প্রধান মেনু খুলুন

গিয়াসউদ্দিন তুগলক' (উর্দূঃغیاث الدین تغلق, হিন্দিঃ ग़ियास अल-दीन तुग़लुक़) অপর নাম গাজী মালিক (উর্দূঃغازی ملِک) (মৃত্যুঃ ১৩২৫) ছিলেন দিল্লির তুগলক রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা এবং এর প্রথম সুলতান। তিনি তুগলকাবাদ শহর নির্মাণ করেন। ১৩২৫ সাল পর্যন্তু তিনি দিল্লির বাদশাহ ছিলেন। তার মৃত্যুর পর তার ছেলে মুহাম্মদ বিন তুগলক দিল্লির সিংহাসনে বসেন।

গিয়াসউদ্দিন তুগলক
দিল্লির সুলতান
রাজত্বকাল১৩২০-১৩২৫
জন্মস্থানসিন্ধ, পাকিস্তান
মৃত্যু১৩২৫
মৃত্যুস্থানদিল্লির কাছাকাছি আফগাহপুর
সমাধিস্থলদিল্লি
পূর্বসূরিঅজানা
উত্তরসূরিমুহাম্মদ বিন তুগলক
রাজবংশতুগলক রাজবংশ
ধর্মবিশ্বাসইসলাম
দিল্লিতে গিয়াসউদ্দিন তুগলকের সমাধীক্ষেত্র

তুগলকদের উৎপত্তিসম্পাদনা

গিয়াসউদ্দিন তুগলকের বাবা ছিলেন তূর্কি এবং মা ছিলেন জট সম্প্রদায়ের হিন্দু। তিনি জীবনের প্রথম দিকে অনেক গরিব ছিলেন এবং বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধে এক কুরাউনা ব্যাবসায়ীর অধীনে কাজ করতেন। সাধারনভাবে মনে করা হয় যে গিয়াসউদ্দিন তুগলক “তুগলক” নামের একটি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিলেন যার থেকে পরবর্তীতে তুগলক রাজবংশের উদ্ভব হয় কিন্তু অনেক ইতিহাসবিদের মতে তুগলক তার ব্যাক্তিগত নাম ছিল যা পরবর্তিতে তার উত্তরশুরীরা গ্রহণ করে যেমন- মুহাম্মদ বিন তুগলক, ফিরোজ শাহ তুগলক

ইতিহাস বিখ্যাত ভ্রমণকয়ারী ইবন বতুতার মতে কুরাউনা সম্প্রদায়টি মোংগল কিংবা তুর্কিশদের বংশধর নয় বরং তুগলকরা একটি সম্প্রদায়ের সদস্য ছিল। আরো একজন বিখ্যাত ভ্রমণকারী মার্কো পোলোর মতে কুরাউনা একটি মিশ্র জাতিগোষ্ঠি ছিল যাদের আদি নিবাস ভারতেই ছিল।

মৃত্যুসম্পাদনা

১৩২৪ সালের দিকে বাংলা বিভিন্ন স্বাধীন সূলতান কর্তৃক শাসিত হত। বাংলায় সুলতান গিয়াস উদ দিন তুগলক তার নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইলেন এবং সেইজন্য তার পুত্র মুহাম্মদ বিন তুগলককে দিল্লির সালতানাতের দায়িত্ব দিয়ে বিশাল এক সৈন্যবাহিনী নিয়ে বাংলার দিকে রওনা দেন। তিনি বাংলায় যে অভিযান পরিচালনা করেন, ১৩২৪ সালের শেষের দিকে তা সফলতায় রুপ নেয়। বিজয় শেষে দিল্লি ফেরার পথে তিনি যখন দক্ষিণ বিহার পার হচ্ছিলেন অখন তিনি তার পুত্র মুহাম্মদ বিন তুগলককে রহস্যময় এবং অযাচিত আচরনের ব্যাপারে আভাস পান। ইবন বতুতা তার সে সময় দিল্লিতে ছিলেন এবং সুলতানের সব আচরনের কথা পুরাটাই বর্ননা করেছেন। ইবন বতুতার বর্নণা মতে গিয়াসউদ্দিন তুগলক যখন দিল্লির কাছাকাছি এসে পৌছেছিলেন তখন আফগাহপুরে একটি একটি ছোট বিজয় কাঠামো বানানোর আদেশ দেন। সুলতানের উজির আহমেদ বিন আইয়াজ সুলতানের কথামত এমন একটি কাঠামো বানান যেটা দিয়ে একটি হাতি প্রবেশ করলে সেটি ভেঙ্গে যাবে। সুলতান এসে পৌছালে মোহাম্মদ বিন তুগলক তাকে সেই কাঠামোর মধ্য দিয়ে তার বহর নিয়ে যেতে বলেন। সুলতানের হাতির বহর সেই কাঠামোর ভিতর প্রবেশ করলে কাঠামোটি ভেঙ্গে পড়ে এবং সুলতান সেই ভাঙ্গা কঠামোর নিচে চাপা পরেন। ইবন বতুতার মতে সুলতানের আরেক ছেলে মাহমুদ যখন সেই কাঠামোর ভেঙ্গে পড়ার আওয়াজ শোনেন তখনই উদ্ধারাভিযানের নির্দেশ দেন কিন্তু তার বড় ছেলে মুহাম্মদ বিন তুগলকের আদেশে উদ্ধারাভিযান প্রলম্বিত করা হয় এবং সন্ধ্যার পরে শুরু করা হয়। সুলতানকে মৃত উদ্ধার করা হয়। আবার অনেকের মতে তাকে মেরে ফেলা হয়। পরবর্তীতে তার মৃতদেহ দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে দাফন করা হয়।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা

পূর্বসূরী
খসরু খান
দিল্লির সুলতান
১৩২০–১৩২৫
উত্তরসূরী
মুহাম্মদ বিন তুগলক
নতুন রাজবংশ তুগলক রাজবংশ
১৩২০–১৩২৫