দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা

জামালপুর জেলার একটি উপজেলা

দেওয়ানগঞ্জ বাংলাদেশের জামালপুর জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা। এটি ৮টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এটি ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন জামালপুর জেলার ৭ টি উপজেলার একটি এবং এটি জেলার উত্তরভাগে অবস্থিত। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার উত্তরে চর রাজীবপুর উপজেলা, দক্ষিণে ইসলামপুর উপজেলা, পূর্বে বকশীগঞ্জ উপজেলা ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পশ্চিমে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলা অবস্থিত।[১]

দেওয়ানগঞ্জ
উপজেলা
দেওয়ানগঞ্জ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
দেওয়ানগঞ্জ
দেওয়ানগঞ্জ
বাংলাদেশে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২৫°৮′৩০.১২″ উত্তর ৮৯°৪৬′৫৯.৮৮″ পূর্ব / ২৫.১৪১৭০০০° উত্তর ৮৯.৭৮৩৩০০০° পূর্ব / 25.1417000; 89.7833000স্থানাঙ্ক: ২৫°৮′৩০.১২″ উত্তর ৮৯°৪৬′৫৯.৮৮″ পূর্ব / ২৫.১৪১৭০০০° উত্তর ৮৯.৭৮৩৩০০০° পূর্ব / 25.1417000; 89.7833000 উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
দেশ বাংলাদেশ
বিভাগময়মনসিংহ বিভাগ
জেলাজামালপুর জেলা
প্রতিষ্ঠাকাল০৩ নভেম্বর ১৯৮৩
আয়তন
 • মোট২৬৬.৫৯ কিমি (১০২.৯৩ বর্গমাইল)
জনসংখ্যা (২০১১)
 • মোট২,৫৮,১৩৩
 • জনঘনত্ব৯৭০/কিমি (২৫০০/বর্গমাইল)
সাক্ষরতার হার
 • মোট৩২.৫%
সময় অঞ্চলবিএসটি (ইউটিসি+৬)
পোস্ট কোড২০৩০ উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন
প্রশাসনিক
বিভাগের কোড
৩০ ৩৯ ১৫
ওয়েবসাইটপ্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট উইকিউপাত্তে এটি সম্পাদনা করুন

১৮৭৪ সালে জামালপুর মহকুমার অধীনে দেওয়ানগঞ্জ থানা গঠিত হয়। জামালপুর জেলা হওয়ার পর ১৯৮৩ সালের ৩রা নভেম্বর দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা জামালপুর-১ সংসদীয় আসনের অন্তর্ভুক্ত । এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৩৮ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার আয়তন ২৬৬.৫৯ বর্গ কিলোমিটার[২] এবং জনসংখ্যা ২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী ২,৫৮,১৩৩ জন। পুরষ ও নারীর অনুপাত ১০০ঃ৯৬, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯৬৫ জন, শিক্ষার হার ৩২.৫%।[৩]

পটভূমিসম্পাদনা

ব্রহ্মপুত্রযমুনা নদী বিধৌত একটি প্রাচীন জনপদের নাম দেওয়ানগঞ্জ। ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার শাখা নদী ও খাল-বিল বহুল এই এলাকা নদীভাঙ্গন ও বন্যাপ্রবণ। দেওয়ানগঞ্জ নামটি কীভাবে হয়েছে সে ব্যাপারে কোন প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায় না। তবে এ ব্যাপারে লোকশ্রুতি প্রচলিত আছে। ঐতিহাসিক ঘটনাবলী থেকে জানা যায় ব্রিটিশদের আগমনের আগে দেওয়ান শাহ্ জামাল ও দেওয়ান শাহ্ জালাল নামে দুইজন সাধক এ অঞ্চলে এসে ধর্ম প্রচার করেন। তাদের নামানুসারেই এ অঞ্চলের নামকরণ দেওয়ানগঞ্জ হয়েছে বলে মনে করা হয়।

ব্রিটিশ আমলে দেওয়ানগঞ্জ পাতিলাদহ পরগণার অন্তর্ভুক্ত ছিল। পশ্চিম ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা পাতিলাদহ পরগণা গঠিত হয়েছিল। তখন এই পরগণার রাজস্ব রংপুর কালেক্টরে প্রদান করা হতো। পাতিলাদহ পরগণার জমিদার ছিলেন মহারাজা প্রদ্যুতকুমার ঠাকুর। সেসময় তার নামানুসারে এই অঞ্চলকে প্রদ্যুতনগর বলা হতো। ১৮৯৯ সালে দেওয়ানগঞ্জে রেলস্টেশন স্থাপিত হলে রেলস্টেশনের নামকরণ করা হয় প্রদ্যুতনগর রেলস্টেশন। তবে পরবর্তীতে প্রদ্যুতনগর নামটি স্থায়ীত্ব পায়নি। ফলে প্রদ্যুতনগর রেলস্টেশনের নামটিও পরিবর্তীত হেয় দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশন হয়েছে।

১৮৬৬ সাল পর্যন্ত দেওয়ানগঞ্জ বগুড়া জেলার অধীনে ছিল। ঐ বছর বগুড়া জেলা থেকে দেওয়ানগঞ্জকে ময়মনসিংহ জেলার জামালপুর মহকুমার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৮৭৪ সালে জামালপুর মহকুমার অধীনে দেওয়ানগঞ্জ থানা গঠিত হয়। এর প্রায় সোয়াশ বছর পর ৩রা নভেম্বর ১৯৮৩ সালে দেওয়ানগঞ্জকে উপজেলায় রূপান্তরিত করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ২৬ এপ্রিল পাকিস্তান বাহিনী দেওয়ানগঞ্জে প্রবেশ করে।[৪] ৫ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।[৫] ১৯৯৯ সালে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়।

ভৌগলিক অবস্থানসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ২৫°০৬´ থেকে ২৫°২৬´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯°৪০´ থেকে ৮৯°৫১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত।[৬] এর উত্তরে চর রাজীবপুর উপজেলা, দক্ষিণে ইসলামপুর উপজেলা, পূর্বে বকশীগঞ্জ উপজেলা ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য, পশ্চিমে গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলা অবস্থিত। এটি জেলা সদর থেকে দেওয়ানগঞ্জের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার।

উপজেলার অধিকাংশ ভূমি চরাঞ্চল। নদ-নদী, খাল, বিল পরিবৃত এই উপজেলায় প্রতিবছরই বন্যায় প্লাবিত হয়। ফলে মাটি পলিসিক্ত ও উর্বর। এখানকার আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে তাপমাত্রা ৩০° থেকে ৩৬° সেলসিয়াস থাকে। এখানকার মাটি বেলে-দোআঁশ ও এঁটেল দোআঁশ প্রকৃতির। মোট কৃষিজমির পরিমান ৫০০৯০ একর, আবাদি জমির পরিমান ২৮০৭৭ একর; সংরক্ষিত বনভূমির পরিমান ৪.৯৫ বর্গকিলোমিটার।[৭]

প্রশাসনিক এলাকাসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ৮টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। এ উপজেলায় ৩৯ টি মৌজা, ১৬৬ টি গ্রাম রয়েছে।

পৌরসভা হলো:

  1. দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা

ইউনিয়নগুলো হলো:

  1. ডাংধরা ইউনিয়ন
  2. চর আমখাওয়া ইউনিয়ন
  3. পার রামরামপুর ইউনিয়ন
  4. হাতিভাঙ্গা ইউনিয়ন
  5. বাহাদুরাবাদ ইউনিয়ন
  6. চিকাজানী ইউনিয়ন
  7. চুকাইবাড়ি ইউনিয়ন
  8. দেওয়ানগঞ্জ ইউনিয়ন

ব্রিটিশ আমলে ১৮৭৪ সালে জামালপুর মহকুমার অধীনে দেওয়ানগঞ্জ থানা গঠিত হয়। এর প্রায় সোয়াশ বছর পর ৩রা নভেম্বর ১৯৮৩ সালে দেওয়ানগঞ্জকে উপজেলা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৯৯ সালে দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হয়। পৌরসভার আয়তন ২০.৬৫ বর্গ কিলোমিটার, ওয়ার্ডের সংখ্যা ৯টি, মহল্লা ৪৩টি।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা ও বক্সিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জামালপুর-১ সংসদীয় আসন গঠিত। এ আসনটি জাতীয় সংসদে ১৩৮ নং আসন হিসেবে চিহ্নিত।

নির্বাচিত সাংসদগণ:

নির্বাচন সদস্য দল
১৯৭৩ মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এডভোকেট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[৮]
১৯৭৯ মোহাম্মদ আলমাস হোসেন[৯]
১৯৮৬ আব্দুস সাত্তার জাতীয় পার্টি[১০]
১৯৮৮ আব্দুস সাত্তার জাতীয় পার্টি (এরশাদ)[১১]
১৯৯১ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১২]
ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ এ, কে, মাইনুল হক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল[১৩]
জুন ১৯৯৬ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৪]
২০০১ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল[১৫]
২০০৮ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৬]
২০১৪ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৭]
২০১৮ আবুল কালাম আজাদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ[১৮]

স্বাধীনতা যুদ্ধে দেওয়ানগঞ্জসম্পাদনা

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেওয়ানগঞ্জ ১১ নং সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১১ সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যথাক্রমে কর্ণেল তাহেরলেফট্যানেন্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান। উইং কমান্ডার হামিদুল্লাহ খান[১৯] প্রথমে উপ-সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ১৯৭১-এর ৩ নভেম্বর থেকে সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ১২ই মার্চ বেলতলী নামক বাজারে দেওয়ানগঞ্জের মধ্যে প্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব এবং শহীদ আনোয়ারুল আজিম ছানা। তাদের পতাকা উত্তোলনের ছবি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কাছে পৌঁছালে আনোয়ারুল আজিম ছানা কে পাক বাহিনী গ্রেপ্তার করে এবং অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করে। আনোয়ারুল আজিম ছানা এই অঞ্চলের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা। [২০]

মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পাক বাহিনীরা বাহাদুরাবাদ ঘাট দখলে নেয়। মুক্তিযোদ্ধারা কাঠারবিল, সানন্দবাড়ি সহ বেশ কিছু স্থানে ক্যাম্প স্থাপন করে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ এবং দক্ষ করে তোলে। এসময় প্রায় ১০০০ মুক্তিযোদ্ধা চর হাতিভাঙ্গা নামক স্থানে মুক্তিযোদ্ধা লেঃ শামসুল আলমের নেতৃত্বে নিয়জিত ছিলেন। তারা জামালপুরের সাথে পাক বাহিনীর ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা অকার্যকর করার জন্য নভেম্বর মাসের শেষ দিকে একটি সফল অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন[২১]। এতে ৫ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ এবং ১০ ডিসেম্বর জামালপুর জেলা শত্রুমুক্ত হয়।

 
শহীদ আনোয়ারুল আজিম ছানা

মুক্তিযুদ্ধের সময় দেওয়ানগঞ্জ সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় সহ বিভিন্ন স্থাপনা পাক বাহিনীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।[২২] দেওয়ানগঞ্জ রেলস্টেশনের লোকোশেড, রেলস্টেশন সংলগ্ন জিআরপি থানা, আলিয়া মাদ্রাসা, জিলবাংলা সুগার মিলস্ লিমিটেড, দেওয়ানগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, কাঠারবিলের গয়েরডোবা, ফারাজীপাড়া, পুরাতন বাহাদুরাবাদঘাটে এ সব স্থানে পাকহানাদার বাহিনীর নির্যাতনী ক্যাম্প ছিল[২৩]

বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট বধ্যভূমি

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদার বাহিনী বাহাদুরাবাদ ঘাটে ব্যপক গণহত্যা চালায়। অসংখ্য নিরীহ, সাধারণ মানুষকে এখানে এনে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের ধরে এনে নির্মম শাস্তি দেওয়ার জন্য এখানে ছিল টর্চার সেল।[২৪] তরুণ ছাত্রনেতা আনোয়ারুল আজিজ ছানাকে পাকিস্তানপন্থীরা ধরিয়ে দিলে ৬ মে তাকে নির্মমভাবে অত্যাচার চালিয়ে বাহদুরাবাদ ঘাটে হত্যা করা হয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনিই প্রথম শহিদ।

রেল শ্রমিক নেতা জয়নাল আবেদীন কে ১৯৭১ সালে ১০মে রাতে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ধরে নিয়ে বাহাদুরাবাদ ঘাটে গুলি করে যমুনা নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেয়।

দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন টর্চার সেল

১৯৭১ সালের ১১ই এপ্রিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রেলওয়েতে কর্মরত তোফানো শেখ কে চোখ বেঁধে, টেনে-হেঁচড়ে স্টেশনে নিয়ে আসে। পরে স্টেশনের জ্বলন্ত কয়লার ইঞ্জিনের আগুনে নিক্ষেপ করে ঢাকনার মুখ বন্ধ করে দিয়ে তাকে হত্যা করে পাক বাহিনী।[২৫]

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মুক্তিবাহিনীর দুটি বড় যুদ্ধ সংগঠিত হয়। একটি বাহাদুরাবাদ ফেরিঘাট যুদ্ধ, অন্যটি জিলবাংলা চিনিকল যুদ্ধ।

বাহাদুরাবাদ ঘাটের যুদ্ধসম্পাদনা

 
একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের বাহাদুরাবাদ ঘাট মুক্ত করার অভিযান

ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট ছিল যমুনা নদীর দুই পাশের জেলা গুলোর মধ্যে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। এখান থেকে রেল ও সড়ক পথে ময়মনসিংহ এবং ঢাকা সহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত সুবিধা চালু ছিল। পাকসেনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে এই ঘাটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল। মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনীর ৩১ বেলুচ রেজিমেন্ট দেওয়ানগঞ্জ দখলে নেয়। এখান থেকে বৃহত্তর রংপুর এবং বগুড়া সহ পাশ্ববর্তী জেলা গুলোতে পাকিস্তানি সৈন্য এবং রসদ আনা নেওয়া করত। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাহাদুরাবাদ ঘাট দখল করা আবশ্যকীয় হয়ে যায়। বাহাদুরাবাদ ঘাট যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন জেড ফোর্সের তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল ব্যাটালিয়ন কমান্ডার মেজর শাফায়াত জামিল। মোট ৩৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা এই যুদ্ধে অংশ নেয়। ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই ভোর পাঁচটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা বাহাদুরাবাদ ঘাটে পাকবাহিনীর অবস্থানের উপর অতর্কিত আক্রমন চালায়। অপারেশনের একেবারে শেষ দিকে নায়েক সুবেদার ভুলু মিয়া গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া আর কোন মুক্তিযোদ্ধা আহত হননি। মূলত এই যুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে মুক্তিবাহিনীর মনোবল সুদৃঢ় হয় এবং পাকবাহিনীর মনোবল কমে আসে।[২৬]

জিলবাংলা চিনিকল যুদ্ধ

এ যুদ্ধেও নেতৃত্ব দেন মেজর শাফায়াত জামিল। তাঁর নেতৃত্বে ডেলটা ও আলফা কোম্পানি দেওয়ানগঞ্জ শহরে অপারেশন চালায়। ২ আগস্ট ভোর ছয়টার দিকে আলফা কোম্পানির ২টি প্লাটুন ও এফএফ কোম্পানির ১টি প্লাটুন একসাথে জিলবাংলা চিনিকলে আক্রমণ চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের অতর্কিত আক্রমণে চিনিকল এলাকায় অবস্থানরত পাকবাহিনী ও তাদের সহযোগীরা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। কিন্ত পেরে উঠতে না পেরে অবস্থান ছেড়ে পালিয়ে যায়।

জনসংখ্যার উপাত্তসম্পাদনা

২০১১ সনের আদম শুমারী অনুযায়ী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মোট জনসংখ্যা ২,৫৮,১৩৩ জন। পুরষ ও নারীর অনুপাত ১০০ঃ৯৬, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৯৬৫ জন, শিক্ষার হার ৩২.৫%। এ উপজেলায় প্রধানত মুসলমানহিন্দু এই দুই সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস। অন্যান্য ধর্মের লোকসংখ্যা একেবারেই কম। এর মধ্যে মুসলমান জনগোষ্ঠীই সংখ্যাগরিষ্ঠ। জনসংখ্যার মধ্যে মুসলিম ২,৫৩,৯২৭, হিন্দু ৪,০৬৪, খ্রিস্টান ৩, বৌদ্ধ ২ এবং অন্যান্য ১৩৭ জন।

শিক্ষাসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৯), জিলবাংলা সুগার মিল ‍উচ্চ বিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চ বিদ্যালয়, দেওয়ানগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সানন্দবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়, সানন্দবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ইত্যাদি। দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি। ব্রিটিশ আমলে প্রাদেশিক রেজিস্টার মি. ডনোফন কো-অপারেটিভ ব্যাংকের অর্থায়নে দেওয়ানগঞ্জ কো-অপারেটিভ হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকারে এটি দেওয়ানগঞ্জ হাই স্কুল নামে অভিহিত হয়। সাবেক এম.এল.এ ডা. রফিক উদ্দিনের পিতা ছমির উদ্দিন তালুকদার এই স্কুলের জন্য ১২ বিঘা জমি দান করেন। বর্তমানে স্কুলটি সরকারিকরণ হয়েছে।

উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলো- এ.কে. মেমোরিয়াল কলেজ (১৯৭০), সানন্দবাড়ী ডিগ্রি কলেজ, মোফাজ্জল হোসেন মেমোরিয়াল কলেজ, আব্দুল মমিন লাল মিয়া মহিলা কলেজ, আলহাজ্ব হেলাল উদ্দিন নুরুন্নাহার মেমোরিয়াল কলেজ, বগার চর কলেজ, ইঞ্জি. ফজলুর রহমান মহিলা কলেজ, ইসতিয়াক হোসেন দিদার মহিলা কলেজ, গাজি নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ, এম.এম. মেমোরিয়াল কলেজ, শাহজাদপুর আব্দুল ওয়াহেদ আশরাফ আলী মেমোরিয়াল কলেজ ইত্যাদি।

কামিল মাদ্রাসার মধ্যে আছে দেওয়ানগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা।

২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৫৭টি, রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৮টি, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (নন রেজিস্টার্ড) ৫টি, কিন্ডার গার্টেন ৫টি, এনজিও স্কুল ৮টি; সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ১টি, বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ২৯টি; সরকারি কলেজ নেই, বেসরকারি কলেজ ৪টি; মাদ্রাসা ১৫টি, কওমি মাদ্রাসা ২টি, এবতেদায়ি মাদ্রাসা ১৬টি; টেকনিক্যাল এবং ভোকেশনাল ইন্সিটিটিউট ১টি, এগ্রিকালচারাল ও ভেটেনারি কলেজ নেই।[২৭]

স্বাস্থ্যসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট একটি সরকারি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৮টি উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।[২৮] ২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে ইসলামপুর উপজেলায় ৬টি ডায়াগনোস্টিক সেন্টার রয়েছে।[২৮]

অর্থনীতিসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ মূলত কৃষিপ্রধান অঞ্চল। সব ধরনের ফসলই এখানে উৎপন্ন হয়। এখানে  ধান, পাট, মরিচ, সরিষা, ভুট্টা, গম, ছোলা, মসুর ডাল এবং বিভিন্ন শাক-সবজি উৎপন্ন হয়। উপজেলাটিতে জিলবাংলা সুগার মিল অবস্থিত হওয়ায় এখানে প্রচুর আখ উৎপন্ন হয়।

১৯৫৮ সালে দেওয়ানগঞ্জ জিলবাংলা সুগারমিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫১ একর জমির উপর পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের যৌথ কারিগরি প্রযুক্তি ও অর্থায়নে এই মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। এই মিল প্রতিষ্ঠার ফলে এই অঞ্চলে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। জিলবাংলা সুগার মিলই এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি।

অর্থনৈতিক ভাবে এই অঞ্চল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এর জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৬৮.৪৯%, অকৃষি শ্রমিক ৫.২৮%, শিল্প ০.২৭%, ব্যবসা ৯.০৭%, পরিবহন ও যোগাযোগ ১.৭৫%, চাকরি ৪.৯৪%, নির্মাণ ০.৮২%, ধর্মীয় সেবা ০.১৭%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.০৮% এবং অন্যান্য ৯.১৩%[২৯]। মূলত এখানে কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতি বিরাজমান।

 
নিচু জমিতে কৃষিকাজ

দেওয়ানগঞ্জে বেশ কিছু তেলকল, চালকল, আইসক্রিম কারখানা রয়েছে। অনেক মানুষ মৃৎশিল্প, হস্তশিল্প, বাঁশ, বেত ও কাঠের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছে, এসকল পণ্য গুলো দেশ এবং দেশের বাইরেও রপ্তানি হচ্ছে।

  • হাট-বাজার

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কিছু বড় হাট রয়েছে। এর মধ্যে সানন্দবাড়ী বাজার, তারাটিয়া বাজার, বাহাদুরাবাদ বাজার, কাঠারবিল বাজার, ঝালরচর বাজার, দেওয়ানগঞ্জ বাজার, খড়মা নতুন বাজার, মিতালী বাজার, ডিগ্রীরচর বাজার, মোয়ামারি বাজার, কাউনিয়ার চর হাট, বাঘার চর হাট, দেওয়ানগঞ্জ হাট ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

যোগাযোগসম্পাদনা

দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার যোগাযোগ সড়ক ও রেল এই দুইভাবেই আছে। বর্ষাকালে সীমিতভাবে নৌপথে চলাচল করে। উপজেলার মোট সড়ক পথের দৈর্ঘ্য ৪৯৩.৪৯ কিলোমিটার; এর মধ্যে পাকা রাস্তা ১১০.৯৫ কিলোমিটার এবং কাঁচা রাস্তা ৩৮২.৫৪ কিলোমিটার।[৩০] এ উপজেলায় রেলপথ আছে ৯.১ কিলোমিটার এবং নৌপথ ১৫ নটিক্যাল মাইল।[৩১]

দেওয়ানগঞ্জের বেশিরভাগ মানুষ যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেল পথকেই বেছে নেয়। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা থেকে জামালপুর সদরের দূরত্ব ৪৭ কিলোমিটার। ১৯১২ সালে জামালপুর থেকে দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ স্থাপিত হয়। দেওয়ানগঞ্জ থেকে চলাচলকারী দুইটি আন্তঃনগর ট্রেন হল তিস্তাব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস। ঢাকা পর্যন্ত চলাচলকারী কমিউটার ট্রেন হল দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার, জামালপুর কমিউটার; এছাড়া ভাওয়াল এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেনেও ঢাকা পর্যন্ত চলাচল করে।

সড়ক পথে বিআরটিসি, রাজিব বাস যোগে সরাসরি ঢাকা যাতায়াত করা যায়।

নদ-নদী ও খাল-বিলসম্পাদনা

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, যমুনাজিঞ্জিরাম এখানকার প্রধান নদ-নদী। প্রতিবছর প্রচুর মাছ সংগ্রহ করা হয় নদী গুলো থেকে। কিছু সংখ্যক পরিবার মৎস্য আহরণ এবং নৌকা বেঁয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। তাছাড়া বেশ কিছু বড় বিল রয়েছে যেগুলো মৎস্য, কৃষি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের আধার। এগুলোর মধ্যে সাপমারী বিল, কাঠার বিল, তিলথুবা বিল ও পাকিরের বিল উল্লেখযোগ্য।[৩১]

 
মাছ ধরা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র,দেওয়ানগঞ্জ

বর্ষাকালে প্লাবিত থাকে এমন নিচু জমি এবং প্রচুর জলাশয় রয়েছে এখানে। বছরের অন্যান্য সময়ে কৃষি কাজ চললেও বর্ষাকালে এখানে প্রচুর পানিফলের চাষ হয়। এগুলো ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি হয়। বর্তমানে মহাবিপন্ন তালিকাভুক্ত এই জলজ ফসল সমগ্র দেশের মধ্যে প্রাধনত এই অঞ্চলেই চাষ হচ্ছে[৩২]

দর্শনীয় স্থানসম্পাদনা

 
জাতীয় চার নেতা স্মরণে দেওয়ানগঞ্জ জিল বাংলা সুগারমিল সংলগ্ন (গাবতলি মোড়ের) ভাস্কর্য
  • হযরত দেওয়ান শাহ এর মাজার
  • জিলবাংলা সুগার মিলস্ লিমিটেড
  • যমুনা নদীর অপরূপ সৌন্দর্য্য।
  • জিঞ্জিরাম সেতু (সীমান্তবর্তী সেতু)
  • ডিগ্রীরচর মাজার
  • পুরাতন শ্মশানঘাটি
  • দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন
  • বঙ্গে ওলী হযরত মোস্তফা নগরী এর মাজার
  • মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাহাদুরাবাদ ঘাট
  • ভাসমান সেতু (থানা মোড়)
  • মাদারের চর সেতু
  • চিকাজানী প্রাচীন জামে মসজিদ
  • সাহাবাড়ীর মন্দির[৩৩]
  • মহারানী ব্রীজ এবং দুধচান্দের মাজার[৩৪]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিসম্পাদনা

 
বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব
  • মো. ফজলুল হক ১৯২১ সালে অসহযোগ ও খেলাপত আন্দোলনে যোগদান করে কারাবরণ করেন।
  • মরহুম আব্দুল করিম, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সংসদে স্পিকার নির্বাচিত হন।
  • শহীদ আনোয়ারুল আজিম ছানা, মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর জামালপুরের প্রথম শহীদ মুক্তিযোদ্ধা।
  • মোহাম্মদ ফজলুল হক,(জন্ম: ১৯৩৩, মৃত্যু ১৯৯৩) ‍উচ্চাঙ্গসংগীত, নজরুল গীতি, আধুনিক গান ও গজল গানের সুরকার ও কন্ঠশিল্পী হিসেবে প্রভূত খ্যাতি অর্জন করেন।
  • হারুন হাবীব, প্রখ্যাত সাংবাদিক, সাহিত্যিক এবং গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা, ২০১৩ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। [৩৫]
  • কর্নেল মোঃ নূরুল আজীম, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মনোবিজ্ঞানী, যুক্তরাজ্যের "আন্তর্জাতিক বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার" তাকে একবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হিসেবে অভিহিত করেছে।[৩৬]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  2. "দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  3. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১ জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  4. মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস ময়মনসিংহ। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। জুন ২০১১। পৃষ্ঠা ১০৯। আইএসবিএন 984-07-4996-X 
  5. মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস ময়মনসিংহ। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। জুন ২০১১। পৃষ্ঠা ২৫৫। আইএসবিএন 984-07-4996-X 
  6. "দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  7. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১ জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো। সংগ্রহের তারিখ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  8. "প্রথম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  9. "দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  10. "তৃতীয় জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  11. "চতুর্থ জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  12. "পঞ্চম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  13. "ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  14. "সপ্তম জাতীয় সংসদ" (PDF)বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  15. "অষ্টম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  16. "নবম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  17. "দশম জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  18. "একাদশ জাতীয় সংসদ"বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সংগ্রহের তারিখ ২১ জানুয়ারি ২০২০ 
  19. "মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার এম হামিদুল্লাহ খানের ইন্তিকাল- দৈনিক সংগ্রাম" 
  20. "হারুন হাবীবের কলাম- ঢাকা টাইমস" 
  21. বাংলাদেশের_স্বাধীনতা_যুদ্ধ_দলিলপত্র_(দশম_খণ্ড) পাতা-৪৮৭
  22. "মুক্তিযুদ্ধে মেলান্দহ" 
  23. "মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার চিহ্নগুলো আজও অরক্ষিত- দৈনিক ইত্তেফাক" 
  24. মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর সংগৃহীত তথ্য সূত্রঃ যুদ্ধাপরাধ গণহত্যা ও বিচারের অন্বেষণ – ডা. এম এ হাসান;পৃষ্ঠা- ৩৭১
  25. "দেওয়ানগঞ্জের তোফানো-জয়নাল আজো পায়নি শহীদের স্বীকৃতি- দৈনিক ইত্তেফাক" 
  26. মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক ইতিহাস ময়মনসিংহ। ঢাকা: বাংলা একাডেমী। জুন ২০১১। পৃষ্ঠা ১৭০–১৭২। আইএসবিএন 984-07-4996-X 
  27. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১, জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো 
  28. "জেলা পরিসংখ্যান ২০১১ জামালপুর" (PDF)বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো 
  29. দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সাংস্কৃতিক সমীক্ষা প্রতিবেদন ২০০৭
  30. "রোড ডাটাবেস"এলজিইডি। ডিসেম্বর ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ 
  31. "দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা"বাংলাপিডিয়া। ১৯ জানুয়ারি ২০১৫। 
  32. "'পানিফল' নদীভাঙা মানুষের 'ভাগ্যের কল'- রাইজিংবিডি" 
  33. "খড়মা মধ্যপাড়া সাহাবাড়ীর মন্দির" 
  34. "হাতীভাঙ্গা ইউনিয়নের দর্শনীয় স্থান" 
  35. "কাঁধে অস্ত্র হাতে ক্যামেরা নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন হারুন হাবীব" 
  36. "কর্নেল নুরুল আজিম-বায়োগ্রাফি" 

বহিঃসংযোগসম্পাদনা