নাদিম-শ্রাবণ হলেন ভারতীয় সঙ্গীত পরিচালক যুগল। তারা দুজন হলেন নাদিম আখতার সাইফি (জ. ৬ আগস্ট ১৯৫৪) ও শ্রাবণ কুমার রাঠোড় (জ. ১৩ নভেম্বর ১৯৫৪)। তারা মূলত ভারতের হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে কাজ করে থাকেন। তারা চারবার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার, দুইবার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে স্ক্রিন পুরস্কার ও একবার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে জি সিনে পুরস্কার অর্জন করেছেন।

নাদিম-শ্রাবণ
জন্ম নামনাদিম আখতার সাইফি
শ্রাবণ কুমার রাঠোড়
জন্মনাদিম: (1954-08-06) ৬ আগস্ট ১৯৫৪ (বয়স ৬৬)
শ্রাবণ: (1954-11-13) ১৩ নভেম্বর ১৯৫৪ (বয়স ৬৬)
ধরনবলিউডের সঙ্গীত, চলচ্চিত্রের গজল, গজল
পেশাসঙ্গীত পরিচালক, সুরকার, সঙ্গীতশিল্পী, বাদক
কার্যকাল১৯৭৩ – বর্তমান

নাদিম-শ্রাবণ যুগল ১৯৯০-এর দশক থেকে ২০০০-এর দশকের প্রারম্ভ পর্যন্ত বলিউডে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সর্বাধিক সফলতা অর্জন করেন। তাদের সুরে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের প্রভাব দেখা যায় এবং তারা তাদের সুরারোপিত গানসমূহে বাঁশি, সেতারসানাই এই তিনটি বাদ্যযন্ত্র ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে থাকেন। আধুনিক সময়েও মূল উপযোগ থেকে বিচ্যুত না হয়ে এই বাদ্যযন্ত্রসমূহের ব্যবহারের জন্য ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকজন উদীয়মান সঙ্গীত পরিচালকদের থেকে তারা নিজেদের পৃথক করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

কর্মজীবনসম্পাদনা

নাদিম-শ্রাবণ যুগলের প্রথম সাফল্য আসে আশিকি (১৯৯০) চলচ্চিত্রের অ্যালবাম দিয়ে। ভারতে এই অ্যালবামটির ২০ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয়[১] এবং সর্বকালের সর্বোচ্চ বিক্রীত বলিউড চলচ্চিত্রের অ্যালবাম হয়ে ওঠে। এটি প্ল্যানেট বলিউড-এর "১০০ সেরা বলিউড চলচ্চিত্রের সঙ্গীত অ্যালবাম" তালিকায় ৪র্থ স্থান অধিকার করে।[২] এই চলচ্চিত্রের সুরায়োজনের জন্য তারা তাদের প্রথম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন। এরপর তারা সাজন (১৯৯১), দিওয়ানা (১৯৯২) ও রাজা হিন্দুস্তানী (১৯৯৬) চলচ্চিত্রে সুর করে আরও তিনবার শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার অর্জন করেন।

তাদের সুরারোপিত পরদেশ (১৯৯৭) চলচ্চিত্রে বিভিন্ন ধারার গান ছিল; যেমন - দেশপ্রেমমূলক ("আই লাভ মাই ইন্ডিয়া"), প্রণয়মূলক ("মেরি মেহবুবা" ও "দো দিল মিল রাহে হ্যাঁয়"), কাওয়ালি ("নহিঁ হোনা থা"), পপ ("মাই ফার্স্ট ডে ইন আমেরিকা"), বিরহ ("ইয়ে দিল দিওয়ানা")। প্ল্যানেট বলিউড এই অ্যালবামটি সম্পর্কে মন্তব্য করে, "পরদেশ চলচ্চিত্রের সঙ্গীত নাদিম-শ্রাবণের সর্বকালের সেরা।"[৩] এই চলচ্চিত্রের সুরায়োজনের জন্য তারা শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক বিভাগে স্টার স্ক্রিন পুরস্কার অর্জন করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Hindi film music industry"ইন্ডিয়া টুডে (ইংরেজি ভাষায়)। Aroon Purie for Living Media India Limited। ১৯: ৭০। অক্টোবর ১৯৯৪। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০ 
  2. "Best soundtrack of the 90s"। প্ল্যানেট বলিউড। ৬ মার্চ ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০ 
  3. "Nadeem-Shravan's best soundtrack ever"। প্ল্যানেট বলিউড। সংগ্রহের তারিখ ২৩ এপ্রিল ২০২০ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা