ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক ড্রেক ১৯৬০-এর দশকে বহির্জাগতিক যেসকল সভ্যতাসমূহের সাথে আমাদের যোগাযোগ স্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোর সংখ্যা প্রণয়নের জন্য একটি সূত্রের অবতারণা করেন, যেটি পরবর্তীকালে ড্রেকের সূত্র বা ড্রেকের সমীকরণ নামে পরিচিতি পায়। এই সূত্রটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে নিয়ামকসমূহ বহির্জাগতিক সভ্যতাসমূহের সংখ্যা নির্ণয়ে ভূমিকা রাখে সেই নিয়ামকগুলোর অনিশ্চয়তার পরিমাণ নির্ণয়ে বিজ্ঞানীদেরকে সহায়তা করা। বর্তমানকালে বিরল পৃথিবী প্রকল্প বা Rare Earth Hypothesis নামীয় তত্ত্ব যা অনুসারে মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব খুবই বিরল, ড্রেকের তত্ত্বের একটি অন্যতম খন্ডনকারী।

ড্রেকের সূত্র
ফ্রাঙ্ক ড্রেক, এই সূত্রের আবিষ্কারক

ড্রেকের সূত্র ফার্মির কূটাভাসের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। জিন রডেনবারি তার স্টার ট্রেক নামক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে মহাজাগতিক যুদ্ধে লিপ্ত সভ্যতার প্রদর্শনের মাধ্যমে এই সূত্রের একটি প্রামাণ্য চিত্র উপস্থাপন করেন।

সূত্রসম্পাদনা

ড্রেকের সূত্রের বর্ণনামতে পাওয়া যায় যে:

 

যেখানে,

N - হল আকাশগঙ্গা ছায়াপথের অন্তর্ভুক্ত সেই সকল সভ্যতাসমূহ যাদের দ্বারা প্রেরিত তাড়িতচৌম্বক নিঃসরণগুলো চিহ্নিত করা যায়। এর ফলে তাদের সাথে আমাদের যোগাযোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়।
R* - হল বুদ্ধিমান প্রাণের উৎপত্তির জন্য অনুকূল পরিবেশ বিশিষ্ট তারাসমূহ সংগঠনের হার।
fp - হল সেই সকল তারার ভগ্নাংশ (শতকরা অংশ বা পারসেন্টেজ) যাদের একটি গ্রহ ব্যবস্থা রয়েছে।
ne - হল, যে সকল তারার গ্রহব্যবস্থা রয়েছে সে সকল তারাপ্রতি গ্রহসমূহের সংখ্যা যাতে জীবন সৃষ্টির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
fl - যে সকল গ্রহে জীবন সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ থাকার কারণে সত্যিই প্রাণের আবির্ভাব ঘটেছে তাদের ভগ্নাংশ (শতকরা অংশ বা %)।
fi - সে সকল প্রাণশীল গ্রহসংখ্যার ভগ্নাংশ (শতকরা অংশ বা পারসেন্টেজ) যে সকল গ্রহের উপর বুদ্ধিমান প্রাণীর বিচরণ রয়েছে।
fc - সে সকল প্রাণশীল গ্রহসংখ্যার ভগ্নাংশ (শতকরা অংশ বা পারসেন্টেজ) যে সকল গ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীরা প্রযুক্তির এতোটুকু উন্নয়ন ঘটিয়েছে যা দ্বারা মহাকাশে সংকেত পাঠানোর মাধ্যমে তারা নিজেদের উপস্থিতির কথা জানান দিতে পারে।
L - হল সে সময়কাল যে সময়কাল ধরে সেই বুদ্ধিমান প্রাণীরা তাদের উপস্থিতির প্রমাণস্বরুপ নির্ণয়যোগ্য সংকেত পাঠাতে পারে।

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা