দ্য মুসলমান (সংবাদপত্র)

(দ্য মুসলমান(সংবাদপত্র) থেকে পুনর্নির্দেশিত)

দ্য মুসলমান ভারতের চেন্নাই থেকে প্রকাশিত উর্দু-ভাষার প্রাচীনতম দৈনিক সংবাদপত্র।[১] এটি চার পৃষ্ঠা বিশিষ্ট সান্ধ্য পত্রিকা, ছাপাখানায় ছাপানোর পূর্বে যেটির সকল পাতা হস্তলিপিকারদের দ্বারা হাতে লেখা হয়।[২] দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া এবং ওয়্যারড ম্যাগাজিন অনুযায়ী, দ্য মুসলমান সম্ভবত বিশ্বে টিকে থাকা একমাত্র হস্তলিখিত সংবাদপত্র।[১][৩] পত্রিকাটির বর্তমান সম্পাদক সৈয়দ আরিফুল্লাহ।[৪]

The Musalman (দ্য মুসলমান)
ধরনদৈনিক সংবাদপত্র
ফরম্যাটব্রডশিট
সম্পাদকসৈয়দ আরিফুল্লাহ
প্রতিষ্ঠাকাল১৯২৭
ভাষাউর্দু
সদরদপ্তরচেন্নাই
প্রচলন২২,০০০

ইতিহাসসম্পাদনা

সংবাদপত্রটি সৈয়দ আজমতউল্লাহ (Syed Azmathullah) ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠা করেন।[১] এটি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস-এর মাদ্রাজ সেশনের প্রেসিডেন্ট ডাঃ মুখতার আহমেদ আনসারি উদ্বোধন করেন।[৫] সংবাদ পত্রটির কার্যালয় চেন্নাইয়ের ট্রিপলিকেন হাই রোডে অবস্থিত।

সৈয়দ আজমতউল্লাহ-এর মৃত্যুর পরে, সংবাদপত্রটি সৈয়দ ফাজুল্লাহ (Syed Fazullah)-এর দ্বারা প্রকাশিত হয়।[১] ২০০৭ সালে, ফাজুল্লাহ আশঙ্কা করে যে তাঁর মৃত্যুর পর চারুলিপির এই সংস্কৃতিও হারিয়ে যাবে, যেহেতু তাঁর পুত্রগণ এই সংস্কৃতিতে আগ্রহী ছিলেন না।[৬] ফাজুল্লাহের পুত্র, সৈয়দ নাসরুল্লাহ, বলেন যে তিনি ক্যালিগ্রাফি-তে আগ্রহী নন, এবং যখন তিনি ক্ষমতায় আসবেন, তখন "কিছু বদলও আসবে"।[২] কিন্তু এখনও পত্রিকাটি হাতে লেখা হয় ও এপ্রিল ২০১৮-তে ৯২ বছরে পা দেয় পত্রিকাটি।[৪]

দলসম্পাদনা

লিপিবিশারদগণ, যারা কাতিব নামেও পরিচিত, ৮০০ ফিটের একটি ছোট এক-ঘর কার্যালয়ের এক কোণে কাজ করেন। তাদের কাছে বিশেষ সুবিধা থাকে না, শুধু দুইটি দেওয়াল পাখা, তিনটি বাতি এবং একটি ফ্লুরোসেন্ট বাতি। প্রত্যেকটি পৃষ্ঠায় প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। চার পাতার দৈনিকের কাজ শুরু হয় সকাল ১০টায়। দু’জন অনুবাদক খবরগুলো উর্দু ভাষায় লিখে দেন। ঘণ্টা দু’য়েক ধরে অনুবাদের কাজ চলে। তারপর চারুলিপি ও মূল কাগজ লেখার কাজ শুরু হয়। মূল কপি তৈরি হওয়ার পর প্রায় দুপুর ১টায় প্রিন্টের মাধ্যমে ও ফটো নেগেটিভে প্রসেস হয়ে বাকি কপিগুলো তৈরি হয়। সন্ধ্যার মধ্যে খবরের কাগজ পৌঁছে যায় প্রায় ২২ হাজার পাঠকের হাতে।

এই দৈনিকটির তিনজন কাতিব।[৭] প্রধান কাতিবের নাম রাহমান হোসেইনি। ১৯৮০ সালে তিনি এ পত্রিকায় যোগ দেন। মাস শেষে বেতন পান আড়াই হাজার রুপি। এখানে কাতিব হিসেবে লেখার কাজ করেন শাবানা বেগম ও খুরশিদ বেগম। প্রতি পৃষ্ঠার জন্য প্রতিদিন ৬০ ভারতীয় টাকা করে আয় করেন উভয়ে। চিন্নাস্বামী বালাসুব্রামোনিয়াম প্রধান প্রতিবেদক, যিনি সংবাদপত্রটির সঙ্গে আছেন প্রায় ২০ বছর। দৈনিকটির ক্রেতা সারা ভারতে আছে, নয়া দিল্লী, কলকাতাহায়দরাবাদ অন্তর্গত।[১]

ধরণসম্পাদনা

দৈনিকটির চারটি পৃষ্ঠা থাকে। প্রথম পাতায় থাকে দেশ ও বিদেশের নানা খবর। দ্বিতীয় পাতায় সম্পাদকীয়। পরের পাতা দুটিতে স্থানীয় খবর, খেলা ও বিজ্ঞাপন। সম্পাদক বলেন, সাধারণত এই দৈনিকে ব্রেকিং নিউজ থাকে না। তবে ব্রেকিং নিউজের জন্য প্রথম পাতার নিচের ডানদিকে কিছু জায়গা ফাঁকা রাখা হয়। সোমবারে কোরান ও ইসলাম সংক্রান্ত খবর বেশি প্রাধান্য পায় অন্যান্য খবরের থেকে।

এপ্রিল ২০১৮ অনুসারে, প্রতিটি খবরের কাগজের দাম ৭৫ পয়সা (ভারতীয়) এবং দৈনিকটির প্রায় ২১ থেকে ২২ হাজার ক্রেতা আছে।[৪]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Kamini Mathai (৩০ এপ্রিল ২০০৮)। "Each page of this Urdu newspaper is handwritten by 'katibs'"The Times of India। ২০১২-০৩-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০০৮ 
  2. Scott Carney (৭ জুন ২০০৭)। "A Handwritten Daily Paper in India Faces the Digital Future"Wired। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৫  (Also on ABC News)
  3. Scott Carney (৭ জুন ২০০৭)। "India's News Calligraphers Do It on Deadline"Wired। সংগ্রহের তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০১৫ 
  4. Krishna, Navmi (১৪ এপ্রিল ২০১৮)। "The world's only handwritten newspaper is 91 and sells at 75 paise"The Hindu (ইংরেজি ভাষায়)। আইএসএসএন 0971-751X। সংগ্রহের তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০১৯ 
  5. Suganthy Krishnamachari (২০০৭-১১-০২)। "Newspaper nurtures art"The Hindu। ২০০৮-০৭-১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০০৮-০৪-৩০ 
  6. Image 7 of 22. India's News Calligraphers Do It on Deadline. Wired.
  7. "দ্য মুসলমান: হাতে লিখেই ৮৮ বছর"NTV। ৫ এপ্রিল ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ২৫ জুন ২০১৮ 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা