দ্বিতীয় সেলিম

উসমানীয়া সাম্রাজ্যের সুলতান

দ্বিতীয় সেলিম (উসমানীয় তুর্কি ভাষায়: سليم ثانى) (২৮শে মে ১৫২৪১২ই/১৫ই ডিসেম্বর ১৫৭৪)ছিলেন উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান, যিনি ১৫৬৬ সাল থেকে ১৫৭৪ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উসমানীয় সাম্রাজ্য শাসন করেন। তিনি ১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে ইস্তানবুলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুলতান সুলাইমান এবং হাসেকী হুররাম সুলতানের পুত্র ছিলেন।

দ্বিতীয় সেলিম
سليم ثانى
উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান
কায়সার ই রোম
খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন
উসমানীয় খলিফা
II Selim.jpg
১১তম উসমানীয় সুলতান
রাজত্ব৭ই সেপ্টেম্বর ১৫৬৬১২ই/১৫ই ডিসেম্বর ১৫৭৪
পূর্বসূরিপ্রথম সুলাইমান
উত্তরসূরিতৃতীয় মুরাদ
দাম্পত্য সঙ্গীনুরবানু সুলতান
রাজবংশউসমানীয় রাজবংশ
পিতাপ্রথম সুলাইমান
মাতাহুররাম সুলতান (রোক্সেলানা)
স্বাক্ষরদ্বিতীয় সেলিম স্বাক্ষর

প্রাথমিক জীবনসম্পাদনা

১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে সেলিম ইস্তানবুলে জন্মগ্রহণ করে। তিনি ছিলেন শাহজাদা মুস্তাফার সৎভাই এবং শাহজাদা মেহমেদ, মিহরিমাহ সুলতান, শাহজাদা বায়েজিদ এবং শাহজাদা জাহাঙ্গীর এর সহোদর ভাই।শাহজাদা মেহমেদের মৃত্যুর পর তিনি মানিসার প্রশাসক হন এবং পিতা সুলতান সুলেমানের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন।তিনি দুবার কোনিয়ার প্রশাসক নিযুক্ত হন।

শাসনকালসম্পাদনা

সিংহাসনে আরোহণসম্পাদনা

দ্বিতীয় সেলিম সাধারণত মানুষের কাছে 'স্বর্ণকেশী সেলিম' নামে পরিচিত ছিলেন।

১৫৬৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম সুলাইমানের মৃত্যুর পর তার পুত্র দ্বিতীয় সেলিম কনস্ট্যান্টিনোপলের সিংহাসনে বসেন।

চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যসম্পাদনা

দ্বিতীয় সেলিম দয়ালু ছিলেন। তবে তিনি মদ্যপানে আসক্ত হওয়ায় শাসন কাজে অনাগ্রহী ছিলেন।ফলে প্রধান উজির সোকল্লু মেহমেদ পাশাকে শাসনকাজ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন একজন কবি এবং সাহিত্য প্রেমিক।তিনি তার শাসনকালে মাহীদেবরান সুলতানকে তার মর্যাদা ফিরিয়ে দেন এবং ভাই শাহজাদা মুস্তাফার সমাধি পুনঃনির্মাণ করেন ।

সামরিক অভিযানসম্পাদনা

দ্বিতীয় সেলিম এই প্রথম উসমানীয়া খলিফা যে কখনো নিজে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তবে তার উজিরে আযম সোকল্লু মেহমেদ বহু অভিযান পরিচালনা করেছেন। তার পরিকল্পনা ও উদ্যোগে উসমানী সৈন্যরা বহু সামরিক অভিযানে বের হয়। ক্রীট্স দ্বীপ জয় দ্বিতীয় সেলিমের শাসনকালের উল্লেখযোগ্য ঘটনা।

১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে সেনাপতি লালা মুস্তাফা এবং বেলার বেগ ভেনিসের সেনাপতি ব্রাগাডিনোকে পরাজিত করে সাইপ্রাস জয় করেন।

১৫৭১ খ্রিষ্টাব্দে ভেনিসের প্ররোচনায় স্পেনরাজ, রোমের পোপ, স্যভয়ের ডিউক এবং মাল্টার নাইট মিলে অষ্ট্রিয়ার নৌ-সেনাপতি ডন জুয়ানের নেতৃত্বে লেপান্টো উপসাগরে উসমানী খিলাফাতের নৌবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। নৌ-সেনাপতি কাপুদান পাশা নিহত হলে উসমানী বাহিনী বিশৃংখল হয়ে পড়ে এবং পরাজয় বরণ করে।

ইতিপূর্বে তিউনিস উসমানী খিলাফাতের অধীনে ছিল। লেপান্টো যুদ্ধের বিপর্যয়ের পর অষ্ট্রিয়ার নৌ-সেনাপতি ডোন জুয়ান স্পেনের সাহায্য নিয়ে তিউনিস দখল করেন। ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিম নৌ-সেনাপতি উলুজ আলীর নেতৃত্বে মুসলিমগণ তিউনিস পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে উসমানী সৈন্যদের দ্বারা তিউনিস পুনরুদ্ধার হয়।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

সেলিমের একমাত্র বিবাহিত স্ত্রী এবং হাসেকী সুলতান ছিলেন নুরবানু সুলতান।

পুত্রঃ
  • সুলতান তৃতীয় মুরাদ
  • শাহজাদা মেহমেদ
  • শাহজাদা আব্দুল্লাহ
  • শাহজাদা জাহাঙ্গীর
  • শাহজাদা মুস্তাফা
  • শাহজাদা উসমান
  • শাহজাদা সুলাইমান
কন্যাঃ
  • ইস্মিহান সুলতান
  • গেভারহান সুলতান
  • শাহ সুলতান
  • ফাতমা সুলতান
  • আয়শা সুলতান

মৃত্যুসম্পাদনা

আট বছর শাসন করার পর তিনি ১৫ই ডিসেম্বর, ১৫৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ইস্তানবুলে মৃত্যুবরণ করেন।তিনি মদ্যপানের পর জেনিচারিদের নির্মাণাধীন স্নানাগারে পড়ে যান এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করেন।তাকে হাজিয়া সোফিয়া মসজিদে সমাহিত করা হয়।

তার মৃত্যুর পর তার প্রথম সন্তান শাহজাদা মুরাদ সুলতান তৃতীয় মুরাদ হিসেবে সিংহাসনে আরোহণ করেন।যেহেতু তৃতীয় মুরাদ মানিসায় অবস্থান করেছিলেন সেহেতু তার মৃত্যুর সংবাদ গোপন রাখা হয় এবং নুরবানু সুলতান অবিলম্বে পুত্রের সিংহাসনে আরোহণ নিশ্চিত করেন।

বহিঃসংযোগসম্পাদনা