ডন বিয়ার্ড

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার

ডোনাল্ড ডেরেক বিয়ার্ড (ইংরেজি: Don Beard; জন্ম: ১৪ জানুয়ারি, ১৯২০ - মৃত্যু: ১৫ জুলাই, ১৯৮২) মানাওয়াতুর পালমারস্টোন নর্থ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫০-এর দশকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

ডন বিয়ার্ড
ডন বিয়ার্ড.jpg
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামডোনাল্ড ডেরেক বিয়ার্ড
জন্ম(১৯২০-০১-১৪)১৪ জানুয়ারি ১৯২০
পালমারস্টোন নর্থ, মানাওয়াতু, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু১৫ জুলাই ১৯৮২(1982-07-15) (বয়স ৬২)
ল্যাঙ্কাশায়ার, ইংল্যান্ড
উচ্চতা৬ ফুট ৩ ইঞ্চি (১.৯১ মিটার)
ব্যাটিংয়ের ধরনডানহাতি
বোলিংয়ের ধরনডানহাতি মিডিয়াম-পেস
ভূমিকাঅল-রাউন্ডার
সম্পর্কডেরেক বিয়ার্ড (পুত্র)
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ৫৪)
৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
শেষ টেস্ট৯ মার্চ ১৯৫৬ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৬৬
রানের সংখ্যা ১০১ ২১৬৬
ব্যাটিং গড় ২০.১৯ ২২.১০
১০০/৫০ ০/০ ০/৯
সর্বোচ্চ রান ৩১ ৮১*
বল করেছে ৮০৬ ১৯০৬৫
উইকেট ২৭৮
বোলিং গড় ৩৩.৫৫ ২১.৫৮
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৩/২২ ৭/৫৬
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ২/- ৫০/-
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ১৪ জুলাই ২০২০

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস, নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টস ও ওয়েলিংটন দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন ডন বিয়ার্ড

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

পালমারস্টোন নর্থে ডন বিয়ার্ড তার শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। প্রতিদিন ১৫ মাইল সাইকেল চালনা করে পালমারস্টোন নর্থ বয়েজ হাই স্কুলে অধ্যয়ন করতেন।[১] অকল্যান্ডে শিক্ষা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। এরপর, ওয়েলিংটনভিত্তিক ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৫-৪৬ মৌসুম থেকে ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম পর্যন্ত ডন বিয়ার্ডের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৯৫৬ সালে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট অ্যালমেনাক কর্তৃক বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের সম্মাননা লাভ করেন।

নিখুঁতমানের ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার ও কার্যকর নিচেরসারির ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন ডন বিয়ার্ড। ডিসেম্বর, ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় প্রথম রাউন্ডে ওয়েলিংটন দলের সদস্যরূপে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটার জন্যে তাকে মনোনীত করা হয়। তবে, অগ্নিকাণ্ডের শিকারে পরিণত হলে তিনি সুস্থ হতে পারেননি। ফলশ্রুতিতে, রে বুচানকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছিল।[২] এর কয়েক সপ্তাহ পর প্রীতি খেলায় অকল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয় তার।[৩]

নিখুঁতভাব বজায় রেখে ডানহাতে মিডিয়াম-পেস বোলিং করতেন। দেরীতে সুইং করাতেন। বলকে সজীবভাবে আঘাত করতেন। সেন্ট্রাল ও নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে সব মিলিয়ে ২১.৫৮ গড়ে ২৭৮টি প্রথম-শ্রেণীর উইকেট পেয়েছেন। এছাড়াও, ২২.১০ গড়ে ২,১৬৬ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি।

১৯৫১-৫২ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ড প্রতিযোগিতায় ২৭.২৫ গড়ে ১৬ উইকেট দখল করেন।[৪] ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দল প্রথমবারের মতো প্লাঙ্কেট শীল্ডের শিরোপা জয় করে। এ পর্যন্ত তিনি ওয়েলিংটনের বিপক্ষে অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস খেলেন। এটিই তার প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ ছিল।[৫] ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমের প্লাঙ্কেট শীল্ডে বোলিং গড়ে শীর্ষস্থান দখল করেন। ১০.৬৪ গড়ে ২৮ উইকেট দখল করেছিলেন তিনি। ২১৭ ওভারের মধ্যে ১১০ ওভারই মেইডেন ছিল।[৬]

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন ডন বিয়ার্ড। সবগুলো টেস্টই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেছিলেন তিনি। ৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫২ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ৯ মার্চ, ১৯৫৬ তারিখে অকল্যান্ডে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি।

ঘরোয়া ক্রিকেটে সুন্দর ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৫১-৫২ মৌসুমে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিপক্ষে খেলার জন্যে তাকে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। ঐ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিউজিল্যান্ড গমন করে। দুই টেস্টে খেলার সুযোগ পান ও চার উইকেট দখল করেন।

১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নিউজিল্যান্ড গমনে আসে। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে সফরকারীরা খুব সহজেই জয় পায়। এরপর, ওয়াঙ্গানুইয়ে সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টসের মুখোমুখি হয় দলটি। উভয় ইনিংসেই ডন বিয়ার্ড দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। ২৫ ও ৬৭ রানের পাশাপাশি ৩/৫২ ও ২/৫৯ পান। খেলায় তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫০.১-২০-১১১-৫।[৭] সিরিজের শেষ দুই টেস্টে তাকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়। তন্মধ্যে, চতুর্থ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩১ ও অপরাজিত ৬ রানের পাশাপাশি ১/২০ ও ৩/২২ লাভ করেন।[৮] এছাড়াও বল হাতে নিয়ে প্রথম ইনিংসে ১/২০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে পনেরো ওভারে ৩/২২ পান। এ জয়লাভের জন্যে নিউজিল্যান্ড দলকে ২৬ বছর ও ৪৫ টেস্ট পর্যন্ত অপেক্ষার প্রহর গুণতে হয়েছিল।

তবে, এটিই তার খেলোয়াড়ী জীবনের সর্বশেষ টেস্ট ছিল। অংশগ্রহণকৃত চার টেস্টে ২০.২০ গড়ে ১০১ রান ও ৩৩.৫৫ গড়ে নয় উইকেট পেয়েছিলেন।

অবসরসম্পাদনা

১৯৫৬-৫৭ মৌসুমে ইনিংসসহ খেলায় সেরা বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করান। ডুনেডিনে ওতাগো’র বিপক্ষে ৭/৫৬ ও ৪/৪৩ পান। খেলায় তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৬১/৪-২৬-৯৯-১১। তাসত্ত্বেও ওতাগো জয়লাভে সক্ষমতা দেখায়।[৯] ১৯৬০-৬১ মৌসুম পর্যন্ত সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টস দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হন। ঐ মৌসুমে ১৫ উইকেট পান ও ৫১.০০ গড়ে ২৫৫ রান তুলেছিলেন তিনি।[১০]

১৯৬১ সালে ওয়াকাতুভিত্তিক টি আরোহা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত হন।[১১] নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশ নেন তিনি। ১৯৬১-৬২ মৌসুমে অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/৭০ ও ৬/৭১ এবং পরের খেলায় ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ৫/৬০ ও ৩/৩৬ পান।[১২] ৪৫ বছর অতিক্রান্ত হবার অল্প কিছুদিন পর ১৯৬৪-৬৫ মৌসুমে সর্বশেষ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও, হক কাপ প্রতিযোগিতায় ওয়াঙ্গানুই, মানাওয়াতু ও টেমস ভ্যালির পক্ষে খেলেছেন।

প্রায় ছয় ফুট তিন ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি।[১৩] ক্রিকেটের পাশাপাশি বাস্কেটবল, গল্ফ ও রাগবি ইউনিয়নে দক্ষ ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে বাস্কেটবল খেলেন। শৌখিন গল্ফার ছিলেন তিনি। এছাড়াও, ওয়েলিংটন, ওয়াঙ্গানুই ও নর্থ আইল্যান্ডের পক্ষে রাগবি ইউনিয়ন খেলেছেন। তন্মধ্যে, ওয়াঙ্গানুইয়ের অধিনায়কত্ব করেছেন তিনি।[১৪]

তে আরোহা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। তার সন্তান ডেরেক বিয়ার্ড নিউজিল্যান্ডে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। ১৫ জুলাই, ১৯৮২ তারিখে ৬২ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ারের ল্যাঙ্কাস্টার এলাকায় ডন বিয়ার্ডের দেহাবসান ঘটে। মৃত্যুকালীন তিনি ইংল্যান্ডে অবকাশ পালন করছিলেন।[১৪]

মূল্যায়নসম্পাদনা

ডন বিয়ার্ডের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে ডিক ব্রিটেনডেন মন্তব্য করেন যে, তিনি মূলতঃ সুইপ শটেই সবিশেষ পারদর্শী ছিলেন। তার এই বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ী জীবনে আরও রান তুলতে পারতেন যদি বোলিংয়ের দিকে অধিক মনোনিবেশ না ঘটাতেন।[১৫]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. R.T. Brittenden, New Zealand Cricketers, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1961, p. 20.
  2. "Plunket Shield: Cricket at the Basin"Evening Post। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৪৫। পৃষ্ঠা 6। 
  3. "Plunket Shield matches played by Don Beard"। CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ 
  4. Bowling averages, Plunket Shield, 1951-52
  5. Wellington v Central Districts, 1953-54
  6. Wisden 1957, p. 877.
  7. Central Districts v West Indians, 1955-56
  8. New Zealand v West Indies, Auckland 1955-56
  9. Otago v Central Districts, 1956-57
  10. Batting averages, Plunket Shield, 1953-54
  11. Brittenden, New Zealand Cricketers, p. 23.
  12. Wisden 1963, p. 956.
  13. Brittenden, New Zealand Cricketers, p. 19.
  14. Dick Brittenden, "Don Beard", Cricketer, November 1982, p. 68.
  15. R.T. Brittenden, Great Days in New Zealand Cricket, A.H. & A.W. Reed, Wellington, 1958, p. 179.

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা