গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ শাহ

গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি (পরবর্তীতে হুসামউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি বলে পরিচিতি পান) বাংলার শাসক ছিলেন। তিনি ১২০৮–১২১০ মেয়াদে এবং পুনরায় ১২১২-১২২৭ মেয়াদে দায়িত্বপালন করেন।

ইতিহাসসম্পাদনা

১২০৮ সালে তিনি বাংলার ক্ষমতা লাভ করেন। পরে ১২১০ সালে আলি মর্দান খিলজি তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। আলি মর্দান খিলজির মৃত্যুর পর ১২১২ সালে পুনরায় ক্ষমতা লাভ করেন এবং গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ শাহ নামে শাসন শুরু করেন।

গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি দীর্ঘ ১৫ বছর শাসন করেন। তার শাসনামলে বাংলায় শান্তি বজায় ছিল। তিনি দেবকোট থেকে গৌড়ে রাজধানী সরিয়ে আনেন। বাংলায় তিনি একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী গড়ে তোলেন। গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি পূর্ববঙ্গ, কামরূপ (আসাম), ত্রিহুত (উত্তর বিহার) ও উৎকলে (উত্তর ওড়িষ্যা) অভিযান পরিচালনা করেন ও এগুলোকে তার করদ রাজ্যে পরিণত করেন।[১]

গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজির বিহার জয়কে দিল্লীর মামলুক সালতানাতের প্রতি হুমকি হিসেবে ধরা হয় এবং দিল্লীর সুলতান ইলতুতমিশ তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নেন। ১২২৪ সালে ইলতুতমিশ বাংলা আক্রমণ করেন। বিহারের তেলিয়াগড়ে দুই সেনাবাহিনী মুখোমুখি হয়। গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজির নৌবাহিনী ও পদাতিক বাহিনী দিল্লীর সেনাদের কাছে পরাজিত হয়। ফলে তিনি ইলতুতমিশকে ৮০,০০,০০০ টাকা ও ৩৮টি যুদ্ধের হাতি প্রদান করেন এবং ইলতুতমিশের নামে মুদ্রা জারি করতে বাধ্য হন। [১]

কিন্তু ইলতুতমিশের ফিরে যাওয়ার পর গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি পুনরায় স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর বিদ্রোহ দমনের জন্য বাংলার পূর্বাঞ্চল আক্রমণ করেন। ১২২৬ সালে ইলতুতমিশ পুনরায় বাংলা আক্রমণ করেন ও তাকে পরাজিত করেন। গিয়াসউদ্দিন ইওয়াজ খিলজি ও তার সভাসদরা যুদ্ধে নিহত হন এবং বাংলা দিল্লীর মামলুক সালতানাতের একটি প্রদেশে পরিণত হয়।

আরও দেখুনসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

পূর্বসূরী
মুহাম্মদ শিরান খিলজি
বাংলার খিলজি রাজবংশ
১২০৮-১২১০ (প্রথম দফা)
১২১২-১২২৭ (দ্বিতীয় দফা)
উত্তরসূরী
প্রথমবার আলি মর্দান খিলজি
দ্বিতীয়বার নাসিরউদ্দিন মাহমুদ, মামলুক সালতানাতের অধীন

বহিঃসংযোগসম্পাদনা