জগদ্দল মহাবিহার বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার ধামুরহাট উপজেলার একটি প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান।[১] এটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং মঙ্গলবাড়ি থেকে ৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত।এটি জগতপুর মৌজার উত্তরে ও জগদ্দল মৌজার দক্ষিণাংশে অবস্থিত[২] এক অতি প্রাচীন নিদর্শন। নওগাঁ জেলার ধামুইরহাট থানার জয়পুর-ধামুইরহাট সড়কের উত্তর দিকে অবস্থিত এই প্রাচীন কীর্তি।[৩][৪] বর্তমানে স্থানীয় জনগণ এটিকে বটকৃষ্ণ রায় নামক এক জন জমিদারের বাড়ির ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করে। [৫]

জগদ্দল বিহার
Jaggadala Vihara
পাশাপাশি বহুধাবিভক্ত অনেকগুলি কক্ষে থাকতেন বৌদ্ধ ভিক্ষুগণ.jpg
অবস্থানজগদ্দল বিহার, নওগাঁ জেলা, রাজশাহী বিভাগ, বাংলাদেশ
স্থানাঙ্ক২৫°০৯′৩৩.৮″ উত্তর ৮৮°৫৩′১৫.৪″ পূর্ব / ২৫.১৫৯৩৮৯° উত্তর ৮৮.৮৮৭৬১১° পূর্ব / 25.159389; 88.887611স্থানাঙ্ক: ২৫°০৯′৩৩.৮″ উত্তর ৮৮°৫৩′১৫.৪″ পূর্ব / ২৫.১৫৯৩৮৯° উত্তর ৮৮.৮৮৭৬১১° পূর্ব / 25.159389; 88.887611
ধরনসাংস্কৃতিক
স্থান নোটসমূহ
মালিকানাবাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

ইতিহাসসম্পাদনা

 
জগদ্দল মহাবিহার।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যে রাজা রামপাল গৌড় রাজ্য পুনরুদ্ধারের পর রামাবতী নগরে রাজধানী স্থাপন করেন।[৩][৬][১] আইন-ই-আকবর রচয়িতা আবুল ফজল এ স্থানটিকে রমৌতি বলে উল্লেখ করেছেন। প্রাচীন বাংলার ধর্মমঙ্গল কাব্যগুলিতে রামাবতীর উল্লেখ আছে। রাজা রামপালের পুত্র মদনপালের তাম্র শাসনেও রামাবতী নগরীর উল্লেখ আছে। দীনেশ চন্দ্র সেন বলেছেন যে, এই রামাবতী নগরে রাজা রামপাল জগদ্দল মহাবিহারের প্রতিষ্ঠা করেন। ঐতিহাসিক রামপ্রাণগুপ্ত জগদ্দল বিহার দিনাজপুরে অবস্থিত বলে উল্লেখ করেছেন। রামপ্রাণগুপ্তের জগদ্দল বিহার যে নওগাঁ জেলার আলোচ্য বিহার তা সহজেই অনুমান করা যায়। কারণ পূর্বে এ জেলা দিনাজপুর জেলার অংশ ছিল। একাদশ বা দ্বাদশ শতাব্দীতে রাজা রামপাল এই মন্দির নির্মাণ করেন বলে নীহাররঞ্জন রায়ের বাঙ্গালীর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ আছে। এ গ্রন্থে আরও উল্লেখ আছে যে এ মন্দিরের অধিষ্ঠাতা দেবতা ছিলেন অবলোকিতেশ্বর, আর অধিষ্ঠাত্রী দেবী ছিলেন মহাতারা।

গুরুত্বসম্পাদনা

এই বিহারটি প্রাচীন বাংলার শিক্ষা-দীক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতে এ বিহারের দুইজন স্বনামধন্য পন্ডিত হলেন দানশীল ও বিভূতিচন্দ্র। প্রায় ষাটখানা গ্রন্থের তিব্বতী অনুবাদ করেন আচার্য দানশীল। রাজপুত্র বিভূতিচন্দ্র ছিলেন একাধারে গ্রন্থকার, টীকাকার, অনুবাদক ও সংশোধক। জগদ্দল বিহারের আচার্য মোক্ষকর গুপ্ত তর্কভাষা নামে বৌদ্ধ ন্যায়ের উপর একটি পুঁথি লিখেছিলেন। শুভকর গুপ্ত , ধর্মাকর, প্রভৃতি মনীষী আচার্যরা কোন না কোন সময় এই মহাবিহারের অধিবাসী ছিলেন। কথিত আছে যে কাশ্মিরের প্রসিদ্ধ পন্ডিত শাক্যশ্রীভদ্র ১২০০ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন বিহার দর্শন করে জগদ্দল বিহারে এসেছিলেন। বাংলার জগদ্দল বিহারের বৌদ্ধ পন্ডিত বিদ্যাকর সুভাষিত রত্নকোষ নামে একটি কোষকাব্য সংকলন সমাপ্ত করেছিলেন। প্রাচীন বাংলার এই জ্ঞানসাধন কেন্দ্র আজ সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত। বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে এ স্থানটিতে খনন কাজ চলছে।

বর্তমান অবস্থাসম্পাদনা

১৯৯৬ সালের পর তিনবার উৎখননের কাজ হয়। উৎখননের ফলে এখানে যে ধ্বংসাশেষ পড়ে রয়েছে তার আয়তন পূর্ব-পশ্চিমে দীর্ঘ ১০৫মি.X৮৫মি, দেয়াল প্রায় ৫মি.X৫মিটার।

চিত্রশালাসম্পাদনা

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. বাবুল আখতার রানা (২২ অক্টোবর ২০১৫)। "নওগাঁর জগদল বিহার"বাংলাদেশ প্রতিদিন। সংগ্রহের তারিখ ২০ জুন ২০২০ 
  2. আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া, প্রশ্নোত্তরে বাংলাদেশের প্রত্নকীর্তি, প্রথম খণ্ড, ঝিনুক প্রকাশনী, ঢাকা, তৃতীয় মুদ্রণ মার্চ ২০১৩, পৃষ্ঠা-২১৩, ISBN 984-70112-0112-0.
  3. Buddhist Monks And Monasteries Of India: Their History And Contribution To Indian Culture. by Dutt, Sukumar. George Allen and Unwin Ltd, London 1962. pg 377
  4. UNESCO World Heritage website
  5. বিশ্বজিৎ মনি (১৭ এপ্রিল ২০১২)। "জগদ্দল, অগ্রপুরী, হলুদ বিহার হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক কীর্তি "নওগাঁর প্রাচীন নিদর্শন""http://www.dailyjanakantha.com/। দৈনিক জনকন্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১৮ জুন ২০১৪  |ওয়েবসাইট= এ বহিঃসংযোগ দেয়া (সাহায্য)[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  6. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ২৬ জানুয়ারি ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ ডিসেম্বর ২০১৩