গঙ্গানারায়ণ ( ইংরেজি ভাষা: Ganganarayan ) একজন আঠেরোশো শতকের ব্রিটিশবিরোধী কৃষক বিদ্রোহের নেতা। তার বিদ্রোহকে ইংরেজরা 'গঙ্গানারায়ণী হাঙ্গামা' নাম দিয়েছিল।[১]

গঙ্গানারায়ন
জন্ম?
আন্দোলনকৃষক বিদ্রোহ, গঙ্গানারায়নী হাঙ্গামা

তিনি ছিলেন কালীপ্রসন্ন সিংহের বড় দাদা। সিংহপরিবারের বড় ছেলে এবং দত্তক পুত্র। নীলচাষ নিয়ে তিনি চাষীদের পক্ষে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়েছেন,অথচ তিনি ছিলেন একজন জমিদারপুত্র।

বিদ্রোহসম্পাদনা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দমনপীড়ন, উত্তমর্ণ অধমর্ণ আইনের প্র‍য়োগ এবং জমিদারি সংক্রান্ত আইনের পক্ষপাতিত্ব ইত্যাদির কারণে মানভূমের আদিবাসী জমিদারেরা ক্ষুব্ধ হয়। গঙ্গানারায়ণ ছিলেন বরাভূম এলাকার এমনই এক জমিদার যিনি স্থানীয় কৃষকদের একত্রিত করেন। ভূমিহার ও ঘাটোয়াল দের নিয়ে সৈন্যদল গঠন করে বিদ্রোহের সূচনা করেন ১৮৩২ সালে। বর্তমান পুরুলিয়া জেলাবরাবাজার শহরের লবন দারোগার কাছারি, থানা, ইত্যাদি পুড়িয়ে দেন। তার সৈন্যরা সরকারি দপ্তরে লুঠতরাজ চালাতে থাকলে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হয় কিন্তু দুর্ধর্ষ বিদ্রোহীরা সরকারি ফৌজকে বাঁকুড়া পর্যন্ত পিছু হটিয়ে দেয়। গঙ্গানারায়ণ বরাভুম দখল করে নিজেকে রাজা বলে ঘোষণা করেন ও কর আদায় করতে থাকেন পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে। কোল বিদ্রোহীদের তার দলভুক্ত করে বরাভুমের পূর্বাঞ্চলেও আক্রমন চালান বিদ্রোহী গঙ্গানারায়ণ।[২][৩]

মৃত্যুসম্পাদনা

১৮৩২ এর শেষভাগে ব্রিটিশ সরকারের প্রচেষ্টায় বিদ্রোহ দমিত হলে গঙ্গানারায়ণ সিংভূমে পলায়ন করেন। সেখানে খরসোয়ান রাজাদের সঙ্গে যুদ্ধে তার মৃত্যু হয়।[১]

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. প্রথম খন্ড, সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত (২০০২)। সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ। পৃষ্ঠা ১২৫। 
  2. সমীর দত্ত (১৩ জানুয়ারি ২০১৫)। "নামেই লুকিয়ে জনপদের ইতিহাস"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ৫ মার্চ ২০১৭ 
  3. প্রশান্ত পাল (১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫)। "দুর্লভ প্রত্নসামগ্রী ছড়িয়ে আছে বরাভূমে"। আনন্দবাজার পত্রিকা। সংগ্রহের তারিখ ৪ মার্চ ২০১৭