প্রধান মেনু খুলুন

গণ্ডার ধনেশ

ধণেশ পাখির প্রজাতি

গণ্ডার ধনেশ (Buceros rhinoceros) হল ধনেশ প্রজাতির একধরনের পাখি। এরা ধনেশ প্রজাতির মধ্যে অন্যতম বড়ো আকারের প্রজাতি যারা প্রায় রাজহাঁসের আয়তনের কাছাকাছি হয়।[২] ৯১–১২২ সেমি (৩৬–৪৮ ইঞ্চি)[৩] লম্বা এবং ওজন ২–৩ kg (৪.৪–৬.৬ পাউন্ড) হয়। গণ্ডার ধনেশরা ৯০ বছর পর্যন্ত বন্দী থাকতো। এদেরকে নিম্নভূমিতে, ক্রান্তীয়ভূমিতে বসবাস করতে ভালোবাসে। এরা প্রধানত ঘন বর্ষাভূমিতে বসবাস করে যা প্রধানত ১৪০০ মিটার ওপরে অবস্থিত। এদেরকে প্রধানত দেখা যায় বোর্নিও, সুমাত্রা, জাভা দ্বীপ, মালয় উপদ্বীপ, সিঙ্গাপুর এবং উত্তর থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশে।[১]

গণ্ডার ধনেশ
Buceros rhinoceros -Singapore Zoo -pair-8a.jpg
জোড়ায় জোড়ায় সিঙ্গাপুর চিড়িয়াখানা
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
জগৎ: Animalia
পর্ব: কর্ডাটা
শ্রেণী: পক্ষী
বর্গ: Coraciiformes
পরিবার: Bucerotidae
উপপরিবার: Bucerotinae
গণ: Buceros
প্রজাতি: B. rhinoceros
দ্বিপদী নাম
Buceros rhinoceros
Linnaeus, 1758

এই ধনেশ মালয় উপদ্বীপের প্রধান পাখি। [২] ওখানকার মানুষেরা ডায়াক উপজাতির মানুষেরা মনে করেন যে তাদের যুদ্ধের প্রধান পাখি বলে। তারা শঙ্খ চিল কেও তাদের যুদ্ধের প্রতীক হিসেবে মানে।[৪][৫]

বর্ণনাসম্পাদনা

অন্যান্য ধনেশদের মতনই এদের পুরুষদের চোখের পাতার রঙ হয় হলুদ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে তা সাদা রঙের হয়। এদের ঠোঁটের রঙ প্রধানত সাদা রঙের হয় এবং এদের ঠোঁটের ওপরে শিরস্ত্রাণ থাকে এবং এই শিরস্ত্রাণের মাথার দিকটা বাকানো থাকে ওপরের দিকে। এদের ঠোঁটের রঙ সাদা হলেও এখানে ওখানে কমলা রঙের দাগ দেখতে পাওয়া যায়। এদের সারা শরীর কালো রঙের হয় কিন্তু নীচের অংশ সাদা রঙের হয় এবং প্রধানত লেজের ডগার দিকের রঙ হয় সাদা।

ব্যবহারসম্পাদনা

এই পাখিদের পূর্বরাগ এবং বন্ধন সমলোচনামূলক, যেহেতু মহিলারা পুরুষদের পুরোপুরি বিশ্বাস করতে চায় কারণ তারা প্রজনন কালে তাদের সবকিছু দিয়ে সাহায্য করবে যখন মহিলাটি তাদের বাচ্চাদের বাসার মধ্যে বড়ো করে তুলবে। মহিলা ধনেশরা গাছের গুড়ির মধ্যে বাসা বেঁধে ডিম পাড়ে এবং ডিম ফুটে বাচ্চা হওয়া অবধি তারা বাসার মধ্যেই থাকে আর তখন পুরুষেরা তাদের বাইরে থেকে খাদ্য যোগান দেয়। ডিম পাড়ার পরে পুরুষ এবং মহিলা দুজনেই কাদা দিয়ে তাদের বাসা বন্ধ করে দেয়। তারা ওই বাসাতে একটি মাত্র ছোটো ছিদ্র রাখে যেখান দিয়ে পুরুষেরা তাদের খাদ্য যোগান দেয়। এবং পরে বাচ্চারা খাদ্যের যোগান পায়। এই গর্ত দিয়েই মহিলারা তাদের মল-মূত্র ত্যাগ করে। যখন বাচ্চারা অনেকটা বড় হয়ে যায় এবং ওড়ার পক্ষে উপযুক্ত হয়ে যায় তখন পুরুষরা বাসা ভেঙ্গে দেয় এবং বাচ্চারা বাইরে বেরিয়ে আসে। এদের প্রধান খাদ্য হল ফল, মূল, ছোটো ছোটো পোকামাকড়, সরীসৃপ ইত্যাদি। এছাড়াও তারা ছোটো ছোটো পাখিও খেয়ে থাকে।

অবস্থাসম্পাদনা

এরা অনেকরকম বিপদেরই সম্মুখীন হয় যেমন বাসস্থান হারানো এবং এদের মাংসের লোভে শিকার ইত্যাদি। এদের পালক এবং শিরস্ত্রাণের মাধ্যমে গয়না গাটি বানানো হয় তার ফলে এদের শিকার করা হয়। এইসমস্ত কারণে এদের প্রজাতিটি বিপন্ন হয়।

গ্যালারিসম্পাদনা

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. BirdLife International (২০১২)। "Buceros rhinoceros"বিপদগ্রস্ত প্রজাতির আইইউসিএন লাল তালিকা। সংস্করণ 2013.2প্রকৃতি সংরক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন। সংগ্রহের তারিখ ২৬ নভেম্বর ২০১৩ 
  2. Kenyalang - State Bird of Sarawak (Archive, December 2005). Sarawak Tourism Board.
  3. "সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি"। ৩০ নভেম্বর ২০১৪ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২ মে ২০১৪ 
  4. "Harrisson and Sandin give a slightly different interpretation. They state that the Hornbill image is used to show it, in an independent sense, as 'Chief of the Birds'. According to them it does not represent Lang, but quite simply represents a Hornbill, 'the Supreme Worldly Bird, who welcomes the invisible overhead approach of the God of Birds, Sengalang Burong' (1966: 124)." See p80 V. King Unity, formalism and structure: Comments on Iban augury and related problems. With a rejoinder by Peter Metcalf In: Bijdragen tot de Taal-, Land- en Volkenkunde 133 (1977), no: 1, Leiden, 63-89.
  5. GAWAI BURONG the chants and celebrations of the iban bird festival by Benedict Sandin.

বহির্সংযোগসম্পাদনা