আসাম-এর গোয়ালপাড়া জেলা-এর আগিয়ার থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি থান হল শ্রীশ্রী রিসি আশ্রিত দ'দান থান৷ প্রতিবছরে ফাল্গুনের শুক্লা মহাষ্টমীর থেকে একাদশী পর্যন্ত এখানে একটি মেলা উদ্‌যাপন করা হয়৷ ১৯৭১ সাল থেকে রাভারা পরম শ্রদ্ধাসহকারে একে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালন করে আসছে৷ এই মেলায় শিব বা রিসির পূজা-অর্চনা করার সাথে বীর রাজা দ'দান এবং দ'দান রাজার সেনাপতি মারুক্ষেত্রীকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ করা হয়৷ পূর্বে যদিও দ'দান মেলায় শাক্ত পূজার প্রচলন ছিল, সম্প্রতি বৈষ্ণব আচার-নীতিতে পূজা-অর্চনা করা হয়৷[১][২]

দ'দান থান
শ্ৰীশ্ৰী ৰিছি আশ্ৰিত দ'দান থান.jpg
শ্রীশ্রী রিসি আশ্রিত দ'দান থান
ধর্ম
অন্তর্ভুক্তিহিন্দুধর্ম
জেলাগোয়ালপাড়া
অবস্থান
অবস্থানআগিয়া, বায়দা, গোয়ালপাড়া
রাজ্যআসাম
দেশভারত

ইতিহাসসম্পাদনা

আসামে বাস করা চীন-তিব্বতীয় মূলের একটি জনগোষ্ঠী হল রাভা জনগোষ্ঠী৷ জনশ্রুতি অনুসারে, রাভাদের আদি রাজা দ'দান৷ প্রবল পরাক্রমী এই দ'দান রাজা প্রথমে বাণ রাজার সেনাপতি ছিলেন৷ অবশ্য কোনো কোনো লোকের মতে দ'দান বাণ রাজার ভাগিনেয় ছিল৷ অন্য কোনো মতে আবার বাণ রাজার জ্যেষ্ঠ পুত্র ইন্দ্রদমনকেও দ'দান বলে বিশ্বাস করা হয়।[১]

বাণ রাজার কন্যা উষাকে শ্রীকৃষ্ণের নাতি অনিরুদ্ধ অগ্নিগড়-এর মধ্যে গন্ধর্ব বিবাহ করবেন বলে জানতে পেরে বাণ রাজা তাকে নাগপাশে বন্দী করে রাখেন৷ এই কথা শুনে শ্রীকৃষ্ণ এসে বাণ রাজার সাথে যুদ্ধ করেন। হরি-হরের যুদ্ধ রূপে পরিগণিত এই যুদ্ধে বাণ রাজার সৈন্য ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে পড়ায় প্রধান সেনাপতি দ'দানও যুদ্ধে আহত হয়ে রাজ্য ত্যাগ করে শেষে 'দক্ষিণ কোল' এ এসে রাজ্য স্থাপন করেন। রাজা দ'দান মারুক্ষেত্রীসহ স্বজন-সামন্তকে তুরা-ফুলবাড়িতে এসে সেখানে নিজ রাজ্য স্থাপন করেন।[১]

রাভারা শাক্তপন্থী৷ যেহেতু দ'দান শিবভক্ত ছিল, সেজন্য রাভারা শিবকে (রিসি) প্রধান দেবতা হিসাবে গণ্য করেন। এই মেলায় রাভা জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন নৃত্য-গীত অনুষ্ঠিত হওয়ার সাথে সার্কাস, সিনেমা, মিনাবাজার মতো অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়৷[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. পর্যটন ক্ষেত্ররূপে দ'দান, মনোরঞ্জন কলিতা, আমার আসাম, পূর্বাচল, ১৮ মার্চ ২০১২
  2. "রাভাগণ সেবা অসম দশম শ্রেনী বাংলা দ্রুত পঠন বৈচিত্র্যপূর্ণ অসম ASSAM SEBA/SMEBA CLASS 10 BENGALI RAPID READER"। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৭-০৭