নাইজারের ইতিহাস

ইতিহাসের বিভিন্ন দিক
আধুনিক নাইজার
প্রাচীন পাথরে নাইজারের পশুচিত্র
সাহারায় পরিবহনপথ
জাদো মরূদ্যানের ধ্বংসাবশেষ
ফ্রেঞ্চ ঔপনিবেশিক পশ্চিম আফ্রিকা
নাইজারের তুয়ারেগ মানব,১৯৯৭

প্রাগৈতিহাসিক নাইজারসম্পাদনা

সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই নাইজারে মানুষ বসবাস করেছে। প্রতিবেশি চাদে ২ থেকে ৩.৫ মিলিয়ন বছরের পুরনো জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়েছে।

নাইজারের দক্ষিণাংশে অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে। কিন্তু এখনো সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক ইতিহাস অজানা থেকে গেছে। [১]

সাহারা মরুভূমির নাইজার অংশে ৬০,০০০ বছর পূর্বে মানুষ বসবাস করলেও বর্তমানে এটি একেবারেই জনশূন্য।

প্রাচীন ইতিহাসসম্পাদনা

খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে কার্থেজমিশর পশ্চিম আফ্রিকায় সোনা , হাতির দাঁত, কাপড়ের বোতাম, লবণ ও ধাতব পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে দাঁড়ায়। নাইজার সাহেল ও ভূমধ্যসাগরীয় অববাহিকার সংযোগস্থলে রূপান্তরিত হয়।

নাইজার সাম্রাজ্যসম্পাদনা

বিভিন্ন সাম্রাজ্য বিভিন্ন সময়ে নাইজারকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে। এগুলো হলো - সংহাই সাম্রাজ্য, মালি সাম্রাজ্য, ডেনডি রাজতন্ত্র, গাও এবং কানেম বোরনু। কয়েকটি হাওসা রাজ্যও নাইজারের উপর সময়ে সময়ে নিজেদের কর্তৃত্ব দাবি করেছে। একসময় তুয়ারেগরা হাওসাদের সাথে মিলে বিরাট জাতিরাষ্ট্র তৈরি করে। সোকোতোর ফুলানি সাম্রাজ্যের সঙ্গে এই জাতিরাষ্ট্রের অচিরেই বিরোধ উপস্থিত হয়। এই সংঘাতের ফসল হিসেবে বোর্নু সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে, ১৮৯৩ সালে যার পতন ঘটে।

ঔপনিবেশিকীকরণসম্পাদনা

ঊনবিংশ শতকে নাইজারের বাসিন্দাদের সাথে ইউরোপীয়দের সংযোগ স্থাপিত হয়। ব্রিটেনের মুঙ্গো পার্ক ও জার্মানির হাইনরিখ বার্থ নাইজার নদীর উৎসমুখ খুঁজতে গিয়ে এ এলাকাটি আবিষ্কার করেন। ১৯০০ সালের দিকে ফ্রেঞ্চরা এখানে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করলেও একসময় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। বিশেষত তুয়ারেগরা শান্তি প্রচেষ্টায় বাধা সৃষ্টি করে। অগত্যা ১৯২২ সালে নাইজারকে ফ্রেঞ্চ উপনিবেশে পরিণত করা হয়।

সেনেগালের রাজধানী ডাকার হতে একজন গভর্নর জেনারেল ফ্রেঞ্চদের পশ্চিম আফ্রিকান উপনিবেশগুলো তদারকি করার গুরুদায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। ১৯৪৬ সালের ফ্রেঞ্চ সংবিধান উপনিবেশগুলোর অধিবাসীদের আংশিক স্বায়ত্তশাসনের পথ উন্মুক্ত করে।

স্বাধীনতার পথেসম্পাদনা

১৯৫৬ সালের ২৩ জুলাই ফ্রেঞ্চ উপনিবেশগুলোর স্বাধিকারচেতনার তীব্র স্ফুরণে বাধ্য হয়ে ফ্রেঞ্চ সংসদ সংস্কার আইন পাস করে। ১৯৫৭ সালের প্রথমদিকে আরো কিছু সংস্কার পরিকল্পনা কার্যকর হয়। শুধু ভোটাধিকার প্রয়োগে অসমতা অপসারণই নয়, এর পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো উন্নয়নের পথও প্রশস্ত হয়।

১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর পঞ্চম ফ্রেঞ্চ প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। ফ্রেঞ্চরা তখন তাদের উপনিবেশগুলোকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য গণভোট আয়োজনের সুযোগ প্রদান করে।

ঐ বছরের ৪ ডিসেম্বর নির্বাচনে নাইজেরিয়েন প্রগ্রেসিভ পার্টি (পিপিএন) এবং মুভমেঁত সোশ্যালিস্টে আফ্রিকানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। হামানি দিওরিজিবো বাকারি এগুলোর নেতৃত্বে ছিলেন। পিপিএন ৫৮টির মধ্যে ৫৪টি আসনে জয়লাভ করে। পাশাপাশি স্বাধীনতার পক্ষেও নাইজারের বাসিন্দারা অভিমত প্রকাশ করেন।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Anne C. Haour. One Hundred Years of Archaeology in Niger. Journal of World Prehistory. Volume 17, Number 1, June 2003, pp. 181–234(54)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা