গোকিও হ্রদ নেপালের সাগরমাথা জাতীয় উদ্যানের অন্তর্গত একটি প্রাকৃতিক হ্রদ। হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪,৭০০-৫০০ মিটার (১৫,৪০০-১৬,৪০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। সাগরমাথা অঞ্চলের ছয়টি হ্রদ একত্রে গোকিও হ্রদ নামে পরিচিত। এগুলো পৃথিবীর সর্বোচ্চ উচ্চতার অন্যতম স্বাদুপানির হ্রদ এবং এদের মধ্যে থোনাক হ্রদ সবচেয়ে বড়।[১] ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, গোকিও এবং সংশ্লিষ্ট ৭,৭৭০ হেক্টরের জলাভূমি রামসার স্থান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।[২]

গোকিও হ্রদ
অবস্থানসোলুখুম্বু জেলা
স্থানাঙ্ক২৭°৫৮′৪৯″ উত্তর ৮৬°৪০′০৭″ পূর্ব / ২৭.৯৮০২৮° উত্তর ৮৬.৬৬৮৬১° পূর্ব / 27.98028; 86.66861
অববাহিকার দেশসমূহনেপাল
পৃষ্ঠতল অঞ্চল১৯৬.২ হেক্টর (৪৮৫ একর)
পৃষ্ঠতলীয় উচ্চতা৪,৭০০–৫,০০০ মি (১৫,৪০০–১৬,৪০০ ফু)

বিবরণসম্পাদনা

 
তৃতীয় গোকিও হ্রদ
 
গোকিও হ্রদের দৃশ্য

সাগরমাথা অঞ্চলের হ্রদগুলো সামগ্রিকভাবে গোকিও হ্রদ নামে সুপরিচিত। গোকিও হ্রদ নেপালের উত্তর-পূর্ব অংশের সাগরমাথা অঞ্চলের সোলুখুম্বু জেলায় অবস্থিত। এই অঞ্চলের প্রধান হ্রদ গোকিও চো বা দুধ পোখারি, যার আকার ৪২.৯ হেক্টর। গোকিও গ্রামটি দুধ পোখারির পূর্বে অবস্থিত। তবে আকারের দিক থেকে উক্ত অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হ্রদ থোনাক চো। এটির আকার ৬৫.০৭ হেক্টর (১৬০.৮ একর)। এছাড়া এই অঞ্চলের হ্রদের মধে গিয়াজুম্পা চো (২৯ হেক্টর), তানজুং চো (১৬.৯৫ হেক্টর) ও গোজুম্পা চো (১৪.৩৯ হেক্টর) রয়েছে। সাগরমাথার এই অঞ্চলে হ্রদগুলো স্বাদুপানির একমাত্র উৎস। হিমবাহ গলিত হয়ে কিংবা অধিক উচ্চতার ধর্ণার প্রবাহ থেকে এই হ্রদগুলো পানি ধারণ করে। উত্তর-পশ্চিমে রয়েছে রেনজো-লা পাস এবং উত্তর-পূর্বে গোজুম্পা হিমবাহ। এই হ্রদগুলোড় পানি তাউজন হ্রদ ও লোংগাবাংগা হ্রদ হয়ে দুধ কোশি নদীতে যেয়ে পড়ে। হ্রদগুলোর বিজ্ঞানীদের নির্ধারিত উচ্চতার চেয়েও বেশি বলে সাম্প্রতিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে থোনাক চো সবচেয়ে গভীর হ্রদ (৬২.৪ মিটার), এরপরে গোকিও হ্রদ (৪৩ মিটার)।[৩] ধারণা করা হয়, গোকিও হ্রদ, থোনাক চো এবং গোজুম্পা চো – এই তিনটি হ্রদ ভূগর্ভস্থ উপায়ে সংযুক্ত। প্রাকৃতিক কারণে গোকিও হ্রদ বেশ ঝুকিপূর্ণ, কারণে এটি বাস্তসংস্থানগতভাবে অনুপযুক্ত ও ভারসাম্যহীন স্থানে অবস্থিত। গোজুম্পা হিমবাহের গলিত পানি গোকিও হ্রদের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে বড় ঝুকি বলে বিবেচনা করা হয়।[৪]

গোকিও হ্রদ বলে পরিচিত ১৯টি হ্রদের মোট আকার ১৯৬.২ হেক্টর। এগুলো ৪,৬০০ থেকে ৫,১০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে অবস্থিত। চো ওইয়ু থেকে উৎসারিত দুধকোশী নদের প্রারম্ভে হ্রদগুলোর অবস্থান।[৫]

ধর্মীয় গুরুত্বসম্পাদনা

হিন্দু ও বৌদ্ধ – উভয় ধর্মেই গোকিও হ্রদ বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জনই পূর্ণিমাতে প্রায় ৫০০ হিন্দু ধর্মাবলম্বী গোকিও হ্রদে অবগাহন করে থাকে। সাধারণত অগাস্ট মাসে এই উপলক্ষ্য উদ্‌যাপন করা হয়। প্রতি বছর প্রায় ৭,০০০ পর্যটক এই হ্রদ দেখতে আসে। হিন্দুরা বিশ্বাস করে এই হ্রদে নাগ দেবতা (সাপের দেবতা) বাস করেন। ফলে তাদের অনেকেই এই হ্রদে পুজো করে। বিষ্ণু ও শিবের উদ্দেশ্যে একটি মন্দির গোকিও হ্রদের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপন করা হয়েছে। ঐতিহ্য ও ধর্মীয় কারণে গোকিও হ্রদ সংশ্লিষ্ট এলাকার যেকোন ধরনের প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ।

পর্যটনসম্পাদনা

সাগরমাথা বেস ক্যাম্প ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ গোকিও হ্রদ। ৪,৭০০ মিটার (১৫,৭২০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত গোকিও গ্রামে এই অঞ্চলে বেড়াতে আসা পর্যটকরা রাত্রিযাপন করে।নামছে বাজার থেকে উপরের দিকে দুই দিনের হাঁটাপথে গোকিও হ্রদে পৌছানো যায়। পর্যটকরা গোকিও হ্রদের পাশাপাশি গোকিও রাই শৃঙ্গেও আরোহণ করে। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেকের অনেক পর্যটক গোকিও হ্রদ দেখতে আসে। তবে গোকিও হ্রদ হয়ে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প পৌছাতে কিছুটা বেশি সময় প্রয়োজন হয়। এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ট্রেক একই পথ বরাবর যেতে হয় ও ফিরে আসতে, কিন্ত গোকিও হ্রদ হয়ে গেলে তা গোলাকার ট্রেইলের ন্যায় আবর্তন করতে হয়।


তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. Bhuju, U.R., Shakya, P.R., Basnet, T.B., Shrestha, S. (2007). Nepal Biodiversity Resource Book. Protected Areas, Ramsar Sites, and World Heritage Sites ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ অক্টোবর ২০১২ তারিখে. International Centre for Integrated Mountain Development, Ministry of Environment, Science and Technology, in cooperation with United Nations Environment Programme, Regional Office for Asia and the Pacific. Kathmandu, Nepal. আইএসবিএন ৯৭৮-৯২-৯১১৫-০৩৩-৫
  2. Bhandari, B. B. (2009). Wise use of Wetlands in Nepal. Banko Janakari, Special Issue February 2009: 10–17.
  3. Sharma, C. M., Sharma, S., Gurung, S., Bajracharya, R. M., Jüttner, I., Kang, S., Zhang, Q., Li, Q. (2012). First results on bathymetry and limnology of the Gokyo wetlands, high altitude tropical lakes, Nepal. Limnology 13:181–192.
  4. WWF। "Terms Of Reference for Ascessing Vulnerability Of Sagarmatha National Park and Buffer Zone and Formulation Of The Community Based Adaptation Strategies" (PDF)। WWF। ২০১১-০৯-২৮ তারিখে মূল (PDF) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৫-২৯ 
  5. Karki, J. B., Siwakoti, M., Pradhan, N. S. (২০০৭)। "High altitude Ramsar sites in Nepal: Criteria and future ahead"। The Initiation। সংগ্রহের তারিখ ২০১০-০৫-২৯