গিফ ভিভিয়ান

নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটার

হেনরি গিফোর্ড ভিভিয়ান (ইংরেজি: Giff Vivian; জন্ম: ৪ নভেম্বর, ১৯১২ - মৃত্যু: ১২ আগস্ট, ১৯৮৩) অকল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন। নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৩১ থেকে ১৯৩৭ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছেন।

গিফ ভিভিয়ান
Giff Vivian 1937.jpg
১৯৩৭ সালের সংগৃহীত স্থিরচিত্রে গিফ ভিভিয়ান
ব্যক্তিগত তথ্য
পূর্ণ নামহেনরি গিফোর্ড ভিভিয়ান
জন্ম(১৯১২-১১-০৪)৪ নভেম্বর ১৯১২
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
মৃত্যু১২ আগস্ট ১৯৮৩(1983-08-12) (বয়স ৭০)
অকল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড
ব্যাটিংয়ের ধরনবামহাতি
বোলিংয়ের ধরনস্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স
ভূমিকাব্যাটসম্যান
সম্পর্কপুত্র: গ্রাহাম ভিভিয়ান
আন্তর্জাতিক তথ্য
জাতীয় পার্শ্ব
টেস্ট অভিষেক
(ক্যাপ ২০)
২৯ জুলাই ১৯৩১ বনাম ইংল্যান্ড
শেষ টেস্ট১৪ আগস্ট ১৯৩৭ বনাম ইংল্যান্ড
খেলোয়াড়ী জীবনের পরিসংখ্যান
প্রতিযোগিতা টেস্ট এফসি
ম্যাচ সংখ্যা ৮৫
রানের সংখ্যা ৪২১ ৪,৪৪৩
ব্যাটিং গড় ৪২.১০ ৩৪.৭১
১০০/৫০ ১/৫ ৬/৩১
সর্বোচ্চ রান ১০০ ১৬৫
বল করেছে ১,৩১১ ৬,১৬৫
উইকেট ১৭ ২২৩
বোলিং গড় ৩৭.২৩ ২৭.৬২
ইনিংসে ৫ উইকেট ১২
ম্যাচে ১০ উইকেট
সেরা বোলিং ৪/৫৮ ৬/৪৯
ক্যাচ/স্ট্যাম্পিং ৪/– ৭১/–
উৎস: ইএসপিএনক্রিকইনফো.কম, ৫ জুলাই ২০১৯

ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলে তিনি মূলতঃ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। এছাড়াও, স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন গিফ ভিভিয়ানজি. এল. ওয়ার তার প্রতিবেশী ছিলেন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটসম্পাদনা

অকল্যান্ডভিত্তিক মাউন্ট আলবার্ট গ্রাহাম স্কুলে অধ্যয়ন করেন।[১] ১৯৩০-৩১ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত গিফ ভিভিয়ানের প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। ১৮ বছর ২৬৭ দিন বয়সে বামহাতি অল-রাউন্ডার হিসেবে সহজাত প্রবৃত্তিতে খেলায় অংশ নিতেন। বিদ্যালয় ত্যাগ করার পর ডিসেম্বর, ১৯৩০ সালে অকল্যান্ডের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ঐ খেলায় তিনি ৩৭ ও ৮১ রান তুলেন। আরও দুইটি খেলায় অংশগ্রহণের পরপরই ১৯৩১ সালে ইংল্যান্ড গমনের জন্যে তাকে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৩১-৩২ মৌসুমের প্রথম খেলায় অকল্যান্ডে ওয়েলিংটনের বিপক্ষে দল ২৮৫ রানে গুটিয়ে যায়। এ পর্যায়ে তিনি ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৬৫ রান তুলেন ও ব্যাসিন রিজার্ভে তার সেরা ইনিংস ছিল।[২] পরের খেলায় ওতাগোর বিপক্ষে ৪/৭৩ ও ৫/৬২ পান। এরপর ক্যান্টারবারির বিপক্ষে ৫/৫৯ লাভ করেন। ১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে ৫২.৬০ গড়ে ২৬৩ রান ও ২২.৩৩ গড়ে ৯ উইকেট পান।

অধিনায়কত্ব লাভসম্পাদনা

মাত্র ২২ বছর বয়সেই অকল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করার সুযোগ পান। ১৯৩৪-৩৪ মৌসুমে অকল্যান্ডের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। এ পর্যায়ে ৪৯.০০ গড়ে ৩৪৩ রান তুলেন। ১৯৩৫-৩৬ মৌসুমে ক্যান্টারবারির বিপক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। ৫/৯৮ ও ৬/৯২ বোলিং পরিসংখ্যানের পাশাপাশি ৬০ ও অপরাজিত ১৯ রান করেন।[৩] কিন্তু, পিঠের আঘাতের কারণে প্রথম-শ্রেণীর খেলায় ইতি টানতে হয়। সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে ৩৪.৭১ গড়ে ৪,৪৩৩ রান তুলেন। তন্মধ্যে, ছয়টি শতরানের ইনিংস রয়েছে তার।

১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে ৩৩.০০ গড়ে ১৩২ রান ও ১৬.৬৬ গড়ে ২১ উইকেট দখল করেন। ওতাগোর বিপক্ষে ৫/৪৬ এবং ওয়েলিংটনের বিপক্ষে ৬/৪৯ ও ৪/৫৯ পান। তন্মধ্যে, ওয়েলিংটনের বিপক্ষে খেলায় তার বোলিং পরিসংখ্যান ছিল ৫৮.৪-২১-১০৮-১০। এরফলে, অকল্যান্ড দল প্লাঙ্কেট শীল্ডে ইনিংস ব্যবধানে জয় তুলে নেয়।[৪]

২২৩ উইকেট পেয়েছেন তিনি। এছাড়াও, ১৯৩০-এর দশকের শেষদিকে স্যার জুলিয়েন কান একাদশের পক্ষে খেলেও সফলতা পেয়েছেন। ১৯৩৯ সালে সতীর্থ কিউই স্টুয়ার্ট ডেম্পস্টারকে নিয়ে পঞ্চাশোর্ধ্ব গড়ে সহস্রাধিক রান তুলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটসম্পাদনা

সমগ্র খেলোয়াড়ী জীবনে সাতটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন গিফ ভিভিয়ান। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে ওভালে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তার। ১৪ আগস্ট, ১৯৩৭ তারিখে একই স্থানে একই দলের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে অংশ নেন তিনি। ইংল্যান্ডে দুইবার সফর করে সহস্রাধিক রান তুলেন।

নিউজিল্যান্ডের পক্ষে অংশগ্রহণকৃত সাত টেস্টের প্রথমটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। ১৯৩১ সালে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ওভাল টেস্টে ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ৪১৬/৪ ইনিংসের বিপরীতে হার্বার্ট সাটক্লিফলেস অ্যামিসের উইকেট লাভের পর নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ রান তুলে শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন। পরের টেস্টে দিলীপসিংজীওয়াল্টার হ্যামন্ডের উইকেট পান। তবে, বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ড দল ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি।

ইংল্যান্ড সফরে ২৫ খেলায় অংশ নেন তিনি। ঐ সফরে ৩০.৩৬ গড়ে ১০০২ রান তুলেন। এছাড়াও, ২৩.৭৫ গড়ে ৬৪ উইকেট পান। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে দূর্দান্ত সেঞ্চুরি করেন। তন্মধ্যে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে খেলার প্রথম দিনে দলের ৪৮৮ রানের মধ্যে তার অবদান ছিল ১৩৫। এ সেঞ্চুরিটি তার প্রথম ছিল। এরপর ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে বোলিং উপযোগী পিচে চারটি ছক্কার মারে ১০১ রান তুলেন।[১] হ্যারোগেটের ঐ খেলায় তিনি ১২ চার ও চারটি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে ৬/৭০ পান। মাত্র ১৮ বছর বয়সী গিফ ভিভিয়ান সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অভিষেক টেস্টে ৫১ রানের ইনিংস খেলেন। দুই টেস্টে মোট চার উইকেট দখল করেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখিসম্পাদনা

১৯৩১-৩২ মৌসুমের শেষদিকে শীতকালে দক্ষিণ আফ্রিকা দল নিউজিল্যান্ড গমন করে। সিরিজের প্রথম টেস্টে তাকে খেলানো হয়নি। দ্বিতীয় টেস্টে তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওয়েলিংটন টেস্টে সফরকারী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১০০ ও ৭৩ রান তুলে উভয় ইনিংসে শীর্ষ রান সংগ্রহকারী ছিলেন।[৫] এরপর চার উইকেট পান।

১৯৩২-৩৩ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। কিন্তু খেলায় আঘাত পাওয়ায় দ্বিতীয় টেস্টে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকেন।

ইংল্যান্ড গমন, ১৯৩৭সম্পাদনা

১৯৩৫-৩৬ ও ১৯৩৬-৩৭ মৌসুমে সফরকারী শক্তিধর এমসিসি দলের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের সদস্যরূপে পাঁচ খেলার সবকটিতেই অংশ নেন। এরপর ১৯৩৭ সালে আবারো ইংল্যান্ড গমনের জন্য নির্বাচিত হন। এবার তিনি অধিনায়ক কার্লি পেজের সহকারীর দায়িত্বে ছিলেন। সাত টেস্টের শেষ তিনটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯৩৭ সালে খেলেন। ১৯৩৭ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ইংল্যান্ড গমন করেন। তিন টেস্টের প্রত্যেকটিতে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন তিনি। তন্মধ্যে, তিনবার পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেন। ওল্ড ট্রাফোর্ডে উভয় ইনিংসে অর্ধ-শতক ও ওভালে আরও একটি অর্ধ-শতকের সন্ধান পান। ফলে ১০ ইনিংসে ৪২.১০ গড়ে রান তোলাসহ ৩৭.২৩ গড়ে ১৭ উইকেট পান। দ্বিতীয় টেস্টে ৫৮ ও ৫০ রান তুলেন। তৃতীয় টেস্টে সর্বশেষ খেলেন। এ টেস্ট সিরিজে ৮ উইকেট পান তিনি। হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন।

এ সফরে ২৯.৪২ গড়ে ১১১৮ রান ও ৩৬.৯১ গড়ে ৪৯ উইকেট পান। তবে, এ সফরের অধিকাংশ সময়ই পায়ের মাংসপেশীর টানে ভুগেন।[১]

খেলার ধরনসম্পাদনা

‘দ্য ১৯৩১-৩২ সিজন’ গ্রন্থে ডিক ব্রিটেনডেন বিবৃত করেন যে, গিফ ভিভিয়ানকে নিউজিল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে নিশ্চয়ই সকলে একমত হবেন।[১] আগ্রাসী বামহাতি মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান ও বামহাতি স্পিন বোলিংয়ের অধিকারী ছিলেন গিফ ভিভিয়ান। আমুদেপ্রিয় ও অতিথিপরায়ণ ছিলেন।

সুন্দর চারিত্রিক বৈশিষ্টাবলী ও খেলা সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা থাকায় অকল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে তাকে মনোনীত করা হয়। বেশ চিন্তা-ভাবনা করতেন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সাথে সর্বদাই আলাপ-আলোচনা করতেন। ক্রুসেডার্স একাদশ গঠন করেন। এখানে খেলার পাশাপাশি ভদ্র আচরণেরও শিক্ষা দেয়া হতো।

ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

শৌখিন সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবেও গিফ ভিভিয়ানের সুনাম রয়েছে। ১৯৩৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে ব্যাপকভাবে চলচ্চিত্রায়ণ করেন।[৬] ঐ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট যাদুঘরে অনুষ্ঠিত হয় ও এনগা টাওঙ্গা সাউন্ড ভিশন সংরক্ষণাগারে রয়েছে।[৭]

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। গোলন্দাজ বিভাগে কাজ করেন। যুদ্ধের পর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া ও আঘাতের কারণে ক্রিকেটে অংশগ্রহণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।[১] তবে, বেশ কয়েক বছর নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।[১]

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন গিফ ভিভিয়ান। তার সন্তান গ্রাহাম ভিভিয়ান ১৯৬৪ থেকে ১৯৭২ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে পাঁচটি টেস্টে অংশ নিয়েছেন।[৮] ১২ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে ৭০ বছর বয়সে অকল্যান্ডে গিফ ভিভিয়ানের দেহাবসান ঘটে।

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. R.T. Brittenden (1961) New Zealand Cricketers, A.H. & A.W. Reed, Wellington, pp. 170–72.
  2. "Wellington v Auckland 1931–32"CricketArchive। সংগ্রহের তারিখ ২ অক্টোবর ২০১৬ 
  3. Auckland v Canterbury, 1935–36. Cricketarchive.com. Retrieved on 19 May 2018.
  4. Auckland v Wellington, 1938–39. Cricketarchive.com. Retrieved on 19 May 2018.
  5. New Zealand v South Africa, Wellington, 1931–32. Cricketarchive.com. Retrieved on 19 May 2018.
  6. Summer/Autumn Newsletter 2006/07. New Zealand Cricket Museum
  7. Films by Giff Vivian at Ngā Taonga Sound & Vision. Ngataonga.org.nz. Retrieved on 19 May 2018.
  8. "Golden gloves"ESPN Cricinfo। সংগ্রহের তারিখ ৬ নভেম্বর ২০১৭ 

আরও দেখুনসম্পাদনা

বহিঃসংযোগসম্পাদনা