জগমোহন গোসাঈ

(জগন্মোহন গোসাঁই থেকে পুনর্নির্দেশিত)

জগমোহন গোসাঈ জন্ম অনুমানিক ১৪৫০ ইংরেজি সন । ছিলেন বৈষ্ণবী ধর্মগুরু ও বাউল মতবাদের প্রবর্তক। তাকে আদি বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক হিসেবেও গণ্য করা হয়। তার প্রবর্তিত মতবাদ জগন্মোহিনী বাউল মতবাদ হিসেবে বাংলাদেশ তথা সারা ভারত বর্ষে খ্যাত । জগমোহন গোসাই বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জজেলার বাঘাসুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন,তার পিতার নাম সুরানন্দ,মাতার নাম কমলা। জগমোহন গোসাই শ্রীকৃষ্ণের পাশ্বর্চর এবং ভক্ত, মুরারী গুপ্তের নিকট দীক্ষা প্রাপ্ত হন ।[১][২]

জগমোহন গোসাঈ
জন্মঅনুমানিক ১৪৫০ ইংরেজি সন
জাতীয়তাবাংলাদেশি
Flag of Bangladesh.svg
পেশাবৈষ্ণবী বাউল সাধক

বিশ্বাষ ও ভক্তিসম্পাদনা

বাউলদের আদি জগন্মোহনী গোসাঈর মূলমন্ত্র গুরু সত্য । তাই জীবন্ত বা পরলোকগত গুরুকে ঈশ্বর স্ব্ররূপ মেনে ভক্তি,শ্রদ্বা করাকেই সাধনায় প্রধান ভাবতেন । জগমোহনী সম্প্রদায়ের বাউলরা কোন জাতপাতের ধার ধারেনা,এদের মধ্যে ছোয়াছুইর কোন বালাই নেই, এই শ্রেনীর বাউলেরা তিন ভাগে বিভক্ত, গৃহূ, সংযোগী, উদাসী তারা মনে করেন এই জীবনে শ্রষ্টার ভালোবাসা পাওয়া সহজ, কিন্তু তার জন্য প্রচুর সাধনা করতে হবে। সাধনার জন্য নির্ব্বাণ সঙ্গীতকেই উপাসনার অঙ্গ মনে করেন । জগমোহন গোসাঈর শিষ্যের প্রশিষ্য রামকৃষ্ণ গোসাইর মাধ্যম এই মতবাদের বহুল প্রচার হয় । [২]

বাউলদের ধর্মসম্পাদনা

জগমোহনী বাউলদের ধর্ম সনাতন । এই ধর্মপালনকারীদের বৈশিষ্ট্যগুলো সাধারণদের থেকে আলাদা। তাদের কাছে মানব ধর্মই পরম ধর্ম হিসেবে বিবেচিত । এজন্য তারা বলেন- কালী কৃষ্ণ গড খোদা কোন নামে নাহি বাধা মন কালী কৃষ্ণ গড খোদা বলো রে।

প্রধান তীর্থসম্পাদনা

হবিগঞ্জ সদর উপজেলার মাছুলিয়া গ্রামে তার আখড়া বিদ্যমান। জগন্মোহিনী সম্প্রদায়ের জপতপের মূলমন্ত্র ‘গুরু সত্য'। জগমোহন গোসাইর প্রশিষ্যের রামকৃষ্ণ গোসাঈ বানিয়াচং উপজেলার বিথঙ্গলে যে আখড়া স্থাপন করেছেন এটিকে সর্ব্বৃহ্ত্ত ও প্রধান আখরা হিসেবে ধরা হয় । এ আখড়ার অধীনে প্রায় চারশ' ছোট বড় শাখা আখড়াও আছে। হবিগঞ্জ, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে । রামকৃষ্ণ গোসাঈর বারো জন শিষ্যের নামে বারোটি শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকার ফরিদাবাদেও এ সম্প্রদায়ের একটি বড় আখড়া আছে। [৩]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাংলাদেশের লোকসাহিত্য ও লোকঐতিহ্য 'ডঃ আশরাফ সিদ্দিকী', প্রাকাশক - সাঈদ বারী প্রধান নির্বাহী, সুচিপত্র ঢাকা, প্রকাশকাল ২০০৫ ইংরেজি।
  2. শ্রীহট্টের ইতিবৃত্ত পূর্বাংশ, প্রথম ভাগ,অষ্টম অধ্যায়, ধর্ম ও শিক্ষাদি, গ্রন্থকার - অচ্যুতচরণ চৌধুরী তত্ত্বনিধি; প্রকাশক: মোস্তফা সেলিম; উৎস প্রকাশন, ২০০৪।
  3. সিলেট বিভাগের ভৌগোলিক ঐতিহাসিক রুপরেখা, সৈয়দ মোস্তফা কামাল, প্রকাশক- শেখ ফারুক আহমদ, পলাশ সেবা ট্রাস্ট সিলেট, প্রকাশকাল- ফেব্রুয়ারি ২০০১১, পৃঃ ১০ ।