ছুটি খাঁ জামে মসজিদ

বাংলাদেশের মসজিদ

ছুটি খাঁ মসজিদ বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাইর একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ।[১] অধুনা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও প্রতি শুক্রবার জুমার দিন এবং দুই ঈদের দিন এখানে দেশ বিদেশ থেকে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সমাগম ঘটে। বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম এই প্রাচীন মসজিদ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে সারা বছর বিপুল পরিমাণ পর্যটকের সমাগম ঘটে।

ছুটি খাঁ মসজিদ

ছুটি খাঁ মসজিদ

ছুটি খাঁ মসজিদ বাংলাদেশ-এ অবস্থিত
ছুটি খাঁ মসজিদ
ছুটি খাঁ মসজিদ
বাংলাদেশে অবস্থান
স্থানাঙ্ক: ২২°৫১′৫১″ উত্তর ৯১°৩১′৪৪″ পূর্ব / ২২.৮৬৪১০২৬° উত্তর ৯১.৫২৮৮৪৮৪° পূর্ব / 22.8641026; 91.5288484
অবস্থান জোরারগঞ্জ ইউনিয়ন মীরসরাই উপজেলা, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
প্রতিষ্ঠিত ১৫১৫
শাখা/ঐতিহ্য ইসলাম (সুন্নি)
প্রশাসন সামাজিকভাবে পরিচালিত
স্থাপত্য তথ্য
ধরন প্রাচীন স্থাপত্য
ধারণক্ষমতা ৭৫০
দৈর্ঘ্য ৭৬ ফুট
প্রস্থ ২১ ফুট
আবৃত স্থান ০.৩১ একর
আয়তন ৪.১১ একর
মিনার ২টি
মিনারের উচ্চতা ১৬ ফুট
ভবনের উপকরণ চুন সুরকি (পুরাতন) কংক্রিট (আধুনিক)

অবস্থান সম্পাদনা

ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরাতন মহাসড়কের পশ্চিম পাশে মসজিদটির অবস্থান। জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের জোরারগঞ্জ বাজার থেকে মাত্র পাঁচ শ গজ উত্তরে পরাগলপুর নামক স্থানের ছুটি খাঁ দীঘির পূর্ব পাড়ে এই মসজিদ আবস্থিত।

ইতিহাস সম্পাদনা

ছুটি খাঁ মসজিদ চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের[২] পরাগলপুর মৌজার দেওয়ানপুর গ্রামে অবস্থিত। জনসাধারণের কাছে ছুটি খাঁর দিঘি নামে পরিচিত এক পুকুরের পূর্ব পাড়ে মসজিদটির ধ্বংসাবশেষ পরিলক্ষিত হয়। ছুটি খান ছিলেন পরাগল খানের পুত্র। তিনি সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের (১৪৯৪-১৫১৯) অধীনে চট্টগ্রামের জন্য সরকারি বাহিনীর লস্কর বা সেনা কর্মকর্তা ছিলেন।[৩] বর্তমানে তাঁর মসজিদটি পরিপূর্ণভাবে ধ্বংসাবশেষে পর্যবসিত হয়েছে। মসজিদের খিলানের মতো মনে হয় এমন বেলে পাথরের স্থাপত্য ভগ্নাংশগুলি নতুন একটি মসজিদের আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। নতুন মসজিদটি এসব ধ্বংসাবশেষের উপরই নির্মিত হয়েছে। পোড়ামাটির নকশি ইটের অলঙ্করণ শোভিত ধ্বংসপ্রাপ্ত পশ্চিম দেওয়ালের একাংশ এবং কোণে সন্নিহিত বুরুজের অবশেষ ঝোপঝাড়ের মধ্য দিয়ে মাত্র কয়েক বছর আগেও দেখা যেত। মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাব ও দুটি পার্শ্ব মিহরাবেও পোড়ামাটির লতাপাতার নকশা এবং শিকল ও ঘণ্টার মোটিফ দ্বারা সুশোভিত ছিল।[৪] ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষায় দেখা যায়, এখানে ছয় গম্বুজবিশিষ্ট হোসেন শাহী আমলের মসজিদের অস্তিত্ব ছিল। মসজিদটির তিন খিলানযুক্ত প্রবেশপথ তিন মিহরাবের সমান্তরালে পশ্চিম দেওয়াল অবধি বিস্তৃত ছিল। মসজিদে নামাজের স্থানটি দু'স্তম্ভপথ দ্বারা তিনটি আইলে বিভক্ত ছিল।

বর্তমান অবস্থা সম্পাদনা

সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অযত্নের কারনে ঐতিহাসিক এই প্রাচীন নিদর্শন অনেক আগেই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে, তবে বর্তমানে পুরাতন স্থাপনার উপরে বা কাছাকাছি আরেকটি ঐতিহাসিক ছুটি খাঁ মসজিদ নামে একতলা বিশিষ্ট মসজিদ নির্মান করা হয়েছে।[৫] এই মসজিদে প্রায় ৭৫০ জন মুসল্লী একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন।

যাতায়াত সম্পাদনা

ইচ্ছে হলেই গিয়ে দেখতে আসতে পারেন যে কোনো এক ছুটির দিনে। চট্টগ্রাম শহর থেকে যেতে সর্বোচ্চ সময় লাগবে ২ ঘন্টা। সকালে রওনা দিয়ে বিকেলেই ফিরে আসতে পারবেন। আবার হয়তো দুপুরবেলার নামাজটিও সেখানেই আদায় করে নিতে পারবেন। চট্টগ্রাম শহরের মাদারবাড়ি শুভপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে চয়েস বা উত্তরা বাসে করে জোরারগঞ্জ বাজাারেই নামতে পারবেন। ভাড়া নেবে সর্বোচ্চ ৮০টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে বারইয়ারহাট নেমে সিএনজি যোগে জোরারগঞ্জ আসলে দেখা মিলবে সড়কের পাশে দন্ডায়মান ঐতিহাসিক ছুটি খাঁ মসজিদটির।

গ্যালারী সম্পাদনা


তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. এনায়েত হোসেন মিঠু (৩০ মার্চ ২০২০)। "ছুটি খাঁ মসজিদ - পাঁচশ বছরের পুরনো নিদর্শন"কালের কণ্ঠ। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১ 
  2. ইকবাল হোসেন জীবন (১২ জুন ২০২১)। "পাঁচশ বছরের প্রাচীন স্থাপত্য, ছুটি খাঁ মসজিদ"একুশে টিভি। সংগ্রহের তারিখ ২ নভেম্বর ২০২১ 
  3. শামসুল হোসাইন (২০১২)। "ছুটি খাঁ মসজিদ"ইসলাম, সিরাজুল; মিয়া, সাজাহান; খানম, মাহফুজা; আহমেদ, সাব্বীর। বাংলাপিডিয়া: বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্বকোষ (২য় সংস্করণ)। ঢাকা, বাংলাদেশ: বাংলাপিডিয়া ট্রাস্ট, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটিআইএসবিএন 9843205901ওএল 30677644Mওসিএলসি 883871743। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১ 
  4. এম মাঈন উদ্দিন রেজা (২৩ জানুয়ারি ২০২০)। "অনন্য স্থাপত্য - ৫০০ বছরের পুরনো ছুটি খাঁ মসজিদ"নয়া দিগন্ত। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১ 
  5. ইমাম হোসেন (১৮ জানুয়ারী ২০১৯)। "কালের সাক্ষী, ছুটি খাঁ মসজিদ"দৈনিক ইনকিলাব। সংগ্রহের তারিখ ১ নভেম্বর ২০২১