ঘূর্নিঝড় ফেথাই

(ঘূর্নিঝড় পিথাই থেকে পুনর্নির্দেশিত)

তীব্র ঘূর্ণিঝড় ফেথাই একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় যা ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কা এবং ভারতের কিছু অংশকে প্রভাবিত করেছিল। এটা মৌসুমের চতুর্দশ নিম্নচাপ, নবম গভীর নিম্নচাপ, সপ্তম ঘূর্ণিঝড় এবং ২০১৮ সালের উত্তর ভারত মহাসাগরের ঘূর্ণিঝড় মৌসুমের পঞ্চম তীব্র ঘূর্ণিঝড়। ফেথাই .১৩ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের উপর তৈরি হওয়া নিম্নচাপের এলাকা থেকে বিকশিত হয়েছিল। নিম্নচাপটি ১৫ ডিসেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আগে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছিল। ফেথাই আরও তীব্র হয় এবং পরের দিন একটি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়। ১৭ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশে স্থলে আঘাত করার পূর্বে, ভূমি মিথস্ক্রিয়া এবং ক্রমবর্ধমান বায়ু শিয়ারের কারণে সিস্টেমটি ক্রমাগত দুর্বল হয়ে পড়ে। পরের দিন এটা পূণরায় নিম্নচাপে পরিণত হয়।

Severe Cyclonic Storm Pethai
চেন্নাইয়ের কাছে পিথাইয়ের গতিপথ
গঠন৩ ডিসেম্বর ২০১৮
প্রভাবিত অঞ্চল
2018 North Indian Ocean cyclone season অংশ

ফেথাই পূর্ব ভারতে যাওয়ার পথে আটটিরও বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটায়। কিছু ধানের ফসল ধ্বংস করে এবং বন্যায় প্লাবিত হয়, ৩১,৬০০ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গোদাবরী জেলা এবং ওড়িশার বিভিন্ন কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের মোট ক্ষয়ক্ষতি গণনা করা হয়েছিল $১০০ মিলিয়ন (২০১৮ USD )।

আবহাওয়ার ইতিহাস সম্পাদনা

৭ ডিসেম্বরে,ভারতের মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (IMD) তাদের বুলেটিনে প্রদান করতে শুরু করে যে আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে তৈরি হতে পারে। [১] আমেরিকা ভিত্তিক জয়েন্ট টাইফুন সতর্কীকরণ কেন্দ্র (জেটিডব্লিউসি)ও সেই দিনের পরে উন্নয়নশীল সিস্টেমের উপর নজরদারি শুরু করে। [২] IMD পরে জানিয়েছিল যে ৯ ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ এলাকা তৈরি হয়েছে। এজেন্সি উল্লেখ করে যে ম্যাডেন-জুলিয়ান দোলন পর্যায় তিনে থাকার কারণে সিস্টেমের আরও বিকাশের জন্য পরিস্থিতি অনুকূল হবে। পরের কয়েক দিনের মধ্যে, নিম্নচাপ এলাকাটি মাঝারি থেকে গভীর পরিচলন তৈরি করে, IMD ১১ ডিসেম্বরে সিস্টেমটিকে একটি সুচিহ্নিত নিম্ন-চাপ এলাকা হিসাবে মনোনীত করে। ১৩ ডিসেম্বর IMD নিম্ন-চাপ অঞ্চলটিকে একটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় নিম্নচাপে উন্নীত করে। [১] একই সময়ে, JTWC সিস্টেমে একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গঠন সতর্কতা (TCFA) জারি করে। [২]

JTWC তাদের চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করে ফেথাই, যখন এটি পূর্ব ভারতের উপকূলে অবস্থিত ছিল। [৩] আইএমডি শীঘ্রই জানিয়েছিল যে ঘূর্ণিঝড়টি একই দিনে 15:00 ইউটিসি-তে অন্ধ্রপ্রদেশের অভ্যন্তরীণ গভীর নিম্নচাপে দুর্বল হয়ে পড়েছে। নিম্নচাপটি পূর্ব ভারত জুড়ে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে টুনির কাছে দেশটিতে দ্বিতীয়বার স্থলভাগে প্রবেশ করে। ফেথাই সেই দিন ১৯ঃ৩০ ইউটিসি-র মধ্যে নিম্নগতিতে অবনমিত হয়ে অভ্যন্তরীণ দুর্বল হতে থাকে। IMD পরের দিন ৩ঃ০০ UTC-এ নিম্নচাপের বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত বুলেটিন জারি করেছিল, কারণ এটি ন্যূনতম পরিচলন তৈরির সময় উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর নিম্নচাপের একটি এলাকায় পরিণত হয়েছিল। [৪]

প্রস্তুতি সম্পাদনা

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলে।[৫]

ভারতে ঝড়ের আগে মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ রেখে বন্দর ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।[৬] অন্ধ্রপ্রদেশে প্রায় ১০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়। ফেথাইয়ের পরে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য ২০০০ জনের বেশী বৈদ্যুতিক কর্মীকে একত্রিত করা হয়েছিল। পুলিশ এবং দমকলকর্মীরা রাস্তা থেকে ধ্বংসাবশেষ অপসারণে সাহায্য করার জন্য বিশেষ দল গঠন করে। জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী এবং রাজ্য দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া বাহিনী সাতটি উদ্ধারকারী দলকে একত্রিত করে। বিপণন বিভাগগুলি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা লোকদের সরবরাহ করার জন্য শাকসবজি এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করে। ভারতীয় উপকূলরক্ষীরা ঘূর্ণিঝড়ের পরে সাহায্যের প্রচেষ্টায় সাহায্য করার জন্য দেশের পূর্ব উপকূলে জাহাজ এবং বিমান রেখেছিল। [৭]শ্রীলঙ্কার কাঙ্কেসান্থুরাই হয়ে ত্রিনকোমালি থেকে মান্নার পর্যন্ত মাছ ধরার সময় কিছু জেলে সম্প্রদায়কে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। [৮] দমকা হাওয়া এবং কিছু ঝোড়ো বৃষ্টিও এই অঞ্চলগুলিতে প্রত্যাশিত ছিল। [৮]

প্রভাব সম্পাদনা

ফেথাইয়ের ফলে সৃষ্ট বৃষ্টি এবং বজ্রঝড় শ্রীলঙ্কাকে প্রভাবিত করেছিল। [৯] উপকূলে যাওয়ার পরে, ফেথাই অন্ধ্র প্রদেশে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বাতাস বয়ে আনে যা গাছ উপড়ে ফেলে এবং বৈদ্যুতিক লাইন ভেঙে পড়ে। [১০] সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত ১৫৬.৫ মিমি (৬.১৬ ইঞ্চি) বিশাখাপত্তনমের নিন্নিমামিদিভালাসা শহরে রিপোর্ট করা হয়েছিল, [১১] যখন পচিপেন্তা গ্রামে ১৩৬মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। [১২] ঝড়ের সময় সাত জেলে শহরের উপকূলে নিখোঁজ হয়। [১৩]

তথ্যসূত্র সম্পাদনা

  1. "Cyclone Phethai Archive Bulletin" (পিডিএফ)। India Meteorological Department। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৪, ২০২১ 
  2. "Annual Tropical Cyclone Report 2018" (পিডিএফ)Joint Typhoon Warning Center। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৪, ২০২১ 
  3. "Annual Tropical Cyclone Report 2018" (পিডিএফ)Joint Typhoon Warning Center। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৪, ২০২১ 
  4. "Cyclone Phethai Archive Bulletin" (পিডিএফ)। India Meteorological Department। সংগ্রহের তারিখ এপ্রিল ৪, ২০২১ 
  5. "ভারতের দিকে যাচ্ছে ঘূর্ণিঝড় 'পিথাই', সাগর উত্তাল ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত"। কালের কণ্ঠ। ১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  এখানে তারিখের মান পরীক্ষা করুন: |তারিখ= (সাহায্য)
  6. "Krishna braces for Phethai"The Hindu। ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১ 
  7. "Krishna braces for Phethai"The Hindu। ডিসেম্বর ১৫, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১ 
  8. "Cyclonic storm 'Phethai' moving away from Sri Lanka"www.news.lk-gb। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৭ 
  9. "As Phethai cyclone intensifies: Fishermen warned"Daily Mirror। ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১ 
  10. "Deadly Cyclone Phethai makes landfall in India"Al Jazeera। ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮। সংগ্রহের তারিখ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২১ 
  11. Charan Teja (ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮)। "Cyclone Phethai claims two lives in Andhra, weakens after making landfall"The News Mir। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০২১ 
  12. "Deadly Cyclone Phethai makes landfall in India"www.aljazeera.com। সংগ্রহের তারিখ ২০২১-০৪-০৭ 
  13. Press Trust of India (ডিসেম্বর ১৮, ২০১৮)। "Cyclone Phethai leaves one dead, seven missing in Andhra Pradesh; 'weakened' storm now moving towards Odisha"Firstpost। সংগ্রহের তারিখ মার্চ ৭, ২০২১