প্রধান মেনু খুলুন

"খেলারাম খেলে যা" উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। কিন্তু অবাক হয়ে বলতে হয় এতটা দুঃসাহসিক অভিযাত্রা পশ্চিম বঙ্গে ওই সময়ে শুরু হলেও পূর্ব বঙ্গীয় সাহিত্য এ অভিযাত্রা কিংবা পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না। সৈয়দ শামসুল হক সেই প্রস্তুতি তৈরিতে বড়সড় একটি হাতুড়ি প্রয়োগ করলেন। যে হাতুড়ির নাম - "খেলারাম খেলে যা"।

উপন্যাসটিকে আহমাদ মোস্তফা কামাল বলেছেন - বাংলাদেশের আধুনিক উপন্যাস। এই তকমা এই উপন্যাস দাবি করে বৈকি! কারণ বাংলা সাহিত্যে এতটা খোলা মেলা ভাবে মানুষের মনস্তত্ব, যৌনতা এবং হাহাকার এ তিনের সমন্বয় খুব একটা হয়নি। এজন্য এটি হয়ে উঠেছে বাংলা সাহিত্যের একটি নতুন ধারার উপন্যাস।

উপন্যাসটিতে আমরা একজন নির্লজ্জ্ লম্পট বাবর আলীকে দেখতে পাবো। যে শুধু মাত্র যুবতী দেহ থেকে যুবতী দেহে প্রতারনার মাধ্যমে পরিভ্রমণ করতে তাকে। আমাদের সমাজেই নির্লজ্জ্ব লম্পটদেরই প্রতিনিধি যেন বাবর। কিন্তু এতটুকুতেই শেষ হলে এই উপন্যাসটি একটি অশ্লীল উপন্যাসের সাথে উপযুক্তভাবে যেতো। কিন্তু একজন লম্পটের অতীত যেখানে মহাকাল এক নির্মম বৈষয়িক, অতীত থেকে হাত বাড়িয়ে টানতে থাকে, বর্তমানের মতো ধাবমান রথকে চুরমার করতেও তার জুড়ি মেলা ভার তাই যেন আমরা দেখতে পারি। একজন মানুষের অতীতের স্মৃতিচারণা ও অনুশোচনা তার মধ্যে কতটা হাহাকার তৈরি করে তা আমরা বুঝতে পারি এই বাক্যে - "হাসু, হাসনু, হাসনু তুই যা। আমাকে বাঁচতে দে"। বাবরের অতীতের সাথে এসব সংলাপ আমাদের বুঝিয়ে দেয় - লেখক গল্পের আড়ালে আসল গল্প বলেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়- আড়ালের গল্পকে মূল লক্ষ্য হিসেবে আমাদের অনেকে মেনে নিতে অক্ষম। যার কারণে এই উপন্যাসের উপাধি জুটেছে-অশ্লীল রচনা হিসেবে। লেখক নিজেই আমাদের আক্ষেপের স্বরে বলেছিলেন-খেলারাম খেলে যা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভুল বুঝা উপন্যাস।

পাঠকের কাছে এই উপন্যাস একাধিকবার বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ এটি অভিনব। একে কিভাবে ব্যাখ্যা করছেন বা দেখছেন তার উপর নির্ভর করছে এর উপন্যাস অশ্লীল কি অশ্লীল নয়। যারা এখনো পড়েননি তারা পড়ে নিন শীঘ্রই।