক্তের প্রথম শ্লোকে "পরমং পদং" শব্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার আক্ষরিক অর্থ "সর্বোচ্চ অবস্থান", যা সাধারণত "সমস্ত আত্মার জন্য সর্বোচ্চ আবাস" হিসাবে বোঝা যায়। এই মর্যাদা বেদে বিষ্ণু ছাড়া অন্য কোনো দেবতাকে দেওয়া হয়নি।[৬] এই স্তোত্রে, নারায়ণকে হাজার মস্তক বিশিষ্ট, যিনি সকলকে দেখেন এবং আলোকিত করেন বলে বর্ণনা করা হয়েছে।[৭] দেবতাকে বলা হয়েছে সমস্ত অস্তিত্বে বিস্তৃত, অবিনশ্বর ও শাশ্বত, সমস্ত কিছুর হৃদয়, এবং যিনি সকলের মঙ্গল করেন। তাকে পরম, এবং সর্বোচ্চ ধ্যান হিসাবেও বলা হয়েছে। স্তোত্রটির উপমা হৃদয়কে উল্টানো পদ্মের কুঁড়ির সাথে তুলনা করে, কণ্ঠাস্থি ও নাভির মধ্যে সমান দূরত্ব। এই হৃদয়ের কেন্দ্রে, অগ্নির শিখা সহ মহান অগ্নি যা চারদিকে বিকিরণ করে জ্বলতে বলা হয়। এই অগ্নির বর্ণনা করা হয়েছে খাদ্যকে একীভূত করার জন্য এবং এই শক্তিকে মাথা থেকে শরীরের পা পর্যন্ত বিতরণ করার জন্য। আরেকটি উপমায় শিখাটিকে নীল-কালো মেঘে বিদ্যুতের ঝলকানি এবং বার্লি তুষের অঙ্কুরের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যা পরমাণুর মতো ক্ষুদ্র এবং সর্বদা সচেতন। এই শিখার কেন্দ্রে, পরম সত্ত্বাকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শিব এবং সেইসাথে ইন্দ্র বলা হয়, যা অতীন্দ্রিয় এবং অস্তিত্ব নিজেই।[৮]

আরো দেখুন

সম্পাদনা

পাদটীকা

সম্পাদনা
  1. David Frawley (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১০)। Mantra Yoga and Primal Sound: Secret of Seed (Bija) Mantras। Lotus Press। পৃষ্ঠা 158–। আইএসবিএন 978-0-910261-94-4। সংগ্রহের তারিখ ২১ জুলাই ২০১২ 
  2. The Significance of the Narayana Sukta in Daily Invocations by Swami Krishnananda.
  3. Farrand, Thomas Ashley. Chakra Mantras: Liberate Your Spiritual Genius Through Chanting. Weiser Books, 2006. আইএসবিএন ১৫৭৮৬৩৩৬৭২. P. 40.
  4. নারায়ণ সূক্তের পঞ্চম শ্লোকের অনুবাদ
  5. Daily Invocations by Swami Krishnananda
  6. https://www.google.co.in/books/edition/Karnataka_s_Rich_Heritage_Temple_Sculptu/fdEkDwAAQBAJ?hl=en&gbpv=1&dq=Narayana+suktam&pg=PT94&printsec=frontcover
  7. Ravi, V.। Vishnu Sahasranama (ইংরেজি ভাষায়)। MANBLUNDER। পৃষ্ঠা 364। 
  8. Ritajananda, Swami (২০২২-০৭-১৫)। The Practice Of Meditation (ইংরেজি ভাষায়)। Sri Ramakrishna Math। পৃষ্ঠা 89। 

বহিঃসংযোগ

সম্পাদনা