প্রধান মেনু খুলুন

চেলসি ফুটবল ক্লাব (দ্য ব্লুজ অথবা পূর্বে দ্য পেনশনার্স নামেও পরিচিত) লন্ডনে অবস্থিত একটি ইংরেজ পেশাদার ফুটবল দল যারা প্রিমিয়ার লিগে খেলে থাকে।

চেলসি
Chelsea FC.svg
পূর্ণ নামচেলসি ফুটবল ক্লাব
ডাকনামদ্যা পেনশনার্স (১৯৫২ পর্যন্ত)
দ্যা ব্লুজ (বর্তমান)
প্রতিষ্ঠিত১০ মার্চ ১৯০৫; ১১৪ বছর আগে (1905-03-10)[১]
মাঠস্টাম্ফোর্ড ব্রিজ
ফুলহাম, লন্ডন
ধারণক্ষমতা৪১৬৩১[২]
মালিকরোমান আব্রামোভিচ
চেয়ারম্যানব্রুস বাক
ম্যানেজারমরিজিও সারি
লীগপ্রিমিয়ার লীগ
২০১৭-১৮ প্রিমিয়ার লীগ৫ম
ওয়েবসাইটক্লাব ওয়েবসাইট
বর্তমান মৌসুম

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ক্লাবটি এ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময়ে ইংল্যান্ডের ফুটবলে শীর্ষ দশে অবস্থান করেছে। তারা দুটি সময়ে সফলতা পেয়েছে, একটি হচ্ছে ১৯৬০ দশকের শেষভাগ ও ১৯৭০ দশকের শুরুতে এবং ১৯৯০ দশকের শেষভাগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। চেলসি প্রথম ইংলিশ লিগ শিরোপা অর্জন করে ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে। ১৯৬৫ থেকে ১৯৭১ সাল সময়কালে আরো কিছু কাপ প্রতিযোগিতায় ক্লাবটি জয়লাভ করে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২৩টি শিরোপা জিতে দলটি গত দুই দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে সাফল্য অর্জন করছে। সব মিলিয়ে চেলসি নিজেদের ইতিহাসে ২৯টি বড় শিরোপা জিতেছে, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি লীগ শিরোপা, আটটি এফ.এ. কাপ শিরোপা, পাঁচটি লীগ কাপ, দুটি উয়েফা কাপ উইনার্স কাপ, একটি উয়েফা সুপার কাপ, দুটি উয়েফা ইউরোপা লীগ এবং একটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ। চেলসি হলো ইতিহাসের প্রথম ক্লাব যারা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পরের বছরই উয়েফা ইউরোপা লীগ জিতেছে। [৩]

চেলসির ৪১৬৩১ দর্শক ধারণক্ষমতার[২] নিজস্ব মাঠ স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ পশ্চিম লন্ডনের ফুলহাম এলাকায় অবস্থিত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই তারা এখানে খেলে আসছে। ২০০৩ সালে ক্লাবটি কিনে নেন রাশিয়ান তেল ব্যবসায়ী রোমান আব্রামোভিচ।[৪]

ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী পোশাক হচ্ছে রাজকীয় নীল রংয়ের জামা ও শর্টস এবং সাদা মোজা। নিজেদের ভাবমূর্তি আধুনিকায়নের জন্য নিজেদের ইতিহাসে বেশ কয়েকবার ক্লাবটি নিজেদের প্রতীক পরিবর্তন করেছে। বর্তমান প্রতীকে একটি রাজকীয় নীল সিংহকে একটি লাঠি ধরে থাকতে দেখা যায়, যা ক্লাবটির ১৯৫০ এর দশকের একটি প্রতীকের আধুনিক রূপ।[৫] ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বকালের গড় উপস্থিতির তালিকায় ক্লাবটির অবস্থান ষষ্ঠ। চেলসি যুক্তরাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় দল। তাদের সমর্থক সংখ্যা আনুমানিক চার মিলিয়ন।[৬] এছাড়া জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও ক্লাবের ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও গানে চেলসি অংশ নিয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের ২০১৭ সালের একটি জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে দামী ক্লাবগুলোর তালিকায় চেলসির অবস্থান ৭ম এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ৪ কোটি ২৮ লাখ পাউন্ড উপার্জন করে ক্লাবটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে অষ্টম স্থান অর্জন করে।

পরিচ্ছেদসমূহ

ইতিহাসসম্পাদনা

১৯০৪ সালে একটি ফুটবল মাঠ হিসেবে তৈরির উদ্দেশ্য নিয়ে গাস মিয়ার্স স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ অ্যাথলেটিক স্টেডিয়াম কিনে নেন। নিকটবর্তী ফুলহাম ফুটবল ক্লাবের কাছে মাঠটি ইজারা দেওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি মাঠটি ব্যবহার করার জন্য নিজের একটি ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। যেহেতু তখন উক্ত এলাকা ফুলহামের নিজের নামে একটি ক্লাব তখনই ছিলো, মিয়ার্স নিজের ক্লাবের জন্য পার্শ্ববর্তী এলাকা চেলসির নামটি বেছে নেন। কেন্সিংটন ফুটবল ক্লাব, স্টাম্ফোর্ড ব্রিজ ফুটবল ক্লাব এবং লন্ডন ফুটবল ক্লাব এর মতো নামগুলোও বিবেচনা করা হয়েছিলো।[৭]

খেলোয়াড়গণ ও কোচসম্পাদনা

বর্তমান কোচসম্পাদনা

দলের বর্তমান কোচ মরিজিও সারি, যিনি ২০১৮-১৯ মৌসুমে নাপোলি থেকে চেলসিতে যোগদান করেন।

বর্তমান প্রথম একাদশসম্পাদনা

৩১ মে ২০১৯ পর্যন্ত হালনাগাদকৃত।[৮]

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
  গো কেপা আরিসাবালাগা
  আন্টোনিও রুডিগার
  মার্কোস আলোন্সো মেন্দোজা
  জর্জিনহো
  ড্যানিয়েল ড্রিংকওয়াটার
  এন'গোলো কান্তে
  রস বার্কলি
  গঞ্জালো ইগুয়াইন (য়ুভেন্তাস থেকে ধারে)
১১   পেদ্রো
১২   রুবেন লফটাস-চিক
১৩   গো উইলি কাবায়েরো
১৭   মাতেও কোভাচিচ (রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
১৮   অলিভিয়ে জিরু
২০   ক্যালাম হাডসন-ওডোই
২১   ডাভিডে জাপাকস্তা
২২   উইলিয়ান
২৭   আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন
২৮   সিজার আজপিলিকুয়েতা (অধিনায়ক)
৩০   ডেভিড লুইজ
৩৩   এমারসন পালমিয়েরি
৪৪   ইথান আম্পাদু
-   ক্রিস্টিয়ান পুলিসিক
-   মার্কো ভ্যান গিংকেল

চুক্তিবদ্ধ অন্যান্য খেলোয়াড়গণসম্পাদনা

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
-   চার্লি ওয়েকফিল্ড
-   ইসলাম ফেরুজ

ধারে অন্য দলেসম্পাদনা

নোট: পতাকা জাতীয় দল নির্দেশ করে যা ফিফা যোগ্যতার নিয়ম অধীন নির্ধারিত হয়েছে। খেলোয়াড়দের একাধিক জাতীয়তা থাকতে পারে যা ফিফা ভুক্ত নয়।

নং অবস্থান খেলোয়াড়
-   গো নাথান ব্যাক্সটার (ইয়োভিল টাউনে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   গো কার্লো জিগার (সাটন ইউনাইটেডে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   জেক ক্লার্ক-সল্টার (ভিতেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   ট্রেভোহ চালোবাহ (ইপসউইচ টাউনে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   রিস জেমস (উইগানে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   দুজন স্টার্লিং (কভেন্ট্রি সিটিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   ফিকায়ো তোমোরি (ডার্বি কাউন্টিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   জে ডাসিলভা (ব্রিস্টল সিটিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   জ্যাক ওয়েকলি (বেসিংস্টোক টাউনে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   কার্ট জুমা (এভারটনে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   টমাস কালাস (ব্রিস্টল সিটিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   ম্যাট মিয়াজগা (রেডিংয়ে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   মাইকেল হেক্টর (শেফিল্ড ওয়েডনেসডেতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   বাবা আব্দুল রহমান (রিমসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   কেনেথ ওমেরুয়ো (লেগানেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
নং অবস্থান খেলোয়াড়
-   লুইস বেকার (রেডিংয়ে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   মেসন মাউন্ট (ডার্বি কাউন্টিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   কেসি পালমার (ব্রিস্টল সিটিতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   জ্যাকব ম্যাডক্স (চেল্টেনহাম টাউনে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   তিয়েমুই বাকায়োকো (এসি মিলানে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   চার্লি মুসোন্ডা জুনিয়র (ভিতেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   মারিও পাসালিচ (আটালান্টাতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   দানিলো পান্তিচ (পার্টিজানে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   লুকাস পিয়াজোঁ (শিয়েভোভেরোনাতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   কেনেডি (নিউকাসল ইউনাইটেডে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   নাথান (অ্যাটলেটিকো মিনেইরোতে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   ভিক্টর মোজেস (ফেনের্বাচেতে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
-   ট্যামি আব্রহাম (অ্যাস্টন ভিলায় ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   ইজি ব্রাউন (লিডসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)
-   আলভারো মোরাতা (অ্যাটলেটিকো ডি মাদ্রিদে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত)
-   মিচি বাতশুয়াই (ক্রিস্টাল প্যালেসে ৩০ জুন ২০১৯ পর্যন্ত)

সম্মাননাসম্পাদনা

ঘরোয়াসম্পাদনা

লীগসম্পাদনা

১৯৫৪-৫৫, ২০০৪-০৫, ২০০৫-০৬, ২০০৯-২০১০, ২০১৪-১৫, ২০১৬-১৭
১৯৮৩-৮৪, ১৯৮৮-৮৯

কাপসম্পাদনা

১৯৬৯-৭০, ১৯৯৬-৯৭, ১৯৯৯-২০০০, ২০০৬-০৭, ২০০৮-০৯, ২০১৭-১৮
১৯৬৪-৬৫, ১৯৯৭-৯৮, ২০০৪-০৫, ২০০৬-০৭, ২০১৪-১৫
১৯৫৫, ২০০০, ২০০৫, ২০০৯
  • ফুল মেম্বার্স কাপ: ২
১৯৮৬, ১৯৯০

ইউরোপীয়ানসম্পাদনা

২০১১-১২
২০১২-১৩, ২০১৮-১৯
১৯৭০-৭১, ১৯৯৭-৯৮
১৯৯৮

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Team History – Introduction"। Chelsea F.C. official website। ২৭ মে ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১১ মে ২০১১ 
  2. "Club Information"। Chelsea F.C. official website। ২ জুলাই ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০১২ 
  3. "Trophy Cabinet"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ 25 January  অজানা প্যারামিটার |accessyear= উপেক্ষা করা হয়েছে (|access-date= ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে) (সাহায্য); এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |সংগ্রহের-তারিখ= (সাহায্য)
  4. "Russian businessman buys Chelsea"। BBC। 2003-07-02। সংগ্রহের তারিখ 2007-02-11  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  5. "Chelsea centenary crest unveiled"। BBC। 2004-11-12। সংগ্রহের তারিখ 2007-01-02  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  6. "Chelsea voted one of UK's top brands"chelseafc.com। সংগ্রহের তারিখ ২০০৬-০৯-২৮ 
  7. Glanvill, John (1664?–1735)। Oxford Dictionary of National Biography। Oxford University Press। ২০১৭-১১-২৮। 
  8. "First team"। Chelsea FC। সংগ্রহের তারিখ ৩১ মে ২০১৯ 
  9. Until 1992, when the Premier League was formed, the top tier of English football was known as the First Division
  10. The trophy was known as the Charity Shield until 2002, and as the Community Shield ever since.

বহিঃসংযোগসম্পাদনা