দুর্জয়–শ্রেণির টহল জাহাজ

দুর্জয় শ্রেণি হচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত বৃহৎ টহল জাহাজের একটি শ্রেণি। এই শ্রেণির মোট আটটি জাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং চারটি জাহাজ বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

BNS Nirmul.jpg
বানৌজা নির্মূল
শ্রেণি'র সারাংশ
নির্মাতা:
ব্যবহারকারী:  বাংলাদেশ নৌবাহিনী
উপশ্রেণী: কেরিস–শ্রেণির জাহাজ
নির্মিত: ২০১১–২০১৭
অনুমোদন লাভ: ২০১৩–বর্তমান
পরিকল্পিত:
সম্পন্ন:
সক্রিয়:
সাধারণ বৈশিষ্ট্য
প্রকার: টহল জাহাজ
ওজন: ৬৪৮ টন
দৈর্ঘ্য: ৬৪.২ মি (২১১ ফু)
প্রস্থ: ৯ মি (৩০ ফু)
গভীরতা: ৪ মি (১৩ ফু)
প্রচালনশক্তি:
  • ২ x এসইএমটি পিয়েলস্টিক ১২পিএ৬ ডিজেল
  • ২ x শ্যাফট
গতিবেগ:

২৮ নট (৫২ কিমি/ঘ) (জাহাজ-বিধ্বংসী)

২৫ নট (৪৬ কিমি/ঘ) (ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী)
সীমা:

২,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৪,৬০০ কিমি; ২,৯০০ মা) (জাহাজ-বিধ্বংসী)

২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি; ২,৩০০ মা) (ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী)
সহনশীলতা: ১৫ দিন
লোকবল:

৬০ জন (জাহাজ-বিধ্বংসী)

৭০ জন (ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী)
সেন্সর এবং
কার্যপদ্ধতি:
  • জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ:
    • টাইপ ৩৬০ (এসআর৬০) সমুদ্রপৃষ্ঠ অনুসন্ধান রাডার, ই/এফ ব্যান্ড
    • এমআর ১২৩-০২/৭৬ ৭৬.২ মিমি কামানের গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ রাডার
    • টাইপ ৩৫২ (স্কয়ার টাই) জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ রাডার, আই ব্যান্ড
    • টাইপ ৩৪৭জি (রাইস বোল) ২০মিমি কামানের গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ রাডার, আই-ব্যান্ড
    • ইএসএস-৩ সোনার
  • ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ:
    • ভিশন মাস্টার চার্ট রাডার
    • জেএমএ ৩৩৩৬ নৌচালনা রাডার, এক্স-ব্যান্ড
    • এসআর৪৭এজি সমুদ্রপৃষ্ঠ ও আকাশ অনুসন্ধান রাডার
    • টিআর৪৭সি অনুসরণ রাডার
    • ইএসএস-২বি সোনার
রণসজ্জা:
  • জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ:
    • 1 × এইচ/পিজে-২৬ ৭৬.২ মিমি কামান
    • ২ × ২ সি-৭০৪ জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র
    • ২ × ওয়েরলিকন ২০ মিমি কামান
    • ২ × ৬-টিউব ইডিএস-২৫এ ২৫০ মিমি ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার
  • ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ:
    • ১ x এনজি ১৬-১ ৭৬.২ মিমি কামান
    • ১ x সিএস/এএন২ ৩০ মিমি কামান
    • ২ x ৩ ইটি ৫২সি টর্পেডো

ইতিহাসসম্পাদনা

দুর্জয় শ্রেণির নকশা করা হয়েছে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চলে নৌবাহিনীর দীর্ঘসময়ব্যাপী টহল ও নজরদারির প্রয়োজন মেটানোর জন্য। এই শ্রেণির জাহাজগুলো গভীর সাগরেও সীমিত আকারে কার্যক্রম চালাতে সক্ষম। দুইটি সংস্করণে এই শ্রেণির জাহাজ নির্মিত হয়েছে- জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ ও ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ। দুইটি সংস্করণের জাহাজের কাঠামোগত বৈশিষ্ঠ এক হলেও তাদের অস্ত্রব্যবস্থা ও ইলেক্ট্রনিক্স-এ পার্থক্য রয়েছে।

২০০৯ সালে দুইটি জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণের জাহাজ তৈরির জন্য চীনের উচ্যাং শিপইয়ার্ডের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ২০১২ সালের ২৬ আগস্ট প্রথম জাহাজ, বানৌজা দুর্জয়কে পানিতে ভাসানো হয়। দ্বিতীয় জাহাজ, বানৌজা নির্মূলকে পানিতে ভাসানো হয় ২০১২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাহাজদুটি বাংলাদেশে পৌছে।[১] ২০১৩ সালের ২৯ আগস্ট জাহাজদুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত হয়।[২]

২০১৪ সালের ৩০ জুন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরবর্তী দুটি জাহাজের জন্য খুলনা শিপইয়ার্ডের সাথে চুক্তি করে। ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণের এই দুটি জাহাজ চীন থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের আওতায় বাংলাদেশ নির্মিত হয়।২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর এই জাহাজদুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।[৩] ২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর এই দুইটি জাহাজ, বানৌজা দুর্গমবানৌজা নিশানকে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবহরে যুক্ত করা হয়।[৪]

নকশাসম্পাদনা

এই শ্রেণির জাহাজগুলো দৈর্ঘ্যে ৬৪.২ মিটার (২১১ ফু) প্রস্থে ৯ মিটার (৩০ ফু) এবং গভীরতায় ৪ মিটার (১৩ ফু) এবং ওজনে ৬৪৮ টন। জাহাজের গলুই স্ফীতাকার হওয়ার কারণে এটি উত্তাল সমুদ্রেও স্থিতিশীল থাকতে পারে। জাহাজগুলোতে চলাচলের জন্য দুইটি শ্যাফট যুক্ত দুইটি এসইএমটি পিয়েলস্টিক ১২পিএ৬ ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে। এ পর্যন্ত এই শ্রেনির জাহাজ দুইটি সংস্করণে নির্মিত হয়েছে- জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ ও ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ। জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণের সর্বোচ্চ গতি ২৮ নট (৫২ কিমি/ঘ; ৩২ মা/ঘ) এবং সর্বোচ্চ পাল্লা ২,৫০০ নটিক্যাল মাইল (৪,৬০০ কিমি; ২,৯০০ মা) যেখানে ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণে সর্বোচ্চ গতি ২৫ নট (৪৬ কিমি/ঘ; ২৯ মা/ঘ) এবং পাল্লা ২,০০০ নটিক্যাল মাইল (৩,৭০০ কিমি; ২,৩০০ মা)। জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণটি পরিচালনার জন্য ৬০ জন নাবিক ও কর্মকর্তা প্রয়োজন, ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণে প্রয়োজন ৭০ জন। এই শ্রেণির জাহাজ একটানা ১৫ দিন সমুদ্রে থাকতে পারে। এরা একটি দৃঢ়-কাঠামো বিশিষ্ট ফাপা নৌকা বহন করে থাকে।

ইলেক্ট্রনিক্সসম্পাদনা

জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ

জাহাজের প্রধান রাডার হিসেবে আছে একটি টাইপ ৩৬০ (এসআর৬০) ই/এফ ব্যান্ড সমুদ্রপৃষ্ঠ অনুসন্ধান রাডার। ৭৬ মিমি কামানের গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে একটি রাশিয়ার তৈরি এমআর-১২৩-০২/৭৬ রাডার। দুইটি ২০ মিমি কামানের জন্য রয়েছে দুইটি টাইপ ৩৪৭জি (রাইস বোল) আই ব্যান্ড গোলাবর্ষণ নিয়ন্ত্রণ রাডার। সি-৭০৪ ক্ষেপনাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য রয়েছে টাইপ ৩৫২ (স্কয়ার টাই) আই ব্যান্ড রাডার। এই রাডার সমুদ্রপৃষ্ঠ অনুসন্ধানের কাজেও ব্যাবহার করা যায়। জাহাজে সম্মুখভাগে বসানো একটি ইএসএস-৩ সোনার রয়েছে যার পাল্লা ৮,০০০ মিটার (২৬,০০০ ফু)। এই জাহাজগুলোতে আরো রয়েছে জেআরসিএসএস যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি।

ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ

জাহাজের প্রধান রাডার হিসেবে আছে একটি জাপানি জেএমএ ৩৩৩৬ এক্স-ব্যান্ড নৌচালনা রাডার এবং একটি চীনা এসআর৪৭এজি সমুদ্রপৃষ্ঠ এবং আকাশ অনুসন্ধান রাডার। নৌচালনা রাডারটিকে সাহায্য করার জন্য রয়েছে "ভিশন মাস্টার" সামুদ্রিক মানচিত্র প্রস্তুতকারী রাডার। জাহাজগুলো একটি টিআর৪৭সি রাডার বহন করে যা অনুসরণ রাডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ডুবোজাহাজ সনাক্তকরণের জন্য জাহাজগুলোতে একটি ৮,০০০ মিটার (২৬,০০০ ফু) পাল্লার ইএসএস-২বি সোনার রয়েছে।[৫]

অস্ত্রসজ্জাসম্পাদনা

জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ

এই জাহাজে রয়েছে একটি এইচ/পিজে-২৬ ৭৬ মিমি কামান এবং চারটি সি-৭০৪ জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র । বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে রয়েছে দুইটি ওয়েরলিকন ২০ মিমি কামান। এছারাও জাহাজটিতে রয়েছে বারোটি ইডিএস-২৫এ ২৫০ মিমি ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী রকেট লঞ্চার এবং ডিকয়।

ডুবোজাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণ

এই জাহাজগুলোতে প্রধান অস্ত্র হিসেবে রয়েছে একটি এনজি ১৬-১ ৭৬ মিমি কামান। এছাড়াও এই জাহাজ একটি সিএস/এএন২ ৩০ মিমি কামান বহন করে যা বিমান বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে রয়েছে ছয়টি ইটি ৫২সি ৩২৪ মিমি টর্পেডো।[৫]

জাহাজসমূহসম্পাদনা

 পরিচিতি সংখ্যা   নাম   নির্মাতা   নির্মাণাদেশ   পানিতে ভাসানো   হস্তান্তর   কমিশন   অবস্থা 
পি৮১১ দুর্জয় উচ্যাং শিপইয়ার্ড ২০০৯ ২৬ আগস্ট ২০১২ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩[১] ২৯ আগস্ট ২০১৩[২] সক্রিয়
পি৮১৩ নির্মূল ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩ ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩[১] সক্রিয়
পি৮১৪ দুর্গম খুলনা শিপইয়ার্ড ৩০ জুন ২০১৪ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ ৮ নভেম্বর ২০১৭[৪] সক্রিয়
পি৮১৫ নিশান ১৫ মার্চ ২০১৭ সক্রিয়

আরো দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "China-built warship for Navy arrives in Ctg"daily sun। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩। ২৪ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ 
  2. [১]
  3. "Keel Laying of two new warships at Khulna."BSSNews। ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫। ১৫ অক্টোবর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ 
  4. "President Hamid commissions four new naval ships"। The Dhaka Tribune। ৮ নভেম্বর ২০১৭। সংগ্রহের তারিখ ৯ নভেম্বর ২০১৭ 
  5. "2*Large Patrol Craft"। Khulna Shipyard। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭