জ্যানেট ফ্রাঙ্কলিন

মার্কিন ভূগোলবিদ, উদ্ভিদবিদ এবং ভূদৃশ্য বাস্তুবিদ

জ্যানেট ফ্রাঙ্কলিন (Janet Franklin; জন্ম: ৮ জুলাই ১৯৫৯; জন্মস্থান: ফ্রাঙ্কফুর্ট, জার্মানি[১]) একজন আমেরিকান ভূগোলবিদ, উদ্ভিদবিদ এবং ভূদৃশ্য বাস্তুবিদ (landscape ecologist)। তিনি বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইড -এর উদ্ভিদতত্ত্ব এবং উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের জৈবভূগোল বিষয়ের একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন।[২]

উদ্ভিদ-আচ্ছাদিত অঞ্চল সম্পর্কে বোঝা ও তার মডেল তৈরির উদ্দেশ্যে দূর-অনুধাবন পদ্ধতির ব্যবহারই ফ্রাঙ্কলিনের কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু।[৩] ভূদৃশ্যে মানবসৃষ্ট পরিবর্তন অধ্যয়ন এবং পূর্বাভাসভিত্তিক উদ্ভিদ ম্যাপিং (predictive vegetation mapping)-এ তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।[৪][৫] সাম্প্রতিক কালে তার কাজের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তন (ঘটমান এবং ঐতিহাসিক উভয় ধরনের)।[৬][৭][৮]

ফ্রাঙ্কলিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্স[১] (জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদ) এর একজন সদস্য এবং অ্যামেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অফ সায়েন্স (বিজ্ঞানের অগ্রগতি বিষয়ক আমেরিকান সমিতি) ও অ্যামেরিকান অ্যাকাডেমি অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস (আমেরিকান শিল্পকলা ও বিজ্ঞান পরিষদ) এর একজন ফেলো। বর্তমানে ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন্স (বাংলায় বৈচিত্র্য এবং বণ্টন) নামক অধিক সমাদৃত জৈবভূগোল বিষয়ক একটি সাময়িকীর প্রধান সম্পাদকও তিনি।

বাল্যজীবন এবং শিক্ষাসম্পাদনা

ফ্রাঙ্কলিন সান ফ্রান্সিস্কো'র নিকটবর্তী এলাকায় বেড়ে উঠেছেন।[১] তিনি ১৯৭৯ সালে সান্তা বারবারার ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে পরিবেশগত জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক, একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯৮৩ সালে ভূগোলে স্নাতকোত্তর এবং সবশেষে ১৯৮৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।[৯] মালিতে কাষ্ঠজ বনায়ন কাঠামোর দূর অনুধাবন ছিল তার গবেষণার মূল বিষয়।[১০][১১]

পেশাগত জীবনসম্পাদনা

বায়ু-চিত্র (aerial photographs) হতে পাইন গাছের বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে পার্থক্য ধরতে পারার ক্ষমতার কারণে একজন অধ্যাপক যখন তাকে ডক্টরেট প্রার্থী হিসেবে নিজের অধীনে কাজ করার সুযোগ দেন, তখন থেকেই দূর অনুধাবন নিয়ে ফ্রাঙ্কলিনের কাজের সূত্রপাত ঘটে।[৩]

১৯৮৮ সালে শিক্ষক ও গবেষক হিসেবে তিনি স্যান ডিয়েগো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন, যেখানে তিনি ২০০৯ সাল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তার ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত “প্রেডিক্টিভ ভেজিটেশন ম্যাপিং : মডেলিং অফ বায়োস্প্যাশিয়াল প্যাটার্নস ইন রিলেশন টু এনভায়রনমেন্টাল গ্রেডিয়েন্টস” (Predictive vegetation mapping: geographic modeling of biospatial patterns in relation to environmental gradients) – শীর্ষক গবেষণা নিবন্ধটিকে আধুনিক দূর-অনুধাবন ভিত্তিক ভূদৃশ্য বাস্তুশাস্ত্রের (landscape ecology) ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০০৯ সালে তিনি অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন, এবং ২০১৫ সালে তিনি সেখানে বিশিষ্ট অধ্যাপক (Regent's Professor) পদে আসীন হন।[১২] ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি আন্তর্জাতিক ভূদৃশ্য বাস্তুবিদ্যা সমিতি’র (International Association of Landscape Ecology) যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[১] তার কিছু কিছু গবেষণা আবার ওয়েস্ট ইন্ডিজপলিনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের বাস্তুতন্ত্রকেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রিভারসাইড এ যোগ দেন।[২]

নির্বাচিত কর্মসম্পাদনা

ফ্রাঙ্কলিন তার কর্মজীবনে একটি বই এবং একশ' বিশটিরও বেশি নিরীক্ষক-পর্যালোচিত (peer-reviewed) অ্যাকাডেমিক নিবন্ধের রচয়িতা।[৯]

গ্রন্থসম্পাদনা

  • ফ্রাঙ্কলিন, জ্যানেট। ম্যাপিং স্পিসিজ ডিস্ট্রিবিউশন : স্প্যাশিয়াল ইনফারেন্স অ্যান্ড প্রেডিকশন, ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় ছাপাখানা, ২০১০।

নিবন্ধসম্পাদনা

  • ফ্রাঙ্কলিন, জ্যানেট। “প্রেডিকটিভ ভেজিটেশন ম্যাপিং : জিওগ্রাফিক মডেলিং অফ বায়োস্প্যাশিয়াল প্যাটার্নস ইন রিলেশন টু এনভায়রনমেন্টাল গ্রেডিয়েন্টস”, প্রোগ্রেস ইন ফিজিক্যাল জিওগ্রাফি ১৯, খণ্ড ৪ (১৯৯৫)
  • ফ্রাঙ্কলিন, জ্যানেট। “প্রেডিকটিং দ্য ডিস্ট্রিবিউশন অফ শ্রাব স্পিসিজ ইন সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ফ্রম ক্লাইমেট অ্যান্ড টিরেইন-ডেরাইভ্‌ড ভ্যারিয়েবল্‌স।” জার্নাল অফ ভেজিটেশন সায়েন্স ৯, খণ্ড ৫ (১৯৯৮)
  • ফ্রাঙ্কলিন, জ্যানেট। “মুভিং বিয়ন্ড স্ট্যাটিক স্পিসিজ ডিস্ট্রিবিউশন মডেলস ইন সাপোর্ট অফ কনজারভেশন বায়োজিওগ্রাফি”, ডাইভার্সিটি অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন্স ১৬, খণ্ড ৩ (২০১০)
  • ফ্রাঙ্কলিন, জ্যানেট। “মডেলিং প্ল্যান্ট স্পিসিজ ডিস্ট্রিবিউশন্স আন্ডার ফিউচার ক্লাইমেট : হাও ফাইন স্কেল ডু ক্লাইমেট প্রোজেকশন্স নিড টু বি?গ্লোবাল চেঞ্জ বায়োলজি ১৯.২ (২০১৩)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Janet Franklin"www.nasonline.org। National Academy of Sciences। ২০১৯-০৩-২৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  2. "Department of Botany & Plant Sciences: Faculty"plantbiology.ucr.edu। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  3. Giles, Nathan (২০১৬-০২-২২)। "Janet Franklin adds complexity to the climate change map"American Association for the Advancement of Science (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  4. "Alumna Janet Franklin Honored for Ecosystems Work | UC Geography"geog.ucsb.edu। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  5. Staff, A. A. G. (২০১৫-০৫-১৮)। "Janet Franklin inducted into National Academy of Science; joins the other NAS members at Arizona State University"AAG Newsletter (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  6. Sheriff, Natasja (২০১৫-১১-১২)। "What The Last Ice Age Tells Us About Protecting Birds from Climate Change Now"Audubon (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  7. Hays, Brooks (২০১৭-০৭-২৯)। "Climate change pushed songbirds from Bahamas in the wake of the last ice age"UPI (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  8. Mastroianni, Brian (২০১৫-১১-২৩)। "Which is worse for wildlife - climate change or humans?"www.cbsnews.com (ইংরেজি ভাষায়)। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  9. "Janet Franklin - Person"Julie Ann Wrigley Global Institute of Sustainability (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  10. "UCSB Geography in the 1980s: A Mini-Memoir from Janet Franklin - UC Geography"geog.ucsb.edu। ২০১৯-০২-০৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ 
  11. "Janet Franklin - VALE Lab"sites.google.com। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  12. "Janet Franklin | School of Life Sciences"sols.asu.edu (ইংরেজি ভাষায়)। সংগ্রহের তারিখ ২০১৯-০২-০৩ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]