ইসলামী আইন অনুসারে তাজির (বা তা'যীর, আরবী: تعزير) বলতে বিচারক (কাজী) বা রাষ্ট্রের শাসকের বিবেচনার ভিত্তিতে অপরাধের জন্য শাস্তিকে বোঝায়।[১] ইসলামী শরিয়া আইনের অধীনে তিনটি প্রধান ধরনের শাস্তি বা নিষেধাজ্ঞা হলো হুদুদ, কিসাস এবং তাজির।[২] কুরআন বা হাদিস দ্বারা হুদুদ অপরাধের শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়েছে[৩] (অর্থাৎ "আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত"[৪]), কিসাস ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ক্ষতির ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রতিশোধ গ্রহণের অনুমতি দেয়, অন্যদিকে তাজির অন্যান্য অপরাধের জন্য প্রযোজ্য শাস্তি বোঝায় যার জন্য কুরআন বা হাদীসে কোন শাস্তি নির্দিষ্ট করা হয়নি।[৫][৬] ইসলামী শরীয়তের সাধারণ নীতিমালা অনুসারে শাস্তিযোগ্য অপরাধের কারণে যে সব শাস্তির বিধান শাসক বা বিচারকদের ক্ষমতায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে সে ধরনের শাস্তিকে তাজির বলা হয়।

সংক্ষিপ্ত বিবরণসম্পাদনা

ধ্রুপদী ইসলামিক আইনে আধুনিক আইনের মতো ফৌজদারি আইনের জন্য পৃথক বিভাগ ছিল না।[৬] ধ্রুপদী ইসলামী আইন সম্পর্কিত বিষয়টিকে সাধারণত চারটি ভাগে বিভক্ত করা যায়, এগুলো হলো ধর্মানুষ্ঠান, বিক্রয়, বিবাহ এবং অন্যায়।[২] আধুনিক সময়ে ইসলামী ফৌজদারি আইনটি এই ধ্রুপদী ইসলামিক আইনশাস্ত্র থেকে তিনটি নিয়মের বিভাজনে উৎকলিত ও সংযুক্ত করা হয়েছে:[২]

  • হুদুদ (আক্ষরিকভাবে "সীমারেখা"[৭]) হলো কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত বিধি এবং যার লঙ্ঘনকে ঈশ্বরের বিরুদ্ধে অপরাধ হিসাবে ইসলামে গণ্য করা হয় এবং এর জন্য একটি নির্দিষ্ট শাস্তির প্রয়োজন হয়। হুদুদ অপরাধের মধ্যে রয়েছে[৮] চুরি, ব্যাভিচার বা ধর্ষণ, ব্যাভিচার সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ করা বা অপবাদ, মদ্যপান, ডাকাতি, বিদ্রোহ ও ধর্মত্যাগ এর মতো অপরাধ সমূহ।[৯][১০]
  • কিসাস (আক্ষরিক অর্থ "একই প্রকার বদলা"[১১]) এবং দিয়াত ( دية)  ("রক্তমূল্য") হচ্ছে ইসলামী আইনশাস্ত্রে অপরাধের দ্বিতীয় বিভাগ, যেখানে শরিয়া সম্ভাব্য শাস্তি হিসাবে সমান পরিমান বদলা (কিসাস) বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ (দিয়ত[১২]) নির্দিষ্ট করে। এই ভাগে অন্তর্ভুক্ত হত্যাকাণ্ড, উদাহরণস্বরূপ, যা ইসলামী আইন বিশ্বাসীদের মধ্যে একটি নাগরিক বিরোধ হিসাবে বিবেচনা করে।[১৩] যখন একজন মুসলমান খুন হন, শারীরিকভাবে আঘাত পান বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্থ হন তখন কিসাসের নীতি আসামীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য হয়, আর কিসাসের হকদার হন আক্রান্ত ব্যক্তি বা তার উত্তরাধিকারীগণ।[১৪] হত্যার ক্ষেত্রে কিসাস হলো হত্যার শিকারের নিকটতম আত্মীয় বা ওয়ালি (ولي) (আইনগত অভিভাবক) এর অধিকারি হবে, আদালত যদি অনুমোদন দেয় তবে হত্যাকারীর শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড।[১৫]
  • তাজির (আক্ষরিক অর্থে "শাস্তি দেওয়ার জন্য"[৭] কখনো কখনো তাজির, তিজার, তাজর, তাজার হিসাবে বর্ণিত) হলো তৃতীয় ভাগ, এবং কুরআন বা হাদিসে বর্ণিত অপরাধকে বোঝায়, তবে কুরআন বা হাদীসে এর শাস্তি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি।[২][১৬]

ধর্মগ্রন্থেসম্পাদনা

যে অর্থে আধুনিক ইসলামী ফৌজদারি আইন এটি ব্যবহার করে সেভাবে তাজির শব্দটি কুরআন বা হাদীসে আসেনি।[১৭] তবে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে অপরাধ চিহ্নিত করা হয়েছে, অভিযুক্তের শাস্তির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, তবে নির্দিষ্ট শাস্তির বর্ণনা দেওয়া হয়নি। এই উদাহরণগুলির ফলে প্রাথমিক ইসলামী পন্ডিতদের কুরআন ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করতে হন যেহেতু কিছু অপরাধের বিচক্ষণ বিচারের প্রয়োজন ছিল, যাকে বলে তাজির।[১৭] তাজিরকে সমর্থন করে কুরআনের এমন নির্দিষ্ট আয়াতগুলির উদাহরণ,[১৭]

তোমাদের মধ্য থেকে যে দু'জন অশ্লীল কুকর্ম করে, তাদের উভয়কেই শাস্তি দাও; অতঃপর যদি তারা তওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে, তবে তাদের থেকে হাত গুটিয়ে নাও; নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

— আল-কুরআন ৪:১৬

আর যারা আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের পরে তাঁর সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের বিতর্ক তাদের পালনকর্তার কাছে বাতিল এবং তাদের প্রতি আল্লাহর গযব এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি।

— আল-কুরআন ৪২:১৬

তাজির অপরাধের উদাহরণসম্পাদনা

তাজির অপরাধকে ইসলামী বিদ্যায় দুটি উপ-বিভাগে বিস্তৃতভাবে ভাগ করা হয়েছে।[১৮] প্রথমটি হলো সেই অপরাধ যাঁর প্রকৃতি একই রকম তবে হুুদুদ অপরাধের সম্পূর্ণ আবশ্যিক শর্তসমূহ যথাযথভাবে পূরণ করে না। এই ধরনের তাজির অপরাধের উদাহরণের মধ্যে আত্মীয়দের মধ্যে চুরি, বা ডাকাতির চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়, বেগানা মহিলার সাথে একান্তে থাকা এবং সমকামী সংস্পর্শ যেমন চুম্বন যার ফলে ব্যভিচার হয় না।[১৮][১৯] তাজির অপরাধের দ্বিতীয় উপ-বিভাগটি কুরআন ও হাদিসে উল্লেখিত আচরণ লঙ্ঘনকারী ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত অপরাধগুলির সাথে সম্পর্কিত। দ্বিতীয় উপ-বিভাগের উদাহরণের মধ্যে রয়েছে মিথ্যা সাক্ষ্যদান, আসল সহ সুদের জন্য অন্য কোনও ব্যক্তিকে অর্থ বা কোনও সম্পত্তি ঋণ দেওয়া, যে কোন ধরনের কাজ যা জনশৃঙ্খলা বা মুসলিম সম্প্রদায় বা ইসলামকে হুমকি দেয় বা ক্ষতি করে।[১৮][১৯]

চতুর্দশ শতাব্দীর ফকীহ ইবনে তাইমিয়া তাজির অপরাধ হিসাবে যে কোন রকম অবাধ্যতাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং শরীয়াতে কোন ধরনের আইনি দণ্ড নেই এমন কয়েকটি উদাহরণ তালিকাভুক্ত করেছেন:[২০]

  1. যে লোক বৈবাহিক বা খুব নিকট আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এমন বালক বা মহিলাকে চুম্বন করে;[২০]
  2. যে ব্যভিচার ছাড়াই মৈথুন করে;[২০]
  3. যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ বস্তু বক্ষণ করে যেমন- রক্ত, বা মৃত প্রাণী যা প্রাকৃতিকভাবে মৃত্যুবরন করেছে বা নিয়মবিরূদ্ধ উপায়ে জবাই করা মাংস;[২০]
  4. যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে পড়ে থাকা বা যার মূল্য অস্পষ্ট এমন কোন জিনিস চুরি করে;[২০]
  5. যে ব্যক্তি খাদ্যদ্রব্য এবং কাপড়ের মতো পণ্যসমূহে বেজাল মেশায়, বা যে ব্যক্তি পরিমানে বা ওজনের কম দেয়;[২০]
  6. যে ব্যক্তি মিথ্যা সাক্ষ্য দেয় বা অন্যকে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে উৎসাহ দেয়;[২০]
  7. যে বিচারক আল্লাহর নির্দেশকৃত নিয়মের বিপরীতে বিচার করেন;[২০]
  8. গুপ্তচরবৃত্তিতে জড়িত অমুসলিম বা মুসলিম;[২০]
  9. যে ঝগড়াটে মহিলা তার স্বামীকে জেরা করে বা অভদ্র আচরণ করে;[২১]
  10. যে ব্যক্তি কাজীর বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলে বা অন্য মুসলিমদের মতামতকে চ্যালেঞ্জ করে;[২০]

আরও অন্যান্য অসংখ্য অপরাধ তাজির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২][২১]

তাজির শাস্তিসম্পাদনা

কম গুরুতর অপরাধের জন্য শরিয়া আদালতে তাজির সাধারণ শাস্তির বিধান আছে।[১৭] অপরাধের ধরনের সাথে শাস্তির পরিমানও পৃথক হয় এবং এর শাস্তির মধ্যে আছে জেল খাটানো, চাবুক মারা, জরিমানা, নির্বাসন এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। ষোড়শ শতাব্দীর মিশরীয় ফকীহ ইবনে নুযায়ম বলেন যে তাজিরের মধ্যে বেত্রাঘাত, চপেটাঘাত করা, কান মলা, কড়া কথা বলা, অপমান করে ছোট করা বা বিচারকের কড়াভাবে তাকানো ইত্যাদি।[২২][২৩] অভ্যাসগত সমকামিতা, মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভক্ত করা, মুসলিম রাষ্ট্রের শত্রুর পক্ষে তাত্ত্বিক মতবাদ প্রচার বা গুপ্তচরবৃত্তি করার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমতি রয়েছে।[১৭][২৪][২৫] ফিকহ (মাযহাব) এর চারটি গোষ্ঠী, যথা হানাফি, মালিকি, শাফিঈ এবং হাম্বলি, কিছু তাজির অপরাধের জন্য রাষ্ট্র বা কাজীর বিবেচনার ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ডের অনুমতি দেয়।

সমসাময়িক প্রয়োগ

ব্রুনেই তাজিরকে তার শরিয়াহ ফৌজদারি আইনে অন্তর্ভুক্ত করে  যা ২০১৪ সালে কার্যকর হয়। ব্রুনাইয়ের তাজির অপরাধের মধ্যে এখন ১৫ বছরের বেশি বয়সী কোন ব্যক্তি জুম্মার নামাজ আদায় করতে ব্যর্থ হওয়া, যে কোন মুসলিম রমজান মাসকে অসম্মান করলে, এবং খালওয়াত (ডেটিং বা বিপরীত লিঙ্গের অনাত্মীয় ব্যক্তিদের মধ্যে যে কোন ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন) এর মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।[২৬]

ইরান ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পরে তাজিরকে তার আইনে অন্তর্ভুক্ত করে, এই বিভাগটিকে কানুন-ই তাজির নামকরণ করেছে। এই তাজির আইন অবৈধ চুম্বন, হিজাবের মতো সঠিক মাথা ঢাকার পোশাক পরিধান করতে ব্যর্থ হওয়া এবং বিচার এবং অভিভাবক পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি দেয়।[২৭]

আরও দেখুনসম্পাদনা

আরও পড়ুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Tazir Oxford Islamic Studies, Oxford University Press
  2. Mark Cammack (2012), Islamic Law and Crime in Contemporary Courts, BERKELEY J. OF MIDDLE EASTERN & ISLAMIC LAW, Vol. 4, No.1, pp. 1-7
  3. "Hadd" Oxford Islamic Studies
  4. Wasti, Tahir (২০০৯)। The application of Islamic criminal law in Pakistan Sharia in practice। Brill Academic। পৃষ্ঠা xix, 72–73। আইএসবিএন 978-90-04-17225-8 
  5. Mohamed S. El-Awa (১৯৯৩)। Punishment In Islamic Law। American Trust Publications। পৃষ্ঠা 1–68। আইএসবিএন 978-0892591428 
  6. Wael Hallaq (2009), SHARI’A: THEORY, PRACTICE, TRANSFORMATIONS, Cambridge University Press, আইএসবিএন ৯৭৮-০৫২১৬৭৮৭৪২, pp. 309, 551-558
  7. Smith, Sidonie (Editor) (১৯৯৮)। Women, Autobiography, Theory : a Reader। University of Wisconsin Press। পৃষ্ঠা 124। আইএসবিএন 978-0-299-15844-6 
  8. "Hadd" Oxford Islamic Studies, Oxford University Press
  9. Mohamed S. El-Awa (১৯৯৩)। Punishment In Islamic Law। American Trust Publications। পৃষ্ঠা 1–68। আইএসবিএন 978-0892591428 
  10. Silvia Tellenbach (২০১৫)। The Oxford Handbook of Criminal Law (Ed: Markus D. Dubber and Tatjana Hornle)। Oxford University Press। পৃষ্ঠা 251–253। আইএসবিএন 978-0199673599 
  11. Mohamed S. El-Awa (1993), Punishment In Islamic Law, American Trust Publications, আইএসবিএন ৯৭৮-০৮৯২৫৯১৪২৮
  12. Christie S. Warren, Islamic Criminal Law, Oxford University Press, Qisas
  13. Wasti, Tahir (২০০৯)। The application of Islamic criminal law in Pakistan Sharia in practice। Brill Academic। পৃষ্ঠা 283–288। আইএসবিএন 978-90-04-17225-8 
  14. Tahir Wasti (2009), The Application of Islamic Criminal Law in Pakistan: Sharia in Practice, Brill Academic, আইএসবিএন ৯৭৮-৯০০৪১৭২২৫৮, pp. 12-13
  15. Encyclopædia Britannica, Qisas (2012)
  16. Wasti, Tahir (২০০৯)। The application of Islamic criminal law in Pakistan Sharia in practice। Brill Academic। পৃষ্ঠা xix। আইএসবিএন 978-90-04-17225-8 
  17. Hakeem, Farrukh (২০১২)। Policing Muslim communities comparative international context। New York: Springer। পৃষ্ঠা 16–20। আইএসবিএন 978-1-4614-3551-8 
  18. Criminal Law in Islam, The Oxford Encyclopedia of the Islamic World, Oxford Islamic Studies, Oxford University Press (2013)
  19. Bassiouni, M (১৯৮২)। The Islamic criminal justice system (Ta'azir Crimes chapter)। London New York: Oceana Publications। আইএসবিএন 978-0-379-20749-1 
  20. Omar A. Farrukh (১৯৬৯)। Ibn Taimiyya on Public and Private Law in Islam or Public Policy in Islamic Jurisprudence। পৃষ্ঠা 92–97। ওসিএলসি 55624054 
  21. Boğaç Ergene (২০০৯)। Judicial practice : institutions and agents in the Islamic world। Leiden: Brill Academic। পৃষ্ঠা 266–267। আইএসবিএন 978-90-04-17934-9 
  22. Ibn Nujaym, Zayn al-Dīn Ibrāhīm (১৯৯৭)। al-Baḥr al-rāʾiq sharḥ Kanz al-daqāʾiq। Dar al-kutub al-ʿilmiyya। পৃষ্ঠা V: 68। 
  23. James E. Baldwin (2012), Prostitution, Islamic Law and Ottoman Societies, Journal of the Economic and Social History of the Orient, 55, pp. 117-52
  24. Terrill, Richard (২০১৩)। World criminal justice systems : a comparative survey। Anderson Pub। পৃষ্ঠা 562–563। আইএসবিএন 978-1-4557-2589-2 
  25. Gerald E. Lampe (১৯৯৭)। Justice and human rights in Islamic law। Washington, D.C: International Law Institute। পৃষ্ঠা 88। আইএসবিএন 978-0-03-532984-0 
  26. Basuni, Izzuddin (২০১৪-০৫-১৭)। "Ta'zir offences explained"The Brunei Times। ২০১৫-০৫-১৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৫-০৫-০৯ 
  27. Cronin, Stephanie (২০০৪)। Reformers and revolutionaries in modern Iran : new perspectives on the Iranian left। Routledge। পৃষ্ঠা 273। আইএসবিএন 978-0-415-57344-3