জেরুসালেম অবরোধ (১৮৩৪)

১৮৩৪ সালে ফিলিস্তিনে কৃষক বিদ্রোহের সময় জেরুসালেম অবরোধ সংঘটিত হয় যার ফলে মিশরীয় সেনাপতি ইবরাহিম পাশা ও তার সৈন্যদলের উসমানীয় সিরিয়ায় আগমন ঘটে। স্থানীয় আরব কৃষক বিদ্রোহীরা শহরের ২০০০ মিশরীয় সেনাদের ২১ জুন থেকে ইবরাহিম পাশার সৈন্যদল নিয়ে ৭ জুনে আসার আগ পর্যন্ত অবরোধ করে। ৯ জুন তারিখে ইবরাহিম পাশার নেতৃত্বে বিদ্রোহী বাহিনীকে পরাস্ত করা হয়।

জেরুসালেম অবরোধ
মূল যুদ্ধ: ১৮৩৪ সালের কৃষক বিদ্রোহ (ফিলিস্তিন)
তারিখ২১ মে – ৭ জুন ১৮৩৪
অবস্থান
জেরুসালেম, মিশর-নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণ সিরিয়া (ফিলিস্তিন)
ফলাফল

বিদ্রোহীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়

  • ৭ জুনে, ইব্রাহিম পাশা মিশরীয় সৈন্যদল নিয়ে শহরে আসে।
  • ৯ জুনে, নাবলুসের বিদ্রোহী দলদের শহরে পৌঁছানোর পূর্বেই পরাজিত করা হয়।
বিবাদমান পক্ষ
মিশর এলায়েত ফিলিস্তিনি বিদ্রোহী গোত্র
সেনাধিপতি ও নেতৃত্ব প্রদানকারী
ইবরাহিম পাশা
রাশাদ বে
শক্তি
~১২,০০০ ~২০,০০০
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি
শতাধিক নিহত হয় শতাধিক নিহত হয়
অজ্ঞাত

পটভূমি

সম্পাদনা

১৮৩৪ সালে হেবরনেনাবলুসে ইবরাহিম পাশার সেনাবাহিনীতে স্থানীয় ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলকভাবে কাজ করার পরিকল্পনার খবরে অসন্তুষ্টির জেরে বিক্ষোভ শুরু হয়। ১৮ মে তারিখে হেবরনে দাঙ্গা শুরু হয় এবং ২১ মে তারিখে একটি বড় বিদ্রোহী দল জেরুসালেমের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

বিদ্রোহী বাহিনীর আগমন

সম্পাদনা

প্রায় ৬-৭,০০০ বিদ্রোহী হেবরন থেকে মিশরীয়দের থেকে দখল করার উদ্দেশ্যে জেরুসালেমের দিকে পদযাত্রা করতে থাকে। সেই সময় শহরটিতে ২,০০০ এর মতন দেনা ছিলো অন্যদিকে ইবরাহিম পাশার মূল বাহিনীর সদরদপ্তর ছিলো জাফফায়। জেরুসালেমে পাশার সেনারা শহরের প্রবেশদ্বার বন্ধ করে দিয়ে জাফফা ফটকে ৫০০-৬০০ সেনা পাহারায় বসায় যেখানে সম্ভাব্য আক্রমণ হওয়ার কথা।

২২ মে তারিখে ১,০০০ সেনা শহরে বাইরে বিদ্রোহের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য বের হয় কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেনি। তারা পরবর্তীতে লিফতা গ্রামটি ধ্বংস করার পর ফিরে যায়। সেই রাতে প্রাচীরের বাইরে থেকে বেশ গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিলো। ২৬ মে তারিখে খাদ্য-জল ব্যতীত শহরটিতে অবরোধ শুরু হয়। শহর রক্ষাকারীদের দুটি কামান ছিলো যা তারা আক্রমণ প্রতিরোধ করতে প্রাচীরের বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করছিলো। তারা শহরের স্থানীয় মুসলিমদের বিশ্বস্ততার উপর ভরসা করতে পারেনি বিধায় পুরো রাত ও দিনে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছিলো।

ভূমিকম্প

সম্পাদনা

২৬ মে তারিখের বিকেলের আগে এলাকাটিতে দুটি ভূমিকম্প এবং মধ্যরাতের পর পর্যন্ত পরবর্তী কম্প সহ শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হতে থাকে। ভূমিকম্পের ফলে আল আকসা মসজিদের বাইরের পরিবেষ্টনী ও কিছু মিনার সহ অনেক বাড়িঘর ধ্বসে যায়। বিদ্রোহীরা তবু এর মধ্যে গুলিবর্ষণ অব্যাহত রাখে। পরের দিনে পরের দিন আরও কম্পন হয়।

বিদ্রোহীদের আক্রমণ

সম্পাদনা

২৮ মে তারিখে বিদ্রোহীরা শক্তিশালী আক্রমম করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। অবরোধকৃত শহরে খাবার ও জ্বালানির অভাব অনুভূত হতে থাকে। চারদিন পরে ১ জুনের মধ্যরাতে মিশরীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী হঠাৎ দুর্গ থেকে পিছু হটে। পরের রাতে প্রতিরক্ষা বাহিনী পালটা আক্রমণ করে দূর্গে ফিরে যায় অন্যদিকে বিদ্রোহীরা শহরে প্রবেশ করে দোকানগুলোতে লুটপাট শুরু করে। ৪ জুনের মধ্যে দূর্গ ব্যতীত পুরো শহর বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এর চারদিন পর তারা পিছু হটে এবং খাবারের জন্য দূর্গের সেনারা বের হয়।

তিন দিন ও তিন রাত জাফফায় লড়াই করার পর ৭ জুনে ইবরাহিম পাশা একটি রেজিমেন্ট ও ছয়টি কামান সমেত পৌঁছায়।

বিদ্রোহী বাড়ন্তশক্তির পরাজয়

সম্পাদনা

৯ জুনে জেরুসালেম থেকে দুই ঘন্টার দূরত্বে উত্তর দিকে ২,০০০ অশ্বারোহী ও ৪,০০০ পদাতিক সেনার একটি মিশরীয় সৈন্যদল নাবলুস থেকে এসে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নেয়। ১,৫০০ বিদ্রোহী মারা যায় এবং ১১ জনকে বন্দী করা হয়। ১৬ জুনে তিন ঘন্টা দক্ষিণে সুলায়মানের জলাশয়ের নিকটে সেনাদের অনেক কঠিন লড়াই করে শহরে পৌঁছাতে হয়েছিলো।

১৮ জুনে জেরুসালেমে একটি মহামারী ছড়িয়ে পড়ে।

পরিণতি

সম্পাদনা

পরবর্তী মাসে মিশরীয় বাহিনী নাবলুস দখল ও ১,৫০০ বন্দুক বাজেয়াপ্ত করার মাধ্যমে শহরটিকে নিরস্ত্র করে। তারপর মিশরীয়রা ১ আগস্টে হেবরন আক্রমণ করে যেখানে বাকি বিদ্রোহীরা পিছু হটে। শহরটিতে লুণ্ঠনের জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সমস্ত মুসলিম বাসিন্দাদের হত্যা করা হয়েছিল।[১]

১৬ আগস্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর কমোডর প্যাটারসন ১৬ কর্মকর্তা ও শল্যচিকিৎসক সহ সপরিবারে জেরুসালেমে উপস্থিত হোন। তিন সপ্তাহ পরে বেঁচে থাকা মার্কিন মিশনারিদের বৈরুতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।[২]

তথ্যসূত্র

সম্পাদনা
  1. Palestine Exploration Fund Quarterly Statement April 1911 - Pro. R. A. Stewart Macalister. Gleanings from the minutebooks of the Jerusalem Literary Society. From meeting 28 March 1851. Miss Nicolayson. "The Revolt and Earthquake of Jerusalem 1834." p.89. "and, some of them fleeing into the Jewish Quarter, the soldiers carried on the work of plunder there also, and completely stripped the Jews, their homes, and even their synagogues."
  2. Palestine Exploration Fund Quarterly Statement April 1911 - Pro. R. A. Stewart Macalister. Gleanings from the minutebooks of the Jerusalem Literary Society. From meeting 28 March 1851. Miss Nicolayson. "The Revolt and Earthquake of Jerusalem 1834."pp.83-89