জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড

জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ (আরবি: وفاق المدارس الدينية بنغلاديش‎‎) বাংলাদেশে অবস্থিত সরকার স্বীকৃত একটি কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড।[১] বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সমূহের মধ্যে এটি সর্বাপেক্ষা নতুন।[২] ২০১৬ সালের ৭ অক্টোবর ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে এই বোর্ডটি গঠিত হয় এবং ১৫ অক্টোবর এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।[৩] এই বোর্ডের অধীনে ৮০০+ মাদ্রাসা রয়েছে।[৪]

জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বাংলাদেশ
وفاق المدارس الدينية بنغلاديش
জাতীয় দ্বীনি শিক্ষা বোর্ডের লোগো.JPG
অফিসিয়াল লোগো
সংক্ষেপেজাতীয় বেফাক
প্রতিষ্ঠাকাল৭ অক্টোবর ২০১৬
প্রতিষ্ঠাতাফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
প্রতিষ্ঠাস্থানঢাকা
ধরনকওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড
সদরদপ্তর1/বি পশ্চিম হাজিপাড়া, ডিআইটি রোড, রামপুরা, ঢাকা-1219
অবস্থান
  • বাংলাদেশ
  • ঢাকা
পরিষেবাকওমি শিক্ষা ব্যবস্থার উৎকর্ষ সাধন।
সভাপতি
ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ
মহাসচিব
মোহাম্মদ আলী
সহ-সভাপতি
ড. মুশতাক আহমদ
সহ-সভাপতি
ইয়াহইয়া মাহমুদ
প্রধান অঙ্গ
দারুল উলুম দেওবন্দ
প্রধান প্রতিষ্ঠান
আল হাইআতুল উলয়া
স্টাফ
মুফতি আবুল কাসেম [মহাপরিচালক] মুহাম্মাদ মুহিব্বুল্লাহ [অফিস সম্পাদক] মাওলানা এহসানুল্লাহ [হিসাব রক্ষক]

শিক্ষা ব্যবস্থাসম্পাদনা

বোর্ডের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

  • প্রথম পর্যায়ঃ এ পর্যায়ে রয়েছে ২টি স্তর।
    • প্রথম স্তরঃ প্রাথমিক শিক্ষা। কুরআন তেলওয়াত ও ইসলামিয়াতসহ গণিত, বাংলা, ইংরেজি ও সমাজ বিজ্ঞান প্রভৃতি ৫ম শ্রেণির মান পর্যন্ত। একে বলা হয় আল মারহালাতুল ইবতিদাইয়্যাহ বা কওমী প্রাথমিক মাদ্রাসা।
    • দ্বিতীয় স্তরঃ এতে রয়েছে সাধারণ শিক্ষা সহ ইসলামিক শিক্ষা। অর্থাৎ আরবি ভাষা, আরবি ব্যকরণ ও ফিকাহশাস্ত্র, গণিত, বাংলা, ইংরেজি ও সমাজ বিজ্ঞান। একে বলা হয় আল মারহালাতুল মুতাওয়াসসিতাহ। এর মেয়াদ ৩ বছর। ( ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম )
  • দ্বিতীয় পর্যায়ঃ এপর্যায়ে রয়েছে ৪টি স্তর।
    • ১ম স্তরঃ আল মারহালাতুস সানাবিয়্যাহ (মাধ্যমিক স্তর), যার মেয়াদ ২ বছর (৯ম-১০ম)।
    • ২য় স্তরঃ আল মারহালাতুস সানাবিয়্যাতুল উলইয়া (উচ্চ মাধ্যমিক স্তর), যার মেয়াদ ২ বছর (১১শ - ১২শ)।
    • ৩য় স্তরঃ আল মারহালাতুল ফজিলত (স্নাতক ডিগ্রি)। এর মেয়াদ ২ বছর (১৩শ - ১৪শ)।
    • ৪র্থ স্তরঃ আল মারহালাতুল তাকমিল (মাস্টার্স ডিগ্রি)। এর মেয়াদ ২ বছর। এ স্তরকে দাওরায়ে হাদিস বলা হয়।
  • তৃতীয় পর্যায়ঃ এ পর্যায়ে রয়েছে বিষয়ভিত্তিক ডিপ্লোমা ও গবেষণামূলক শিক্ষা কোর্স। যথাঃ হাদিস, তাফসির, ফিকহ, ফতওয়া, তাজবিদ, আরবি সাহিত্য, বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি, উর্দু ও ফারসি ভাষা, ইসলামের ইতিহাস, সীরাত, ইলমুল কালাম, ইসলামি দর্শন, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পৌর বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ের গবেষণামূলক শিক্ষা।

কেন্দ্রীয় পরীক্ষাসম্পাদনা

বর্তমানে বোর্ডের অধীনে নিম্নোক্ত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা সমূহ অনুষ্ঠিত হয় :[৫]

  • হিফজ ও নাযেরা
  • ইলমুল কিরাত ও তাজবীদ
  • ইবতিদাইয়্যাহ ( পঞ্চম শ্রেণি)
  • মুতাওয়াসসিতা (অষ্টম শ্রেণি)
  • সানাবিয়া (উলইয়া উচ্চ মাধ্যমিক)
  • ফযীলত (স্নাতক পাস, দুই বছর মেয়াদী)
  • ইফতা (স্নাতক সম্মান, চার বছর মেয়াদি অনার্স)

উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানসম্পাদনা

বোর্ডের অধীনে এক সহস্রাধিক মাদ্রাসা রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য :[৫]

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "'আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি'আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ' এর অধীন 'কওমি মাদ্রাসাসমূহের দাওরায়ে হাদিস (তাকমীল)-এর সনদকে মাস্টার্স ডিগ্রি (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি)-এর সমমান প্রদান আইন, ২০১৮'"bdlaws.minlaw.gov.bd। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-৩০ 
  2. "ফরীদ উদ্দীন মাসঊদের নেতৃত্বে আসছে নতুন কওমি বোর্ড | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-১১ 
  3. "বোর্ডের খবর নেই, পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা | banglatribune.com"Bangla Tribune। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-৩০ 
  4. "কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে"দৈনিক ইনকিলাব। ২ অক্টোবর ২০২১। 
  5. "জাতীয় বেফাকে মেধা তালিকায় যারা"Patheo24। ২০১৯-০৫-২৬। সংগ্রহের তারিখ ২০২০-০৯-৩০  অজানা প্যারামিটার |1= উপেক্ষা করা হয়েছে (সাহায্য)

বহিঃসংযোগসম্পাদনা