দক্ষিণ ভারতীয় রন্ধনশৈলী

দক্ষিণ ভারতীয় রন্ধনশৈলী ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় পাঁচটি রাজ্যঅন্ধ্র প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ুতেলেঙ্গানা — এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাক্ষাদ্বীপ, পুদুচেরি এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রন্ধনশৈলী অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত পাঁচটি রাজ্যের জন্যই নিরামিষ ও আমিষ পদ রয়েছে। উপরন্তু, সমস্ত অঞ্চলে সাধারণ প্রধান পদ, স্ন্যাকস, হালকা খাবার, মিষ্টান্ন ও পানীয় রয়েছে যা তাদের নিজ নিজ অঞ্চলে সুপরিচিত।

তামিলনাড়ু আমিষ খাবার
কেরালা বিফ ভাজা, সাধারণত মালয়ালম ভাষায় বিফ উল্লার্থিয়াথু নামে পরিচিত, কেরালার একটি জনপ্রিয় খাবার
পেসারত্তু আদা পাচাদির সাথে পরিবেশন করা একটি বিখ্যাত তেলেগু প্রাতঃরাশ
বিসি বেলেভাথ, কর্ণাটকের একটি জনপ্রিয় চাল-ভিত্তিক খাবার

দেশীয় সবজি, ফল, ও মশলাসম্পাদনা

নারকেল দক্ষিণ ভারতের স্থানীয় ও কয়েক শতাব্দী ধরে দক্ষিণ ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম মালাবার উপকূল হয়ে ইউরোপ, আরবপারস্যে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতীয় উদ্ভুত নারকেল পর্তুগিজ বণিকদের দ্বারা আমেরিকাতে আনা হয়েছিল। কালো মরিচ ভারতের মালাবার উপকূলের দেশীয়[১][২] এবং সেখানে মালাবার মরিচ ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়। ধ্রুপদী যুগে, ফিনিশিয়ান, গ্রীক, মিশরীয়, রোমান ও চীনারা ভারতের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে মুজিরিসের প্রাচীন বন্দর থেকে দারুচিনিকালো মরিচ সহ মশলা দ্বারা আকৃষ্ট হয়েছিল।[৩][৪] খ্রিস্টীয় ১৫ শতকের শেষের দিকে শুরু হওয়া আবিষ্কারের যুগের পূর্বে মধ্যযুগে, মালাবার উপকূলের কালিকট রাজ্য (কোঝিকোড়) এই সময়ে লোহিত সাগরইউরোপে ভারতীয় মরিচ রপ্তানির কেন্দ্র ছিল[৫] এবং মিশরীয়আরব ব্যবসায়ীরা বিশেষভাবে সক্রিয় ছিল। পাঁচটি দক্ষিণ রাজ্যের রন্ধনশৈলীর সাদৃশ্যের মধ্যে রয়েছে প্রধান খাদ্য হিসাবে ভাতের উপস্থিতি, মসুর ডাল ও মশলার ব্যবহার, শুকনো লাল মরিচ ও তাজা সবুজ মরিচ, নারকেল ও তেঁতুল, কলা, কাঁঠাল, চিচিঙ্গা সহ দেশীয় ফল ও শাকসবজি, রসুন ও আদা।[৬]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sen, Colleen Taylor (২০০৪)। Food Culture in India – Food culture around the world। Greenwood Publishing Group। পৃষ্ঠা 58। আইএসবিএন 9780313324871 
  2. Hajeski, Nancy J (২০১৬)। National Geographic Complete Guide to Herbs and Spices: Remedies, Seasonings, and Ingredients to Improve Your Health and Enhance Your Life। National Geographic Books। পৃষ্ঠা 236। আইএসবিএন 9781426215889 
  3. A Sreedhara Menon (২০০৭)। A Survey of Kerala History। DC Books। পৃষ্ঠা 57–58। আইএসবিএন 978-81-264-1578-6। সংগ্রহের তারিখ ১০ অক্টোবর ২০১২ 
  4. Faces of Goa: a journey through the history and cultural revolution of Goa and other communities influenced by the Portuguese By Karin Larsen (p. 392)
  5. Foundations of the Portuguese empire, hi lo millo1415–1580 Bailey Wallys Diffie p.234ff
  6. "Deep history of coconuts decoded | The Source | Washington University in St. Louis"The Source (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১১-০৬-২৪। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-১২-১৯