ক্ষিতিমোহন সেন

ভারতীয় ইতিহাসবেত্তা

ক্ষিতিমোহন সেন (২ ডিসেম্বর ১৮৮০ - ১২ মার্চ ১৯৬০) ছিলেন একজন বাঙালি গবেষক, সংগ্রাহক এবং শিক্ষক। তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।[১][২]

ক্ষিতিমোহন সেন
Mohatto gandir Sathe Hason Rajar Gobeshok.jpg
ক্ষিতিমোহন সেন ও মহাত্মা গান্ধী (ডানে)
জন্ম(১৮৮০-১২-০২)২ ডিসেম্বর ১৮৮০
মৃত্যু১২ মার্চ ১৯৬০(1960-03-12) (বয়স ৭৯)
জাতীয়তাভারতীয়
পেশাগবেষক, সংগ্রাহক, শিক্ষাবিদ
কর্মজীবন১৯০৭-১৯৬০
পিতা-মাতা
  • ভুবনমোহন সেন (পিতা)
আত্মীয়অমর্ত্য সেন (দৌহিত্র)

প্রারম্ভিক ও ব্যক্তিগত জীবনসম্পাদনা

ক্ষিতিমোহন ১৮৮০ সালের ২ ডিসেম্বর ভারতের কাশীতে জন্মগ্রহণ করেন।[৩][৪] তবে কলকাতায় প্রকাশিত সংসদ বাঙালি চরিতাভিধানের তথ্যানুসারে, তার জন্ম ১৮৮০ সালের ৩০ নভেম্বর।[৫] তার পৈত্রিক নিবাস ছিল তৎকালীন বিক্রমপুরের (বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলা) সোনারং গ্রামে। তার পিতার নাম ভুবনমোহন সেন, যিনি একজন ডাক্তার ছিলেন।[৪] অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক অমর্ত্য সেন তার দৌহিত্র। ক্ষিতিমোহন কাশীর কুইনস কলেজ থেকে ১৯০২ সালে সংস্কৃতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। এসময় তাকে ‘শাস্ত্রী’ উপাধি দেওয়া হয়।[৪]

কর্মজীবনসম্পাদনা

ক্ষিতিমোহন ১৯০৭ সালে তৎকালীন চাম্বারাজ এস্টেটের শিক্ষাসচিব হিসেবে হিসেবে কর্মজীব শুরু করেন। ১৯০৮ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের আহ্বান জানালে তিনি এতে সাড়া দিয়ে অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৫৩ থেকে ৫৪ সাল পর্যন্ত তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বেশ কয়েকবার রবীন্দ্রনাথের সফরসঙ্গী হিসেবে ভারতের বিভিন্ন স্থান ও ১৯২৪ সালে চীন ভ্রমণ করেন।[৫]

মধ্যযুগের সন্তদের বাণী, বাউল সঙ্গীত এবং সাধনতত্ত্ব নিয়ে গবেষণা ও সংগ্রহে তার কৃতিত্ব উল্লেখযোগ্য। প্রায় পঞ্চাশ বছরের চেষ্টার ফলে সংগৃহীত বিষয়গুলো কয়েকটি বইতে তিনি প্রকাশ করেন। রবীন্দ্রনাথ সম্পাদিত ওয়ান হান্ড্রেড পোয়েমস অফ কবির (১৯১৪) বইটিও তার সংগ্রহ অবলম্বনে রচিত। এছাড়াও তিনি বেদ, উপনিষদ, তন্ত্র, স্মৃতিশাস্ত্র, সঙ্গীতশাস্ত্র এবং আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন।[৪]

তার রচিত হিন্দুইজম বইটি ফরাসি, জার্মান এবং ডাচ ভাষায় এবং আরো কয়েকটি গ্রন্থ হিন্দি, গুজরাটি এবং অসমিয়া ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি সংস্কৃত, বাংলা ও হিন্দি ছাড়াও গুজরাতি, রাজস্থানি, আরবি ও ফারসি ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি সুবক্তা ও অপেশাদার অভিনেতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে লীলা বক্তব্য দেন।

তিনি ১৯৬০ সালের ১২ মার্চ মৃত্যুবরণ করেন।[৪]

উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহসম্পাদনা

ক্ষিতিমোহন সেনের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:

  • কবীর (১৯১১)
  • ভারতীয় মধ্যযুগের সাধনার ধারা (১৯৩০)
  • ভারতের সংস্কৃতি (১৯৪৩)
  • বাংলার সাধনা (১৯৪৫)
  • যুগগুরু রামমোহন (১৯৪৫)
  • জাতিভেদ (১৯৪৬)
  • বাংলার বাউল (১৯৪৭)
  • হিন্দু সংস্কৃতির স্বরূপ (১৯৪৭)
  • ভারতের হিন্দু-মুসলমান যুক্ত সাধনা (১৯৪৯)
  • প্রাচীন ভারতে নারী (১৯৫০)
  • চিন্ময় বঙ্গ (১৯৫৭)
  • রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ (১৯৬১)
  • Hinduism (১৯৬৩)
  • Medieval Mysticism of India (১৯৩৬)

পুরস্কার ও সম্মাননাসম্পাদনা

  • বিশ্বভারতী থেকে ‘রবীন্দ্র-স্মৃতি স্বর্ণপদক’ (১৯৪২) ও প্রথম ‘দেশিকোত্তম’ (১৯৫২)[৪]
  • ওয়ার্ধার হিন্দি ভাষা প্রচার সমিতি থেকে ‘মহাত্মা গান্ধী পুরস্কার’ (১৯৫৩)
  • প্রয়াগের হিন্দি সাহিত্য সম্মেলন থেকে ‘মুরারকা পুরস্কার’ (১৯৫৩) এবং
  • কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সরোজিনী বসু স্বর্ণপদক’ (১৯৫৪)

তথ্যসূত্রসম্পাদনা

  1. "Kshitimohan Sen (1880-1960)"। munshigonj.com। ২৮ মে ২০১২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১২ 
  2. "Kshitimohan Sen (1880-1960)"। Visva-Bharati University। ১ জুলাই ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১৮ অক্টোবর ২০১২ 
  3. Congress, The Library of। "LC Linked Data Service: Authorities and Vocabularies (Library of Congress)"id.loc.gov। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  4. "সেন, ক্ষিতিমোহন"বাংলাপিডিয়াবাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ 
  5. সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান (প্রথম খন্ড)। কলকাতা: সাহিত্য সংসদ (ওটিআরএস)। পৃষ্ঠা ১৬৬। আইএসবিএন 81-86806-98-9। সংগ্রহের তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০১৯ [স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]

বহিঃসংযোগসম্পাদনা