তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

বাঙালি লেখক ও চিকিৎসক।

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় (৩১ অক্টোবর, ১৮৪৫ — ২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯১) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বাঙালি লেখক।[১]

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়

প্রারম্ভিক জীবনসম্পাদনা

তার জন্ম হয়েছিল নদিয়া জেলার জেলার বাগআঁচড়া গ্রামে। কলকাতার ভবানীপুর মিশনারি সোসাইটি স্কুল থেকে ১৮৬৩ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় পাশ করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। ১৮৬৯ খ্রিষ্টাব্দে এল এম এস পাশ করে সরকারী এসিস্টেন্ট সার্জেন রূপে কাজ করতে থাকেন। ভ্যাকসিন সুপারিন্টেনডেন্ট রূপে কাজের সূত্রে তাকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এই সময় থেকেই উপন্যাস লেখার উপাদান ও লোকচরিত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।[২]

সাহিত্যসম্পাদনা

তারকনাথ ইন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগ্রহে জ্ঞানাঙ্কুর (১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে রাজশাহী থেকে শ্রীকৃষ্ণ দাসের সম্পাদনায় প্রকাশিত) পত্রিকায় লেখা আরম্ভ করেন।[৩] তার রচিত স্বর্ণলতা উপন্যাসটিতে প্রথম গ্রামের গরিব ভদ্র বাঙালির সাংসারিক সুখদুঃখের অনুজ্জ্বল জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়।[৪] উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় একটি পত্রিকায়। পরে এটি ১৮৭৪ খ্রীষ্টাব্দে বই আকারে প্রকাশিত হয়। স্বর্ণলতা ছিল একটি অত্যন্ত সরল রচনা। এই উপন্যাসটি জ্ঞানাঙ্কুর পত্রিকার প্রথম বর্ষে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয় ১২৭৯ বঙ্গাব্দে। অমৃতলাল বসু র বসুর নাটক সরলা তার এই উপন্যাস অবলম্বনে তৈরী যা স্টার থিয়েটারে ১৮৮৮ সালে প্রথম অভিনীত হয় ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। যশোরে অবস্থান করা কালীন নিজে কল্পলতা মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা করেছেন।

তারকনাথের অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হরিষে বিষাদ এবং অদৃষ্ট (১২৯৮ বঙ্গাব্দ)। তার একটি গল্পের বই তিনটি গল্প প্রকাশিত হয় ১২৯৫ বঙ্গাব্দে। এই সমস্ত রচনায় লেখকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছিল। তার অসমাপ্ত উপন্যাসটির নাম বিধিলিপি।[১]

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যে পদার্পণ করার পর যে কয়েকজন লেখক তার প্রভাব এড়িয়ে সাহিত্য সৃষ্টিতে সফল হয়েছিলেন তাদের মধ্যে তারকনাথ অন্যতম। বঙ্কিমি প্রভাব ও রোমান্টিকতা মুক্ত সমসাময়িক ঔপন্যাসিকদের মধ্যে তিনি অগ্রগণ্য।[২]

মৃত্যুসম্পাদনা

তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায় ২২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯১ সালে মারা যান।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Sujit Mukherjee (১৯৯৮)। A Dictionary of Indian Literature: Beginnings-1850। 386: Orient Blackswan। 
  2. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ১৯২। 
  3. শিশিরকুমার দাশ (২০১৯)। সংসদ বাংলা সাহিত্যসঙ্গী। সাহিত্য সংসদ, কলকাতা। পৃষ্ঠা ৯২। আইএসবিএন 978-81-7955-007-9 
  4. সুকুমার সেন (১৯৪০)। বাঙ্গালা সাহিত্যের কথা। কলিকাতা: কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।